16/08/2026
বিয়ের পর অনেকেই তাড়াহুড়া করে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই বুঝতে পারেন না, আসলে কোন সময়টায় গর্ভধারণের সুযোগ সবচেয়ে বেশি থাকে, আর কতদিন পর্যন্ত প্রাকৃতিকভাবে চেষ্টা করা উচিত।
যদি মেয়েদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে হয় এবং দম্পতির কারো কোনো জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকে, সাধারণত ছয় মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত নিয়মিত ও সুরক্ষাহীন দাম্পত্য জীবনের মাধ্যমেই গর্ভধারণ সম্ভব হওয়ার কথা। বিশেষ করে ওভ্যুলেশনের সময় সম্পর্ক স্থাপন করলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
কিন্তু এক বছরের বেশি চেষ্টা করেও যদি ফল না আসে, তাহলে দেরি না করে একজন ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া দরকার। আর যাদের বয়স ৩৫ পার হয়ে গেছে, তাদের জন্য অপেক্ষার সময় আরও কম—মাত্র ছয় মাস বা তার কম চেষ্টা করেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। সব থেকে ভালো হয় যদি প্রফেশনাল এর পরামর্শ নিয়েই শুরু করেন।
কারো যদি পলিসিস্টিক ওভারি (PCOS), এন্ডোমেট্রিওসিস, ফাইব্রয়েডের মতো সমস্যা থাকে, কিংবা পার্টনারের স্পার্ম কাউন্ট কম হয়, অথবা একাধিকবার গর্ভপাতের/মিসক্যারেজ অভিজ্ঞতা থাকে, তাহলে শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়া ভালো।একজন ভালো ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিষ্ট এর পরামর্শ নেয়া। মনে রাখতে হবে, ডাক্তার/নিউট্রিশনিষ্ট দেখানো মানেই যে অনেক টাকার চিকিৎসা নিতে হবে তা কিন্ত্য নয়—বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিছু বেইসিক টেস্ট আর লাইফস্টাইল পরিবর্তনই সমাধান এনে দেয়।
আরেকটা বড় বিষয় হলো খাবার। আমরা অনেক সময় বুঝিই না আমাদের প্লেটে থাকা কিছু সাধারণ খাবার ফার্টিলিটি বাড়াতে দারুণ কাজ করে। যারা দ্রুত কনসিভ করতে চান, তাদের ডায়েটে কিছু স্পেশাল ফুড রাখা জরুরি –
ডিম – প্রতিদিন ২–৩টা, হাঁসের ডিম হলে সবচেয়ে ভালো। এতে ফার্টিলিটি’র জন্য দরকারি প্রায় সব নিউট্রিয়েন্ট থাকে।
ইলিশ মাছ – ভিটামিন ডি, কে আর ডিএইচএ এর দারুণ সোর্স, এক কথায় বাংলার স্যামন।
শাকসবজি – পালং, সরিষা, ব্রকোলি, বাঁধাকপি; প্রতিদিন অন্তত ২০০ গ্রাম খেতে হবে।
গরুর মাংস ও কলিজা – গ্রাস-ফেড গরু হলে নিউট্রিয়েন্ট বেশি থাকে এবং হরমোন ব্যালান্সে সাহায্য করে।
নারকেল – মিডিয়াম চেইন ফ্যাটি এসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, ফার্টিলিটি বুস্ট করে। নারকেলের বদলে এভোকাডো খাওয়া যাবে।
কিনোয়া – ডি-কাইরো ইনোসিটল এর ভালো উৎস, হরমোন ব্যালান্স করে।
বাকহুইট (ঢেমশি) – ন্যাচারালি ডি-কাইরো ইনোসিটল পাওয়া যায়; ইনসুলিন ও টেস্টোস্টেরন কমায়, প্রজেস্টেরন বাড়ায়।
সানফ্লাওয়ার সিড – ইস্ট্রোজেন-প্রজেস্টেরন ব্যালান্স রাখতে সাহায্য করে।
বুটের ডাল – ভিটামিন বি-৬ সমৃদ্ধ, স্পার্ম কাউন্ট আর এগ কোয়ালিটি বাড়ায়।
দারুচিনি – ব্লাড সুগার কন্ট্রোল করে, ডাইজেশন ভালো করে, ব্যাকটেরিয়া কমায়।
হলুদ – কারকিউমিন সমৃদ্ধ অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি; নারকেল তেল ও গোলমরিচের সাথে খেলে বেশি ইফেক্টিভ।
মনে রাখবেন আল্লাহ তায়ালা আমাদের খাদ্যের মধ্যে সব ধরনের নেয়ামত দিয়ে দিয়েছেন। আপনাকে শুধু তার দেয়া নেয়ামত ব্যাবহার করতে জানতে হবে।
Sumya Shila
Nutritionist
Child and Reproductive Health Consultant
Thyrocare Consultation Centre, Banani, Dhaka