PT Digest

PT Digest THIS WILL BE FIRST PHYSIOTHERAPY TRIMISTER JOURNAL IN BANGLADESH. WE ARE TRYING TO SPREAD THE KNOWLEDGE ABOUT PHYSIOTHERAPY PROFESSION.

বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অনুমোদিত  Master of Disability Management and Rehabilitation (MDMR)  এর ৪র্থ ব্যাচে ভর্...
09/09/2020

বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল অনুমোদিত Master of Disability Management and Rehabilitation (MDMR) এর ৪র্থ ব্যাচে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি

03/09/2020
03/09/2020

আজকাল মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক একটি পরিচিত শব্দ, আসুন স্ট্রোকের কিছু কারন ও লক্ষন জেনে নেই...

এর কারনগুলোর মধ্যে প্রধান কিছু কারন হলো

🚩উচ্চ রক্তচাপ

🚩ধুমপান বা এলকোহল সেবন

🚩দুষচিন্তা বা কম ঘুমানো

🚩রক্তের চর্বি এবং গ্লুকোজ এর পরিমাণ বৃদ্ধি

🚩নিয়মিতভাবে ব্যায়াম/শারীরিক পরিশ্রম না করা

🚩শরীরের অতিরিক্ত ওজন

🚩স্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ সেবন

আমরা যদি লক্ষনগুলো প্রথমেই সনাক্ত করতে পারি তবে এর মারাত্মক ক্ষতিকর পরিনতি থেকে রোগীকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এই লক্ষনগুলোকে আমরা BE-FAST হিসাবে মনে রেখে এসেসমেন্ট বা সনাক্তকরণ করতে পারি

B = Balance ( শরীরের ভারসাম্য পর্যবেক্ষণ করা)

E = Eye movement ( চোখ খোলা, বন্ধ করা বা এর নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করা)

F = Facial Expression ( মুখের অবস্থা এবং অভিব্যক্তি পর্যবেক্ষণ করা)

A = Arm & Leg raising ( হাত - পায়ের কার্যক্ষমতা অর্থাৎ নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করা)

S = Speech coordination ( কথার সামঞ্জস্যতা পর্যবেক্ষণ করা)

T = Talent & Time ( আক্রান্ত ব্যাক্তির বুদ্ধিমত্তা ও স্মৃতি পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত হাসপাতালে প্রেরন)

এর যে কোন সমস্যা দেখা দিলেই দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে বা চিকিৎসক এর পরামর্শ নিতে হবে।

ডাঃ মোঃ আনোয়ার হোসেন
ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ

22/07/2020
01/04/2018

আজ সকাল ১০ টা, দুপুর ২ টা, সন্ধ্যা ৭ টা, রাত ১০ টা এবং রাত ১ টায়
বৈশাখী টেলিভিশনে
ফিজিওথেরাপি নিয়ে রিপোর্ট প্রচার হবে. সবাইকে দেখার অনুরোধ করা হচ্ছে...

রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৮ ফিজিও থেরাপি শিক্ষা ও ব্যবসা আসছে আইনের আওতায়প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৮, ২০:৩৭নিজস্ব প্রতিবেদকথেরাপি ...
18/03/2018

রবিবার, ১৮ মার্চ, ২০১৮

ফিজিও থেরাপি শিক্ষা ও ব্যবসা আসছে আইনের আওতায়
প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০১৮, ২০:৩৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন শিক্ষা কার্যক্রম, পেশাজীবীদের বিন্ধন ও মান নিয়ন্ত্রণ করে একটি কাঠামোতে আনতে নতুন করে একটি আইন প্রণয়ন করছে সরকার। যা বাংলাদেশ থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৭ নামে অভিহিত হবে।

ইতিমধ্যে আইনটির ওপর আন্ত:মন্ত্রণালয় সভা করে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেয়া হয়েছে। শিগগিরই আইনটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আইনটি বলবৎ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ থেরাপি এন্ড রিহেবিলিটেশন কাউন্সিল নামে একটি কাউন্সিল গঠিত হবে। যা পরবর্তীতে শুধুমাত্র কাউন্সিল নামে অভিহিত হবে।

এই আইনের অধীনে একটি কাউন্সিল গঠন করা হবে। ৩৭ সদস্যের এ কাউন্সিলের সভাপতি হবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। সহসভাপতি হবেন সমাজকল্যাণ সচিব। কাউন্সিল সদস্যরা ৩ বছরের জন্য নিয়োগ পাবেন। ৭ জনের সমন্বয়ে কাউন্সিল নির্বাহী কমিটি গঠিত হবে। শিগগিরই থেরাপি ও রিহেবিলিটেশেন শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের অন্তর্ভূক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফিজিক্যার থেরাপি এসোসিয়েশনের প্রচার সম্পাদক ডা: মহসিনুল কবির লিমন বলেন, থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন ব্যবসা নিয়ে দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনেক হাসপাতালের লিপ্টম্যানও নিজেকে ফিজিও থেরাপিষ্ট হিসেবে পরিচয় দিচ্ছে। অনেকে ফিজিও থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন কোর্স না করেও ফিজিও থেরাপি সেন্টার পরিচালনা করছে। এতে রোগীরা নানা ভাবে প্রতারিত হচ্ছে। আইনটি হলে একটি আইনগত ভিত্তির ওপর এ পেশার স্বীকৃতি মিলবে বলে তিনি মনে করেন।

থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে কোন প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য যথাযথ ডিগ্রি, ডিপ্লোমাকোর্স অথবা অনুমোদিত কোর্স সম্পন্ন করতে হবে। অন্যথায় থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবে না। এ আইনের অধীনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য কাউন্সিলে আবেদন করতে হবে। কোন কারণে কারো আবেদন গ্রহণ করা না হলে তাকে কাউন্সিল লিখিত ভাবে জানাবে। কাউন্সিলের সিদ্ধান্তে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি প্রতিকারের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করতে পারবে। এই ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।

যথাযথ যোগ্যতা অর্জন ব্যতিরেকে থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন শিক্ষা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করলে এক বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন করার পরও কাউন্সিলের নিবন্ধন ছাড়া স্বাস্থ্য সেবা প্রদান কিংবা পেশা পরিচালনা করতে পারবে না। তবে আগে কোন প্রতিষ্ঠান থেকে নিবন্ধন নিয়ে থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে তা এ কাউন্সিলের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে বলে বিবেচিত হবে।

আইনটির ১৯ ধারায় বলা হয়েছে, আইন বলবৎ হওয়ার পর কাউন্সিল থেকে নিবন্ধন ও লাইসেন্স গ্রহণ ছাড়া থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন পেশা বা কার্যপরিচালনা করলে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত করা হবে। কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া কেউ থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যাবে। সম্পৃক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১ বছরের কারাদণ্ড, কমপক্ষে ২৫ হাজার এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকার অর্থ দণ্ড প্রদান করবে।

বিদেশে অর্জন করা ডিগ্রি শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ব্যবহার করে থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে চাইলে তাকে কাউন্সিলের কাছে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে। কাউন্সিল বিচার বিশ্লেষণ করে এবং খোঁজ খবর নিয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেবে। এই ক্ষেত্রে কারো আবেদন না মঞ্জুর করলে সংক্ষুব্দ ব্যক্তি সরকারের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করতে পারবে। তবে কী কারণে আবেদন না মঞ্জুর করা হলো তার কারণ উল্লেখ করে কমিশন আবেদনকারীকে লিখিত ভাবে জানাবে।

সরকার কমপক্ষে ২ জন বিশেষজ্ঞ থেরাপি অথবা রিহেবিলিটেশন স্বাস্থ্য পেশাজীবীসহ ৫ জনের একটি কমিটি করে বিদেশে অর্জন করা ডিগ্রির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। অনুমোদনের পরও সরকার যদি মনে করে কোন থেরাপি ও রিহেবিলিটেশন প্রতিষ্ঠান যথাযথ মান বজায় রাখছে না তাহলে ওই প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি বাতিল করতে পারবে। এমন কি চিরতরে নিবন্ধন বাতিল করতে পারবে। থেরাপি ও রিহেবিলিটেশনের ডিগ্রিধারীরা দেশেরে ভেতরে কিংবা বাহিরে কোথাও মিথ্যা ডিগ্রি ধারণ করতে পারবে না। এমন কোন উপাধি, নাম, বর্ণনা বা চিহ্ন ধারন করা যাবে না যার কারণে কেউ তাকে ভিন্ন যোগ্যতা সম্পন্ন মনে করে। সেই ক্ষেত্রে মিথ্যা ডিগ্রিধারীর ৩ মাস কারাদণ্ড অথবা অনুর্ধ ১ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড আরোপ করা হবে। কোন ব্যক্তি যদি এই আইনের অধীনে নিবন্ধিত না হয়ে অথবা স্বীকৃত কোন যোগ্যতা অর্জন ব্যতিরেকে থেরাপি অথবা রিহেবিলেটেশন স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনা করেন তাহলে ২ বছর কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ডে দতন্ডিত করা হবে।

03/12/2017

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বিজ্ঞানের একটি শাখা যেখানে রোগীর রোগের ইতিহাস জেনে ,শারীরিক পরীক্ষা ও অন্যান্য পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে রোগ নির্নয় সাপেক্ষে শারিরিক বায়োমেকানিক্স ও কায়নেসিওলোজি এর বিভিন্ন সূত্র মেনে ম্যানুয়াল থেরাপি ,বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ,শারীরিক ক্রিয়া কৌশল ও কখনো কখনো বিভিন্ন ভৌত (আলো,শব্দ,তাপ,তরঙ ,বাতাস ) ও রাসায়নিক (ঔষধ ) উপকরন বা উপাদান প্রয়োগ করে ব্যাথা ,বিকলতা ,আসরতার উন্নয়ন করে চলাচলের সক্ষমতা অর্জনের জন্য স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের বৈজ্ঞানিক নিয়ম-কানুন অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয় ।

ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ চিকিতসকদেরকে ফিজিওথেরাপিষ্ট বলা হয় ।ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক স্বাধীন ও স্বতন্ত্র চিকিতসার পাশাপাশি চিকিসকদের টিমের সাথে স্বমন্নিতভাবে রোগ নির্নয় ও চিকিতসার জন্য কাজ করে থাকে ।

ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ শাখা আছে ,যেমন অর্থোপেডিক ফিজিওথেরাপি , স্পোর্টস ফিজিওথেরাপি ,নিউরো ফিজিওথেরাপি ,বয়ষ্ক ফিজিওথেরাপি,কার্ডিও-পালমোনারি ফিজিওথেরাপি ,স্ত্রীও প্রসূতি ফিজিওথেরাপি ,শিশু ফিজিওথেরাপি ও পূর্নবাসন ফিজিওথেরাপি । উক্ত বিষয়গুলোতে বিশেষজ্ঞ হতে হলে একজন ফিজিওথেরাপি চিকিতসককে স্নাতকোত্তর কোর্স করতে হয় ।

একজন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করে থাকেন ,যেমন নিজস্ব ক্লিনিক,হাসপাতাল,বিভিন্ন ক্রিয়া ক্লাব,স্কুল/কলেজ,শিল্প কারখানা,ফিটনেস সেন্টার,পূর্নবাসন সেণ্টার ইত্যাদি ।

18/11/2017

কবিরাজের ভন্ডামি থেকে সাবধান! হযে যেতে পারে অপূরনীয় ক্ষতি!

কিছুদিন আগে এক বাবা আসেন স্ট্রোকে আক্রান্ত তাঁর ৫৫ বছর বয়সী স্ত্রীকে নিয়ে আমার চেম্বারে ৷ হিস্টোরি নিয়ে জানলাম সে ৪ মাস আগে স্ট্রোক করেছে ৷ ইতোমধ্যে রোগীর হাত পা শক্ত হয়ে অনেকটা ডিফর্মিটির দিকে ৷ আমি তাকে প্রশ্ন করলাম কেন এতোদিন পরে এলেন?

-কবিরাজি চিকিৎসা করিয়েছি এতোদিন ৷
-কতো টাকা খরচ করলেন কবিরাজের পিছনে?
- সে অনেক টাকা স্যার ৷
- কেমন? ১০-১৫ হাজার?
-আরে স্যার, এক কবিরাজ আছে সে ফু দিলেই নেয় ৪ হাজার ৷ আমি মোট ৪ জন কবিরাজ দেখায়ছি ৷
- তাহলে তো অনেক টাকা খরচ করেছেন, ৫০ হাজার টাকার মতো হবে?
- ওমনই স্যার, একটু বেশিও হতে পারে ৷
-কবিরাজের কাছে গিয়ে কোন উপকার পেয়েছেন?
- না ৷
-তাহলে কেন শুধু শুধু ছুটলেন কবিরাজের পিছনে?
- স্যার, সবাই বলে এটা উপরিদোষ, কবিরাজি চিকিৎসায় ভালো হয়, আর এক কবিরাজ আমার এক পরিচিত স্ট্রোক রোগীকে ২২ দিনে ভালো করেছে ৷

আসলেই কবিরাজ কি ষ্ট্রোকের রোগী কে কোন উপকার করতে পারে? উত্তর: "একেবারেই না ৷" বরং সে রোগীর মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে ৷ সেটা হলো রোগী স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর পরই সঠিক ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় সবচেয়ে দ্রুত উন্নতি লাভ করে ৷ যতো সময় যায়, ভালো হওয়ার গতি ততো কমতে থাকে ৷ আর চিকিৎসা না নিয়ে দেরি করলে আরো নতুন নতুন সমস্যার উদ্ভব ঘটে ৷ এভাবেই কবিরাজ রোগীর মূল্যবান সময় নস্ট করে এবং কবিরাজ তার কাল্পনিক আর অমানবিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে মৃত্যু ঝুকিতেও ফেলতে পারে ৷

এবার আসি ঐ রোগীটি কবিরাজি চিকিৎসা নিয়ে সত্যিই কি ২২ দিনে ভালো হয়েছে? তা মোটেই না ৷ এটা হলো, "ঝড়ে বক মরা আর ফকিরের কেরামতি বাড়া" ৷ ষ্ট্রোকের বিভিন্ন ধরন থাকে ৷ এমনও স্ট্রোক হয়, যে প্যারালাইসিস রোগী ষ্ট্রোকের ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ভালো হয়ে যায় ৷ মেডিকেল ভাষায় এটাকে বলে 'টিআইএ' ৷ এগুলো হলো ছোট স্ট্রোক, ছোট স্ট্রোক হলে কিংবা রোগীর ব্রেনের ক্ষতির পরিমান কম হলে রোগী এমনিতেই সুস্থ্য হয়ে যেতে পারে ৷ এখানে কবিরাজের কোন কেরামতি নাই ৷ অনেক রোগী পাওয়া যায় যারা ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা না করিয়ে শুধু বাসায় বসে ওষুধ খেয়ে ভালো হয়ে যায় ৷ তারাও ঐ ছোট ষ্ট্রোকের দলে ৷ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা না নিয়ে যে স্ট্রোক রোগী ৮০% ভালো হয়, সেই রোগী ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিলে হয়তোবা ১০০% ভালও হতে পারতেন ৷

ঐ বাবা এবার আমাকে অনুরোধ করলেন থেরাপি চার্জ টা একটু কমিয়ে রাখতে ৷ বললাম কেন কমাবো? তিনি বলেন, কবিরাজ কে টাকা দিতে দিতে ফতুর হয়ে গেছি স্যার ৷ আমি বললাম, "আচ্ছা যতোটুকু সম্ভব কমাবো, তবে আফশোস, একমাস থেরাপি নিতে খরচ হয় মাত্র ৯ হাজার টাকা, আপনি যে টাকা কবিরাজের পিছনে খরচ করে রোগীর ক্ষতি করেছেন, ঐ টাকা দিয়ে ৪ জন স্ট্রোক রোগীকে চিকিৎসা করানো যেত!"

আসলে স্ট্রোক হলো ব্রেনের রক্তনালীর রোগ ৷ এটা কোন জ্বীন বা ভূতের আছ্বর, বাতাস লাগা, উপরিদোষ কিংবা কারো অভিশাপ নয় ৷ সময়মতো সঠিক চিকিৎসায় স্ট্রোক ভালো হয় ৷ তাই স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত হাসাপাতালে নিয়ে যান ৷ আর রোগীর মৃত্যু ঝুকি কমলে বা স্টাবল হলে নিয়মিত ওষুধ খাওয়ানোর পাশাপাশি শুরু করে দিন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ৷

ডাঃ শেখ মুমিনুল্লাহ, পিটি
ট্রেজারার
বাংলাদেশ স্ট্রোক ফাউন্ডেশন
[email protected]

পায়ের সমস্যার কারণে আমার ৭৭ বছর বয়সী মায়ের যখন হাঁটাচলা বন্ধ হওয়ার উপক্রম, তখন নানা রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবিষ্কৃত ...
18/11/2017

পায়ের সমস্যার কারণে আমার ৭৭ বছর বয়সী মায়ের যখন হাঁটাচলা বন্ধ হওয়ার উপক্রম, তখন নানা রকমের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আবিষ্কৃত হলো, তাঁর সমস্যা আসলে পায়ে নয়, মেরুদণ্ডে। একাধিক চিকিৎসক বললেন, সমস্যাটির সম্পূর্ণ সমাধান নেই, কারণ তাঁর বয়স বেশি। তবে নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে তাঁর কিছুটা ভালো থাকার উপায় আছে।

ওষুধ সেবন কিছুদিন চলল, কিন্তু মায়ের অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হলো না। বরং একদিন একটি পা হঠাৎ অবশ হয়ে তিনি পড়ে গেলেন এবং তাঁর একটি হাত ভেঙে গেল। সেই ভাঙা হাতের চিকিৎসা চলল প্রায় দুই মাস এবং এই সময়ের মধ্যে তাঁর পায়ের আরও অবনতি ঘটল। তাঁকে আবার চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলো, এবার একজন নিউরোসার্জন তাঁর মেরুদণ্ডের এমআরআই রিপোর্ট দেখে বললেন, মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার করা হলে মা অনেকখানি সেরে উঠবেন। ৭৭ বছর বয়সে মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ শুনে মা ভয় পেয়ে বললেন, ‘অপারেশনের দরকার নাই।’

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রধান প্রবণতা ওষুধের সাহায্যে ও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগ সারানোর চেষ্টা করা। ‘এমবিবিএস’ কথাটির মানে হলো ‘ব্যাচেলর অব মেডিসিন ব্যাচেলর অব সার্জারি’। আমার বৃদ্ধ মায়ের জন্য এই চিকিৎসাবিজ্ঞান যখন আর বিশেষ কিছু করতে পারছে না, তখন তাঁর মনে হলো যে তাঁর ছেলেরা অবহেলাবশত তাঁকে দেশের সেরা চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাচ্ছে না।

এ রকম সংকটময় মুহূর্তে এক সহকর্মী আমাকে একজন চিকিৎসকের খোঁজ দিলেন, যিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিজিওথেরাপিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে এসেছেন। আমি আমার মাকে তাঁর কাছে নিয়ে গেলাম। মা এখন ভালো আছেন; ইতিমধ্যে তাঁর বয়স আরও দেড় বছর বেড়েছে। তবু তিনি হাঁটাচলার ক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেননি, যদিও এক চিকিৎসক আমাকে বলেছিলেন, একটা সময় আসবে যখন মা হাঁটাচলার ক্ষমতা সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলতে পারেন।

এই কাহিনি লম্বা। সেটা বলার জন্য এই লেখা লিখছি না। লিখছি এ জন্য যে আজ বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস এবং বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি সম্পর্কে জানাশোনার বিরাট ঘাটতি আছে। চিকিৎসক সম্প্রদায়ের একটি অংশ ফিজিওথেরাপির বিশেষজ্ঞদেরও চিকিৎসক বলে মানতে নারাজ। কিন্তু আসলে মেডিকেল সায়েন্সের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা হিসেবে ফিজিওথেরাপি এখন ইউরোপ-আমেরিকার উন্নত দেশগুলোতে ভীষণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফিজিওথেরাপি এমন এক বিদ্যা বা সায়েন্স, যার প্রধান প্রবণতা শারীরিক ক্রিয়াকর্ম বা ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি আর ব্যায়ামের মাধ্যমে অনেক রোগ সারানোর চেষ্টা করা এবং সুস্থ ও সচল জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে দেওয়া। ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি ও ফিজিক্যাল এক্সারসাইজকে সব বয়সের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে তোলার কাজে সহযোগিতা করতে পারেন একজন ফিজিওথেরাপিস্ট।

এক দিক থেকে বাংলাদেশসহ পুঁজিবাদী দুনিয়ার চিকিৎসাসেবা নামের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ফিজিওথেরাপির বিরোধ খুঁজে পাওয়া সম্ভব। চিকিৎসা যখন ব্যবসা, তখন রোগের প্রতিরোধ নিয়ে কিংবা মানুষের স্বাস্থ্যকর জীবনাভ্যাস গড়ার বিষয়ে তার মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। একজন ফিজিওথেরাপিস্টের মাথাব্যথা সেটা নিয়েই: শারীরিক পরিশ্রম বা সক্রিয়তা আর নিয়মিত ব্যায়াম করে সুস্থ থাকুন, যেন আপনাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে না হয়।

পৃথিবীর ২৬ শতাংশ পূর্ণবয়স্ক মানুষ শারীরিক পরিশ্রম করেন না। এটা অন্তত এক ডজন রোগের কারণ। পৃথিবীজুড়ে প্রতিবছর যত লোক মারা যায়, তাদের ৬ শতাংশ মারা যায় ফিজিক্যাল ইন-অ্যাক্টিভিটি বা শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা থেকে সৃষ্ট নানা রোগব্যাধি ও শারীরিক সমস্যার কারণে। এ রকম পরিস্থিতিতে ফিজিওথেরাপির ব্যাপক প্রসার খুব জরুরি।

কিন্তু বাংলাদেশে এই বিদ্যা এখনো বেশ অবহেলিত। ফিজিওথেরাপি পড়ানোর জন্য একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা গত আট-নয় বছরেও সফল হয়নি। রাজধানীর মহাখালীতে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করেছে ২০০৮ সালে। ২০১০ সালে সেখানে ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু সেখানেই সব উদ্যোগ থেমে গেছে। ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করা দূরের কথা, ওই জমিতে গড়ে উঠেছে প্রায় দুই হাজার অবৈধ বস্তিঘর। রাজনৈতিক প্রভাবশালী কিছু লোক ওই সব বস্তিঘর ভাড়া দিয়ে মাসে মাসে টাকা তোলে। সেখানে মাদকদ্রব্যের ব্যবসাও চলে বলে সংবাদমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে ফিজিওথেরাপিস্টরা সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেকবার ধরনা দিয়েছেন। কলেজের জন্য নির্ধারিত জমি থেকে অবৈধ বস্তিঘরগুলো তুলে দেওয়ার উদ্যোগ সরকার নেয়নি। একপর্যায়ে বস্তিবাসীর পক্ষে আদালতে রিট করেন এক ব্যক্তি। কিন্তু আদালত রিটের নিষ্পত্তি করে পরিষ্কার বলে দিয়েছেন: সরকারের অধিগ্রহণ করা জমিতে আবেদনকারীর থাকার আইনগত অধিকার নেই। হাইকোর্ট রিট আবেদনকারীসহ অবৈধ দখলদারদের দুই মাসের সময় দিয়ে ফিজিওথেরাপি কলেজের জন্য জমি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। হাইকোর্ট একই রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কলেজ ভবন নির্মাণে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

এটা ২০১৩ সালের জুন মাসের ঘটনা। তারপর আরও চার বছর চলে গেছে, কিন্তু হাইকোর্টের সেই নির্দেশ আজও বাস্তবায়িত হয়নি। ফিজিওথেরাপিস্টদের সংগঠনের নেতারা অবশেষে খোদ রাষ্ট্রপতির কাছে পর্যন্ত ধরনা দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে এ বছরের ২৮ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে একটি চিঠি দিয়ে বলা হয়, মহাখালীতে ফিজিওথেরাপি কলেজের ভবন নির্মাণের ব্যাপারে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা হোক। কিন্তু তার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যে কলেজ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত সরকার অন্তত ১০ বছর আগে নিয়েছে, উচ্চ আদালত ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্দেশের পরও যাদি তার ভবন নির্মাণের কাজই শুরু করা না হয়, তাহলে বিস্ময়ের সঙ্গে প্রশ্ন জাগে: রহস্যটা কী? জাতি কবে একটি ফিজিওথেরাপি কলেজ পাবে?

লেখক

মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

[email protected]

Address

53, Latif Road
Dhaka
1230

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when PT Digest posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share