08/06/2026
“পুরুষদের মানসিক স্বাস্হ্য সচেতনতা” মাস: পুরুষদেরও মন খারাপ হয়!
পুরুষদের ও মন খারাপ হয়- কারণ আমরা সবাই মানুষ! আবেগ সবার জন্যই। কিন্তু সবাই প্রকাশ করতে পারে না বা ঠিক ভাবে কখনো কখনো সম্ভব হয়ে উঠেনা ।
“Men’s Mental Health Awareness Month” বর্তমানে এটি শুধু আমেরিকায় সীমাবদ্ধ নেই। এই জুন মাস পুরোটা সারা বিশ্ব জুড়ে পালিত হচ্ছে.. এটি একটি বৈশ্বিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোতে এটি রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ব্যাপকভাবে পালিত হয়, বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই।
মূলত ১৯৯৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম "পুরুষ স্বাস্থ্য সপ্তাহ" (Men's Health Week) হিসেবে এটি শুরু হয়। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন আনুষ্ঠানিকভাবে এর স্বীকৃতি দেন।
উদ্দেশ্য ও রূপান্তর: শুরুতে এটি ছিল পুরুষদের সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্য (যেমন: প্রোস্টেট ক্যান্সার, হৃদরোগ) সচেতনতার জন্য। কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায়, পুরুষদের আত্মহত্যার হার এবং মানসিক বিষন্নতা আশঙ্কাজনকভাবে বেশি, অথচ তারা লোকলজ্জার ভয়ে মুখ খোলেন না। এই প্রয়োজনীয়তা থেকে বিশ শতকের শুরুর দিকে পুরো জুন মাসটিকে “পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা মাস" হিসেবে পালন করা শুরু হয়।
আত্মহত্যার হার হ্রাস: পুরুষদের আত্মহত্যার প্রবণতা নারীদের তুলনায় অনেক বেশি থাকে। রিসার্চ এ দেখা যায় নারীরা আত্মহত্যার চেষ্টা করে বেশি কিন্তু সফল হয় পুরুষরা বেশি। যেটা একটা পরিবারের মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার মত। সঠিক সময়ে মানসিক সহায়তা পেলে এই অকাল মৃত্যু কমানো সম্ভব।
সামাজিক কুসংস্কার বা জড়তা ভাঙা: “ছেলেরা কাঁদবে না" বা "পুরুষদের ভেঙে পড়তে নেই"—এই ক্ষতিকর সামাজিক ধারণা (Toxic Masculinity) থেকে পুরুষরা বের হয়ে আসতে পারেন। অবশ্যই পরিবারের সহযোগিতা প্রয়োজন।
পারিবারিক ও কর্মক্ষেত্রে সুখ: একজন মানসিকভাবে সুস্থ পুরুষ একজন ভালো ভাই, বাবা, ভালো স্বামী, ভালো সন্তান এবং কর্মক্ষেত্রে একজন দক্ষ কর্মী হিসেবে অবদান রাখতে পারেন।
মানসিক বিপর্যয় ও মাদকাসক্তি: আবেগ চেপে রাখতে রাখতে পুরুষরা তীব্র বিষন্নতা (Depression), উদ্বেগ (Anxiety) এবং একপর্যায়ে মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়েন।
পারিবারিক সহিংসতা ও কলহ: মানসিক চাপ বা ট্রমা যখন প্রকাশ করার সঠিক মাধ্যম পায় না, তখন তা অনেক সময় রাগ, ক্ষোভ বা পারিবারিক সহিংসতার রূপ নেয়।
শারীরিক রোগ: দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ থেকে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
সহায়তা গ্রুপ (Support Group) গঠন: একটি নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা যেখানে পুরুষরা কোনো রকম সামাজিক বিচার বা সমালোচনার ভয় ছাড়া নিজেদের মানসিক লড়াইয়ের গল্প এবং অভিজ্ঞতা একে অপরের সাথে ভাগ করে নিতে পারবেন। “এসো নিজে করি”থেকে আমরা আছি আপনাদের সাথে।
উপসংহারে বলতে চাই আমি একজন মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকর্মী বা থেরাপিস্ট না হলে সেভাবে বুঝতেই পারতাম না পুরুষদেরও ভিষন কস্ট হয়! তারাও নীরবে কাঁদে - মন ভেঙে লেগে কস্ট পায়, প্রমিকা চলে গেলে কস্ট পায়, চাকরি না হলে ভিতরে ভিতরে ক্ষয় হতে থাকে, বাবা-মায়ের জন্য, ছোট ভাই-বোন, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য কিছু করতে না পারলে দুঃখ পায়। তারা পরিবারকে একজন নারীর মতোই বা আরও ভিন্নভাবে আকড়ে ধর রাখতে চায়…সবাইকে ভালো রাখতে চায়, তারা ভালোবাসে এবং ভালোবাসা চায়।” সবাই যে এক হবে - তাও না, ভিন্নতা আছে! এটাও স্বাভাবিক। আসুন আমরা মানুষ হিসেবে সহযোগিতার মনবৃত্তি নিয়ে পাশা পাশাপাশি বিচরণ করি। নারী-পুরুষ সবাই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিবেন॥
সোনিয়া পারভীন
সিবিটি থেরাপিস্ট ও ফাউন্ডার “এসো নিজে করি”