03/09/2026
স্ত্রীর যৌন আগ্রহ কমে গেলে স্বামীর যা করা উচিত-
স্ত্রীর যৌন আগ্রহ আগের তুলনায় কমে গেছে? ঘনিষ্ঠ হতে চাইলে তিনি অনীহা দেখান?
এমন পরিস্থিতিতে “সে কি আমাকে আর আগের মতো ভালোবাসে না?”—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।
একজন নারীর যৌন আগ্রহ বা Libido কমে যাওয়ার পেছনে শারীরিক, মানসিক, হরমোনজনিত ও দাম্পত্য জীবনের বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। তাই প্রথমেই রাগ, অভিযোগ বা চাপ সৃষ্টি না করে সমস্যার কারণ বোঝার চেষ্টা করা উচিত।
নারীর যৌন আগ্রহ কমে যাওয়ার সম্ভাব্য কারণ
১. অতিরিক্ত মানসিক চাপ,
২. সংসার ও সন্তান পালনের অতিরিক্ত ক্লান্তি,
৩. পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব,
৪. দাম্পত্য জীবনে অভিমান, দ্বন্দ্ব বা মানসিক দূরত্ব,
৫. উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা বা বিষণ্ণতা,
৬. হরমোনের পরিবর্তন,
৭. সন্তান জন্মের পর শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন,
৮. মেনোপজ বা বয়সজনিত পরিবর্তন,
৯. যোনিপথে শুষ্কতা,
১০. যৌনমিলনের সময় ব্যথা বা অস্বস্তি,
১১. কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া,
১২. নিজের শরীর বা চেহারা নিয়ে আত্মবিশ্বাসের অভাব,
১৩. থাইরয়েডসহ কিছু শারীরিক সমস্যা,
১৪. দীর্ঘদিনের কোনো অসুস্থতা,
অতএব, যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া মানেই স্ত্রী স্বামীকে ভালোবাসেন না—এমন ধারণা অনেক সময় সম্পূর্ণ ভুল।
স্বামীর প্রথম করণীয়—চাপ নয়, বোঝাপড়া।
স্ত্রী ঘনিষ্ঠ হতে না চাইলে জোর করা, রাগ দেখানো, অপমান করা কিংবা বারবার চাপ দেওয়া উচিত নয়।
বরং শান্তভাবে জানতে পারেন—
“তুমি কি কোনো শারীরিক অস্বস্তিতে আছো?”
“কোনো বিষয় নিয়ে কি মানসিক চাপ অনুভব করছো?”
“আমি কীভাবে তোমাকে সহযোগিতা করতে পারি?”
স্ত্রীর সম্মতি ও স্বাচ্ছন্দ্যকে সবসময় গুরুত্ব দিতে হবে।
শুধু যৌন সম্পর্ক নয়, সম্পর্কের যত্ন নিন।
দাম্পত্য জীবনে মানসিক নিরাপত্তা ও পারস্পরিক ভালোবাসা গুরুত্বপূর্ণ।
তাই—
১. স্ত্রীর সঙ্গে সময় কাটান।
২. তার কথা মন দিয়ে শুনুন।
৩. সংসারের কাজে সহযোগিতা করুন।
৪. প্রশংসা ও ইতিবাচক আচরণ করুন।
৫. অযথা সমালোচনা ও তুলনা এড়িয়ে চলুন।
৬. তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ব্যক্তিগত সময় দিন।
৭. স্নেহ, সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করুন।
৮. যৌন সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার সম্মতি ও স্বাচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দিন।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা-
যৌন আগ্রহ কমে যাওয়ার জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। রোগীর শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ, হরমোনাল অবস্থা, মাসিকের ইতিহাস, ঘুম, মানসিক চাপ, যৌনমিলনে ব্যথা বা শুষ্কতা, প্রসব বা মেনোপজের ইতিহাসসহ সম্পূর্ণ কেস বিবেচনা করে চিকিৎসা নির্বাচন করা উচিত।
হোমিওপ্যাথিক Materia Medica-তে লক্ষণভেদে যে রেমেডিগুলো বিবেচনায় আসতে পারে, তার মধ্যে রয়েছে—
১. Sepia — যৌন আগ্রহ কমে যাওয়া, দাম্পত্য সম্পর্কে অনীহা, মানসিক বিরক্তি ও ক্লান্তির নির্দিষ্ট সমষ্টিতে বিবেচ্য।
২. Natrum muriaticum — মানসিক কষ্ট, অভিমান, একাকীত্ব ও আবেগগত দূরত্বের সঙ্গে যৌন আগ্রহ কমে গেলে কেস অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
৩. Pulsatilla — হরমোনাল পরিবর্তন ও আবেগগত বৈশিষ্ট্যের নির্দিষ্ট সমষ্টিতে বিবেচ্য।
৪. Ignatia — মানসিক আঘাত, দুঃখ, উদ্বেগ বা আবেগগত পরিবর্তনের সঙ্গে সমস্যা দেখা দিলে কেস অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
৫. Lachesis — মেনোপজ-সংক্রান্ত পরিবর্তন ও নির্দিষ্ট শারীরিক-মানসিক লক্ষণের সমষ্টিতে বিবেচ্য।
৬. Phosphorus — নির্দিষ্ট মানসিক ও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যৌন দুর্বলতা বা আগ্রহের পরিবর্তন থাকলে কেস অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
তবে শুধু “যৌন আগ্রহ কম” এই একটি লক্ষণের ভিত্তিতে কোনো রেমেডি নির্বাচন বা নিজে থেকে উচ্চ potency গ্রহণ করা উচিত নয়।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি?
যদি যৌন আগ্রহ দীর্ঘদিন ধরে কম থাকে, যৌনমিলনে ব্যথা বা অতিরিক্ত শুষ্কতা থাকে, মাসিক অনিয়মিত হয়, মেনোপজের সমস্যা থাকে, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা মন খারাপ থাকে অথবা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা থাকে—তাহলে গাইনি চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রয়োজনে থাইরয়েড, রক্তস্বল্পতা, হরমোনাল সমস্যা, মানসিক স্বাস্থ্য বা ব্যবহৃত ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও মূল্যায়ন করা হতে পারে।
মনে রাখবেন—
“স্ত্রীর যৌন আগ্রহ কমে গেছে” মানেই “ভালোবাসা কমে গেছে”—এমন নয়।
ভালোবাসা, সম্মান, পারস্পরিক বোঝাপড়া, নিরাপত্তা এবং সম্মতিই একটি সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
ডা. জিয়াউল হক
মাহিন হোমিও মেডিকেল
৮৮ কাঞ্চন টাওয়ার
কাঁঠাল বাগান বাজার,
কলাবাগান, ঢাকা- ১২০৫
01707-956015