Dr. Mohammad Yousuf

Dr. Mohammad Yousuf Qualified Homeo Doctor specialized in Chronic Diseases

15/07/2026

Cicuta Virosa (Cic.)
(সিকুটা ভিরোসা)

ভূমিকা (Introduction):
• উৎস: উদ্ভিজ্জ।
• প্রচলিত নাম: কাউবেইন বা নর্দার্ন ওয়াটার হেমলক।
• ঔষধ প্রস্তুত: ছাতার মতো ফুলবিশিষ্ট উগ্র বিষাক্ত উদ্ভিদের তাজা মূলের রস থেকে মাদার টিংচার প্রস্তুত করে পরবর্তীতে অ্যালকোহলে মিশিয়ে শক্তিকৃত করা হয়।
• প্রুভার: ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান।
• মায়াজম: অ্যান্টি সোরিক, অ্যান্টি সাইকেটিক, অ্যান্টি-সিফিলিটিক ও অ্যান্টি টিউবারকুলার।
• কাতরতা: শীতকাতর
• পার্শ্ব: সাধারণত বাম পাশে রোগের প্রকোপ বেশি; তবে অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ আড়াআড়িভাবে ডান দিকে উপরে ও বাম দিকে নিচে বেশি প্রকাশ পায়।
• ব্যবহার: এটি একটি পলিক্রেস্ট ঔষধ; নতুন ও পুরাতন উভয় ধরনের রোগে ব্যবহৃত হয়।
• উপযোগিতা: অত্যন্ত সংবেদনশীল, খিটখিটে এবং স্নায়বিক উদ্দীপনা বা পেশীর কম্পনপ্রবণ ব্যক্তিদের জন্য অধিক উপযোগী।
• যে সকল রোগে প্রযোজ্য: লক্ষণ অনুযায়ী উপযুক্ত হলে ঔষধটি যেকোনো রোগে প্রযোজ্য।
• ক্রিয়াস্থল: প্রধানত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্র, পেশী, চর্ম ও পরিপাকতন্ত্রে ক্রিয়া করে।

ঔষধ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমূহ
(Important Symptoms for Prescribing Medicine)

সারসংক্ষেপ (Summary/Keynotes)
 প্রধান ক্রিয়া: এই ঔষধটির প্রধান কাজ কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের উপর; যার ফলে ধনুষ্টঙ্কার, তড়কা, খিঁচুনি, মৃগী, চোয়াল আটকে যাওয়া (Lockjaw), দাঁতে দাঁত লেগে যাওয়া এবং হিক্কা প্রভৃতি স্নায়বিক উপসর্গ দেখা দেয়।
 মস্তিষ্কে আঘাত (Head Injury): মস্তিষ্কে আঘাত অথবা মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের পুরনো আঘাতের পর সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী কুফল, বিশেষ করে খিঁচুনি, মৃগী বা স্নায়বিক স্পাজমে সিকুটা অত্যন্ত উপযোগী (Arn., Nat-s., Hyper.)। ডাঃ হেরিং তাঁর The Guiding Symptoms of Our Materia Medica (Vol. 4)-এ উল্লেখ করেছেন- "Concussion of brain and chronic effects therefrom, particularly spasms." ডাঃ এস. পি. দে তাঁর Clinical Case Taking Guide-এও এই লক্ষণটির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।
 আক্ষেপ ও ধনুষ্টঙ্কার (Convulsions & Tetanus): খিঁচুনি প্রথমে মুখমণ্ডল, ঘাড় ও পিঠের পেশি অর্থাৎ শরীরের উপরের অংশ থেকে শুরু হয়ে নিচের দিকে বিস্তার লাভ করে। ঘাড়ের পেশি শক্ত হয়ে মাথা পেছনের দিকে ঝুঁকে যায়, শরীর ধনুকের মতো শক্ত হয়ে বেঁকে যায় (Opisthotonos), বিভিন্ন দিকে মোচড়াতে থাকে এবং হাত-পায়ের আঙুল ভেতরের দিকে বেঁকে যায়।
 খিঁচুনির পরবর্তী অবস্থা: খিঁচুনি শেষে রোগী দীর্ঘ সময় অচেতন থাকে। জ্ঞান ফিরলেও কিছুই মনে করতে পারে না; অনেক সময় প্রাপ্তবয়স্ক এমনকি বৃদ্ধ রোগীও শিশুর মতো আচরণ করে, পুতুল বা খেলনা নিয়ে খেলে এবং অকারণে শিশুসুলভ হাসি হাসে (ডাঃ রজার মরিশন)।
 মুখমণ্ডল ও চোয়াল (Face & Jaw): খিঁচুনির তীব্রতায় চোয়ালের পেশি শক্ত হয়ে দাঁতে দাঁত লেগে মুখ আটকে যায়। মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে বা নীলচে হয়ে যায় এবং ঠোঁটের কোণে ফেনা জমে। ডাঃ সি. এম. বোগার তাঁর Synoptic Key গ্রন্থে সিকুটার এই অবস্থাকে পেশির তীব্র সংকোচন বা "Violent muscular contortions" হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
 চক্ষু লক্ষণ (Ocular Symptoms): খিঁচুনির সময় চোখের মণি ওপরের দিকে বা একদিকে স্থির হয়ে থাকে অথবা ডানে-বামে পেন্ডুলামের মতো কাঁপতে থাকে; রোগী একদৃষ্টে শূন্যে চেয়ে থাকে এবং ক্ষুদ্র বস্তুকে অনেক বড় দেখে (ডাঃ আবু বকর)।
 স্প্লিন্টার বা ধারালো বস্তু বিদ্ধ হওয়ার কুফল: শরীরে কোনো ধারালো কাঠি, কাচ বা সুঁচ ফুটে তীব্র যন্ত্রণা বা ধনুষ্টঙ্কার দেখা দিলে এটি অত্যন্ত কার্যকরী (Hyper., Sil.)।
 চরম সংবেদনশীলতা (Hypersensitiveness): সামান্যতম ছোঁয়া বা স্পর্শ, সামান্য শব্দ বা ঘরের দরজা খোলার আওয়াজ, কিংবা তামাকের ধোঁয়া লাগলেই রোগীর শরীরে তীব্র কাঁপুনি বা খিঁচুনি শুরু হয়। ডাঃ ফাটক এবং ডাঃ সারাভাই কাপাডিয়া এই অবস্থাকে চরম সংবেদনশীলতা বলে অভিহিত করেছেন। আর ডাঃ জে. এইচ. ক্লার্ক রোগীর এই অতি-সংবেদনশীলতাকেই ঔষধটি চেনার সবচেয়ে প্রধান নির্দেশক লক্ষণ বলেছেন।
 অদ্ভুত লক্ষণ:
 নিজের ঘরবাড়ি, চেনা রাস্তাঘাট বা আপনজনকে চিনতে পারে না; সবকিছু নতুন ও অচেনা লাগে।
 শিশু অপাচ্য বস্তু যেমন কয়লা, চুন, কাঁচা আলুর খোসা বা মাটি চিবিয়ে খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা প্রকাশ করে (ডাঃ হেনরি এন. গারেন্সী তাঁর Keynotes-এ শিশুদের কৃমির উপদ্রব বা পুষ্টিহীনতাজনিত এই অদ্ভুত খাদ্যস্পৃহাকে সিকুটার একটি নির্ভরযোগ্য পথপ্রদর্শক (Guiding) লক্ষণ বলে উল্লেখ করেছেন)।
 কনকমিটেন্ট লক্ষণ: তীব্র খিঁচুনি বা ধনুষ্টঙ্কারের সময় রোগীর বুক কাঁপিয়ে যন্ত্রণাদায়ক হিক্কা ওঠে এবং অনৈচ্ছিকভাবে প্রস্রাব হয়ে যায়।

১। মানসিক লক্ষণসমূহ (Mental Generals)

 স্মৃতিভ্রম: নিজের ঘরবাড়ি, অতি পরিচিত রাস্তাঘাট বা আপনজনকে চিনতে পারে না; সবকিছু তার কাছে সম্পূর্ণ নতুন ও অচেনা মনে হয় (Glon.)।
 অবিশ্বাস ও সন্দেহ: মানুষকে অবিশ্বাস ও সন্দেহ করে; সমাজ বা জনসমাগম এড়িয়ে একা থাকতে চায় এবং খিটখিটে মেজাজ প্রকাশ করে।
 উদ্ভট আচরণ: বিষণ্ণতার মধ্যেও হঠাৎ অদ্ভুত ও অর্থহীন অঙ্গভঙ্গি বা নাচ-গান শুরু করে দেয়। নিজেকে বড় মনে করার প্রবণতা থাকতে পারে (Lach., Plb.)।
 ভয় ও আতঙ্ক: সামান্য শব্দে, দরজা খোলার আওয়াজে বা হঠাৎ কোনো উদ্দীপনায় চমকে ওঠে এবং অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

২। সর্বদৈহিক লক্ষণসমূহ (Physical Generals)
 রোগের কারণ: মাথা বা মেরুদণ্ডে কোনো যান্ত্রিক আঘাতের পর সৃষ্ট স্নায়বিক সমস্যা, মস্তিষ্কে রক্তাধিক্য (Cerebral congestion), পেটে কৃমির উপদ্রব, তীব্র মানসিক উত্তেজনা, ভয় পাওয়া অথবা আফিম/তামাকের বিষক্রিয়া থেকে রোগের উৎপত্তি হতে পারে। চর্মরোগ চাপা পড়ার পর মস্তিষ্কের অসুস্থতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।
 ক্ষুধা: অস্বাভাবিক ও তীব্র ক্ষুধা; পেট ভরে খাওয়ার পরও অল্প সময়ের মধ্যে পুনরায় ক্ষুধা পায়। তবে খিঁচুনির পূর্বে বা পরে ক্ষুধা সম্পূর্ণ লোপ পেতে পারে।
 পিপাসা: প্রচণ্ড পিপাসা; কিন্তু পানীয় গ্রহণে অসুবিধা হয়, তরল পদার্থ গিলতে কষ্ট হয় এবং গড়গড় শব্দ করে নিচে নামে (Cupr.)।
 ঘুম: ঘুমের মধ্যে রোগী বারবার চমকে ওঠে, পেশির কাঁপুনি হয় এবং চোখ আধা-খোলা থাকে। খিঁচুনির পর রোগী গভীর, অচেতন বা অসাড় ঘুমে ঢলে পড়ে।
 ঘাম: প্রধানত রাতে এবং ঘুমের মধ্যে ঘাম হয়; ঘাম চটচটে ও ঠাণ্ডা প্রকৃতির, বিশেষ করে মাথা ও ঘাড়ে বেশি দেখা যায়।
 সাধারণ লক্ষণ: খিঁচুনির সময় শরীর ঠাণ্ডা হয়ে যায়, কিন্তু মাথা গরম থাকে; মাথা ঘামে ভিজে যায়।
 বৃদ্ধি: ঘুমের মধ্যে (বিশেষত মৃগী বা খিঁচুনির সময়), নড়াচড়া, ঠাণ্ডা বাতাস এবং মানসিক উত্তেজনায় রোগলক্ষণ বৃদ্ধি পায়।
 উপশম: উষ্ণতা, শান্ত ও অন্ধকার পরিবেশে, সম্পূর্ণ স্থির হয়ে চিত হয়ে শুয়ে থাকা এবং খাওয়ার পর পেটের যন্ত্রণা উপশম হয়।
 পছন্দ: অপাচ্য ও অখাদ্য বস্তু (কয়লা, চুন, কাঁচা আলুর খোসা, মাটি ইত্যাদি), বাঁধাকপি এবং ঠাণ্ডা খাবার বা পানীয়ের প্রতি আকর্ষণ থাকে।
 অপছন্দ: গরম খাবার, গায়ে বেশি আবরণ রাখা, তামাকের গন্ধ বা ধোঁয়া এবং যেকোনো ধরনের কোলাহল বা জনসমাগম অপছন্দ করে।
 স্বপ্ন: আক্ষেপ, ওপর থেকে পড়ে যাওয়া, তাড়া খাওয়া অথবা ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার স্বপ্ন দেখে চিৎকার করে ওঠে।

৩। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমূহ (Other Important Symptoms)

 রোগীর অতীত ইতিহাস: রোগীর অতীতে মাথায় গুরুতর আঘাত, পড়ে গিয়ে মস্তিষ্ক বা মেরুদণ্ডে আঘাত পাওয়া অথবা শৈশবে তীব্র খিঁচুনি ও কৃমিজনিত সমস্যায় ভোগার ইতিহাস থাকতে পারে।
 মাথা ও মস্তিষ্ক (Head & Brain): মাথায় তীব্র শূন্যতা বা ঘোরার অনুভূতি হয়। রোগী সামনের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং মনে হয় মস্তিষ্কটি করোটির মধ্যে নড়াচড়া করছে।
 পাকস্থলী ও খাদ্যনালী (Stomach & Esophagus): তীব্র ও যন্ত্রণাদায়ক হিক্কা ওঠে। তরল গিলতে গেলে খাদ্যনালীর আক্ষেপের কারণে গড়গড় বা ঢকঢক শব্দ করে নিচে নামে (Cupr.)। পাকস্থলীতে জ্বালা ও বমিভাব থাকতে পারে।
 প্রস্রাব: প্রস্রাব সজোরে নির্গত হয় অথবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে শরীরে পানি জমে ফুলে যেতে পারে। ডাঃ ফারুক জে. মাস্টার তীব্র খিঁচুনির সঙ্গে প্রস্রাবের এই অস্বাভাবিক বেগ অথবা প্রস্রাব ধরে রাখতে না পারাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্লিনিক্যাল নির্দেশক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মনীষীদের অভিমত:
১। ডাঃ রজার মরিশন: মাথায় তীব্র আঘাত বা ঝাঁকুনির (Concussion) পর যদি স্নায়বিক সমস্যা, প্রচণ্ড মাথাঘোরা কিংবা মৃগীরোগ (Epilepsy) দেখা দেয়, তবে সিকুটা ভিরোসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ। মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের আঘাতজনিত সমস্যায় এটি বিশেষভাবে বিবেচ্য।
২। ডাঃ সি. এম. বোগার: শরীরের বিভিন্ন পেশির তীব্র ও অনৈচ্ছিক সংকোচন বা খিঁচুনি সিকুটা ভিরোসার প্রধান শারীরিক বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে ঘাড় ও পিঠ পেছনের দিকে ধনুকের মতো বেঁকে যাওয়া (Opisthotonos) একটি প্রধান নির্দেশক লক্ষণ।
৩। ডাঃ ফারুক জে. মাস্টার: সিকুটা ভিরোসার মানসিক অবস্থাকে তিনি একটি Regressive Childish State বা শিশুসুলভ অবস্থায় ফিরে যাওয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। গভীর মানসিক বা শারীরিক আঘাতের পর রোগীর মধ্যে সমাজবিমুখতা, সন্দেহপ্রবণতা এবং শিশুসুলভ আচরণ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্ক রোগীর মধ্যে শিশুর মতো কথা বলা, আচরণ করা বা খেলনার প্রতি আগ্রহ ইত্যাদি সিকুটার একটি উল্লেখযোগ্য মানসিক বৈশিষ্ট্য।
৪। ডাঃ হেনরি এন. গারেন্সী: কৃমিজনিত সমস্যা বা অপুষ্টির কারণে শিশুদের মধ্যে আকস্মিক খিঁচুনি, আঙুলের সংকোচন এবং মুখ নীল হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে সিকুটা ভিরোসার কথা বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিত।

মন্তব্য: উপরোক্ত লক্ষণসাদৃশ্যে ঔষধটি প্রয়োগ করা হলে, রোগের নাম যাই হোক না কেন, ঔষধটি কার্যকর ফল প্রদান করতে সক্ষম।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ রোগের লক্ষণসমূহ (Important Clinical Symptoms)
১। মৃগী রোগ (Epilepsy): খিঁচুনি বিশেষত মাথা বা মেরুদণ্ডের পুরনো যান্ত্রিক আঘাতের পর দেখা দিলে এটি অন্যতম প্রধান ঔষধ। খিঁচুনির তীব্রতায় রোগী হঠাৎ চিৎকার করে ওঠে, অজ্ঞান হয়ে যায়, মুখমণ্ডল লাল বা নীলাভ হয়ে যায়, দাঁতে দাঁত লেগে যায়, শরীর ধনুকের মতো বেঁকে যায় (Opisthotonos), চোখের মণি ওপরের দিকে উঠে যায় বা স্থির হয়ে থাকে এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঝাঁকুনি দিতে থাকে। আক্রমণ বারবার, বিশেষ করে রাতে হতে পারে। পড়ার সময় অক্ষরগুলো অস্পষ্ট বা অদৃশ্য হয়ে যায় কিংবা চোখের সামনে নাচতে থাকে। প্রথমদিকে আক্রমণ ঘন ঘন হলেও পরে দীর্ঘ বিরতিতে হতে পারে। সামান্য স্পর্শ, শব্দ বা তামাকের ধোঁয়ায় খিঁচুনি বেড়ে যায়; অন্ধকার, শান্ত ঘরে চিত হয়ে সম্পূর্ণ স্থির অবস্থায় শুয়ে থাকলে কিছুটা উপশম হয়।
২। ধনুষ্টঙ্কার ও খিঁচুনি (Tetanus & Convulsions): মাথা বা মেরুদণ্ডে আঘাতের পর কিংবা চর্মরোগ দমনের কুফল হিসেবে খিঁচুনি দেখা দিলে এটি একটি প্রধান ঔষধ। খিঁচুনি সাধারণত মুখ, মাথা, ঘাড় বা পিঠ থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। ঘাড় শক্ত হয়ে মাথা পেছনের দিকে বেঁকে যায় অথবা একদিকে বেঁকে থাকে; শরীর ধনুকের মতো বাঁকা (Opisthotonos) হয়ে যায় এবং চোখের দৃষ্টি ট্যারা বা একদিকে স্থির থাকে। খিঁচুনির সঙ্গে হিক্কাও দেখা দিতে পারে। প্রসবকালীন ও প্রসবোত্তর খিঁচুনি, দাঁত ওঠার সময় খিঁচুনি, ভয়জনিত খিঁচুনি (Op.) এবং কৃমিজনিত খিঁচুনি (Cina.)-তেও উপকারী। খিঁচুনির পূর্বে অনেক সময় রোগী চিৎকার করে ওঠে অথবা বুকে বা হৃৎপিণ্ডে হঠাৎ শীতল অনুভূতি ও কাঁপুনি শুরু হয়, এরপরই খিঁচুনি দেখা দেয়। আক্রমণের পর রোগী দীর্ঘক্ষণ অবসন্ন, অচেতনসদৃশ অবস্থায় থাকে; স্মৃতিভ্রম হয় এবং আত্মীয়স্বজনকেও চিনতে পারে না। রাতে, সামান্য বাতাস, স্পর্শ বা শব্দে খিঁচুনি বৃদ্ধি পায়; গরমে ও চিত হয়ে সম্পূর্ণ স্থির অবস্থায় শুয়ে থাকলে কিছুটা উপশম হয়।
৩। সেরিব্রো-স্পাইনাল মেনিনজাইটিস: মস্তিষ্কের ঝিল্লির প্রদাহজনিত কারণে তীব্র জ্বর, প্রলাপ বকা, মাথা বালিশে এপাশ ওপাশ নাড়তে থাকে এবং ঘাড়ের পেশি শক্ত হয়ে মাথা পেছনের দিকে স্থায়ীভাবে বেঁকে থাকে, দৃষ্টি ট্যারা হয়ে যায়। মাথা সামান্য নাড়ালে, গায়ে হাত দিলে বা আলো ও শব্দে রোগের তীব্রতা বাড়ে এবং ঘর অন্ধকার করে রোগীকে সম্পূর্ণ শান্ত ও উষ্ণ পরিবেশে রাখলে লক্ষণের উপশম হয় (রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে খিঁচুনি হলে: Glon., Plb.)।
৪। চর্মরোগ বা একজিমা : শিশুদের মুখমণ্ডল, মাথা এবং পুরুষদের দাড়ির অংশে শক্ত, ঘন, হলদেটে এবং মধুর মতো চটচটে রসযুক্ত মামড়ি (Crust) পড়া একজিমা দেখা দেয়। শিশুর মাথার একজিমাতে এক প্রকারের পুরো মামড়ি মাথাটিকে খোলসের মতো ঢেকে রাখে এবং স্থানে স্থানে খোলসটি ফেটে রস বের হয় (Sars., Sec.)। একজিমাতে কোনো রকম চুলকানি থাকে না। ক্ষুর দিয়ে চুল কাটার পর সৃষ্ট ফলিকুলাইটিস বা অনুরূপ চর্মরোগেও উপকারী। বাতাসে এবং সামান্য স্পর্শে তীব্র ব্যথা হয় এবং চারপাশের ত্বক লাল হয়ে ফুলে ওঠে। গরম সেক দিলে কিংবা ক্ষতস্থান শুকনা রাখলে কিছুটা উপশম হয়।
৫। তীব্র হিক্কা (Spasmodic Hiccough): কলেরা বা যেকোনো রোগে তীব্র হিক্কা, কোনোভাবেই থামানো যায় না এমন আক্ষেপিক ও যন্ত্রণাদায়ক হিক্কা, এর সঙ্গে পাকস্থলীতে তীব্র জ্বালা ও বমিভাব থাকে। তরল কিছু পান করতে গেলে বা তামাকের ধোঁয়ায় এই হিক্কা মারাত্মকভাবে বাড়ে এবং একদম সোজা হয়ে স্থির হয়ে শুয়ে থাকলে হিক্কার তীব্রতা কমে।
৬। চোয়াল শক্ত হওয়া (Lockjaw): চোয়ালের পেশি অনৈচ্ছিক ও তীব্র আড়ষ্টতায় শক্ত হয়ে দাঁতে দাঁত লেগে যায়, যার ফলে মুখ খোলা বা ওষুধ খাওয়ানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। রোগীকে জোর করে মুখ খোলানোর চেষ্টা করলে বা স্পর্শ করলে আড়ষ্টতা আরও বৃদ্ধি পায় আর চোয়ালে গরম ভাপ বা সেক দিলে পেশির আড়ষ্টতা কিছুটা শিথিল বা উপশম হয়।
৭। চোখ: মাথায় আঘাত, তীব্র খিঁচুনি কিংবা স্নায়বিক দুর্বলতার কারণে যদি চোখের মণি একদিকে বা ওপরের দিকে স্থায়ীভাবে বেঁকে যায় (ট্যারা চোখ), সেক্ষেতে এটি অত্যন্ত কার্যকরী (Jabor.)। পড়ার সময় অক্ষরগুলি অদৃশ্য হয়ে যায় বা উল্টানো বলে মনে হয়।
৮। কানের রোগ: কোনো কঠিন রোগের পর কান থেকে রক্তস্রাব হতে থাকলে বা সম্পূর্ণ বধির হয়ে গেলে ঔষধটি উপকারী। খাবার গিলতে গিয়ে হঠাৎ কানে শব্দ হয়ে শ্রবণশক্তি লোপ পেলেও উপকার হয়।

অনুপূরক: হাইপেরিকাম, নাক্স, ষ্টিকনিন।
ক্রিয়ানাশক: আর্নিকা, ওপিয়াম, মাতাক বা তামাকের ধোঁয়া।
সম্পর্ক:
পরবর্তী ব্যবহৃত ঔষধ: রোগীর লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে পরবর্তীতে যে কোনো উপযুক্ত ঔষধ নির্বাচন করা যেতে পারে।
ক্রিয়ার স্থায়িত্ব: প্রায় ৫-১০ দিন।
ব্যবহৃত শক্তি: ৩০ থেকে উচ্চশক্তি ও ৫০ সহস্রতমিক (LM) ০/১ থেকে উচ্চশক্তি।
নিষিদ্ধ খাবার: তামাক, জর্দা, গুল বা ধূমপান।

12/07/2026

২য় খণ্ডে ঔষধগুলি যে ভাবে থাকছে---
Cuprum Metallicum (Cupr.)
(কুপ্রাম মেটালিকাম)
ভূমিকা (Introduction):
• উৎস: খনিজ।
• রাসায়নিক ফর্মূলা: Cu।
• প্রচলিত নাম: মেটালিক কপার বা তামা।
• ঔষধ প্রস্তুত: বিশুদ্ধ তামা বা কপার চূর্ণ থেকে ট্রাইটুরেশন পদ্ধতিতে প্রথমে ৩এক্স এবং পরে অ্যালকোহলে মিশিয়ে পটেন্সি করা হয়।
• প্রুভার: ডাঃ স্যামুয়েল হ্যানিম্যান।
• মায়াজম: অ্যান্টি সোরিক, অ্যান্টি সাইকেটিক, অ্যান্টি সিফিলিটিক ও অ্যান্টি টিউবারকুলার।
• কাতরতা: শীতকাতর
• পার্শ্ব: সাধারণত শরীরের বাম পাশে রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়; তবে অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ আড়াআড়িভাবে বাম দিকে উপরে এবং ডান দিকে নিচে অধিক প্রকাশ পায়।
• ব্যবহার: এটি একটি গভীর ক্রিয়াশী পলিক্রেস্ট ঔষধ; নতুন ও পুরাতন উভয় রোগে ব্যবহৃত হয়।
• আকৃতি: রোগী সাধারণত ফ্যাকাশে, জীর্ণ-শীর্ণ ও দুর্বল প্রকৃতির হয়। মুখমণ্ডল ও ঠোঁট নীলাভ বা কালচে বর্ণ ধারণ করতে পারে।
• উপযোগিতা: অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম, অনিদ্রা বা দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তার ফলে যারা স্নায়বিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, তাদের জন্য এটি বিশেষ উপযোগী। এছাড়া যেসব শিশু অত্যন্ত খিটখিটে, অবাধ্য, সহজেই রেগে যায় এবং যাদের চর্মরোগ হঠাৎ চাপা পড়ার ইতিহাস রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
• যে সকল রোগে প্রযোজ্য: লক্ষণ অনুযায়ী উপযুক্ত হলে ঔষধটি যেকোনো রোগে প্রযোজ্য।
• ক্রিয়াস্থল: প্রধানত কেন্দ্রীয় ও প্রান্তীয় স্নায়ুতন্ত্র, মেরুদণ্ড, পাকস্থলী ও অন্ত্রের মিউকাস মেমব্রেন, লিভার, কিডনি, শ্বাসযন্ত্র, রক্তসংবহনতন্ত্র এবং ত্বক ইত্যাদির উপর বেশি কাজ করে।
ঔষধ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমূহ
(Important Symptoms for Prescribing Medicine)
সারসংক্ষেপ (Summary/Keynotes)
 মূল বৈশিষ্ট্য: কুপ্রাম মেটালিকাম তীব্র আক্ষেপ (Spasms), খিঁচুনি (Convulsions), ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus) ও মৃগীরোগের (Epilepsy) একটি গভীর ক্রিয়াশীল ঔষধ। এর প্রধান নির্দেশক লক্ষণ হলো- যে কোনো রোগাবস্থায় (যেমন- কলেরা, হুপিং কাশি, টাইফয়েড, তীব্র পেটব্যথা, গর্ভাবস্থা বা আকস্মিক ভয়) রোগীর সহজেই পেশীর টান বা আক্ষেপ দেখা দেয়। অতীতে চর্মরোগ, পায়ের ঘাম বা হাম-বসন্তের উদ্ভেদ চাপা পড়ার ইতিহাস এবং বংশগতভাবে আক্ষেপ বা স্নায়বিক রোগের প্রবণতা থাকলে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
 আক্ষেপ ও খিঁচুনি: কুপ্রাম মেটালিকাম আক্ষেপ ও খিঁচুনির অন্যতম প্রধান ঔষধ। এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ হলো- খিঁচুনি বা আক্ষেপ সাধারণত হাত ও পায়ের আঙুল থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। খিঁচুনির সময় হাত ও পায়ের আঙুলগুলো ভেতরের দিকে বেঁকে যায়, হাত শক্তভাবে মুষ্টিবদ্ধ থাকে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি মুষ্টির ভিতরে আটকে থাকে। মুখমণ্ডল নীলাভ বর্ণ ধারণ করতে পারে।
 রোগ চাপা পড়ার কুফল: শরীরের চর্মরোগ বা স্বাভাবিক স্রাব (যেমন—ঋতুস্রাব বা পায়ের ঘাম) মলম বা বাহ্যিক চিকিৎসার মাধ্যমে হঠাৎ চাপা পড়লে, কিংবা হাম বা বসন্তের গুটি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ না পেয়ে ভেতরে বসে যাওয়ার পর তীব্র আক্ষেপ, মস্তিষ্কের আবরণীর প্রদাহ (Meningitis), মানসিক উন্মাদনা, মৃগীরোগ বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে কুপ্রাম মেটালিকাম অন্যতম প্রধান ঔষধ।
 জিহ্বা: জিহ্বা বের করতে গেলে তা অত্যন্ত কাঁপে। রোগী সাপের জিহ্বার মতে দ্রুত জিহ্বা বাইরে বের করে আবার সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে টেনে নেয় (Protrusion of Tongue)। ল্যাকেসিসেও এই লক্ষটি আছে। তবে ল্যাকেসিসের জিহ্বা বের করতে গেলে দাঁতের মধ্যে আটকে যায়।
 নীলাভ ভাব (Cyanosis): তীব্র আক্ষেপ, হুপিং কাশি বা ওলাওঠা (Cholera)-এর গুরুতর অবস্থায় রোগীর মুখমণ্ডল, ঠোঁট ও নখ নীলাভ বা কালচে বর্ণ ধারণ করে (Camph., Carb-v., Verat.)।
 অন্তিম অবস্থার ঔষধ: নিউমোনিয়া বা টাইফয়েডের মতো মারাত্মক রোগে যখন জীবনীশক্তি অত্যন্ত কমে যায় এবং কোনো ঔষধে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায় না; শরীর বরফের মতো ঠাণ্ডা ও চটচটে ঘামে ঢেকে যায়- তবুও হাত-পা বা পেটে তীব্র আক্ষেপ ও খিল ধরা ভাব বজায় থাকে, তখন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ (Camph., Carb-v., Verat.)।
 আক্ষেপের পর রোগী অত্যন্ত দুর্বল ও অবসন্ন হয়ে পড়ে।
 এক ঢোক ঠাণ্ডা পানি পান করলে কাশি, বমি বা আক্ষেপের প্রবণতা সাময়িক কমে যায়।
 ভয় বা মানসিক উত্তেজনার পর আক্ষেপের প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।
 অদ্ভুত লক্ষণসমূহ:
 পানি বা তরল খাবার গিলতে গেলে গলার মধ্যে গড়গড় শব্দ হয়, যা বাইরে থেকেও শোনা যায়।  রোগী অন্ধকার ঘরে প্রবেশ করলে বা চোখ বন্ধ করলে সাময়িকভাবে দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলে (Blindness in dark/obscurity)।  তীব্র বমি ও পায়খানার পর প্রচণ্ড ক্ষুধা অনুভূত হয় (Verat.)।
১। মানসিক লক্ষণসমূহ (Mental Generals)
 রোগী মানসিকভাবে অত্যন্ত জেদি, একরোখা ও নিজের মতের প্রতি অনড় প্রকৃতির হয়। নিজের অনুভূতি সহজে প্রকাশ করতে চায় না এবং আবেগ চেপে রাখে (Morrison)।
 রোগীর মধ্যে হিংসুটে প্রবণতা থাকতে পারে; অন্যের কষ্ট বা দুর্দশা দেখে অদ্ভুত মানসিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় (Hering)।
 অত্যন্ত ক্রোধ, বাচালতা, অস্থিরতা, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা, আক্রমণাত্মক আচরণ, কামড়াতে চাওয়া বা ভাঙচুরের প্রবণতা দেখা যায়।
 অকারণে ভয় ও আতঙ্ক থাকে- বিশেষ করে রাতে একা থাকা, অন্ধকার এবং মৃত্যুর ভয় (Stram., Ars., Phos.)।
 রোগের বিকার অবস্থায় (Delirium) অদ্ভুত দৃশ্য দেখে (Hallucination)। নিজেকে বড় কোনো ব্যক্তি বা সম্রাট মনে করে এবং অসংলগ্ন কথা বলতে পারে।
 মনে হয় কেউ তাকে তাড়া করছে বা ক্ষতি করতে আসছে।
২। সর্বদৈহিক লক্ষণসমূহ (Physical Generals)
 রোগের কারণ:
 চর্মরোগ, নালী-ঘা (Fistula) বা স্বাভাবিক স্রাব (যেমন- পায়ের পাতার ঘাম ও মহিলাদের মাসিক স্রাব) হঠাৎ চাপা পড়ার পর বিভিন্ন রোগের উৎপত্তি।  হাম ও বসন্তের গুটি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ না পেয়ে ভেতরে বসে যাওয়ার পর ফুসফুস ও মস্তিষ্কের গুরুতর রোগ (Zinc.)।  অতিরিক্ত মানসিক পরিশ্রম, ঘুমের অভাবের কারণে মানসিক ও শারীরিক অবসন্নতা (Cocc., Nux-v.)।  তীব্র ভয় বা ক্রোধের পর স্নায়বিক দুর্বলতা ও আক্ষেপ।  কৃমির উপদ্রব এবং শিশুদের দাঁত ওঠার সময় বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
 ক্ষুধা: মাঝে মাঝে তীব্র ক্ষুধা বা অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছা দেখা দেয়। রোগী খাবার দ্রুত ও তাড়াহুড়ো করে খায় (Hering)।
 স্বাদ: মুখে ধাতব, তামার মতো বা মিষ্টি স্বাদ অনুভূত হয়; তার সঙ্গে মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়ে (Merc.)।
 পিপাসা: আক্ষেপ বা কাশির আক্রমণের সময় তীব্র পিপাসা দেখা দেয়। রোগী বরফ-ঠাণ্ডা পানি পান করতে চায় এবং এতে সাময়িক উপশম অনুভব করে।
 ঘুম: ঘুম অত্যন্ত অস্থির; সহজে ঘুম আসে না। ভীতিপ্রদ ও খিঁচুনির সঙ্গে সম্পর্কিত স্বপ্ন দেখে। স্নায়বিক উত্তেজনার কারণে ঘুমের মধ্যে হাত-পা ও সারা শরীর হঠাৎ হঠাৎ কাঁপতে থাকে (Twitching) এবং রোগী চমকে ওঠে।
 ঘাম: শরীরের ঘাম সাধারণত অত্যন্ত ঠাণ্ডা, চটচটে ও আঠালো প্রকৃতির হয়। বিশেষ করে তীব্র আক্ষেপ, কলেরা বা কাশির আক্রমণের পর কপাল, মুখমণ্ডল ও হাত-পায়ে ঠান্ডা ঘাম দেখা যায়।
 ব্যথার বৈশিষ্ট্য: ব্যথা তীব্র আক্ষেপিক সংকোচনযুক্ত (Violent Spasmodic Cramps), যা সাধারণত হঠাৎ শুরু হয় এবং হঠাৎ কমে যায় (Bell., Mag-p.)। মনে হয় আক্রান্ত স্থানের পেশী বা অন্ত্রকে কেউ শক্ত করে মুচড়ে ধরে গিঁট পাকিয়ে দিচ্ছে। কুপ্রামের ব্যথা দ্রুত স্থান বা প্রকৃতি পরিবর্তন করতে পারে।
 বৃদ্ধি: স্পর্শে, রাতে, ঘুমের সময়, অমাবস্যায়, বমির পর, ঠাণ্ডা ও ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় (তবে বরফ-ঠাণ্ডা পানি পান করলে বিশেষ কিছু উপসর্গে উপশম হয়); চর্মরোগ বা পায়ের ঘাম হঠাৎ চাপা পড়লে, গর্ভাবস্থায়, ঘুমের অভাবে এবং মাসিকের পূর্বে উপসর্গ বৃদ্ধি পায়। খাদ্য ও পানীয়: গরম খাদ্য ও পানীয় এবং দুধে উপসর্গ বৃদ্ধি।
 উপশম: চাপ দিলে, ঘাম হলে এবং বরফ-ঠাণ্ডা পানি পান করলে (বিশেষ করে বমি, কাশি, হিক্কাও পাকস্থলীর আক্ষেপে) উপশম।
 পছন্দ: শরীর সর্বদা আবৃত রাখতে চায়। কলেরার হিমাঙ্গ (Algid) অবস্থায় রোগী গরম খাবার ও গরম পানীয় পছন্দ করে।
 অপছন্দ: দুধ।
৩। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমূহ (Other Important Symptoms)
 বংশগত প্রবণতা (Hereditary Tendency): পরিবারে মৃগীরোগ, ধনুষ্টঙ্কার, স্নায়বিক পক্ষাঘাত, উন্মাদনা, যক্ষ্মা বা সিফিলিসের মতো গভীর দীর্ঘস্থায়ী রোগের ইতিহাস থাকতে পারে।
 সহগামী লক্ষণসমূহ:
 তীব্র আক্ষেপ বা হুপিং কাশির আক্রমণের সঙ্গে হাত ও পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি ভেতরের দিকে বেঁকে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে যায়।  তীব্র কাশির আক্রমণ বা পাকস্থলীর যন্ত্রণার সঙ্গে মূর্ছা বা জ্ঞান হারানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে এবং রোগীর শরীর নীলাভ বর্ণ ধারণ করে।  পেটের তীব্র শূলব্যথার (Colic) সঙ্গে হাত ও বিশেষ করে পায়ের গোছার পেশীতে (Calf muscles) তীব্র টান, মোচড়ানি বা কামড়ানোর মতো ব্যথা (Cramping) দেখা দেয়।  তীব্র হিক্কা বা হেঁচকির সঙ্গে বুকের ভেতর আক্ষেপিক টান অনুভূত হয়, যেন শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।  জরায়ুর আক্ষেপের সঙ্গে হাত-পায়ের কাঁপুনি বা খিঁচুনি প্রকাশ পেতে পারে।
 পরিপাকতন্ত্র (Digestive System): পাকস্থলী ও অন্ত্রের পেশীতে তীব্র আক্ষেপিক মোচড়ানি ব্যথা হয়; মনে হয় ভেতরের নাড়িভুঁড়ি কেউ শক্ত করে মুচড়ে গিঁট পাকিয়ে দিচ্ছে। যেকোনো তরল বা পানি পান করার সময় তা গলার ভেতর দিয়ে গড়গড় শব্দ করে নিচে নামে (Ars., Laur., Thuj.)। ওলাওঠা বা কলেরার তীব্র বমি ও মলত্যাগের সঙ্গে পেট এবং পায়ের গোছার পেশীতে (Calf muscles) প্রচণ্ড টান, মোচড়ানি ও কামড়ানোর মতো ব্যথা (Cramping) দেখা দেয়।
 মস্তিষ্ক: চর্মরোগ বা হাম-বসন্তের গুটি বাহ্যিক চিকিৎসার মাধ্যমে হঠাৎ চাপা পড়ার পর মস্তিষ্কের আবরণীর প্রদাহ (Meningitis) বা মৃগীরোগের মতো স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। আক্ষেপের তীব্রতায় রোগীর মাথা পেছনের দিকে বেঁকে যায় বা হেলে পড়ে এবং অবচেতন অবস্থায় সাপের মতো জিহ্বা দ্রুত বাইরে বের করে আবার ভেতরে টেনে নেয় (Protrusion of Tongue)।
 বক্ষ ও শ্বাসযন্ত্র (Chest & Respiratory System): তীব্র আক্ষেপিক হুপিং কাশি ও শ্বাসকষ্ট দেখা যায়। কাশির বেগে দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অনুভূতি হয়; কখনও কাশির তীব্রতায় রোগী জ্ঞান হারাতে পারে এবং শরীর নীলাভ বর্ণ ধারণ করে। এত কষ্টের মাঝেও এক ঢোক বরফ-ঠাণ্ডা পানি পান করলে কাশির বেগ সাময়িকভাবে উপশম হয়।
মনীষীদের অভিমত:
১। ডাঃ রজার মরিশন (Dr. Roger Morrison): তিনি তীব্র আক্ষেপিক হাঁপানি (Spasmodic Asthma) এবং রাতে পায়ের গোছার পেশীতে হঠাৎ তীব্র টান (Night cramps in calves)- এই ধরনের লক্ষণে কুপ্রাম মেটালিকামকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
২। ডাঃ আবু বকর (Dr. Abu Bakr): কুপ্রামের আক্ষেপের আক্রমণ অত্যন্ত হঠাৎ, আকস্মিক এবং তীব্র হয়ে থাকে। আক্ষেপ বা খিঁচুনির পর রোগীর কামড়াতে চাওয়ার প্রবৃত্তি বা আক্রমণাত্মক আচরণ বা কামড়াতে চাওয়ার প্রবণতার বিষয়টি তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
৩। ডাঃ এস পি দে (Dr. S.P. Dey): ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমার ক্ষেত্রে যখন বুকে তীব্র আক্ষেপ, দমবন্ধ ভাব এবং দমবন্ধকারী সংকোচন প্রধান থাকে, তখন তিনি কুপ্রামকে অন্যতম প্রধান ওষুধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
৪। ডাঃ সি এম বোগার (Dr. C.M. Boger): বোগারের মতে, কুপ্রামের লক্ষণগুলো নির্দিষ্ট সময় অন্তর বা পর্যায়ক্রমে ফিরে আসে (যেমন: প্রতি অমাবস্যায় বা নির্দিষ্ট ঘণ্টায়)। সামান্য স্পর্শে আক্ষেপ, খিঁচুনি বা ব্যথার তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
৫। ডাঃ হেনরি এন গারেন্সী (Dr. Henry N. Guernsey): প্রসূতি নারীদের সন্তান প্রসবের পর তীব্র জরায়ুর আক্ষেপ (After-pains) এবং নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে ধনুষ্টঙ্কার (Tetanus) বা চোখ উল্টে খিঁচুনি ওঠার প্রধানতম নির্দেশক হিসেবে তিনি "হাতের বুড়ো আঙুল মুষ্টির ভেতর চেপে ধরা" লক্ষণটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
৬। কেন্ট ও অ্যালেন (Kent & Allen): কুপ্রামের মৃগী রোগের খিঁচুনির পূর্ব-লক্ষণ বা আউরা (Epileptic Aura) সুনির্দিষ্টভাবে হাত ও পায়ের আঙুল থেকে শুরু হয়ে ওপরের দিকে তলপেটে ওঠে; রোগী তখনই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যেতে পারে এবং মুখ দিয়ে ফেনা ওঠতে পারে।
৭। ডানহাম বলেন, ক্যাম্ফোরে প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তীব্র হিমাঙ্গ অবস্থা, ভিরেট্রামে প্রবল বমি ও পাতলা পায়খানা, আর কুপ্রামে প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো তীব্র টানধরা ব্যথা (Cramps) ও আক্ষেপ।
৮। ডাঃ ন্যাশ বলেন, হুপিং কাশিতে ”শিশুর শরীর শক্ত হয়ে পড়ে, শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়, আপেক্ষিক স্পন্দন থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যে জ্ঞান ফিরে আসার পর বমি করে তারপর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠে”।
মন্তব্য: উপরোক্ত লক্ষণসাদৃশ্যে ঔষধটি প্রয়োগ করা হলে, রোগের নাম যাই হোক না কেন, ঔষধটি কার্যকর ফল প্রদান করতে সক্ষম।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ রোগের লক্ষণসমূহ (Important Clinical Symptoms)
১। আক্ষেপ ও খিঁচুনির (Spasms & Convulsions):
 আক্ষেপ বা খিঁচুনি সাধারণত হাত ও পায়ের আঙুল থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে শরীরের কেন্দ্রভাগে বা মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়ে। খিঁচুনির সময় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ভেতরের দিকে বেঁকে হাত শক্তভাবে মুষ্টিবদ্ধ হয়ে যায় (Clenched thumbs)। তীব্র অবস্থায় শরীর ধনুকের মতো বেঁকে যেতে পারে (Opisthotonos), চোখ উল্টে যায় এবং চোয়াল শক্ত হয়ে আটকে যায় (Lock-jaw)।
 তীব্র টানধরা ব্যথা (Cramping pain) আঙুল ও পেশীতে অনুভূত হয়। খিঁচুনির পূর্বে বুক ধড়ফড়ানি, বমি, চিৎকার করা ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। আক্রমণের সময় রোগী কখনও উত্তেজিত বা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে, কামড়াতে যায়, থুতু ফেলে বা অসংলগ্ন কথা বলে।
 খিঁচুনির সঙ্গে হিক্কা, মুখ দিয়ে ফেনা ওঠা ও পরবর্তীতে বমি হতে পারে। আক্ষেপ নির্দিষ্ট সময় পরপর বা পর্যায়ক্রমে ফিরে আসতে পারে। প্রচণ্ড আক্ষেপের সময় শরীর বরফের মতো ঠাণ্ডা হয়ে যায়। রাতে, কাশির পর, ঠাণ্ডা কিছু খেলে বা পানিতে ভিজলে পুনরায় আক্রমণ হতে পারে।
 ডাঃ হিউজেস বলেন- খিঁচুনির কারণ যাই হোক না কেন, যদি তা হাত বা পায়ের আঙুল থেকে শুরু হয়, তবে কুপ্রাম একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ।
 খুব দ্রুত আক্রমণ ও শরীর নীল হয়ে যায়: Hydrocyanic Acid।
 আক্ষেপ শরীরের উপরের অংশে আরম্ভ হয় এবং মাথা পেছনের দিকে বেঁকে যায়: Cic.
২। এপিলেপ্সির পূর্বলক্ষণ (Aura): মৃগীরোগের পূর্বলক্ষণ সাধারণত হাত বা পায়ের আঙুল থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে ওপরের দিকে ওঠে। আক্রমণের সময় অনিচ্ছাকৃত মল-মূত্র ত্যাগ হতে পারে। রাতে ঘুমের মধ্যে (Bufo., Caust., Cupr., Lach.), অমাবস্যায় ও ঠাণ্ডায় উপসর্গ বৃদ্ধি পায়।
৩। কাশি: কাশি বা হুপিং কাশির আক্রমণ অত্যন্ত তীব্র, আক্ষেপিক ও একটানা হয়; রোগীর দম বন্ধ হয়ে আসার মতো অনুভূতি হয় এবং মুখমণ্ডল ও ঠোঁট নীলাভ বা বেগুনি বর্ণ ধারণ করে। কাশির সময় রোগীর শরীর শক্ত ও আড়ষ্ট হয়ে যেতে পারে (Dros.)। কাশির একটি বিশেষ ধরন হলো- পরপর তিনবার কাশির ধমক আসে; মনে হয় কাশি থেমে গেছে, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই আবার শুরু হয় (Stann.)। কাশির সময় গলা বা বুকের মধ্যে পানি ঢালার মতো গড়গড় শব্দ শোনা যায়। বরফ-ঠাণ্ডা পানি পান করলে কাশির বেগ সাময়িকভাবে উপশম হয় (KR: Cough, cold, drinks amel., p-784: Caust., Cupr., Op,)। সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, দ্রুত চলাফেরা এবং রাতে কাশি বৃদ্ধি পায়। ঠাণ্ডা পানি পানে বৃদ্ধি (Spongia)।
৪। তোতলামি (Stammering): জিহ্বার স্নায়বিক আক্ষেপ বা দুর্বলতার কারণে কথা জড়িয়ে যায়। বিশেষ করে কোনো শব্দের প্রথম অক্ষর বা প্রথম শব্দাংশ উচ্চারণের সময় রোগী বেশি তোতলায় এবং একই শব্দ বারবার উচ্চারণ করে (Stram.)।
৫। সহবাসের সময় পায়ে টান লাগা (Cramps during Coition): স্নায়বিক দুর্বলতা বা অতিরিক্ত উত্তেজনাজনিত অবস্থায় সহবাসের চেষ্টা বা সহবাসের সময় হাত-পা এবং বিশেষ করে পায়ের গোছার পেশীতে (Calf muscles) তীব্র টান বা আক্ষেপ দেখা দিতে পারে (Hering)।
৬। গর্ভাবস্থা বা প্রসবকালীন একলামসিয়ায় (Eclampsia): গর্ভাবস্থা বা প্রসবকালীন একলামসিয়ায় (Glon.) বিশেষ করে যেসব স্ত্রীলোকের গর্ভাবস্থায় প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং প্রসবকালে হঠাৎ দৃষ্টিশক্তির ব্যাঘাত বা সাময়িক দৃষ্টিহীনতা দেখা দেয়, সেখানে প্রথমেই কুপ্রামের কথা মনে রাখা উচিত (ডাঃ মহিমারঞ্জন ও ডাঃ নরেন্দ্রনাথ)। প্রসবের পর প্রসূতি নারীর জরায়ুতে তীব্র আক্ষেপিক মোচড়ানো ব্যথা হতে পারে, যা পিঠ থেকে তলপেট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এর সঙ্গে হাত-পায়ের আঙুল ভেতরের দিকে বেঁকে শক্ত হয়ে যাওয়া, মুষ্টিবদ্ধ হওয়া, খিঁচুনি এবং পদতল ও পায়ের গোছায় ক্র্যাম্পিং ব্যথা দেখা যায়।
৭। কলেরা: কুপ্রাম কলেরার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ ও প্রতিষেধক (এম. ভট্টাচার্য্য)। মহামারীকালীন কলেরায় তিনি প্রতিষেধক হিসেবে এর ৩০ শক্তি ব্যবহারের কথা বলেছেন। লক্ষণ হলো—প্রচুর পায়খানা ও বমি (Verat.) তার সাথে পেটে ও পায়ের গোছায় তীব্র খিঁচুনিযুক্ত বা টান ধরা ব্যথা (Cramping pain) দেখা যায়। শরীর ও মুখমণ্ডল নীলাভ এবং বরফের মতো ঠান্ড হয়ে যায়। পায়খানায় অত্যন্ত দুর্গন্ধ থাকে।
অনুপূরক: ক্যালকেরিয়া কার্ব।
ক্রিয়ানাশক: বেলেডোনা, হিপার, সালফার, ক্যাম্ফোর, ইপিকাক, নাক্স ভম । চিনি বা মিষ্টি এবং ডিমের সাদা অংশ। তামার পাত্রে রান্না খেয়ে বিষাক্ত হলে হিপার বা পটাস সোপ দিতে হবে।
সম্পর্ক: কুপ্রামের পর হুপিং কাশি ও কলেরায় ভিরেট্রাম এলবাম এবং আসেনিক ভালো কাজ করে।
পরবর্তী ব্যবহৃত ঔষধ: রোগীর লক্ষণসমষ্টির ভিত্তিতে পরবর্তীতে যে কোনো উপযুক্ত ঔষধ নির্বাচন করা যেতে পারে।
ক্রিয়ার স্থায়িত্ব: প্রায় ৪০-৫০ দিন।
ব্যবহৃত শক্তি: ৩০ থেকে উচ্চশক্তি ও ৫০ সহস্রতমিক (LM) ০/১ থেকে উচ্চশক্তি।

27/06/2026

২য় খণ্ডে ঔষধগুলি যেভাবে থাকছে- Mobile/WhatApps: 01713030488
Rumex Crispus (Rumx.)
(রিউমেক্স ক্রিসপাস)
ভূমিকা (Introduction):
• উৎস: উদ্ভিজ্জ।
• প্রচলিত নাম: ইউলো ডক, কালার্ড ডক।
• ঔষধ প্রস্তুত: গাছের তাজা শিকড় থেকে মাদার টিংচার ও পরবর্তী পটেন্সি প্রস্তুত করা হয়।
• প্রুভার: ডাঃ এইচ. এ. হাউটন (Dr. H. A. Houghton) ১৮৫২ সালে ওষুধটি প্রথম আংশিকভাবে পরীক্ষা করেন। পরে ডাঃ বি. এফ. জোসলিন (Dr. B. F. Joslin) ১৮৫৮ সালে বৈজ্ঞানিকভাবে বিস্তৃত প্রুভিং সম্পন্ন করেন; পরবর্তীতে নিউইয়র্ক স্টেট হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল সোসাইটি এটি প্রকাশ করে।
• মায়াজম: সোরিক ও টিউবারকুলার।
• পার্শ্ব ও ব্যবহার: এটি একটি নন-পলিক্রেস্ট ঔষধ; তরুণ এবং ক্রণিক উভয় অবস্থায় কার্যকর। শরীরের বাম দিকে বেশি কাজ করে।
• উপযোগিতা: কাশি, চর্মরোগ, ভোরের দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা এবং মূত্রজনিত উপসর্গ এবং যক্ষ্মার শেষ অবস্থায় উপযোগী।
• ক্রিয়াস্থল: শ্বাসনালী (বিশেষত ল্যারিংস ও ট্রাকিয়া), ফুসফুস, পরিপাকতন্ত্র এবং ত্বক।
ঔষধ নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণসমূহ
(Important Symptoms for Prescribing Medicine)
সারসংক্ষেপ (Summary)
 চরম শীতকাতরতা: রোগী অত্যন্ত শীতকাতর (Hep.); সামান্য ঠান্ডা বাতাস নাকে-মুখে প্রবেশ করলে, এসিতে বসলে, গায়ের কাপড় সরালে বা আবহাওয়া পরিবর্তনে রোগলক্ষণ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই রোগী গরম ঘরে থাকতে চায় এবং ঘুমানোর সময় নাক-মুখ বা মাথা সম্পূর্ণ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে উল্লেখযোগ্য উপশম অনুভব করে।
 কাশি: গলার ঠিক নিচের নরম খাঁজে বা গর্তে (Throat-pit) অবিরাম সুড়সুড়ির কারণে একটানা শুকনো, ক্লান্তিকর কাশি হয়, যা সামান্য কথা বললে, ঠান্ডা বাতাস লাগলে, শুলে বিশেষ করে বাম কাতে শুলে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পায়। নাক-মুখ বা মাথা সম্পূর্ণ কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে কাশির উপশম হয়—এটি ঔষধটির একটি অত্যন্ত বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ।
 ডায়রিয়া: প্রতিদিন ভোরে (ভোর ৫টা থেকে ১০টার মধ্যে) হঠাৎ বাদামী রঙের প্রচুর পরিমাণে তরল পায়খানার বেগ হয়, যা রোগীকে দ্রুত বিছানা ছেড়ে পায়খানায় দৌড়াতে বাধ্য করে (Sulph., Podo.)। অনেক ক্ষেত্রে কাশির সঙ্গেও পাতলা পায়খানা হতে পারে।
 গোশত অসহ্য: রোগী গোশত বা মাংস একেবারেই সহ্য করতে পারে না; গোশত খেলেই টক ঢেঁকুর, বমি ভাব, কাশি, ডায়রিয়া কিংবা চর্মরোগের উপদ্রব বৃদ্ধি পায়।
 কাপড় খুললে চুলকানি: ত্বকের চর্মরোগ বা চুলকানি প্রধানত হাত-পায়ে বেশি দেখা যায়; ঠান্ডা বাতাস লাগলে বা জামাকাপড় খুললে তীব্র চুলকানি ও পিন ফোটানোর মতো অস্বস্তি শুরু হয়, যা বিছানার গরমে বা গরম সেঁকে উপশম হয়।
১। মানসিক লক্ষণসমূহ (Mental Generals)
 রোগী অত্যন্ত বিষণ্ণ, মনমরা এবং খিটখিটে স্বভাবের হয়; সামান্য কারণে বা ছোটখাটো বিষয়েই সহজে মন খারাপ করে বা রেগে যায়।
 নিজের রোগ বা কষ্টের কারণে রোগী সবসময় নিজের ওপর এবং চারপাশের মানুষের ওপর চরম অসন্তুষ্ট থাকে।
 কোনো বিষয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে, মানসিক পরিশ্রম করলে বা মানসিক উত্তেজনা দেখা দিলে রোগীর শ্বাসনালীর সুড়সুড়ি এবং কাশির বেগ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।
২। সর্বদৈহিক লক্ষণসমূহ (Physical Generals)
 বৃদ্ধি: ঠান্ডা বাতাসে, খোলা বাতাসে, গায়ের কাপড় সরালে, আবহাওয়া পরিবর্তনে, সকালে, সন্ধ্যায়, রাতে বিছানায় শুলে বা বাম কাতে শুলে (Phos.), কথা বললে, শ্বাস নিলে এবং গোশত খেলে রোগ বাড়ে।
 উপশম: গরমে, গরম ঘরে, গরম আবহাওয়ায়, গরম সেঁকে, বিশ্রামে এবং নাকে-মুখে কাপড় ঢেকে রাখলে।
 পছন্দ: গরম ঘর, গরম খাবার, গরম পানীয়, আক্রান্ত স্থানে গরম সেঁক এবং গায়ে ভারী ও উষ্ণ সুতি কাপড়।
 অপছন্দ: ঠান্ডা বাতাস, ঠান্ডা আবহাওয়া, ঠান্ডা পানি, খোলা বাতাস, এসি এবং গোশত বা মাংস।
 স্বপ্ন: চোর-ডাকাতের স্বপ্ন, বিপদে পড়ার স্বপ্ন, তাড়াহুড়ো বা কোথাও পৌঁছানোর জন্য ছুটে চলার অস্থির স্বপ্ন।
৩। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ লক্ষণসমূহ (Important Particular Generals)
 অনুভূতি: গলার ভেতর সবসময় কোনো শক্ত বস্তু বা পিণ্ড (Lump) আটকে থাকার অনুভূতি। থুতু ফেললে বা ঢোক গিললে সেটি সাময়িক নিচে নেমে যায় বলে মনে হলেও পরক্ষণেই আবার আগের স্থানে ফিরে আসে।
 কনকমিটেন্ট লক্ষণ: কাশির সঙ্গে ভোরের পাতলা পায়খানা এবং ত্বকে তীব্র চুলকানি—এই তিনটি লক্ষণ একসঙ্গে উপস্থিত থাকলে Rumex Crispus বিশেষভাবে বিবেচ্য।
 মলত্যাগ: প্রতিদিন ভোরে (ভোর ৫টা–১০টার মধ্যে) পেটে কোনো ব্যথা ছাড়াই হঠাৎ বাদামী রঙের প্রচুর, দুর্গন্ধযুক্ত পাতলা পায়খানা হয়। রোগী বিছানা ছেড়ে দ্রুত পায়খানায় দৌড়াতে বাধ্য হয় (Aloe., Nat-s., Podo., Sulph.)।
 মূত্রথলি: মনে হয় মূত্রথলিতে (Bladder) সবসময় প্রস্রাব জমে আছে। প্রস্রাবের বেগ এলে রোগী এক মুহূর্তও দেরি করতে পারে না এবং প্রস্রাব করার পরও মূত্রথলি সম্পূর্ণ খালি হয়নি বা চাপ রয়ে গেছে বলে অনুভব করে।
মন্তব্য: উপরোক্ত লক্ষণসাদৃশ্যে ঔষধটি প্রয়োগ করা হলে, রোগের নাম যাই হোক না কেন, ঔষধটি কার্যকর ফল প্রদান করতে সক্ষম।
কিছু গুরুত্বপূর্ণ রোগের লক্ষণসমূহ (Important Clinical Symptoms)
১। কাশি: গলার খাঁজ (Throat-pit) ও বুকের মধ্যে সুড়সুড়ি দিয়ে একটানা বিরক্তিকর শুকনো কাশি হয়; কফ সহজে উঠতে চায় না। ঠান্ডা বাতাস, সামান্য কথা বলা, এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যাওয়া, গলার মধ্যে স্পর্শ বা চাপ দিলে এবং বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে বাম কাতে শুলে কাশির তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায় (Phos.)। কাশির প্রচণ্ড বেগের সময় কলারবোনের (Clavicle) নিচে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় (Carroll Dunham) এবং অনেক সময় কাশির চোটে অসারে প্রস্রাব বের হয়ে যায় (Caust., Puls., Sil.)। গরমে, গরম ঘরে এবং নাক-মুখ বা মাথা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখলে কাশির উপশম হয়।
২। চর্মরোগ: ঠান্ডা আবহাওয়া বা ঠান্ডা বাতাসে আমবাতসহ বিভিন্ন চর্মরোগ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায় (Hep., Nat-s.)। বিশেষ করে জামাকাপড় খুললে, অনাবৃত হলে বা কাপড় খুলে বিছানায় গেলে ত্বকে তীব্র চুলকানি ও পিন ফোটানোর মতো অস্বস্তি শুরু হয় (Hep., Nat-s., Oleand.), যা বিছানার গরমে বা গরম সেঁকে উপশম হয়।
৩। স্বরভঙ্গ (Aphonia): ঠান্ডা বাতাস লাগার পর হঠাৎ গলার স্বর বসে যায় বা ভেঙে যায়। স্বরভঙ্গের সঙ্গে ল্যারিংসে সুড়সুড়ি, শুষ্কতা এবং শুকনো কাশি বর্তমান থাকতে পারে। সন্ধ্যায় ও ঠান্ডায় বাড়ে।
অনুপূরক: ক্যালকেরিয়া কার্ব।
সম্পর্ক: কাশিতে তুলনীয় ঔষধসমূহ- ফসফরাস, কস্টিকাম, ড্রসেরা, স্পঞ্জিয়া, এবং হিপার সালফ। ভোরে ডায়রিয়ায় তুলনীয়- সালফার ও পডোফাইলাম।
ক্রিয়ানাশক: ক্যামোমিলা, বেলোডোনা, ল্যাকেসিস।
পরবর্তী ব্যবহৃত ঔষধ: শত্রুভাবাপন্ন ঔষধ ছাড়া লক্ষণ পাওয়া গেলে যেকোনো ঔষধ ব্যবহার করা যায়।
ক্রিয়ার স্থায়িত্ব: ৭-১৪ দিন (আনুমানিক)।
ব্যবহৃত শক্তি: ৩এক্স, ৬, ৩০ থেকে উচ্চশক্তি এবং পঞ্চাশ সহস্রতমিক (LM) পোটেন্সির ক্ষেত্রে ০/১ থেকে উচ্চশক্তি।
ঔষধ চলাকালীন বর্জনীয় খাবার: চর্বিযুক্ত লাল মাংস, আইসক্রিম, ঠান্ডা খাবার ও পানীয়, এবং অতিরিক্ত টকজাতীয় খাবার।

Address

SHIFA HOMEO HALL, 21/1 Shahid Minar Road, (corner Of Road # 7), Kallyanpur
Dhaka
1207

Telephone

+8801713030488

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Mohammad Yousuf posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Mohammad Yousuf:

Shortcuts

Share

Category