25/04/2026
#জন্মগত জরায়ুর অসঙ্গতি :
ভ্রূণাবস্থায় মুলেরিয়ান নালী (Mullerian ducts) ঠিকমতো মিলিত না হওয়ার কারণে সৃষ্ট জরায়ুর গঠনগত অস্বাভাবিকতা ।
এটি সাধারণত নারীদের বন্ধ্যাত্ব, বারবার গর্ভপাত, অকাল প্রসব বা ঋতুস্রাবের সমস্যার কারণ হতে পারে।
সাধারণ প্রকারের মধ্যে রয়েছে:
১/ দ্বিকর্ণ (Bicornuate)।
২/সেপ্টেট (Septate)।
৩/ডাবল জরায়ু (Didelphys)।
জন্মগত জরায়ুর অসঙ্গতির মূল বিষয়সমূহ:
মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায় মেয়ে শিশুর জরায়ু দুটি আলাদা অংশ হিসেবে গঠিত হয়, যা পরে মিশে একটি জরায়ু তৈরি করে। এই প্রক্রিয়ায় ত্রুটি হলে অসঙ্গতি দেখা দেয়।
প্রকারভেদ:
*সেপ্টেট জরায়ু (Septate): জরায়ুর মাঝখানে একটি দেয়াল বা পর্দা থাকে (সবচেয়ে সাধারণ)।
*বাইকর্নুট বা দ্বিকর্ণ জরায়ু (Bicornuate): জরায়ুর উপরিভাগ হৃদপিণ্ডের মতো আকৃতির (দুটি শিং বিশিষ্ট)।
*ডিডেলফিস জরায়ু (Uterus Didelphys): দুটি সম্পূর্ণ আলাদা জরায়ু এবং কখনো দুটি জরায়ুমুখ (Cervix) থাকে।
*ইউনিকর্নুয়েট জরায়ু (Unicornuate): জরায়ুর একটি মাত্র অংশ বা শিং গঠিত হয়।
*অ্যাজেনেসিস বা অ্যাপ্লাসিয়া: জরায়ু তৈরিই হয় না।
লক্ষণ:
অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে কারো ক্ষেত্রে তীব্র মাসিক ব্যথা (dysmenorrhea), বন্ধ্যাত্ব, বা বারবার গর্ভপাত হতে পারে।
রোগ নির্ণয়:
আল্ট্রাসাউন্ড, ৩ডি আল্ট্রাসাউন্ড, MRI বা হিস্টেরোসালপিনোগোগ্রাফি (HSG) পরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হওয়া যায়।
চিকিৎসা: সবসময় চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে গর্ভধারণে সমস্যা হলে হিস্টেরোস্কোপিক সার্জারির (Hysteroscopic surgery) মাধ্যমে পর্দা বা দেয়াল অপসারণ করা যেতে পারে।