15/06/2026
প্রত্যেক মৃত্যুই কষ্টের। যার যায় সেই বুঝে। এটা ডাক্তাররাও বুঝেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত পরশু রাতে ৩:৩৫ মিনিটে একজন মহিলা দুইদিনের বুকে ব্যথা এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে ইমার্জেন্সিতে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে দেখে দ্রুত CCU-তে পাঠান এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ আনতে রোগীর ছেলেকে বাইরে পাঠানো হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওষুধ আনতে আনতে রোগী মৃত্যু বরণ করেন।
রোগী খুব ক্রিটিক্যাল ছিল। এখানে ডাক্তারের চিকিৎসায় তো কোন অবহেলা ছিলনা।
দুই দিন ধরে বুকের ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর উপসর্গ নিয়ে রোগীকে বাসায় বসিয়ে রাখা হয়েছিল—এর দায় কার? একজন সম্ভাব্য হার্ট অ্যাটাকের রোগীকে সংকটজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর যদি তাকে বাঁচানোর জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ হাসপাতালে না থাকে, গত ৪ মাস ধরে যার সরবরাহ নেই—সেই ব্যবস্থাগত ব্যর্থতার দায় কি চিকিৎসকের?
আপনারা যদি ডাক্তারের উপর হামলাকারী রোগীর সন্ত্রাসী স্বজনদের পক্ষ নেন তাহলে এই দেশে ডাক্তাররা ঠিকমত চিকিৎসা দিতে পারবেনা। যেহেতু দেশে কোন বিচার নাই এবং এইসব গুন্ডাদের পক্ষ নেয়া আবালের ও অভাব নাই, এদের শায়েস্তা করবে কে? কান না ধরিয়ে এর হাড্ডি গুঁড়া করা উচিত ছিল।
আর ডাক্তাররা লাশ আটকে রাখেনি। চিকিৎসকসহ লোকজন জড়ো হওয়াতে তারাই লাশ ফেলে চলে যায়।
এখন, ডাক্তারের গায়ে হাত তোলা সেই লোককে কানে ধরানো দেখে আপনাদের দরদ উথলে পড়ছে। অন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সেইম ঘটনা গহটলে একবার ভাবুন তো কি হত। গণপিটুনি খেয়ে হয়তো লোকটা জানে বাচতেই পারত না। সেখানে সভ্য ডাক্তার সমাজ তাদের ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে। দিনের পর দিন এইসব হামলার ঘটনা ঘটছে, আপনার সুশীল নামধারী গার্বেজেরা মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছেন।
আপনারা তো কখনো প্রশ্ন তোলেন না, ৫০০ রোগীর হাস্পাতালে কেন ৩০০০ রোগী ভর্তি থাকে? কেন ১৫ বছর ধরে সুইপারসহ ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের স্থায়ী নিয়োগ বন্ধ?
এই যে সুশীলগন, আপনারা যে হামলাকারী গুন্ডাদের পক্ষ নিয়ে ডাক্তারদের জনগনের প্রতিপক্ষ বানাচ্ছেন, এর ফলাফল হবে সুদুরপ্রসারি। কোন ডাক্তার রিস্ক নিয়ে আপনার ক্রিটিক্যাল রোগীর চিকিৎসা করবেনা, রেফার করে দিবে অন্যত্র।
(ফাহিম মুন্তাসির,এমবিবিএস ৪র্থ বর্ষ, রংপুর মেডিকেল কলেজ এর লেখা অবলম্বনে)