26/02/2019
#চিকেন_পক্সের_উপসর্গ_প্রতিরোধ_প্রতিকার:
চিকেন পক্স খুব দ্রুত ছড়াতে পারে এমন ধরনের সংক্রামক ব্যাধি। ভেরিসেলা জোস্টার নামের ভাইরাসের কারণে রোগটি হয়। সাধারণত বাচ্চাদের, বিশেষ করে ১২ বছরের নিচের বয়সীদের এই রোগ বেশি হয় এবং আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে এলে রোগটি হতে পারে। যাদের এ রোগটি কখনোই হয়নি তারা সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। সাধারণত রোগটিতে একবার আক্রান্ত হলে বাকি জীবন এই রোগটির বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে ওঠে অর্থাৎ তার এ রোগটি আর হবে না বলে ধরে নেওয়া যায়।
#উপসর্গ:
জীবাণু শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ শুরু হয়।
♦ সাধারণত জ্বর দিয়ে রোগটির শুরু হয়। সঙ্গে গলাব্যথা, মাথাব্যথা ও পেটব্যথাও থাকতে পারে। এই লক্ষণগুলো এক-দুই দিন স্থায়ী হয়। জ্বর সাধারণত ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত ওঠানামা করে।
♦ কারো কারো ক্ষেত্রে খাবারে অরুচি হয়। শরীর ব্যথা হয়।
♦ দুই-চার দিনের মধ্যে পানিভর্তি ছোট ছোট দানার মতো ত্বকে ওঠে। প্রথমে লালচে বর্ণের হয়, কিছুটা চুলকায়। পেটে, পিঠে বা মুখে দানা আগে ওঠে। পরে ছড়িয়ে যায় মাথা, মুখ, হাত-পা, জননাঙ্গে।
♦ দানাগুলো প্রথম দিকে দেখতে পিম্পল বা পোকার কামড়ের মতো দেখা যায়।
♦ সাধারণত মুখে, পিঠে, বুকে এই দানাগুলো বেশি দেখা যায়। দুই-চার দিনের মধ্যে দানাগুলো পানির মতো তরল দিয়ে ভর্তি হয় এবং কিছুটা তামাটে বর্ণের হয়ে দ্রুতই সাদা পুঁজভর্তি হয়ে ওঠে
♦ কয়েক দিনের মধ্যে তরলভর্তি দানাগুলো ফেটে যায়। ব্যথা হয়। শুকিয়ে কালো বাদামি হয়ে আসে। এ সময় চুলকানি অত্যধিক হয়। ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে বা ক্যালামিন লোশন ক্ষতস্থানে দিলে চুলকানি নিয়ন্ত্রণে থাকে।
♦ এর দুই-চার দিনের মধ্যে দানাগুলো শরীর থেকে ঝরে পড়ে কিন্তু দাগ রেখে যায়।
♦ চিকেন পক্সে আক্রান্ত হওয়ার কয়েক দিন পর একই সঙ্গে শরীরে লালচে, তরলভর্তি ও কালচে হয়ে যাওয়া তিন ধরনের ক্ষতের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এটা দেখেই নিশ্চিত হওয়া যায় রোগটির উপস্থিতি সম্পর্কে।
♦ সাধারণত সাত থেকে ১০ দিন স্থায়ী হয়।
♦ মারাত্মক ধরনের জটিলতাও হতে পারে। যেমন—ফুসফুস, অস্থিসন্ধি ও মস্তিষ্কের প্রদাহ।
♦ অনেক সময় চিকেন পক্সে আক্রান্ত রোগীদের একই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াঘটিত রোগেও আক্রান্ত হতে দেখা যায়।
#প্রতিরোধ:
চিকেন পক্স প্রতিরোধের জন্য এক বছর বয়স থেকে ১৫ মাস বয়সের মধ্যে বাচ্চাদের ভ্যাকসিন (প্রথম ডোজ) দিতে হবে এবং পরবর্তী সময়ে চার থেকে ছয় বছরের মধ্যে ভ্যাকসিন (দ্বিতীয় ডোজ) দিতে হবে।
যাদের বয়স ১৩ বা এর বেশি এবং যারা কোনো দিন চিকেন পক্সে আক্রান্ত হয়নি তারাও ভ্যাকসিন বা টিকা নিতে পারে। এ ক্ষেত্রে প্রথম ডোজ নেওয়ার ২৮ দিন পর দ্বিতীয় ডোজ নিতে হবে।
#প্রতিকার:
♦ আক্রান্ত ব্যক্তিকে যতটুকু সম্ভব বিশ্রামে ও আলাদা থাকতে হবে। লেখাপড়া করা ছাত্রছাত্রীদের কিংবা কর্মস্থলে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটি নিতে হবে।
♦ চিকেন পক্সে আক্রান্ত হলে প্রতিকারের জন্য ভাইরাসবিরোধী ওষুধ বা অ্যান্টিভাইরাল, যেমন—অ্যাসাইক্লোভির ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। ওষুধটি প্রতি পাঁচ ঘণ্টা অন্তর সেবন করতে হয়।
♦ জ্বর নিরাময়ের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করতে হবে। চুলকানি কমানোর জন্য অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। ক্যালামিন লোশন ব্যবহার করলে চুলকানি অনেক কম হয়। ত্বকে দাগও কম থাকে। তবে ক্যালামিন লোশন মুখের ভেতরে বা জননাঙ্গে দেওয়া উচিত নয়। চোখের আশপাশেও ক্যালামিন লোশন লাগাবেন না।
♦ সাধারণত চিকেন পক্সে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের দরকার হয় না। তবে ক্ষতস্থানে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে বা চুলকানোর ফলে ক্ষত হয়ে অন্য জীবাণু দ্বারা জটিলতার সৃষ্টি হলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে হবে।
♦ চিকেন পক্স আক্রান্ত রোগী খেতে পারে না। তাই সুপাচ্য তরল খাবারসহ সব খাবারই খেতে দিতে হবে। অধিক ঝাল বা মসলাযুক্ত খাবার, অধিক লবণযুক্ত খাবার, এসিডিক খাবার (যেমন-লেবু, কমলা) কম দিন। গরম খাবারের পরিবর্তে স্বাভাবিক তাপমাত্রার খাবার খেতে হবে।
♦ মুখের ভেতরের ক্ষত পরিষ্কার রাখতে হালকা গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে কুলকুচি করতে হবে।
♦ আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বেশি গরম পানি ব্যবহার না করে ঠাণ্ডা পানি বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে গোসল করুন। ঠাণ্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় দিয়ে ক্ষতস্থান প্রতি তিন-চার ঘণ্টা অন্তর পরিষ্কার করুন। অনেকে মনে করেন, গোসল করলে শরীরের অন্য অংশেও পক্স ছড়ায়। আসলে তা হয় না।
♦ অনেকে নিমপাতা ভেজানো পানি দিয়ে গোসল করে। এতে চুলকানি কম হয়। তবে নিমপাতা ভালো করে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
♦ কতস্থান খুঁটবেন না। শুকিয়ে আপনা-আপনি ঝরে না যাওয়া পর্যন্ত টেনে তুলবেন না।
♦ অনেকে ব্যথা ও জ্বর কমাতে অ্যাসপিরিন ব্যবহার করেন। এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ চিকেন পক্সে অ্যাসপিরিন ব্যবহার করা হলে রে সিনড্রোমের মতো মারাত্মক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।
♦ যদি চার দিনের বেশি জ্বর থাকে এবং জ্বরের মাত্রা ১০২ ডিগ্রির চেয়ে বেশি হয়, শ্বাস-প্রশ্বাসে অসুবিধা হয়, তীব্র মাথাব্যথা হয়, অতিমাত্রায় ঝিমুনিভাব হয়, হাঁটতে অসুবিধা হয়, বারবার বমি হয়, ঘাড় শক্ত হয়ে আসে, তবে দেরি না করে হাসপাতালে নিতে হবে বা ডাক্তার দেখাতে হবে।