01/05/2026
আমি মাদকাসক্তি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র।।
ভর্তির নিয়মাবলী
০১. চিকিৎসার মেয়াদ কতদিন ?
কেন্দ্রে চিকিৎসার মেয়াদকাল কমপক্ষে ৪ মাস, । বিভিন্ন গবেষনার ফলাফল ও অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় যে, স্বল্পমেয়াদী চিকিৎসায় রিল্যাপ্স বা পুনঃ আসক্তির সংখ্যা অনেক বেশি ঘটে থাকে। বিধায় বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের কথা বিবেচনা করে আমি মাদকাসক্তি ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের উপরোক্ত চিকিৎসার মেয়াদ নির্ধারণ করেছে।
০২. ভর্তির নিয়মাবলী কি কি ?
যে কোন ধর্ম, বর্ণ বা গোত্রের সকল ধরনের মাদক নির্ভরশীল ও মানসিক রোগীরা ( পুরুষ) এই কেন্দ্রে ভর্তি হতে পারে। তবে ভর্তি ইচ্ছুক ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের সেন্টারের নিয়ম-কানুন মেনে চলা ও মেয়াদকাল ( কেন্দ্রে ৪ মাস,) উত্তীর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ব্যক্তিকে সেন্টারে রাখার সম্মতি থাকতে হবে। রোগী ভর্তির ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক অর্থাৎ ১৮ থেকে ভর্তি করাতে পাবে।
০৩. কিভাবে চিকিৎসা করা হয় ?
ভর্তি হবার পরে প্রথম ১৪ দিন মাদক প্রত্যাহার জনিত উপসর্গ উপশমের জন্য চিকিৎসা দেয়া হয় যাকে নির্বিষকরন বা ডিটক্সিফিকেশন বলা হয়। রোগীর মাদক ব্যবহার সম্পর্কিত ইতিহাস জেনে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এসময় রোগীকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে বিশ্রামের উপযোগী পরিবেশে রাখা হয়। এছাড়া জরুরী স্বাস্থ্য সেবার জন্য হাসপাতালে বা ক্লিনিকে পাঠানো হয়।
০৪. চিকিৎসার ব্যয় কত ?
আমি মাদকাসক্তি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে প্রতি মাসের চিকিৎসা ফি , নন এসি(প্রতি মাস ১২হাজার ৪ মাসের প্যাকেজ ৪৮ হাজার) এসি কেবিন (প্রতি মাস ৩০ হাজার) শুধুমাত্র এসি কেবিনে এক মাসের রুগি ভর্তি নেয়া হয় । এছাড়া অন্যান্য খরচ যেমনঃ ডায়গনেস্টিক, রোগীর ব্যবহৃত বস্ত্র, সাবান, পেষ্ট ইত্যাদি সকল ব্যবহার্য জিনিষ, ঔষধপত্র বিশেষ কোন চিকিৎসার জন্য (যেমনঃ মনোরোগ বিশেষজ্ঞ দেখানো) ক্লিনিক বা হাসপাতালের খরচ অভিভাবককে বহন করতে হবে। ভর্তির সময় ১ মাসের ফি অগ্রিম গ্রহণ করা হয়।
০৫. এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন ?
মাদক নির্ভরশীলদের চিকিৎসার বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা রয়েছে। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে কেন্দ্রের সার্বক্ষনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ও অন্য যেকোন জরুরি অবস্থার জন্য সার্বক্ষনিক পর্যাপ্ত স্টাফসহ গার্ড রয়েছে।
০৬. মেয়াদ উত্তীর্ণ হবার আগে বাড়িতে যাবার কোন সুযোগ আছে কিনা ?
আমি আসক্তি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রে ৪ মাস পূর্ণ হবার পূর্বে রিলিজের কোন সুযোগ নেই। বিশেষ মানবিক বিষয় যেমন নিকট আত্মীয়র মৃত্যু বা চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল প্রেরন ইত্যাদি বিষয়ে ছাড় দেয়া হয়। যদি কেউ মেয়াদ পূর্ণ হবার আগেই চলে যেতে চায় তবে সেক্ষেত্রে রুগির অভিবাবককে সম্পূর্ণ কোর্স ফি বাবদ ৪ মাসের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হবে।
০৭. মানসিক চিকিৎসার জন্য কি সেবা রয়েছে ?
যাদের মাদক ব্যবহার করার ফলে মানসিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে তারা এখানে ভর্তি হতে পারবে৷ এখানে মনো-চিকিৎসক রয়েছেন৷ তিনি প্রয়োজন অনুসারে মানসিক বা মনোচিকিৎসা দিয়ে থাকেন৷ এছাড়া অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, বিশেষজ্ঞ মনোরোগ চিকিৎসক, চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী ও মাদক নির্ভরশীল বিষয়ক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রাপ্ত অভিজ্ঞ কাউন্সেলর দ্বারা পরিচালিত ।
০৮ . পরিবারের সদস্যদের জন্য কোন কর্মসূচী রয়েছে ?
মাদক নির্ভরশীলদের চিকিৎসায় পরিবারের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ। আর বেশিরভাগ রোগীর মাদক নেয়ার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় অনেক মাদক নির্ভরশীল ব্যক্তির পরিবারে বিচ্ছেদ, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা ও সম্পর্কের জটিলতা রয়েছে। তাই চিকিৎসা চলাকালীর সময় ও চিকিৎসা পরবর্তী পরিচর্যা ও ফলোআপের জন্য পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে পরিবারের সদস্যদের জন্য মাদক নির্ভরশীল চিকিৎসা সম্পর্কিত ধারণা, রোগীদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ ও সহায়তার জন্য নিয়মিত পারিবারিক সভার আয়োজন করা হয়। এছাড়া পারিবারিক কাউন্সেলিং সেবা দেয়া হয়। আর পরিবারের সাথে ব্যক্তির দেখা করার দিন অর্থাৎ ফ্যামিলি ভিজিটিং ডে-এর ব্যবস্থা রয়েছে। রোগীর পরিবারের সদস্যদের ফ্যামিলি ডে প্রতি শুক্রবার। এছাড়া পরিবারের সদস্যরা কেন্দ্রের স্টাফদের কাছ থেকে ফোনের মাধ্যমে রোগীর সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোজ-খবর নিতে পারে।
০৯ . বিনোদনের জন্য কি ব্যবস্থা রয়েছে ?
মাদক নির্ভরশীলতা একটি মনোদৈহিক রোগ। কেন্দ্রে রোগীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা সর্বপরি বিকাশ লাভের জন্য পর্যাপ্ত খেলাধুলা ও বিনোদনের ব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রে ইনডোর বিনোদনের ব্যবস্থা আছে। ইনডোর বিনোদনের জন্য দাবা লুডু ও ক্যারাম , লাইভ গানের সাউন্ড সিস্টেম রয়েছে। সাপ্তাহিক ও মাসিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া কেন্দ্রে বইপড়া, টিভি দেখার ব্যবস্থা রয়েছে এবং সপ্তাহে একদিন শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা হয়। বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন ছাড়াও বার্ষিক ক্রীড়া ও পিকনিকের আয়োজন করা হয়ে থাকে।
করা হয়ে থাকে।
১০ . চিকিৎসা পরবর্তী পরিচর্যা ও পুনঃ আসক্তি প্রতিরোধে কি ব্যবস্থা রয়েছে ?
পূর্ণমেয়াদ চিকিৎসার পর ফলোআপের ব্যবস্থা রয়েছে। পরবর্তী পরিচর্যার জন্য কেন্দ্রে নারকোটিকস এনোনিমাস (এন.এ) প্রোগ্রাম আছে। এছাড়া কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রাখা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য তাদের উৎসাহ দেয়া হয়। চিকিৎসার পর এখানে রোগীরা বিভিন্ন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করে সেল্প-হেল্প গ্রুপ গঠন করতে পারে। সুস্থতার বর্ষপূর্তি উদযাপনে অংশগ্রহণ করা।
১১ . রুগীদের জন্য আলাদা রুম বা কেবিন রয়েছে কি না ?
তিন সিটের কেবিন ও চার জনের সিটের রুম আছে। প্রতিটি রুম ব্যালকনি ও এটাস্ট বাথরুম আছে। সিঙ্গেল কোন সিট নাই।
১২ . কতবার খাবার পরিবেশন করা হয় ?
সাধারনভাবে সকালের নাস্তা, দুপুরেরর খাবার ও রাতের খাবার দেয়া হয়৷ এর সাথে সকালে ও বিকেলে চা-নাস্তা দেয়া হয়৷ রুগীদের পুষ্টিগত দিক লক্ষ্য রেখে উন্নতমানের খাবার দেয়া হয়।।।
১৩ . পরিবারের সদস্যরা কি রুগীর সাথে দেখা করতে পারে ?
ভর্তির দুই মাস পর থেকে পরিবারের সদস্যরা কেন্দ্র কর্তৃক নির্ধারিত দিনে- প্রতি শুক্রবার এবং শনিবার রোগীর সাথে দেখা করতে পারবেন।
১৩ . চিকিৎসাকালীন সময়ে রুগীকে কি বাইরে নেয়া যাবে ?
রুগীকে বাইরে নেয়ার কোন সুযোগ নেই৷ তবে জরুরী কোন বিষয়ে লিখিত অনুমতির মাধ্যমে শুধুমাত্র অভিভাবক নিতে পারবেন এবং নিদিষ্ট সময় পর পুনরায় সেন্টারে দিয়ে যেতে হবে ৷ কিন্তু রোগী সেন্টারের বাইরে নেয়ার পূর্বে সকল অর্থ পরিশোধ করতে হবে৷
১৪ . পুনর্বাসনের জন্য কোন চাকুরির সুযোগ রয়েছে কি ?
চিকিৎসা পরবর্তী সময়ে রুগীর শারিরীক ও মানসিক, শিক্ষাগত যোগ্যতা, চাকুরী করার মানসিকতার কথা বিবেচনা করে সুযোগ প্রদান করা হয়৷
১৫ . বাইরে থেকে রুগীকে খাবার দেয়া যাবে কি না ?
বাইরে থেকে খাবার দেয়া যাবে উৎসব বা বিশেষ আয়োজনে কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে শুধু একজনের জন্য খাবার দেয়া যাবে। এছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কেন্দ্রের সবার জন্য খাবার দিতে পারবেন।
১৬ . কেউ অসুস্থ হলে তার জন্য কি আলাদা খাবার দেয়া হয় ?
কেউ অসুস্থ থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ খাবার দেয়া হয়৷
১৭ . রুগীর ফলোআপের সময় কতদিন ?
সাধারনত সেন্টারে ২ মাস ফলোআপ করা হয়৷ কারো কারো জন্য এটা বেশীও হতে পারে৷
১৮ . কি ধরনের চিকিৎসা দেয়া হয় ?
মাদক নির্ভরশীলতার চিকিৎসা একটি জটিল, দীর্ঘ মেয়াদী ও সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় মাদক নির্ভরশীলতা অনিরাময়যোগ্য রোগ৷ কিন্তু চিকিৎসার পরবর্তী পরামর্শ অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপন করলে মাদকমুক্ত থাকা সম্ভব।রুগীকে প্রথম ১৪ দিন ডিটক্সিফিকেশন করার পর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় নেয়া হয়৷ এখানে থেরাপিউটিক কমিউনিটি, নারকোটিকস্ এনোনিমাসের ১২ ধাপ ও মনোসামাজিক শিক্ষা এবং কাউন্সেলিং ও গ্রুপ থেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা চলে৷
১৯ . ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাউকে ভর্তি করা হয় ?
বেশিরভাগ রোগীর ভর্তির ইচ্ছা প্রাথমিকভাবে থাকে না। রোগীর অভিভাবক যদি সম্মত থাকেন ৪ মাসের জন্য তাকে বাড়ি থেকে আমাদের উদ্ধার টিম তাকে কেন্দ্র পর্যন্ত আনতে সহায়তা করে সেক্ষেত্রে বাড়ি থেকে আনার গারি ভারা অভিবাবক বহন করবে। উদ্ধার করতে গিয়ে কোনো প্রকার ক্ষয়ক্ষতি হলে বা কোনো আইনি সমস্যার সম্মুখীন হলে সেটার দায়িত্ব অভিভাবক গ্রহন করবে।।
২০ . সেন্টারে রোগীদেরকে সিগারেট দেয়া হয় ?
আমাদের কেন্দ্রে প্রতিদিন একজন রুগিকে ৪ টি সিগারেট দেয়া হয় অভিবাবক আপত্তি প্রকাশ করলে বন্ধ রাখা হয় । রোগীদেরকে কেন্দ্রে কোন ধরনের মাদক বা অবৈধ পন্য সরবরাহ করা হয় না।
২১ . রোগী কি ধরনের মাদক নেয় এটা পরীক্ষা করার কোন ব্যবস্থা আছে কি ?
রোগীর কি ধরনের মাদক এর সমস্যা আছে সেই বিষয় জানার জন্য ডোপ টেস্ট এর ব্যবস্থা আছে। এক্ষেত্রে ডোপ টেস্টের ফি ১০০০ টাকা দিতে হয়। অভিভাবক চাইলে রোগী ভর্তির পর ডোপ টেস্ট করা হয়। তবে উল্লেখ্য যে একটি নির্দ্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি রোগী মাদক নিয়ে থাকে তবেই ডোপ টেস্টে এর পরীক্ষায় রিপোর্টে পজেটিভ আসে না হলে নেগেটিভ আসতে পারে।
২২ . চিকিৎসা কেন্দ্রটির অবস্থান ও ঠিকানা।
আমি মাদকাসক্তি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র।
১৮/২ বকশিবাজার চাঙ্খারপুল ঢাকা।
মোবাইল :০১৭৫৪১২০৬২০,
০১৯৩০২০৩৮২৩.