17/06/2026
নিজের মানসিক স্বাস্থ্যও ভালো রাখুন।
আপনার যা আছে তা কার তুলনায় কম?
নিজের প্রতি অতৃপ্তি: এক নীরব মানসিক ব্যাধি
আমরা অনেকেই আজ নিজের জীবন নিয়ে সন্তুষ্ট নই। নিজের বর্তমান পরিস্থিতি, ব্যাংক ব্যালেন্স, ক্যারিয়ারের গ্রাফ কিংবা ভেঙে পড়া স্বাস্থ্য—সবকিছু মিলিয়ে এক চরম অতৃপ্তি আমাদের প্রতিনিয়ত তাড়া করে বেড়ায়। আর এই অবিরত অতৃপ্তিই কিন্তু আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ধ্বংসের অন্যতম প্রধান কারণ।
দিনের আলো শেষে যখন আমরা একাকী বসি, মনে একটা প্রশ্ন প্রায়ই উঁকি দেয়—"আমার যা আছে, তা কি আসলেই যথেষ্ট নয়?"
"অসুখী হওয়ার মূল চাবিকাঠি হলো অন্যের জীবনের সাথে নিজের জীবনের তুলনা করা।"
আমাদের চারপাশের চেনা জগৎটাই এই তুলনার বিষাক্ত ফাঁদ তৈরি করে। আমরা প্রতিনিয়ত নিজেদের অজান্তেই ভাবি:
পাশের বাসার অমুকের কত আলিশান জীবন!
আমার অমুক আত্মীয় কত চমৎকার অবস্থানে আছে!
আমার ওই বন্ধু এখন এই অবস্থানে আছে, আর আমি কোথায় পড়ে আছি?
এই অবিরত এবং অসম প্রতিযোগিতা মানুষকে ভেতর থেকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। এটি মানুষকে শান্তিতে ঘুমাতে দেয় না, হাসতে দেয় না। একপর্যায়ে এই তীব্র মানসিক চাপ একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকেও মানসকি রোগী বানিয়ে দেয়।
১৫ সেকেন্ডের মরীচিকা ও আমাদের বোকামি
সবচেয়ে বড় বোকামিটা আমরা করি ঠিক এখানেই। কারো সোশ্যাল মিডিয়ার এক মুহূর্তের নিখুঁত কোনো ছবি, ১৫ সেকেন্ডের একটা ঝকঝকে ভিডিও কিংবা মাত্র কয়েক মিনিটের আনুষ্ঠানিক কথোপকথনের সাথে যখন আপনি নিজের সম্পূর্ণ জীবনের তুলনা করেন, তখন সেটা হয় চরম বোকামি। আমরা ধরে নিই তারা বোধহয় স্বর্গসুখে আছে।
অথচ বাস্তবতা হলো, অন্যের জীবনের একটি চমৎকারভাবে সাজানো-গোছানো অংশের (Edited Version) সাথে নিজের জীবনের ভেতরের সমস্ত ভাঙাগড়া আর না-পাওয়ার (Raw Footage) তুলনা করা চরম মূর্খতা ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রতিটি মানুষের আড়ালে একটা দীর্ঘশ্বাস থাকে, যা কোনো ক্যামেরায় ধরা পড়ে না। তাই অন্যের খণ্ডিত সুখের সাথে নিজের পূর্ণাঙ্গ জীবনের তুলনা বন্ধ করাই মানসিক সুস্থতার প্রথম ধাপ।