04/06/2026
মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন থাকায় আমরা যেমন বেশ কিছু সুবিধা পাচ্ছি, ঠিক তেমনই এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের ফলে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ইদানীং একটি সমস্যা খুব প্রকট আকারে বেড়েছে, সেটি হলো মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা। বিশেষ করে শিক্ষার্থীরা এই সমস্যায় বেশি ভুগছে।
এর অন্যতম কারণ হলো অযাচিত মোবাইল স্ক্রোলিং। আমরা যখন ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রামে রিলস কিংবা ইউটিউবে শর্টস ভিডিও দেখি, তখন আমাদের মস্তিষ্ক খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ ভিজ্যুয়াল তথ্য গ্রহণ করে। ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর দীর্ঘ সময় মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হয়।
এভাবে প্রতিনিয়ত চলতে থাকলে আরও নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন-
* বই পড়তে বিরক্তি লাগা
* পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া
* কাজের মধ্যে বারবার মোবাইল চেক করার ইচ্ছা হওয়া
* দীর্ঘ আলোচনা বা লেকচার শুনতে অনীহা
* সদ্য দেখা বিষয় ভুলে যাওয়া
* পড়া তথ্য মনে রাখতে সমস্যা হওয়া
* গভীরভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা কমে যাওয়া
* ঘুমের সমস্যা হওয়া
* উদ্বেগ ও মানসিক চাপ বৃদ্ধি পাওয়া
* ঘন ঘন মেজাজ খারাপ হওয়া
এবার বলা যাক, এর থেকে পরিত্রাণের উপায়।
প্রথমেই বলব, অযাচিত স্ক্রোলিং বন্ধ করতে হবে। মোবাইল ফোনের ব্যবহার একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার অন্তত ১ ঘণ্টা পরে মোবাইল ব্যবহার করুন এবং রাতে ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন।
আমি যেহেতু আকুপ্রেসার নিয়ে কাজ করি, তাই স্বাভাবিকভাবেই বলব-আপনারা নিয়মিত আকুপ্রেসার করুন। এই ক্ষেত্রে আকুপ্রেসার বেশ ভালো কাজ করে। ছবিতে দেওয়া দুটি পয়েন্টে সপ্তাহে ছয় দিন, দিনে দুইবার (সকালে খালি পেটে এবং রাতে ঘুমানোর আগে) দুই মিনিট করে চাপ দিন। এতে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, মন শান্ত থাকবে এবং উদ্বেগ ও মানসিক চাপ কমতে সাহায্য করবে।
এছাড়াও খেলাধুলা, ব্যায়াম, প্রিয়জনদের সাথে ঘুরতে গেলে স্ট্রেস কমে, মন ভালো থাকে।