09/04/2026
হাম (Measles) – লক্ষণ, শনাক্তকরণ ও করণীয়
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের বেশি হয়।
প্রাথমিক লক্ষণ:
সর্দি, কাশি, জ্বর, নাক-চোখ দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া
সাধারণত জ্বরের ৪র্থ দিনের দিন শরীরে লাল ফুসকুড়ি (rash) দেখা দেয়
কিভাবে বুঝবেন হাম?
✔️ বাচ্চা আলো সহ্য করতে পারে না তাই চোখ খুলতে চাইবেনা।
✔️ মুখের ভেতরে উপরের ২য় মোলার দাঁতের মাড়ি গোড়ায় সাদা চিনির দানার মতো দাগ (Koplik’s spots) দেখা গেলে বুঝতে হবে বাচ্চার হাত হবে।
✔️ হাম প্রথমে কানের গোড়ায় লাল ফুসকুড়ি শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়ায়।
জটিলতা:
হাম জ্বরে Eruption বের না হয়ে চাপা পড়লে অনেক জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। যেমন- নিউমোনিয়া, মেনিনজাইটিস, খিঁচুনি ইত্যাদি হতে পারে। তাই, বাচ্চা দেখে যদি মনে হয় যে হামজ্বর, তবে হাম বের করার জন্যে প্রথমে Sulpher 200 দুই/তিনটা ডোজ দিতে হবে। এতে হাম জ্বর যদি হয় তবে হামের Eruption বের হয়ে যাবে।
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ (লক্ষণ অনুযায়ী)
হাম জ্বরে লক্ষণ অনুযায়ী যে কোন ঔষধ লাগতে পারে। তবে নিম্নলিখিত ঔষধগুলির লক্ষণ বেশি পাওয়া যায়:
🔸 Gelsemium – ঝিমুনি, দুর্বলতা
🔸 Camphor –শরীর, জিহ্বা, নিশ্বাস ঠান্ডা কিন্তু ঘাম থাকে না।
🔸 Antim Tart – সারা মুখে ঘাম হয়। বুকে ঘড়ঘড় শব্দ, কফ উঠতে চায় না
🔸 Veratum Alb - শুধু কপালে ঠান্ডা ঘাম হয়।
🔸 Cupram Met - হাম ঠিক মত বের না হলে দিতে হবে। ইহার প্রধান লক্ষণ হলো সাপের মত জিহ্বা বের করে আর ডুকায়। খিঁচুনি প্রবণতা থাকতে পারে
🔸 Zincum Met - শরীর দুর্বল, কিচুনি হয়, এক হাত এবং এক পা নাড়াতে থাকে। মাথা নড়ে।
🔸 Pulsatilla – গরম কাতর। শান্ত স্বভাব, জিহ্বা শুকনা অথচ পানির পিপাসা নেই।
🔸 Ipecac – বমি ভাব, জিহ্বা পরিষ্কার, পাতলা পায়খানা থাকতে পারে।
🛑 করণীয়
✔️ শিশুকে আলাদা রাখুন
✔️ পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দিন
✔️ বেশি সমস্যা হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন