Mansuba's Counseling Center

Call Directions Website Contact the practice

Mansuba's Counseling Center Expert counseling on Child, Family, Adolescent, Career, Marriage, Couple, Addiction, Depression, Anger, etc. For counseling needs, please make appointment.

নোট  # ৪৪নূরজাহান বেগমের মৃত্যু ও প্রসঙ্গিক ভাবনানূরজাহান বেগমের মৃত্যু আমাদের আবেগকে প্রচন্ডভাবে নাড়া দিয়েছে। কেননা সন্...
10/06/2026

নোট # ৪৪

নূরজাহান বেগমের মৃত্যু ও প্রসঙ্গিক ভাবনা

নূরজাহান বেগমের মৃত্যু আমাদের আবেগকে প্রচন্ডভাবে নাড়া দিয়েছে। কেননা সন্তানরা যথাযথভাবে তার সেবা যত্ন করেননি, তার বাড়ীঘর পরিষ্কার করেননি... এই তো?! কিন্তু এমনও হতদরিদ্র সন্তান রয়েছে যার নিজের বয়স ষাট, আর মায়ের বয়স পঁচাশি... সেও তার মাকে নিজের সাথে রেখে যতটুকু পারে যত্ন করছে। এরকম বিষয় নিয়ে ফেসবুক কিংবা পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয় যেটা আমরা দেখি। এখন কেন এই দুই রকমের চিত্র?! একটু ভাবলেই হয়ত আমরা অনুধাবন করতে পারি। সেটা নিয়ে পরে কোন একদিন লিখব।

বারবার সব রকম মিডিয়ায় নূরজাহান বেগমের নোংরা আবর্জনায় ভরা ঘরটি আমরা দেখলাম। সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলিং করার সময় এরকম কিছু কেইস ডিল করতে যেয়ে দেখেছি এক চল্লিশোর্ধ্ব মধ্যবয়সী লোক তার আত্মীয়ের সাথে আত্মীয়ের বাড়ীতে থাকেন বেশ কয়েক বছর। সব ধরণের সুযোগ সুবিধা তাকে পরিবারের একজন সদস্যের মত দেওয়া হয়, বরংচ অন্যদের চেয়ে কিছুটা বেশীই পান। কিন্তু ওই ভদ্রলোক তার কক্ষে কখনও কাউকে ঢুকতে দেন না, ঘর বা বাথরুম পরিষ্কার তো দূরের কথা! তিনি বছরে দু'একবার যখন শহরের বাইরে যান তার আত্মীয় তার ঘরে ঢুকে পরিষ্কার করেন। কিন্তু সে ভদ্রলোক বাসায় ফিরে সব পরিপাটি দেখেই এমন আক্রমণাত্মক আচরণ করা শুরু করেন যেটা সেই আত্মীয়ের জন্য প্রচন্ড ভীতিকর আর সামাজিক ও ব্যক্তিগতভাবে অসম্মানজনক হয়ে পড়ে। বেশ কয়েকবার এই পরিষ্কার ইস্যুতেই খুব বাজে আর ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এখন সেই আত্মীয় যাদের বাড়ীতে ভদ্রলোকটি থাকেন, তারা আর নিজ থেকে রুম, টয়লেট পরিষ্কার করেন না। পরিণামে রুম এবং টয়লেট ক্রমান্বয়ে একটা ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে আমরা কাকে দোষ দেব?!

এইক্ষেত্রে আরও দেখা যায় ওই ভদ্রলোকটি যে আত্মীয়ের বাসায় থাকেন তাদের প্রতি অহেতুক নানা কারণে সন্দেহ প্রকাশ করেন। মনগড়া কথাবার্তা বলেন, খারাপ ব্যবহার করেন আর সেই সাথে প্রভাব ও কর্তৃত্ব খাটান। সবকিছু তিনি যেভাবে চান অর্থাৎ তার মনের মত করে হতে হবে। বাসায় সব সময় মানসিকভাবে একটা চাপে রাখেন সবাইকে। আত্মীয়টি প্রায়ই দুঃখ করে বলেন, ওই একটি রুম ও টয়লেটের স্যাৎসেতে ভাব ও ময়লা আবর্জনায় তার বাড়িটিই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে তাদের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে। না তিনি কাউকে বলতে পারছেন, না তিনি তার আত্মীয়টিকে সরাতে পারছেন।

আরেকটি ঘটনা বলি। এক ভদ্রমহিলা তার আলমারিতে নিজের সব রকমের নতুন কাপড় চোপড়, শাড়ী, ইত্যাদি বছরের পর বছর ধরে জমা করে রেখে দিচ্ছেন। অথচ স্বামী আর পুত্রের সংসারে তিনি ছেড়া ত্যানার মত কাপড় পরে থাকেন। বাড়িতে কোন অতিথি এলেও তার সেই ময়লা, ছেঁড়া, গন্ধওয়ালা কাপড়গুলো পাল্টান না। পুরানো প্লাস্টিকের ফেলে দেয়া বাক্সে তিনি ভাত, তরকারি খান। তার এসব বাক্স পাল্টে কাঁচের থালা বাসন দেয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দেন আর সংসারে প্রচন্ড অশান্তি শুরু করেন। বাড়িতে কোন হেল্পিং হ্যান্ড রাখতে দেন না, তাদের হাতের তৈরি খাবার খাওয়া তো দূরের কথা। কখনও ডাইনিং টেবিলে পরিবারের অন্যদের সাথে খাবার খেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। নিজের টয়লেটে মাটি, বালি, চাপাতা, খবরের কাগজের টুকরা, ইত্যাদি জমা করে রাখেন। তার বাথরুম প্রচন্ড ময়লা থাকতে হবে, কোন হেল্পিং হ্যান্ড বা বাড়ীর কাউকে দিয়ে তিনি পরিষ্কার করাতে দেবেন না। অনেক সময় জোর জবরদস্তি করে ওনার টয়লেট ধোওয়ান ওনার পুত্র ও পুত্রবধু। যতই উনাকে অনুরোধ করা হোক না কেন তিনি তার এ ধরণের কাজগুলো করেই যাচ্ছেন।

জানা যায়, একটা সময় তিনি নিজের পুত্র ও পুত্রবধুকে ঘরে তালাবদ্ধ করে রাখতেন বেশ কয়েক বছর। শুধুমাত্র তাদের অফিসে যাওয়া আসার সময় হলে তালা খুলতেন। বাইরের সমাজের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন করে রাখতেন সব সময়। কাউকেই বাড়িতে ঢুকতে দিতে চাইতেন না। সারাক্ষণ সন্দেহ ও জিম্মি হওয়ার ভয়ে থাকেন। সেই যুগলটির জীবন বলতে শুধু ছিল অফিস বাসা আর এই মায়ের অসুস্থ চিন্তার কাছে হার মানা। অথচ এ সবের জন্য আত্মীয় স্বজন আর সমাজের কাছে কথা শুনতে হয় পুত্র ও পুত্রবধুটিকেই....তাদেরকেই দোষারোপ করা হয় তাদের মা কেন এমন পোষক পরেন বা এমন আচরণ করেন। ভদ্রমহিলার রয়েছে মাথা ভর্তি উকুন। হাত, পায়ের নখ অনেক লম্বা লম্বা। উনার পুত্র ও পুত্রবধু এগুলো সরাতে বহু চেষ্টা করেও সফল হতে পারেননি। পরিণামে তিনি তার দরজা ভেতর থেকে বেশ কয়েক দিন লক করে রাখেন। শুধু মাত্র খাওয়ার সময় দরজায় অনেক্ষণ টোকা দিলে দরজা একটু ফাঁকা করে খাবারটা ঘরে ঢুকিয়ে আবার লক করে রাখেন। আর সেই সাথে রয়েছে নানা ধরণের ব্ল্যাকমেলিং। এখন কি তাহলে ওনাকে হাত পা বেঁধে পরিষ্কার করবে ওনার পুত্র?! এটা সেই পুত্রের পক্ষে কখনও সম্ভব না।

এরকম বহু অজানা ঘটনা রয়েছে একেকটি পরিবারের। সেই ভেতরের খবরগুলো আমরা জানতে পারি না সোস্যাল স্টিগমা আর ট্যাবুর কারণে। অথচ আমরা জানি এগুলো মানসিক রোগের লক্ষণ ও আচরণগত সমস্যা। কিন্তু তারা নিজেরা সেটা স্বীকার করতে চান না, উল্টা ভায়োলেন্স শো করেন। তারা নিজেরা চিকিৎসা সেবা নিতে চান না, মেডিসিনও খেতে চান না। পরিবারের বাকী সদস্যরা তাদের চিকিৎসা করানোর জন্য জোর জবরদস্তি করতে করতে ক্লান্ত পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন। এসব ঘটনায় পিষ্ট হচ্ছে পরিবারের বাকী সদস্যরাও। এসব মানুষের দায়িত্ব নিতে নিতে একসময় তারাও বৃদ্ধ হন, তাদেরও অন্যের দেখভাল করার ক্ষমতা নিঃশেষ হয়ে যায়। একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া বাইরের কেউ তাদের দেখে সমস্যাগুলো বোঝেন না, বুঝবেনও না। তারা এসব মানসিক সমস্যাগ্রস্থদের কাছে এক রকমের নিরুপায় অসহায়ত্ব বরন করে নেন। তারা একদিকে যেমন ক্লান্ত, তেমনি মানসিক ও সামাজিক ভাবেও বিপর্যস্ত।

তাহলে এখন এ ধরণের কেইসের ক্ষেত্রে আমাদের করণীয় কি? তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রম, শেল্টার হোম বা অন্য কোন জায়গায় রাখা যেখানে এদেরকে পুর্নবাসন করা যায়? সেটা কি সম্ভব?! উত্তর হল, "না, সম্ভব না।" কারণ, আমাদের রয়েছে নানা ধরনের ট্যাবু, স্টিগমা ও সমাজচ্যুত হওয়ার ভয়। তাছাড়া উন্নত দেশগুলোর মত আমাদের দেশে কোন উন্নত কেয়ারগিভিং হোমও নেই যেখানে এদেরকে রেখে সেবাযত্ন দেয়া সম্ভব। হাতে গোনা দু'একটি হয়েছে বা হচ্ছে যেগুলোতে রাখার আর্থিক সামর্থ্যও সবার নেই। এখন সময় এসেছে এসব নিয়ে ভাববার!

নোট  # ৪৩শিশুর বিকাশে এক্সট্রাকারিকুলার এক্টিভিটিসাম্প্রতিক সময়ে বয়ঃসন্ধিক্ষণে থাকা এক স্কুলছাত্রী তার বাবা মায়ের বিরুদ্...
12/07/2025

নোট # ৪৩

শিশুর বিকাশে এক্সট্রাকারিকুলার এক্টিভিটি

সাম্প্রতিক সময়ে বয়ঃসন্ধিক্ষণে থাকা এক স্কুলছাত্রী তার বাবা মায়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন আমাদের দেশে। অবাক হইনি তবে কষ্ট পেয়েছি, আহত হয়েছি। ভাবছি, এমনটা কেন করল..!?

একজন বাবা বা মায়ের জন্য এর চেয়ে বেদনার আর কি থাকতে পারে তা আমার জানা নেই। এই মেয়ে মামলা করার টাকা কোথায় পেল? এমন সাহসই বা কোথায় পেল! তার পেছনে কে বা কারা থাকতে পারে!? এলোমেলো এমন নানা প্রশ্নের ভিড়ে উত্তর খুঁজছি।

বাবা মায়ের আচরণ ও পরিবারের ভূমিকা শিশুদের সার্বিক বিকাশকে প্রভাবিত করে। সমাজ যেমন কিছু আচরণ আমাদের ওপর অর্পণ করে, তেমনি ব্যক্তিও কিছু আচরণ অর্পণ করে থাকে। আমাদের সমাজে পিতৃত্ব ও মাতৃত্ব সম্পূর্ণরূপে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত বা ঐচ্ছিক হয়। তারপরও সামাজিক ও পারিবারিক চাপেও সন্তান গ্রহণ করেন কেউ কেউ।

শিশুদের জন্য বাবা মা দু'জনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে দায়িত্ব পালন করেন। সন্তানের প্রতি তাদের ভালোবাসা অকৃত্রিম। প্রতিটি বাবা মা শিশুকে ভরণপোষণ থেকে শুরু করে যাবতীয় নিরাপত্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে যে এর ব্যতিক্রম ঘটে না তা নয়। তাহলে এত কিছু করার পরও কেন শিশু বিপথে যায়... বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিক্ষণে!?

বয়ঃসন্ধির বয়সটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের একেক বয়সের সময়সীমায় আচরণ ও উন্নতিমূলক কাজগুলো একেক ভাবে হয়ে থাকে। এ সময়ে সন্তানেরা এক ধরণের আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভোগে। শরীরে নানা দৈহিক পরিবর্তনের সাথে সাথে মানসিক ও আচরণগত পরিবর্বতন হয়। পূর্বের চেয়ে এ সময়ে নানা ধরণের হরমোনের প্রভাব তো রয়েছেই। এ সময়ে তারা পরিবারের চেয়ে অন্যের কথায় প্রভাবিত হয় বেশি। একা একা থাকতে পছন্দ করে। সবসময় নিজের ভেতর এক ধরণের ফ্যান্টাসি ও অলীক চিন্তাধারার জগতে বিচরণ করে।

খুব ছোটবেলায় একটি শিশুর প্রথম শিক্ষক হয় তার পরিবার, বিশেষ করে বাবা মা। দ্বিতীয়তঃ তার স্কুল, তৃতীয়তঃ তার খেলার মাঠ। শিশুর শিক্ষাটা হয় অবজারভেশন বা পর্যবেক্ষণ মেথডে। শিশু তাই শেখে যা সে দেখে, সেটা ভাল বা মন্দ যাই হোক না কেন। শিশুদের জন্য পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলার ব্যবস্থা যেমন করা প্রয়োজন, তেমনি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক সংগঠনে যোগ দেয়া ছাড়াও নানাবিধ সৃজনশীল কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের জন্যও তাকে উৎসাহ দেয়া জরুরী। অন্যের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার মনোবৃত্তি, অন্যের প্রতি সহনশীল আচরণ করা... এগুলোও তার পর্যবেক্ষণনির্ভর একটি শিক্ষণ পদ্ধতি। শিশুর নিজের ছোট ছোট কিছু দায়িত্ব তার ওপরই অর্পণ করা বা তার নিজের বাড়ীর কাজগুলো নিজেকেই করতে দেয়া উচিত। এগুলো তাকে বলা ও শেখানো বাবা, মা ও পরিবারের সদস্যদের দায়িত্বের ভেতরই পড়ে।

শিশুর সামাজিকীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে সকলের সাথে মিলেমিশে বড় করে সভ্য মানুষ হিসাবে তৈরি করা, ভুল ও শুদ্ধের পার্থক্য বোঝানো, তারা কোথায় কি করে, কার বা কাদের সাথে মেশে, এসব খেয়াল করাও পিতামাতার দায়িত্ব কতর্ব্যের ভেতর পড়ে। শিশুর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে অফলাইনের খেলাধুলার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। অনলাইন খেলাধুলার চেয়ে অফলাইন খেলাধুলা বেশী কার্যকর। এতে তার দৈহিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, আচরণগত উন্নতি ও বিকাশ ঘটে। বাবা মায়ের আয়ের সাথে ব্যয়ের সামঞ্জস্য থাকাটা জরুরী। শিশু একটু বড় হলে পজেটিভ ওয়েতে বোঝানো উচিত যে, বাবা মায়েরও যে কোন কাজ করার ক্ষমতার একটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে। শিশুকে তার ভালো কাজের জন্য কথার মাধ্যমে পুরষ্কৃত করা বাঞ্ছনীয়, ঠিক একইভাবে মন্দ কাজের জন্য তিরষ্কৃত না করে ভালো মন্দের পার্থক্য বোঝানো জরুরী।

অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়স হওয়ার আগেই শিশুদের হাতের নাগালে এসে যাচ্ছে ফেসবুকসহ নানা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। অনলাইন বন্ধুত্ব ও বাজে সাইটগুলোতে তাদের অবাধ বিচরণ দেখা যায়। সন্তানের বিপথগামিতা অনেক সময় বাবা মায়েরা নোটিশ করেন না বা করলেও অনেকে আমলে নেন না, ভাবেন এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে। বাচ্চার আচরণ পর্যবেক্ষণ করার মত সময়ও অনেকের থাকে না। আর ততদিনে বাচ্চাকে কিছু বলতে গেলে বাচ্চা নিজেই তেড়ে ওঠে। বাবা মায়েরা এক ধরণের জিম্মি হয়ে পড়েন। শিশু শুরু করে নাওয়া খাওয়া বন্ধের অসহযোগিতা, আর অসহায় বাবা মা ব্যস্ত হন আত্মীয়, বন্ধুবান্ধব, তথা সমাজ থেকে এ ধরণের আচরণ লুকিয়ে রাখতে...!

পরিবার নিয়ে নানা গবেষণা হয়েছে বহু বছর ধরে, এখনও গবেষণা চলেছে। প্যারেন্ট বিহেভিয়ার স্কেল তৈরী হয়েছে। তাই আমরা জানি অনেক ধরণের পরিবার আমাদের এ সমাজে বিরাজমান। তার ভেতর ডিকটেটরিয়াল পলিসি বা একনায়কতন্ত্রিক পরিবার, রিজেকটিভ বিহেভিয়ার পরিবার, নেগলেক্টিং পরিবার, হোস্টাইল বা আক্রমণাত্মক পরিবার, ওভার প্রোটেকটিভ বা অতি রক্ষণশীল পরিবার, গণতান্ত্রিক পরিবার, ল্যাক অভ ট্রাস্ট পরিবার, ডমিনেটিং পরিবার, হারমনিয়াস ওয়েল এডজাস্টেড পরিবার, অনেকগুলো ইস্যু এখানে বিরাজমান।

অনেক পরিবারেই সন্তানের সাথে পিতামাতার আত্মিক কোন সম্পর্কই গড়ে ওঠে না। অতি রক্ষণশীল ও প্রত্যাখ্যাত শিশুরা অপরাধপ্রবণ হয় বেশী। যে বাড়িতে শিশুর আবেগের বিকাশ সঠিকভাবে হয়, শিশু নির্দ্বিধায় নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করতে পারে, স্নেহ ও নিরাপত্তাসহ জীবনে চলার জন্য সঠিক পথনির্দেশনা দেয়া হয়, বাবা মায়ের নিয়মশৃংখলাপূর্ণ ও বন্ধুত্বমূলক আচরণ, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সততার চর্চা থাকে, এসবের ওপর নির্ভর করে শিশুর উন্নত ও গ্রহণযোগ্য আচরণ।

অতিরিক্ত শাসন যেমন ক্ষতিকর তেমনি অতিরিক্ত প্রশ্রয়ও শিশুর জন্য ক্ষতিকর। শিশুর প্রতি প্রত্যাখ্যানমূলক আচরণ, নির্বিকার বোধ ও আক্রমণাত্মক আচরণ শিশুকে অপরাধী করে তুলতে পারে।

অপরাধপ্রবণ শিশুরা সাধারণতঃ বেশ বেপরোয়া হয়, নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, নিজেকে অসহায় ভাবে ও ব্যর্থতায় পরাজয়ের গ্লানিতে ভোগে। সে নিজে আক্রমণাত্মক মনোভাবের হয়। আবার অনেক সময় অর্থনৈতিক কারণে যেমন বাবা মায়ের আর্থিক সামর্থ্যের আধিক্য বা কম অর্থ, জনবহুল পরিবেশ, উপযুক্ত শিক্ষার ঘাটতি, পারিবারিক অশান্তি ও বাবা মায়ের দৃষ্টিভঙ্গীর জন্যও শিশু বিপথে চলে যেতে পারে। আবার অনেক শিশু অন্যায় করেও পার পেয়ে যায়। বাবা মারাই এই ছোট ছোট অন্যায়গুলোকে প্রশ্রয় দেন। তাতে শিশুর সাহস আরও বেড়ে যায়। পরবর্তীতে অন্যায়ের মাত্রাও বাড়তে থাকে।

শিশুদের ভেতর উন্নাসিকতা, অভদ্রতাজনিত আচরণ, অন্যের সাথে দুর্ব্যবহার, অন্যকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা, কারণে অকারণে নিজে যা জানে ও বোঝে তাকেই সঠিক ভাবা ও যেনতেনভাবে সেটাই প্রতিষ্ঠিত করা, কিছু পাওয়ার জন্য ব্ল্যাকমেইলিং এর আশ্রয় নেয়া, চাওয়ামাত্রই কিছু পাওয়ার দাবী করা, অন্যের আমানত খেয়ানত করা, নিজেকে সবচেয়ে বড় কিছু ভাবা, অঢেল অর্থ খরচ করতে চাওয়ার প্রবণতা, সমাজে এসব দেখলেই সচেতন হন। তা না হলে দুঃখজনকভাবে আপনার ঘরে জন্ম নিতে পারে একেক জন ফ্রাঙ্কেনস্টাইন...!

29/12/2022

বাংলাদেশে অবস্থানরত জাপানিজ দু'বাচ্চাকে নিয়ে জাপানিজ মা এবং বাংলাদেশি বাবার টানাহ্যাচড়ায় বয়ঃসন্ধিক্ষণে থাকা এই শিশুগুলোর ওপর যে মানসিক চাপ ও টানাপোড়েন চলছে তা আসলেই দুঃখজনক।

এরকম অসংখ্য শিশু আমাদের দেশেও বাবা মার দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে প্রতিনিয়তই। বাচ্চাকে রক্ষা করার ক্ষমতা থাকুক আর নাই থাকুক চলে বাচ্চাকে নিজের কাছে রাখার অসুস্থ প্রতিযোগিতা, চলে ইগোইজম। এ যেন ক্ষমতা প্রদর্শনের আরেক রূপ।

স্বামী স্ত্রীর মাঝে বিচ্ছেদ হয়। সন্তানদের সাথে বাবা মার কখনও বিচ্ছেদ হয় না। এটা অনেকেই মনে রাখেন না।

যা হয় তা হল স্বামী স্ত্রীর স্ব স্ব ক্ষেত্রে নিজেকে ওপরে রাখার প্রতিযোগিতা, শত্রুভাবাপন্ন মনোভাব, ক্ষমতা প্রদর্শনের এবং জেতার প্রতিযোগিতা। শিশু কি চায়, কি তার মনোভাব, কি তার মানসিক অবস্থা কিছুই তারা ভাবেন না। অথচ দুজনই শিশুর কাস্টোডি পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। এরা জানেন না সুস্থ প্যারেন্টিং এর কোন বিকল্প নেই।

এরা কেউ হারতে চান না, হারতে জানেন না। এরা জানেন না কখনও কখনও হেরে গিয়েও জিতে যাওয়া যায়।

২০২১ এর এপ্রিলে কোমায় ও ভেন্টিলেশনে ছিলাম সে সাথে বেশ কয়েক মাস ডাক্তারের বেঁধে দেয়া রেস্ট্রিকশন অনুযায়ী ঘরবন্দী থাকতে হয়...
14/12/2022

২০২১ এর এপ্রিলে কোমায় ও ভেন্টিলেশনে ছিলাম সে সাথে বেশ কয়েক মাস ডাক্তারের বেঁধে দেয়া রেস্ট্রিকশন অনুযায়ী ঘরবন্দী থাকতে হয়েছিল। যদিও সারতে না সারতেই আবার কাজ শুরু করলাম। সে সময়ে কোন কিছু নিয়ে দুর্ভাবনা আসতো না। আসার কোন সুযোগও ছিল না। কেননা সকলের দোয়া ও ভালোবাসা ছিল। কত শত ইনবক্স, ফোন কলের লিস্টগুলো যখন দেখতাম তখন এক ধরণের দায়বদ্ধতা আরও বেশী কাজ করতো। তাই আবারও কাজে ফেরা।

আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি মানসুবা'স কাউন্সেলিং এর পুরো টিমের প্রতি। যারা অত্যন্ত ভালোবেসে আন্তরিকতা নিয়ে বেশ ক'বছর ধরে মানসুবা'স কাউন্সেলিং সামলেছেন অনলাইন অফলাইন দুভাবেই এবং এখনও সময় দিচ্ছেন। বিশেষ করে আমার অসুস্থতার সময়েও তারা এ প্রতিষ্ঠানটির দেশের ভেতর ও বাইরের কোন কার্যক্রম কোন ভাবেই ব্যাহত হতে দেন নি।

ধন্যবাদ মানসুবাস কাউন্সেলিংএর পুরো টিমকে।
ধন্যবাদ প্রকৌশলী আবদুল হাই নিয়ন (ম্যানেজিং ডিরেক্টর, হেড অব আইটি এন্ড ম্যানেজমেন্ট), অধ্যাপক ডঃ নাজমুল হক (জেনারেল সাইকোলজিস্ট), ওমর ফারুক (ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট), শারমীন আরা (ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট), তানজিনা সিদ্দিকা (ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট), আবদুর রহিম, ইমন হোসেন ও মিজানুর রহমানকে।

আরও বেশী ধন্যবাদ আপনাদের প্রতি, যারা পূর্বের মতই আমাদের ওপর আস্থা ও ভরসা নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন এবং করছেন।

আবারও ধন্যবাদ, Team Mansuba's Counseling Center!

নোট  # ৪২আমার কোমা ও ভেন্টিলেশন..! করোনায় আমার লাংএর ৯৬% ইনভল্ভমেন্ট নিয়ে আইসিইউতে কোমা, ভেন্টিলেশন বা লাইফ সাপোর্টে আমি...
03/12/2021

নোট # ৪২

আমার কোমা ও ভেন্টিলেশন..!

করোনায় আমার লাংএর ৯৬% ইনভল্ভমেন্ট নিয়ে আইসিইউতে কোমা, ভেন্টিলেশন বা লাইফ সাপোর্টে আমি কেমন ছিলাম? অনেকেই এর ভেতর আমার কাছে জানতে চেয়েছেন, এখনও চাইছেন... আইসিইউ, ভেন্টিলেশন, কোমায় আমার কেমন অনুভূতি ছিল?

দেখুন মেডিক্যাল সাইন্স বলে, কোমায় মানুষের জাগতিক কোন অনুভূতি থাকে না, হয়তো বা তাই। কিন্তু আমি দেখেছি, উপলব্ধি করেছি, অনুভব করেছি আমার মত করে। জানি না এ মুহূর্তগুলো বাস্তবিকই ঘটে কিনা! যদি বলি আমার জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও আরামের সময় ছিল এই সময়টা, কেউ কি বিশ্বাস করবেন?!

কেন বলছি..? শুনুন......
কখনও কখনও সে সময়টা আমি আমার নিজস্ব জগতের বাইরের কেউ হয়ে ছিলাম। তবে মনে হতো আমি আছি এক ঐশ্বরিক ভালোবাসার আবর্তনে আবর্তিত কোন একাকী মানুষ হয়ে। যার কাজ ছিল সারাক্ষণ শ্বেতশুভ্র বরফের ধোঁয়ায়, মেঘেদের রাজ্যে ঘুরে বেড়ানো। আর সবকিছুই বিস্ময়ের ঘোরে চোখ মেলে দেখতে থাকা! আবার মনে হত কোন এক অচিনপুরীতে অনেকের সাথে উড়ে উড়ে, ঘুরে ঘুরে ওপর থেকে নিজেকে নিজেই যেন দেখতে পেতাম। কখনও পা ঝুলিয়ে বসে আছি, কখনও সাদা কাপড়ে মোড়ানো আমি হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছি। কখনও কখনও কথা বলছি, ক্লান্তিহীনভাবে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে গেছি যেন সৃষ্টিকর্তাকে। সেখানে জাগতিক কোন চাওয়া পাওয়ার বিষয় নেই, নেই কোন হাসি-কান্না কিংবা আর্তনাদ। নেই মানসিক চাপ বা শারীরিক যন্ত্রণা। এ এক অন্য জগত। তবে কখনও কখনও মনের অনুভূতিতে ভেসে উঠতো প্রিয় কোন মুখ। শুধুমাত্র একদিন টের পেয়েছিলাম আমার খুব কাছের, প্রাণের কোন এক মানুষের হৃৎস্পন্দন। হাতড়ে বেড়িয়েছি কে সে?! কে হতে পারে?! জানি না সেটা স্বজ্ঞানে নাকি অজ্ঞান অবস্থায়। বাস্তবিকভাবে হয়তোবা সে সময়ের কোন কষ্টই আমি অনুভব করিনি। কেননা আমি তখন অন্য ভূবনের বাস্তবতার বাইরের এক মানুষ। হয়তো বা পৃথিবী থেকে অনেক দূরের কেউ।

কোমায় ও ভেন্টিলেশনে থাকা ব্যক্তিদের পুরোপুরি বাস্তবিক অনুভূতি থাকলে এবং নিজের চোখে নিজের এই অসহায়ত্ব, বীভৎস রূপ দেখলে মেনে নেয়া অনেক কষ্টকর হত বৈকি। কোমায় থাকলেও আমার কিঞ্চিত অনুভূতি হয়েছিল যখন আমার মুখে সাকশান মেশিন দিয়ে কিছু পরিষ্কারের সময় প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছিলাম। কতবার ডাক্তারদের ডাকবার চেষ্টা করেছি কিন্তু প্রাণপন চেষ্টা করেও কণ্ঠ থেকে স্বর বের হয়নি। অথচ খুব কাছ থেকেই অনেকের কথার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। এ এক অদ্ভুত অনুভূতি কয়েক মুহূর্তের জন্য। আমি নিঃশব্দে ডেকেই চলেছি কিন্তু তারা জানতেও পারল না। পরে সম্পূ্র্ণভাবে জ্ঞান ফেরার পর প্রশ্ন করে জেনেছিলাম ভেন্টিলেশনের মেশিনটি ভোকাল কর্ডের সাথেই চেপে থাকে তাই গলার স্বর বের হয় না কারোরই। এজন্য অনেকের স্পিচ থেরাপী লাগে পুনরায় কথা শুরু করতে, যা আমার ক্ষেত্রে অবশ্য লাগেনি, আলহামদুলিল্লাহ।

আমি খুব সৌভাগ্যবান আমার মগজে সে সময়ের শারীরিক ব্যথা-বেদনা বা কষ্টের তেমন কোন স্মৃতি বা অনুভূতি নেই। ডাক্তারদের ভাষায় আমি নাকি সাহসী বীর, আমি লড়াকু। কেউ কেউ নাম দিয়েছেন আমায় মৃত্যুঞ্জয়ী! আসলে হায়াত-মউত তো সবই ওপর ওয়ালার হাতে। আমার হয়তো বা সে অবস্থায় সঠিক সময় হয়নি সাত আসমান পেরোনোর এবং সাওয়াল জওয়াবের সম্মুখীন হওয়ার...!

করোনা বা যে কোন কঠিন কাজের সবচেয়ে বড় মন্ত্রটি হল মানসিক জোর ও সাহস। কখনও সাহস হারাতে নেই। সাহস হারাবেন না। আল্লাহ সহায় থাকলে, মানুষের দোয়ায় সাহসই আপনাকে প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকার শক্তি জোগাবে। আপনি আবার চোখ মেলবেন, আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরত আসবেন...!

কবিগুরু যথার্থই বলেছেন,
আকাশভরা সূর্য-তারা, বিশ্বভরা প্রাণ,
তাহারই মাঝখানে আমি পেয়েছি, পেয়েছি মোর স্থান...!
কান পেতেছি, চোখ মেলেছি,
ধরার বুকে প্রাণ ঢেলেছি,
জানার মাঝে অজানারে করেছি সন্ধান
বিস্ময়ে তাই জাগে...!

Mental Health Wellbeing এ Mansuba's Counseling এর সাথে WaterAid Bangladesh. মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটা সময় ভাবার প্রশ্নই...
29/10/2020

Mental Health Wellbeing এ Mansuba's Counseling এর সাথে WaterAid Bangladesh.

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটা সময় ভাবার প্রশ্নই আসতো না। বরং এটা নিয়ে কম বেশি সবাই লজ্জা আর দ্বিধায় থাকতো। অনেকে তো বুঝতেই পারতেন না বা জানতেন না মানসিক স্বাস্থ্য বলে যে একটা ব্যাপার রয়েছে। আজ মানুষ সচেতন হয়েছেন বলেই এ ব্যাপারে এগিয়ে আসেন। হয়তো বা দিন যত পেরোবে আমরা আমাদের stigma গুলো আরও বেশী করে ভাঙতে পারবো...!
সুন্দর আগামীর প্রত্যাশায়...!

Live  # 5বিদেশে উচ্চশিক্ষা: সমস্যা ও সম্ভাবনাবিদেশে উচ্চশিক্ষার সমস্যা নিয়ে কোন Live Session হলে সেখানে বিদেশী বিশ্ববিদ্...
15/09/2020

Live # 5

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: সমস্যা ও সম্ভাবনা

বিদেশে উচ্চশিক্ষার সমস্যা নিয়ে কোন Live Session হলে সেখানে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, গবেষক আর ছাত্রছাত্রীরা থাকবেন এটাই স্বাভাবিক। তারাই Scope, Methodology, Funding, Academia, Industry সহ সবকিছুর সম্যক ধারণা বা দিকনির্দেশনা দিতে পারেন। এখানে Psychologist এর দরকার কেন পড়বে? জ্বী, ঠিক এ জায়গাটায় Mansuba's Counseling এর সাথে ShomonnoiBD এর সমন্বয় প্রক্রিয়া থেমে যেতে পারত।

কিন্তু আমরা সেখানে থামিনি! আমাদের মনে হয়েছে এখানেও দক্ষ মনোবিদ বা Psychologist এর দরকার রয়েছে। কারণ একজন মনোবিশারদই পারেন জীবনের অন্যান্য হতাশার মত উচ্চশিক্ষাকে ঘিরে তৈরি হওয়া হতাশাগুলো থেকে বের হয়ে আসার পথনির্দেশ করতে। উচ্চশিক্ষার পথে মানসিক প্রতিবন্ধকতাগুলো নিয়েই ShomonnoiBD এর আমন্ত্রণে আজ আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন Mansuba's Counseling এর কর্ণধার এবং Psycho-Social Counselor জনাব Mansuba Tabassum Haque (Former Faculty & Dept. Chairman, Child Development & Social Relation Dept., BHEC, University of Dhaka)।

সাথে আরও থাকছেন Auburn University, Alabama, USA এর Assistant Professor জনাব Shubhra Kanti Karmaker ও Michigan State University, USA এর Graduate Research Assistant জনাব Parnab Saha। এ দু'জন সম্মানিত অতিথি আলোচনা করবেন কীভাবে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য বিদেশে যাওয়া যায় ও Covid-19 জনিত প্রতিকূলতায় পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে funding এর ব্যবস্থা করা যায়। সেক্ষেত্রে, কেমন অধ্যাপকের অধীনে উচ্চশিক্ষা নেয়া উচিৎ, back up plan কেমন হতে পারে, তাঁদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই বা কেমন ছিল, "MS না PhD?" সেই সিদ্ধান্তে নিয়ামকগুলো কী রকম, অধ্যাপকগণ সাধারণতঃ আবেদনপত্রে কী কী বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন......ইত্যাদি।

উচ্চশিক্ষার পথে সাধারণভাবে কেমন মানসিক বাধা আসতে পারে, সে বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমরা psycho-social perspective থেকে বহুল জিজ্ঞাসিত কয়েকটা ক্ষেত্র আলাদা করতে চেষ্টা করেছি:

১। Covid-19 pandemic এর কারণে US Embassy এখন বন্ধ আছে। অনেকে PhD/Masters এ ভর্তির offer ও fund পেয়েছিলেন কিন্তু visa interview না দিতে পারায় ও visa না পাওয়াতে তাদের admission offer ও funding বাতিল হয়ে গেছে। তাদের অনেকেই বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতির জন্য দেশের চাকুরি ছেড়ে দিয়েছিলেন বা কোন চাকুরিতেই যোগ দেননি। এভাবে তাদের ভেতর career নিয়ে হতাশা প্রকট হচ্ছে। এটা কীভাবে কাটিয়ে উঠা যেতে পারে?

২। বিবাহিত PhD অধ্যয়নরতরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে পরিমাণ stipend/বেতন পান তা পারিবারিক খরচ চালানোর জন্য ক্ষেত্রবিশেষে যথেষ্ট নয়। এরকম আর্থিক সঙ্কটে যে মানসিক চাপ বা হতাশা তৈরি হয় তা থেকে উত্তরণের জন্য কী করা যেতে পারে?

৩। অনেকেরই উচ্চশিক্ষার প্রতি passion না থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র peer pressure এ পড়ে সমাজের চাপে উচ্চশিক্ষার্থে দেশের বাইরে চলে যান। সেখানকার প্রতিযোগিতামূলক ব্যস্ত জীবন, নতুন পরিবেশ ও সংস্কৃতিতে মানিয়ে নেয়া, পরিবার ও দেশের বন্ধু-বান্ধবদের miss করা... সব মিলিয়ে এক ধরণের হতাশা কাজ করে। এসব মানসিক challenge এর জন্য কেউ কেউ career এ best output টা দিতে পারছেন না। তারা কীভাবে এসব বিরূপতাকে জয় করতে পারেন?

৪। ঠিক কোন পর্যায়ে একজনের বোঝা উচিত যে, তার এখন কোন psycho-social counselor এর কাছ থেকে professional help নেয়া প্রয়োজন?

দর্শক শ্রোতাদের মনে এ রকম আরও প্রশ্ন বা আজকের এই আয়োজনটির ব্যাপারে পরামর্শ/মতামত থাকলে সেগুলো live চলাকালীন আলোচকদের উদ্দেশ্যে লিখে জানাতে পারেন অথবা নীচে দেয়া Google Form টির মাধ্যমে আগেও জানিয়ে রাখতে পারেন।

https://docs.google.com/forms/d/1Y8deZuKW9B9BvoRupwGuGiMv9FIYOYX_4esBluQVrz4/edit?fbclid=IwAR3vur2ARTy2rGcqL0ap2OnM2bnYvpo2QZC8O41-s5PTORG6bMsTucdAm10

আমরা বিশ্বাস করি, এই live session টি থেকে উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ যেতে ইচ্ছুকদের পাশাপাশি যারা এখন দেশের বাইরে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন তারাও উপকৃত হবেন।

Live Link: https://www.facebook.com/110565657272471/posts/170115924650777/

Recorded version:
https://www.facebook.com/somonnoibangladesh/videos/354706555658042/

[Event Link: https://fb.me/e/1JbDL3jR8]

Date: 15 September, Tuesday
Time: 10.00 pm, Bangladesh Standard Time

10/06/2020

Live # 2

OWSD (Organisation for Women in Science for the Developing World, www.owsd.net) এর বাংলাদেশের সদস্যরা গত সপ্তাহে নিজেদের জন্য একটি BdREN Zoom Meeting এর আয়োজন করেছিলেন, যেখানে চলমান Covid-19 Pandemic এর ভেতর Mental Wellbeing নিয়ে এই Session টি নেন Mansuba Tabassum Haque, Chairman and Psycho-Social Counselor, Mansuba's Counseling

OWSD, Bangladesh Chapter কে ধন্যবাদ দেশের মহিলা বিজ্ঞানীদের এই সংগঠনে Mansuba's Counseling কে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য। এছাড়া, আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই Bangladesh Agricultural Research Institute এর গবেষক Salina Parvin Banu এবং Bangladesh University of Health Sciences এর শিক্ষক Sharmin Parvin (Chair, OWSD BD Chapter) কে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক এই Session টি আয়োজনের জন্য।

Coronavirus মহামারীতে নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের মানসিক স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সবার জন্য এই Session টি OWSD, BD এর সম্মতিক্রমে এখানে দেয়া হল। আমরা আশা করছি, আয়োজনটি সকলের উপকারে আসবে। উল্লেখ্য, এক ঘন্টার Session শেষে একটি মনোজ্ঞ প্রশ্নোত্তর পর্বও এই video তে আছে। সবাইকে আবারও ধন্যবাদ।

Topic: Mental Wellbeing During Covid-19 (a Recorded BdREN Zoom Meeting)

Keynote Speaker: Mansuba Tabassum Haque, Chairman and Psycho-Social Counselor at Mansuba's Counseling

Participants: OWSD Bangladesh Chapter members (an organization for the women scientists in Bangladesh)

Time: Jun 3, 2020 08:00 PM (GMT+6 Dhaka)

06/06/2020

নোট # ৪১

মেয়েটি এখন কি করবে...?

ধরা যাক মেয়েটির নাম বকুল। বকুল ফুলের মতই তার সুবাস। বয়স মেয়েটির ১৯ ছুঁই ছুঁই! প্রেমে পড়ার বয়স, স্বপ্ন দেখার বয়স। লাল, নীল কত রং বেরং এর সে স্বপ্ন। কিন্তু এ মেয়েটির ছিল প্রেমের প্রতি অনীহা। ছোটবেলা থেকেই তার বাবা মায়ের সম্পর্কটা খুব একটা ভাল ছিল না। তবে হঠাৎ করে রূপকথার রাজপুত্রের মত একটা মানুষ তাকে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাতে শুরু করলো। মেয়েটা ভেবে বসলো এ তার বেঁচে থাকার জিয়ন কাঠি। যথারীতি হঠাৎ করেই প্রণয় এবং এর কয়েক বছর পরই পরিনয়। মেয়েটির পারিবারিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা বেশ ভালো। শুরুতে দুই পক্ষের কারোরই তাদের এই সম্পর্কটাকে মেনে নেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহ ছিল না।

কিন্তু এরই মাঝে বহু চড়াই উৎরাই পার হয়ে দু'পক্ষই তাদের বিয়েটাকে মেনে নিয়ে আবার বিয়ের ব্যবস্থা করেন। সেটা অনেকটা নিজেদের মানসিক ও সামাজিক ভাবে দায়মুক্ত করার জন্য। যেটা শুধু মাত্র কাগজে কলমে বা কাবিননামাতেই সীমাবদ্ধ। হয়নি তাদের কোন অনুষ্ঠান, আসেনি কোন অতিথি, ছিলনা কোন বাহারী রকমের খাওয়া দাওয়া। মেয়েটি তাতেই খুশী। যাক অন্ততঃ তাদের সম্পর্কটা তো স্বীকৃতি পেল এটাই বা কম কিসে। এক সময় মেয়েটি এবং ছেলেটি যার যার বাবা মায়ের খরচে পড়াশুনা শেষ করলো।

শুরু হল তাদের বেঁচে থাকার সংগ্রাম। মেয়েটির একাকী সংগ্রাম। একাকী সংসার। ভাবলো ভালোবাসার মানুষটি তো তার আছে! আর কি চাই? যথারীতি মেয়েটি জীবন যুদ্ধে লিপ্ত হল। একাকী টিউশনি, সংসার, আর রান্নাবান্নার ভেতরেই ছিল তার ছোট্ট পৃথিবী। ছিল না তার কোন বন্ধু বান্ধবীর সাথে ওঠা বসা। শুধু ছিল তার স্বামীর নিয়ন্ত্রণ। ভাবতো আর কিছু না থাক, স্বামী তো তাকে ভালোবাসে প্রচন্ডভাবে। তাইতো সে স্বামীর কয়েক মাসের মেডিকেলে পড়ার খরচও দিয়েছিল। সংসারেরও কিছু খরচ সে একা এবং বাবার থেকে টাকা এনে বহন করা শুরু করল। এই ভেবে যে, স্বামীর একটা চাকরী হলে তাদের কোন কষ্ট থাকবে না।

ইতিমধ্যে বিয়ের এক মাস যেতে না যেতেই স্বামীর বেশ কিছু পরিবর্তন তার চোখে পড়লো। অহেতুক ইন্টার্নির কথা বলে বাইরে রাত কাটানো তার ভেতর একটা। দেখলো ছেলেটির আরও মোবাইল সিম রয়েছে যেটি দিয়ে সে অন্য মেয়েদের সাথে কথা বলে লুকিয়ে লুকিয়ে। ছেলেটি মেয়েটির উপহার দেওয়া জামা পরেই অন্য মেয়েদের সাথে দেদারছে ডেটিংএ ব্যস্ত! এমনকি নাইট ডিউটির কথা বলে রাতে অন্য মেয়ের সাথে হোটেলেও থেকেছে। মেয়েটিকে দিনের পর দিন মিথ্যা বলেছে। উল্টো তাকে সন্দেহ করে বেড়াতো.. আর সংসারে অশান্তি লেগে থাকত।

মেয়েটি ততদিনে মা হতে চলেছে...! স্বামীর সে দিকে কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। একদিন মেয়েটির কাছে নিজের বেখেয়ালিপনাতেই সে ধরা পড়ে যায়। সবকিছু স্বীকার করে নেয় এবং সরি বলে মাফ চেয়ে কান্নাকাটি জুড়ে দেয়। আর করবে না বলে সে অঙ্গীকারও করে।

এত কিছুর পরেও মেয়েটি স্বামীকে ছেড়ে যায়নি। বারবার স্বামীর মিথ্যে ভালোবাসা আর অভিনয়ে জড়িয়েছে নিজেকে। আবার তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার চেষ্টাও করেছে। স্বামীটিও চালিয়ে গেছে অন্য মেয়েদের সাথে বেপরোয়া কথাবার্তা, সামাজিক মাধ্যমে চ্যাটিং। আবারও ধরা পড়া, সরি বলা, আবারও মাফ চাওয়া, কান্নাকাটি জুড়ে দেওয়া, আবারও ক্ষমা করে দেয়া।

এক পর্যায়ে মেয়েটি তার স্বামী সন্তান নিয়ে চলে আসে তার মা বাবার সংসারে এবং থাকা শুরু করে। সে ভেবেছিল, এক সাথে থাকলে স্বামী হয়ত কিছুটা দায়িত্বশীল হবে। তখন শুরু হয় আরেক ধরণের যুদ্ধ। বাবা মা বনাম স্বামীর ভারসাম্য রাখতে রাখতে সে বড় বেশী ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ততদিনে মেয়েটি আর স্বপ্ন দেখে না। রাজ্যের ক্লান্তি এসে ভর করে তার শরীর মন জুড়ে।

মেয়েটি এখন কেবল দৌড়ে চলেছে, অর্থনৈতিক ভাবে কি করে নিজেকে স্বাবলম্বী করা যায়। টাকা পয়সা স্বামী যা পারে তাই দেয় তাদের সংসারে এবং স্বামী যা পায় তার চেয়ে খরচও করে অনেক বেশী। সেটা দিয়ে জীবন চালানো কিছুটা কষ্টকর। সে তার আত্ম উন্নয়নের মাধ্যমে নিজে শক্ত থেকে কিভাবে জীবনটাকে এগোনো যায় সেই চেষ্টাই করে চলেছে। কখনও স্কুলের শিক্ষকতা করে, কখনও টিউশনি করে। কখনও বা নিজের সৃজনশীলতার মাধ্যমে ব্যবসা করে।

আজ সে একজন সফল উদাক্তা। এখন সে আর চাকরী খোঁজে না, বরং অনেককেই সে হাজার/লাখ টাকার কাছাকাছি বেতনে চাকরী দেয়।

এখন সে তিরিশ বছরের যুবতী...স্বামী শ্বাশুড়ীর কাছে অনেক দামী একজন ব্যক্তি। কেননা সে এখন নিজেই তার এবং অন্যান্যদের অর্থনৈতিক দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে। এদিকে তার স্বামীও এতদিনে কিছুটা হলেও নিজেকে সুধরে নিয়েছে। মেয়েঘটিত কোন ব্যাপার আর সে ঘটায়নি। বারবার বলছে, সে তাদেরকে ভাল রাখার চেষ্টা করবে। চাইছে আরেকবার সুযোগ পেতে।

সেই স্বামীটি এখন একজন প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক। যেটি একসময় মেয়েটিরও স্বপ্ন ছিল। যার জন্য তার এত এত কষ্ট, ত্যাগ তিতিক্ষা।

কিন্তু.....।
আসলেই মানুষের মন বড় বিচিত্র। এক সময় এমনি করেই বিশ্বাস আর ভালোবাসারা হারিয়ে যায়। সেই সাথে হারিয়ে যায় দুটি মানুষ, জগৎ সংসারও। এত বছর পর.. মেয়েটি এখন আর তার স্বামীর মিষ্টি কথায় ভোলে না, আবেগে গা ভাসায় না, তাকে আর আগের মত ক্ষমাও করতে পারে না, বিশ্বাস করে না, ভালোবাসতে পারে না, ভালোবাসে না। বরংচ অহেতুক স্বামীর বিগত দিনের আচরণে রক্তক্ষরণ হতে থাকে বারবার তার ভেতর।

আপনি কি মনে করেন?
সমাজের কথা ভেবে তার কি এই স্বামীর সাথে জীবনটাকে বিশ্বাসবিহীন, ভালোবাসাবিহীন পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিৎ....? নাকি সসম্মানে আলাদা হয়ে নিজে সন্তানসহ এগুনো উচিৎ...?
এদের জায়গায় আপনি হলে কি করতেন..!? 😥

Address

X-Zphyra, House/67 (Ground Floor), Road/2, Sector/14, Uttara (Beside Sec/7 Bridge On Lake)
Dhaka
1230

Opening Hours

Monday 10:00 - 21:00
Tuesday 10:00 - 21:00
Wednesday 10:00 - 21:00
Thursday 10:00 - 22:00
Friday 10:00 - 21:00
Saturday 10:00 - 21:00
Sunday 10:00 - 22:00

Telephone

+8801765821114

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mansuba's Counseling Center posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Mansuba's Counseling Center:

Shortcuts

Share