Freedom Within

Freedom Within Works for promoting well-being, autonomy and empowerment through counseling, training and awareness activities.

আরিফের গল্প: পর্ব ৩আ‌রিফ, যে মানুষটি নিজের অজান্তে একটি গল্প অনুসরণ করছিল;আরিফ ছোটবেলা থেকে একটি ভালো ছেলে ছিল। সে কখনো ...
14/09/2026

আরিফের গল্প: পর্ব ৩

আ‌রিফ, যে মানুষটি নিজের অজান্তে একটি গল্প অনুসরণ করছিল;

আরিফ ছোটবেলা থেকে একটি ভালো ছেলে ছিল। সে কখনো বাবা-মাকে কষ্ট দিতে চাইত না।
শিক্ষকদের কথা শুনত। বড়দের সম্মান করত।

সবাই বলত, "আরিফ খুব বুঝদার ছেলে।"

কিন্তু কেউ জানত না, এই "ভালো ছেলে" হওয়ার পেছনে আরিফের ভেতরে একটি ছোট্ট ভয় কাজ করত।

সে ভাবত, "আমি যদি ভুল করি, তাহলে মানুষ আমাকে আর ভালোবাসবে না।"

একটি ছোট্ট অভিজ্ঞতা কীভাবে মনে থেকে যায়?

স্কুলে একবার আরিফ একটি ছবি এঁকেছিল। তার খুব ভালো লেগেছিল ছবিটি। সে বাবাকে দেখাতে দৌড়ে গিয়েছিল।

বাবা ছবিটি দেখে বলেছিলেন - "ভালো হয়েছে। তবে পড়াশোনায় আরও মন দাও।" বাবার কথার মধ্যে ভালোবাসা ছিল।
কিন্তু ছোট্ট আরিফ শুধু একটি অংশ শুনেছিল,
"তোমার যা করছো, তা যথেষ্ট নয়।"

এখানেই মস্তিষ্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হয়।

একটি শিশু যখন কোনো অভিজ্ঞতা পায়, তখন তার মস্তিষ্ক শুধু ঘটনাটি মনে রাখে না; সেই ঘটনার সঙ্গে অনুভূতি, অর্থ এবং নিজের সম্পর্কে একটি ধারণাও জুড়ে দিতে পারে।

বিশেষ করে কোনো ঘটনা যদি শিশুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়, তখন মস্তিষ্কের amygdala সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে জড়িত আবেগ ও সম্ভাব্য threat বা নিরাপত্তাহীনতার সংকেতকে গুরুত্ব দেয়। আর hippocampus ঘটনাটি ও তার প্রেক্ষাপটের স্মৃতি গঠনে ভূমিকা রাখে।

তাই আরিফের মনে শুধু বাবার কথাটি থেকে গেল না বরং তার মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে একটি অর্থ তৈরি করল—
*"আমি যথেষ্ট নই। আমাকে আরও ভালো হতে হবে।"*

এটি তখন কোনো সচেতন সিদ্ধান্ত ছিল না বরং ছিল একটি *শেখা মানসিক pattern*।

বছর কেটে গেল, আরিফ বড় হলো। সে পড়াশোনায় ভালো করল। চাকরি পেল।পরিবারের দায়িত্ব নিল।

কিন্তু তার ভেতরে একটি অদৃশ্য নিয়ম তৈরি হয়ে গেল, "আমাকে আরও ভালো করতে হবে।"

কাজে সফল হলেও সে বিশ্রাম নিতে পারত না।
কেউ প্রশংসা করলে সে বলত - "না, তেমন কিছু না।"
কেউ ভুল ধরলে সারারাত চিন্তা করত।

ওর বন্ধু মেহরিন একদিন বলেছিল, "তুমি কি কখনো নিজের ওপর সন্তুষ্ট হতে পারো?"

আরিফ উত্তর দিতে পারেনি।

কারণ সে বুঝতেই পারেনি- তার জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত আসলে তার নিজের নয়।
কিছু সিদ্ধান্ত এসেছে বহু বছর আগে তৈরি হওয়া একটি অদৃশ্য গল্প থেকে।

কেন পুরোনো বিশ্বাস এত সহজে সক্রিয় হয়?

আমাদের মস্তিষ্ক পরিচিত pattern অনুসরণ করতে ভালোবাসে।
কারণ প্রতিটি পরিস্থিতিতে নতুন করে সবকিছু বিশ্লেষণ করা মস্তিষ্কের জন্য অনেক বেশি শক্তির কাজ। তাই বারবার একই ধরনের অভিজ্ঞতা হলে মস্তিষ্ক সেই pattern-কে দ্রুত চিনতে শেখে।

শৈশবে যদি কেউ বারবার শুনতে থাকে বা কা‌রো কথায় সে সিদ্ধান্ত নি‌য়ে নেয় -
*"ভুল করা যাবে না,"*
তাহলে ভুলের সম্ভাবনাও পরবর্তীতে তার মস্তিষ্কের কাছে একটি threat-এর মতো অনুভূত হতে পারে।

এভা‌বে কেউ যদি বারবার শেখে-
*"সবাইকে খুশি রাখতে হবে,"*
তাহলে অন্য কাউকে হতাশ করার সম্ভাবনাও অস্বস্তি, অপরাধবোধ বা ভয়ের অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

এখানে amygdala দ্রুত আবেগীয় গুরুত্ব শনাক্ত করতে পারে, আর prefrontal cortex পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তা করা, বিকল্প ব্যাখ্যা তৈরি করা এবং নিজের প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

কিন্তু যখন পুরোনো pattern খুব শক্তিশালী হয়, তখন অনেক সময় **প্রথম প্রতিক্রিয়াটি আসে খুব দ্রুত, চিন্তা করার আগেই।**

তাই আরিফ হয়তো সচেতনভাবে ভাবছে না—

*"আমি এখন কেন এত ভয় পাচ্ছি?"*

তার মস্তিষ্ক যেন আগে থেকেই বলে দিচ্ছে—
*"সাবধান। ভুল কোরো না। আবার যথেষ্ট না হয়ে যেও না।"*

---

আমাদের ভেতরে কি সত্যিই কোনো অদৃশ্য স্ক্রিপ্ট থাকে?

ভাবুন, একজন অভিনেতা একটি নাটকে অভিনয় করছে।

সে মঞ্চে যা বলছে, যা করছে—সব একটি লেখা অনুযায়ী।

সে হয়তো জানে না কে সেই গল্প লিখেছে।
কিন্তু সে সেই গল্প অনুসরণ করছে।

আমাদের জীবনেও অনেক সময় এমন হয়।
আমরা কিছু বিশ্বাস নিয়ে বড় হই।

সেই বিশ্বাসগুলো এত পরিচিত হয়ে যায় যে আমরা আর প্রশ্ন করি না—
*"এটা কি সত্যিই আমার বিশ্বাস?"*

শৈশবের শেখা কথাগুলো কীভাবে জীবনের নিয়ম হয়ে যায়?

একটি শিশু পৃথিবীকে নিজের মতো করে বোঝে না।

সে দেখে,

বাবা-মা কীভাবে কথা বলেন।

তারা কীভাবে সমস্যা সামলান।

তারা নিজেদের সম্পর্কে কী বলেন।

তারা অন্যদের সম্পর্কে কী বিশ্বাস করেন।

তারা ভুল করলে কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান।

তারা কাঁদলে বা দুর্বল হলে কী করেন।

ধীরে ধীরে শিশুর মনে কিছু প্রশ্ন ও ধারণা তৈরি হয়—

*"আমি কেমন?"*

*"মানুষ কেমন?"*

*"পৃথিবী নিরাপদ কি না?"*

*"ভালোবাসা ও গ্রহণ‌যোগ‌্যতা পাওয়ার জন্য আমাকে কী করতে হবে?"*

এই শেখাগুলো শুধু চিন্তার মধ্যে থাকে না।

বারবার একইভাবে ভাবা ও প্রতিক্রিয়া জানানোর ফলে মস্তিষ্কে সেই pattern-এর neural connections আরও শক্তিশালী ও সহজে সক্রিয় হতে পারে।

সহজভাবে বললে—

*যে মানসিক পথ আমরা বারবার ব্যবহার করি, সেটিই ধীরে ধীরে আমাদের কাছে সবচেয়ে পরিচিত পথ হয়ে ওঠে।*

তাই একটি পুরোনো বিশ্বাস অনেক সময় "সত্য" মনে হয়—শুধু এই কারণে যে সেটি আমাদের কাছে *খুব পরিচিত*।

---

# আরিফের ভেতরের এক‌টি বিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত ছি‌লো যা তার নিজস্ব নিয়মে প‌রিনত হ‌য়েছিল—

**"ভালো হতে হলে ভুল করা যাবে না।"**

এই নিয়ম একসময় তাকে সাহায্য করেছিল।
এটি তাকে পরিশ্রমী করেছে।
দায়িত্বশীল করেছে।
সফল হতে সাহায্য করেছে।

কিন্তু পরে একই নিয়ম তাকে ক্লান্ত করতে শুরু করল। কারণ জীবন কখনো ভুলহীন নয়।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—

*একটি বিশ্বাস একসময় আমাদের জন্য উপকারী হলেও, জীবনের অন্য পর্যায়ে সেটি আর প্রয়োজনীয় নাও হতে পারে।*

শিশু আর প্রাপ্তবয়স্কের বাস্তবতা এক নয়।

কিন্তু মস্তিষ্ক অনেক সময় পুরোনো শেখাকে বর্তমান পরিস্থিতিতেও ব্যবহার করে।

# আমরা কেন পুরোনো গল্প ধরে রাখি?

কারণ আমাদের মন পরিচিত জিনিসকে বিশ্বাস করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

যদি বহু বছর ধরে আপনি বিশ্বাস করেন—

*"আমাকে সবাইকে খুশি রাখতে হবে,"*

তাহলে নিজের জন্য "না" বলা অস্বস্তিকর লাগবে।

যদিও সেই "না" আপনার জন্য ভালো হতে পারে।

কারণ পুরোনো pattern-এর সঙ্গে যুক্ত আবেগীয় প্রতিক্রিয়া খুব দ্রুত সক্রিয় হতে পারে।

তখন prefrontal cortex-এর সচেতন, ধীর চিন্তা করার সুযোগ পাওয়ার আগেই আমরা পুরোনো অভ্যাস অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারি।

তবে এখানেই আশার জায়গা।

মস্তিষ্ক স্থির নয়।

আমাদের মস্তিষ্কের neuroplasticity বা পরিবর্তনশীলতার কারণে নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন চিন্তা এবং নতুন আচরণের মাধ্যমে পুরোনো pattern-কে পুনর্মূল্যায়ন ও পরিবর্তন করা সম্ভব।

অর্থাৎ—

**পুরোনো গল্প শক্তিশালী হতে পারে, কিন্তু অপরিবর্তনীয় নয়।**

-

# # পুরোনো বিশ্বাস অনেক সময় একটি পুরোনো জুতার মতো

জুতাটি হয়তো পুরোনো।
হয়তো আরামদায়কও নয়।
তবুও পা সেটির সঙ্গে পরিচিত।
নতুন জুতা প্রথমে একটু অস্বস্তি দিতে পারে।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে পুরোনোটিই আপনার জন্য সেরা।

ঠিক তেমনি, নতুনভাবে ভাবা বা আচরণ করা শুরু করলে প্রথমে অস্বস্তি হতে পারে।

কারণ মস্তিষ্কের কাছে সেটি এখনও নতুন।

**অস্বস্তি মানেই ভুল নয়।**

কখনো কখনো অস্বস্তি মানে—
**আপনি একটি পুরোনো pattern থেকে বের হয়ে নতুন কিছু শিখছেন।**

---

# আরিফের একটি উপলব্ধি

একদিন আরিফ নিজের পুরোনো ডায়েরি দেখছিল।

সে লিখেছিল-"আমাকে সফল হতেই হবে।"
সে থেমে গেল। তারপর নিজেকে প্রশ্ন করল—
"সফল হওয়া কি আমার ইচ্ছা?"
"নাকি আমি ছোটবেলা থেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করছি যে আমি যথেষ্ট ভালো?"

এই প্রশ্নটি তার জন্য সহজ ছিল না। কিন্তু এটি ছিল তার পরিবর্তনের শুরু। কারণ পরিবর্তনের প্রথম ধাপ সবসময় পুরোনো বিশ্বাসকে সরিয়ে ফেলা নয়।

প্রথম ধাপ হলো-
*সেটিকে দেখতে শেখা।*
যখন আমরা একটি স্বয়ংক্রিয় চিন্তাকে চিনতে পারি, তখন আমরা তার সঙ্গে একটু দূরত্ব তৈরি করতে পারি। তখন prefrontal cortex-এর সচেতন চিন্তা ও মূল্যায়নের সুযোগ বাড়ে।

*"আমি কি সত্যিই এটা বিশ্বাস করি?"*
*"এই পরিস্থিতিকে কি অন‌্যভা‌বে ব্যাখ্যা করা সম্ভব?"*
*"আজকের আমি কি ছোটবেলার সেই শিশুটির মতোই অসহায়?"*

এই প্রশ্নগুলোই পুরোনো গল্পকে নতুনভাবে দেখার দরজা খুলতে পারে।

# নিজের জীবনের অদৃশ্য স্ক্রিপ্ট খুঁজে দেখুন

নিজেকে প্রশ্ন করুন:

১. ছোটবেলায় আমি নিজের সম্পর্কে কোন কথাগুলো শুনতাম?

যেমন—

* তুমি খুব ভালো।
* তুমি পারবে না।
* তোমাকে শক্ত হতে হবে।
* তোমাকে সবার কথা শুনতে হবে।
* ভুল করা যাবে না।
* অন্যকে কষ্ট দেওয়া যাবে না।

২. আজও কি আমি সেই কথাগুলো বিশ্বাস করি?

৩. এই বিশ্বাসটি কি আমাকে সাহায্য করছে, নাকি আটকে রাখছে?

৪. কোন পরিস্থিতিতে এই বিশ্বাসটি সবচেয়ে দ্রুত সক্রিয় হয়?

এই প্রশ্নগু‌লো গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক সময় আমরা বুঝতে পারি—
*বর্তমান পরিস্থিতি যতটা নয়, পুরোনো অভিজ্ঞতার অর্থই আমাদের প্রতিক্রিয়াকে বেশি প্রভাবিত করছে।*

---

@@@ একটি ছোট অনুশীলন

একটি কাগজে দুইটি কলাম তৈরি করুন।
# # পুরোনো গল্পের বিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত:

*"আমাকে সবসময় নিখুঁত হতে হবে।"

*"কেউ কষ্ট পে‌তে পা‌রে এমন কো‌নো কাজ করা যাবে না।"

*"আমাকে সবকিছু একাই সামলাতে হবে।"

# # # নতুন গল্পের পরিব‌র্তিত বিশ্বাস ও সিদ্ধান্ত :

*"আমি ভুল করতে পারি এবং তবুও মূল্যবান।"

*"আমার প্রয়োজনেরও গুরুত্ব আছে।"

*"সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়।"*

এরপর নিজেকে প্রশ্ন করুন—

*"নতুন গল্পটি কি শুধু একটি সুন্দর বাক্য, নাকি আমি আমার আচরণেও এর প্রমাণ তৈরি করতে পারি?"

কারণ মস্তিষ্ক শুধু কথায় নয়, *নতুন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখে যা কাজ বা আচর‌ণে প্রকাশ পায়।*

আপনি যখন ভুল করেন এবং দেখেন যে সম্পর্কটি ভেঙে যায়নি,
মস্তিষ্ক নতুন তথ্য পায়।

আপনি যখন "না" বলেন এবং দেখেন যে অন্যজন আপনাকে তবুও সম্মান করে,
মস্তিষ্ক নতুন তথ্য পায়।

আপনি যখন সাহায্য চান এবং দেখেন যে আপনি দুর্বল হয়ে যাননি,
মস্তিষ্ক নতুন তথ্য পায়।

এভাবেই ধীরে ধীরে পুরোনো prediction-এর জায়গায় নতুন অভিজ্ঞতা তৈরি হতে পারে।

আমাদের জীবনের সব গল্প আমরা স‌চেতনভা‌বে নিজেরা লিখিনি।

কিছু গল্প আমাদেরকে প্রভা‌বিত ক‌রে‌ছে।

কিছু গল্প আমরা পরিস্থিতির কারণে গ্রহণ করেছি।

কিছু গল্প আমাদের নিরাপদ থাকতে সাহায্য করেছে।

কিন্তু বড় হওয়ার একটি সুন্দর ও শ‌ক্তিশালী দিক হলো—

*স‌চেতন হ‌লে আমরা কলমটি নিজের হাতে নিতে পারি।

আমরা আমাদের পুরোনো বিশ্বাসকে প্রশ্ন করতে পারি।

নিজের অভিজ্ঞতাকে নতুন অর্থ দিতে পারি।

নতুনভাবে ভাবতে, অনুভব করতে এবং আচরণ করতে শিখতে পারি।

কারণ আমাদের মস্তিষ্ক অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শেখে ঠিকই—

*কিন্তু কো‌নো শেখাই চিরস্থায়ী নয়।*

আমরা নতুন অভিজ্ঞতার মাধ্যমে নতুন পথও তৈরি করতে পারি।

তাই হয়তো আমাদের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হতে পারে—

*"এই গল্পটি আমাকে কে দিয়েছিল?"*

এবং তার পরের প্রশ্ন—

*"এখন আমি কোন গল্পটি লিখতে চাই?"*

"এই গল্প আমাকে তৈরি করেছে, কিন্তু এই গল্পই আমার সীমা নয়।"

না‌সিমা আকতার
সাইকো‌থেরা‌পিস্ট
Nasima Akter








#অদৃশ্যস্ক্রিপ্ট
#নিজেকেনতুনভাবেজানা
#শৈশবেরবিশ্বাস
#পুরোনোগল্প
#নতুনগল্প

নিজেকে বুঝতে শেখা—নিজের জীবনকে আরও সচেতনভাবে গড়ে তোলার প্রথম ধাপ।আমরা প্রতিদিন নানা ভূমিকা পালন করি; অভিভাবক, জীবনসঙ্গী,...
14/09/2026

নিজেকে বুঝতে শেখা—নিজের জীবনকে আরও সচেতনভাবে গড়ে তোলার প্রথম ধাপ।
আমরা প্রতিদিন নানা ভূমিকা পালন করি; অভিভাবক, জীবনসঙ্গী, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা পেশাজীবী। কিন্তু ব্যস্ততার মাঝে আমরা কতটা সময় দিই নিজেকে বোঝার জন্য?
আমি কী অনুভব করছি?
আমি কী চাই?
কীভাবে আমার চিন্তা, বিশ্বাস ও অভ্যাস আমার সিদ্ধান্ত ও সম্পর্ককে প্রভাবিত করছে?
Self-Awareness শুধু নিজেকে চেনা নয়; বরং নিজের অনুভূতি, প্রয়োজন, মূল্যবোধ, শক্তি ও সীমাবদ্ধতাকে বোঝা এবং নিজের প্রত্যাশিত উন্নয়নে সচেতনভাবে কাজ করা।
🌱 ৮ সপ্তাহের অভিজ্ঞতাভিত্তিক এই কর্মশালায় আমরা কাজ করব:
• নিজের অনুভূতি, প্রয়োজন ও মূল্যবোধ বোঝা
• নিজের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা চেনা
• আবেগকে সচেতনভাবে ব্যবস্থাপনা করা
• আত্মবিশ্বাস ও ভেতরের শক্তি বাড়ানো
• স্বাস্থ্যকর সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত সীমারেখা তৈরি করা
• ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে আরও সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়া
• চাপ মোকাবিলা ও নিজের সুস্থতার যত্ন নেওয়া
এই ওয়ার্কশপটি ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে নিজের প্রয়োজন প্রকাশ, সম্পর্কের ধরণ বোঝা এবং নিজের জন্য স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে এবং যোগাযোগ, মতপার্থক্য সামলানো, সীমারেখা তৈরি, নেতৃত্ব এবং সহমর্মিতার সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
এর লক্ষ্য নিখুঁত হওয়া নয় বরং নিজেকে আরও সচেতনভাবে জানা, বোঝা এবং নিজের জীবনের প্রতি আরও দায়িত্বশীল হওয়া।
🌸 নিজেকে জানুন। নিজের ভেতরের শক্তির সঙ্গে নতুন করে সংযোগ তৈরি করুন।
🌿 Self-Awareness & Wellbeing Workshop
পরিচালনায়: নাসিমা আকতার,
ট্রেইনার ও সাইকোথেরাপিস্ট, ফ্রিডম উইদিন
শুরুর তারিখ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬
🕞 বিকেল ৩:৩০ – সন্ধ্যা ৭:৩০ (প্রতি শনিবার )
📍 Dandelionz, Dhanmondi, Dhaka
💰 Workshop Fee: ৮,০০০/-
🎓 Student Fee: ৬,০০০/-
📲 রেজিস্ট্রেশন: https://forms.gle/jKyAdcpqi3KDwBkw5
যোগাযোগ:01911258616 (WhatsApp)
⏳ রেজিস্ট্রেশনের শেষ তারিখ: ১০ অক্টোবর ২০২৬
আসন সংখ্যা সীমিত।
🌿 নিজের জন্য একটু সময় রাখুন। নিজেকে জানুন। নিজেকে গড়ে তুলুন।

আমাদের জীবনে কিছু সম্পর্ক এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যে, সেসব সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য আমরা অনেক সময় নিজের প্রয়োজন, ইচ্ছা...
13/09/2026

আমাদের জীবনে কিছু সম্পর্ক এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে যে, সেসব সম্পর্ক ভালো রাখার জন্য আমরা অনেক সময় নিজের প্রয়োজন, ইচ্ছা কিংবা অনুভূতিকে অজান্তেই পিছনে সরিয়ে রাখি। ভালোবাসা, দায়িত্ববোধ কিংবা কাউকে কষ্ট না দেওয়ার চিন্তা থেকে আমরা হয়তো বারবার সম্মতি দিই, নিজের সময় দিই, নিজের সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব নিই—এমনকি কখনো কখনো এমন কিছুও মেনে নিই, যা ভেতর থেকে আমরা আসলে চাই না।

কিন্তু সুস্থ সম্পর্ক মানে শুধু অন্যের জন্য জায়গা করে দেওয়া নয়; নিজের জন্যও জায়গা রাখা।

আমাদের প্রত্যেকেরই নিজের সময়ের প্রয়োজন আছে, নিজের কিছু ব্যক্তিগত বিষয় আছে, নিজের মানসিক পরিসর আছে। সবসময় অন্যের জন্য উপস্থিত থাকা, সব অনুরোধে রাজি হওয়া বা সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া ভালোবাসার একমাত্র প্রকাশ নয়।

কখনো একটু সময় নিজের জন্য নেওয়া, কোনো বিষয়ে নিজের অস্বস্তি প্রকাশ করা কিংবা প্রয়োজন হলে “না” বলা—এসবও স্বাস্থ‌্যকর সম্পর্কের অংশ।

কারণ সীমারেখা মানে কাউকে প্রত্যাখ্যান করা নয়। বরং এটি অন্যকে জানায়—আমি তোমাকে সম্মান করি, কিন্তু আমার অনুভূতি, সময়, শক্তি এবং প্রয়োজনেরও মূল্য আছে।

যখন আমরা নিজের সীমারেখা বুঝতে এবং সম্মান করতে শিখি, তখন সম্পর্কের মধ্যে অভিমান, চাপ বা অতিরিক্ত প্রত্যাশার জায়গা কিছুটা কমে আসে। সম্পর্ক হয়ে ওঠে আরও স্বচ্ছ, ভারসাম্যপূর্ণ এবং সম্মানজনক।

তাই আজ নিজের কাছে একটু প্রশ্ন রাখি—

আমি কো‌নো সম্পর্ককে ভালো রাখার জন্য নিজের প্রয়োজনকে কি বারবার ছোট করে দেখছি? কোথায়?

নিজের যত্ন নেওয়ার প্রথম ধাপ হলো—নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজনের জায়গায় নিজের জন্য একটি সুস্থ সীমারেখা তৈরি করা।
কারণ, নিজেকে হারিয়ে কোনো সম্পর্ককে দীর্ঘদিন স্বাস্থ‌্যকর অবস্থায় চা‌লি‌য়ে নেয়া যায় না।
আর নিজের প্রতি সম্মান থেকেই শুরু হয় অন্যের প্রতি সম্মান। 💚

*সীমারেখা তৈরি করা দূরে সরে যাওয়া নয়—
এটি নিজের জন্য একটু জায়গা রাখা।*




゚viralシ

নিজের যত্ন মানে শুধু বিশ্রাম নেওয়া, ঘুরতে যাওয়া কিংবা নিজের পছন্দের কিছু করার সময় বের করা নয়। নিজের মানসিক ও আবেগীয় সুস্...
12/09/2026

নিজের যত্ন মানে শুধু বিশ্রাম নেওয়া, ঘুরতে যাওয়া কিংবা নিজের পছন্দের কিছু করার সময় বের করা নয়। নিজের মানসিক ও আবেগীয় সুস্থতার জন্য প্রয়োজন হলে সীমা নির্ধারণ করাও self-care-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেওয়া, সবার সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা কিংবা অন্যকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজের প্রয়োজনগুলোকে পিছিয়ে দেওয়া—এসব ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি তৈরি করতে পারে। তাই কখন কোথায় ‘না’ বলতে হবে, কোন দায়িত্বটি নেওয়া আমার জন্য বাস্তবসম্মত, আর কোন সম্পর্ক বা পরিবেশ আমার শান্তি নষ্ট করছে—সেগুলো বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

কখনো একটি ‘না’ হতে পারে নিজের সময় ও শক্তিকে রক্ষা করা। কখনো এটি হতে পারে অতিরিক্ত চাপ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়া। আবার কখনো এমন কোনো জায়গা থেকে বেরিয়ে আসা, যেখানে থাকতে গিয়ে নিজের মূল্যবোধ, শান্তি বা স্বকীয়তাকে হারিয়ে ফেলছি। নিজের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া স্বার্থপরতা নয়। নিজেকে সুস্থ, ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মানজনক অবস্থায় রাখার জন্য নিজের সীমা ও প্রয়োজনকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। মনে রাখুন

নিজের যত্ন কোনো বিলাসিতা নয়—
এটি নিজের প্রতি আপনার দায়িত্ব।

উদ্বেগ: সব চিন্তা সমাধান করার জন্য আসে নাউদ্বেগ আমাদের জীবনের একটি স্বাভাবিক মানসিক অভিজ্ঞতা। যখন কোনো পরিস্থিতির ফলাফল ...
11/09/2026

উদ্বেগ: সব চিন্তা সমাধান করার জন্য আসে না

উদ্বেগ আমাদের জীবনের একটি স্বাভাবিক মানসিক অভিজ্ঞতা। যখন কোনো পরিস্থিতির ফলাফল অনিশ্চিত থাকে, আমরা জানি না কী ঘটবে, কোনো বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে মনে হয়, অথবা অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয় - তখন মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক হয়ে ওঠে।
এই অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য বিপদের অনুভূতি থেকেই অনেক সময় মনে প্রশ্ন আসে; “যদি এমন হয়?” “যদি খারাপ কিছু ঘটে?.......................?”

এখানে মস্তিষ্কের amygdala গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি threat-detection ব্যবস্থার একটি অংশ, যা সম্ভাব্য বিপদের সংকেত শনাক্ত করে আমাদের সতর্ক করতে সাহায্য করে। ফলে শরীরে টান, অস্থিরতা, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া কিংবা বারবার নেতিবাচক সম্ভাবনা নিয়ে ভাবার মতো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে অনিশ্চয়তার সময়ে মস্তিষ্ক কখনো কখনো সম্ভাব্য বিপদকে এমনভাবে অনুভব করতে পারে, যেন বিপদটি এখনই ঘটছে।
অন্যদিকে, prefrontal cortex পরিস্থিতিকে বিশ্লেষণ করতে, তথ্য যাচাই করতে, বিকল্প বিবেচনা করতে এবং আবেগপ্রসূত প্রতিক্রিয়াকে ম্যানেজ করতে সাহায্য করে। সহজভাবে বলা যায় -
Amygdala: “সতর্ক হও, কিছু একটা ভুল হতে পারে।”
Prefrontal cortex: “একটু থামি, আসলেই কি এখন কোনো বিপদ আছে?”

এই দুই ব্যবস্থার সমন্বয় আমাদের নিরাপদ থাকতে সাহায্য করে। তাই উদ্বেগ সবসময় খারাপ নয়। একটি সহনীয় বা মাঝারি মাত্রার উদ্বেগ আমাদের প্রস্তুত হতে, সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করতে, গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দিতে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সাহায্য করতে পারে।

সমস্যা তখনই শুরু হতে পারে, যখন উদ্বেগ অতিরিক্ত, দীর্ঘস্থায়ী বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তখন মস্তিষ্ক সম্ভাব্য প্রতিটি নেতিবাচক পরিস্থিতিকে threat হিসেবে বিবেচনা করতে পারে এবং আমরা বাস্তব সমস্যার চেয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়তে পারি।

তখন একটু থেমে নিজেকে প্রশ্ন করা গুরুত্বপূর্ণ:
“এটি কি বাস্তব কোনো সমস্যা, নাকি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নিয়ে আমার ভয়?”
এই প্রশ্নটি আমাদের চিন্তা থেকে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করতে এবং চিন্তা ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য করতে সাহায্য করতে পারে।

মনে রাখা দরকার, উদ্বেগ মানেই দুর্বলতা নয়। অনেক সময় এটি আমাদের মস্তিষ্কের নিরাপদ থাকার চেষ্টা। কিন্তু নিরাপদ থাকার এই প্রক্রিয়া যেন আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করতে না শুরু করে, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

মনে রাখুন -
Every thought is not a fact.
প্রতিটি চিন্তা সত্য নয়, প্রতিটি সম্ভাবনা বিপদ নয়, এবং প্রতিটি চিন্তার উত্তর খুঁজে বের করাও জরুরি নয়।
কখনো কখনো সবচেয়ে প্রয়োজনীয় কাজ হলো—থামা, শ্বাস নেওয়া, চিন্তাটিকে লক্ষ্য করা এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করা: “এখন, এই মুহূর্তে, আমি কি সত্যিই নিরাপদ?”

#মনোরোগসচেতনতা #মানসিকস্বাস্থ্য #উদ্বেগ #উদ্বেগসচেতনতা #মানসিকসুস্থতা #নিজেকেবুঝুন #ভালোথাকুন

10/09/2026

#আত্মহত্যাপ্রতিরোধ #মানসিকস্বাস্থ্য

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে এই আহ্বান, আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা নেই এবং অন্যদের জন্য সহযোগিতা হাত...
09/09/2026

বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসে এই আহ্বান, আমরা প্রত্যেকে যার যার অবস্থান থেকে সহযোগিতা নেই এবং অন্যদের জন্য সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দিই।
#মানসিকস্বাস্থ্য #আত্মহত্যাপ্রতিরোধ #মানসিকসুস্থতা #সহমর্মিতা

                 #মানসিকস্বাস্থ্য  #নিজেকেবুঝুন  #একটুথামুন
07/09/2026

#মানসিকস্বাস্থ্য #নিজেকেবুঝুন #একটুথামুন

আরিফের অদৃশ্য গল্পনিজেকে বোঝা, বদলানো এবং নিজের নতুন গল্প লেখার যাত্রাপর্ব ২ আ‌রিফ সবসময় ভালো হতে চেয়েছিল, ছোটবেলায় খ...
06/09/2026

আরিফের অদৃশ্য গল্প
নিজেকে বোঝা, বদলানো এবং নিজের নতুন গল্প লেখার যাত্রা

পর্ব ২
আ‌রিফ সবসময় ভালো হতে চেয়েছিল, ছোটবেলায় খুব সাধারণ একটি ছেলে ছিল।
সে খেলতে ভালোবাসত।
গল্প শুনতে ভালোবাসত।
কখনো ছবি আঁকত।
কখনো নিজের মতো করে কিছু বানাত।
কিন্তু ধীরে ধীরে সে একটি বিষয় শিখে গেল—
ভালোবাসা পাওয়ার জন্য তাকে ভালো করতে হবে।
আরিফের বাবা তাকে খুব ভালোবাসতেন।
কিন্তু বাবার ভালোবাসার প্রকাশ ছিল কঠিন।
বাবা বলতেন, "জীবনে বড় হতে হলে কঠিন হতে হবে।" "ভুল করলে চলবে না।" "মানুষ তোমাকে সম্মান করবে তোমার সাফল্যের জন্য।"-
এই কথাগুলো হয়তো বাবার উদ্দেশ্য খারাপ ছিল না। তিনি চেয়েছিলেন ছেলে সফল হোক।
কিন্তু ছোট্ট আরিফের মনে কথাগুলো অন্যভাবে জমা হতে লাগল।
একদিন স্কুলে আরিফ পরীক্ষায় কম নম্বর পেল।
সে ভয়ে ভয়ে বাড়ি ফিরল।
সে ভেবেছিল—
"বাবা রাগ করবেন।"
বাবা হয়তো কিছু কঠিন কথা বলেছিলেন।
ঘটনাটি কয়েক মিনিটের ছিল।
কিন্তু ছোট্ট আরিফের মনে একটি বড় সিদ্ধান্ত তৈরি হলো—
"আমাকে সবসময় ভালো করতে হবে, নাহলে আমি যথেষ্ট ভালো নই।"

বছর কেটে গেল।
আরিফ বড় হলো।
সে ভালো চাকরি পেল।
পরিবার করল।
অনেক দায়িত্ব নিল।
কিন্তু তার ভেতরের সেই ছোট্ট ছেলেটি বড় হ‌য়েও মাঝে মাঝে ভয় পেত।
যখন বস তার কাজের ভুল ধরতেন,
তার মনে হতো—
"আমি ব্যর্থ।"
যখন কেউ তার সমালোচনা করত,
তার ভেতরে পুরোনো কণ্ঠটি জেগে উঠত—
"তুমি যথেষ্ট ভালো নও।"

আমরা কি সত্যিই অতীতকে পেছনে ফেলে আসি?
আমরা প্রায়ই বলি—
"ওগুলো তো ছোটবেলার কথা।"
"এখন তো আমি বড় হয়েছি।"
কিন্তু মানুষের মন এমনভাবে কাজ করে না।
শৈশব শুধু আমাদের স্মৃতিতে থাকে না।
শৈশব আমাদের—
• নিজের সম্পর্কে ধারণায়,
• সম্পর্কের ধরনে,
• ভয়ের জায়গায়,
• ভালোবাসা গ্রহণ করার ক্ষমতায়,
• নিজের সঙ্গে কথা বলার ভঙ্গিতে বেঁচে থাকে।

ছোটবেলার কথাগুলো কোথায় যায়?
ধরুন, একটি শিশুকে বারবার বলা হলো—
"তুমি কিছু ঠিকমতো পারো না।"
সে হয়তো বড় হয়ে সফল মানুষ হবে।
কিন্তু কোনো ভুল হলে তার ভেতরে একটি কণ্ঠ বলতে পারে—
"দেখলে? তুমি আবার ব্যর্থ হলে।"
এই কণ্ঠটি বর্তমানের নয়।
এটি অনেক বছর আগে শেখা একটি কণ্ঠ।

আবার একটি শিশুকে যদি বলা হয়—
"তোমার অনুভূতির মূল্য আছে।"
"ভুল করা শেখার অংশ।"
"তুমি যেমন, তেমনই মূল্যবান।"
তাহলে বড় হয়ে তার ভেতরে নিজের প্রতি একটি সহানুভূতিশীল কণ্ঠ তৈরি হতে পারে।

আমাদের ভেতরে আসলে কী বেঁচে থাকে?
আমাদের শৈশবের তিনটি জিনিস অনেক সময় সঙ্গে থেকে যায়:
১. পুরোনো বিশ্বাস
"আমি কি যথেষ্ট?"
"আমি কি ভালোবাসার যোগ্য?"
"আমি কি নিরাপদ?"

২. পুরোনো অনুভূতি
কিছু পরিস্থিতিতে আজকের মানুষটি হঠাৎ ছোট শিশুর মতো অনুভব করতে পারে।
যেমন—
• সমালোচনা শুনলে ভেঙে পড়া
• প্রত্যাখ্যানে অতিরিক্ত কষ্ট পাওয়া
• ভালোবাসা পেলেও বিশ্বাস করতে না পারা

৩. পুরোনো প্রতিক্রিয়া
কখনো আমরা বর্তমানের মানুষ হিসেবে নয়,
পুরোনো অভিজ্ঞতার আলোকে প্রতিক্রিয়া করি।

তাহ‌লে, শৈশবের অভিজ্ঞতা মস্তিষ্কে কীভাবে কাজ করে?
শৈশবের কিছু অভিজ্ঞতা এত বছর পরেও আমাদের আচরণে প্রভাব ফেলে কীভাবে?
এর একটি কারণ হলো আমাদের মস্তিষ্ক শেখার মাধ্যমে নিজেকে গড়ে তোলে। শৈশবে কোনো ঘটনা বারবার ঘটলে, কিংবা কোনো অনুভূতি বারবার তৈরি হলে, মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু pattern বা মানসিক পথ তৈরি করে।
যেমন, একটি শিশু যদি বারবার সমালোচনার মুখোমুখি হয়, তার মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে সমালোচনাকে শুধু একটি কথা হিসেবে নয়, বরং “বিপদ”, “আমি যথেষ্ট নই” বা “আমাকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে”—এ ধরনের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করতে পারে।
ফলে অনেক বছর পরও একই ধরনের পরিস্থিতি এলে মস্তিষ্ক খুব দ্রুত সেই পুরোনো pattern সক্রিয় করতে পারে।
তখন বর্তমানের ঘটনাটি হয়তো ছোট, কিন্তু আমাদের প্রতিক্রিয়া হতে পারে অনেক বড়। কারণ আমরা শুধু আজকের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া করছি না; কখনো কখনো আমাদের মস্তিষ্ক পুরোনো শেখা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেও পরিস্থিতিকে বুঝতে চেষ্টা করছে।
এ কারণেই একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ অ‌নেক সময় বসের সামান্য সমালোচনায় অস্বাভাবিকভাবে ভেঙে পড়তে পারেন, প্রত্যাখ্যানকে খুব গভীরভাবে অনুভব করতে পারেন, অথবা ভুল করলেই নিজের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন।
তবে এর অর্থ এই নয় যে - “শৈশব আমাকে এমনই বানিয়ে দিয়েছে, তাই আমি আর বদলাতে পারব না।”
বরং মস্তিষ্কের একটি আশাব্যঞ্জক বৈশিষ্ট্য হলো Neuroplasticity। অর্থাৎ, অভিজ্ঞতা, শেখা, সচেতনতা ও নতুন ধরনের অনুশীলনের মাধ্যমে মস্তিষ্ক নতুন সংযোগ ও নতুন প্রতিক্রিয়ার পথ তৈরি করতে পারে।
তাই পুরোনো কণ্ঠস্বরকে আমরা সবসময় মুছে ফেলতে না পারলেও, তার সঙ্গে নতুন একটি কণ্ঠস্বর তৈরি করতে পারি।
পুরোনো কণ্ঠ বলছে -“তুমি ভুল করেছ। তুমি যথেষ্ট ভালো নও।”
আর আজকের সচেতন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষটি বলতে শিখতে পারে -“আমি ভুল করেছি, কিন্তু তাই বলে আমি ব্যর্থ নএখন থেকে আমি সচেতনভাবে নতুনভাবে সঠিক কাজটি অনুশীলন করতে পারি। ”
এটাই পরিবর্তনের শুরু। অতীত আমাদের মস্তিষ্কে কিছু ছাপ রেখে যেতে পারে। কিন্তু সেই ছাপ আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতেই হবে এমন নয়।

________________________________________

আমরা অনেক সময় নিজের আচরণ দেখে বলি—
"আমি এত রাগী কেন?"
"আমি এত ভীত কেন?"
"আমি এত বেশি চিন্তা করি কেন?"
নিজেকে বোঝার একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দি‌য়ে
প্রশ্নটি একটু বদলে দেখুন:
"আমার এই অংশটি কী বলতে চাইছে?"
কারণ প্রতিটি আচরণের পেছনে কোনো না কোনো গল্প থাকে।
________________________________________
আরিফের জীবনে পরিবর্তনের শুরু এখা‌নে;
একদিন আরিফ তার পুরোনো স্কুলের সামনে দাঁড়িয়েছিল।
হঠাৎ তার মনে হলো, "আমি এত বছর ধরে যে ছেলেটিকে নিয়ে লড়াই করছি, সে আসলে আমার শত্রু নয়।"
সে বুঝল, তার ভেতরের সেই ছোট্ট আরিফ শুধু চেয়েছিল:
• গ্রহণযোগ্য হতে
• ভালোবাসা পেতে
• নিরাপদ বোধ করতে
________________________________________
নিজের জন্য একটু থামুন
আজ নিজেকে জিজ্ঞেস করুন:
১.
ছোটবেলায় আমি কোন কথাগুলো বেশি শুনতাম?
২.
সেই কথাগুলোর কোনোটি কি আজও আমি নিজেকে বলি?
৩.
আমার ছোটবেলার "আমি" আজ আমার কাছ থেকে কী শুনতে চায়?
________________________________________

চোখ বন্ধ করুন এবং একটি ছোট অনুশীলন করুন:
নিজেকে ছোটবেলায় কল্পনা করুন।
আপনার সামনে দাঁড়িয়ে আছে ৮–১০ বছরের আপনি।
তাকে শুধু একটি কথা বলুন—
"তুমি একা নও। আমি এখন তোমার পাশে আছি।"
________________________________________
আমরা কেউই শুধু বর্তমানের মানুষ নই।
আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকে—
একটি শিশু,
কিছু স্বপ্ন,
কিছু অভিমান,
কিছু না বলা কথা,
এবং অনেক ভালোবাসার প্রয়োজন।
নিজেকে পরিবর্তন করতে হলে আগে সেই শিশুটিকে বুঝতে হয়।
কারণ—
যে নিজের অতীতকে ভালোবাসার সঙ্গে গ্রহণ করতে পারে, সে-ই নিজের ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে তৈরি করতে পারে।

শৈশব বেঁচে থাকে আমাদেরই মধ্যে
(The child we were still lives within us)

________________________________________
পরবর্তী পর্বে: আমাদের জীবনের অদৃশ্য স্ক্রিপ্ট কীভাবে অজান্তে শেখা কিছু বিশ্বাস আমাদের সিদ্ধান্ত ও জীবনপথকে পরিচালনা করে।

- না‌সিমা আকতার, সাইকো‌থেরা‌পিস্ট
Nasima Akter

















#শৈশব
#নিজেকেজানা

     #স্বাস্থ্যকরআচরণ  #স্বাস্থ্যকরঅভ্যাস  #অভ্যাসপরিবর্তন  #সুস্থজীবন
04/09/2026

#স্বাস্থ্যকরআচরণ #স্বাস্থ্যকরঅভ্যাস #অভ্যাসপরিবর্তন #সুস্থজীবন

Address

13/14, Salimullah Road, Mohammadpur
Dhaka
1207

Opening Hours

Monday 11:00 - 20:30
Tuesday 11:00 - 20:30
Wednesday 11:00 - 20:30
Thursday 11:00 - 20:30
Friday 14:00 - 20:30
Saturday 14:00 - 20:30
Sunday 11:00 - 20:30

Telephone

+8801717022205

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Freedom Within posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Freedom Within:

Shortcuts

Share