Dr Halida Hanum Akhter

Dr Halida Hanum Akhter Senior Associate at Bloomberg School of Public Health, Johns Hopkins University

https://www.youtube.com/watch?v=CkXyl8s3ax8
18/01/2026

https://www.youtube.com/watch?v=CkXyl8s3ax8

মেডিকেল ডাক্তার ডাকসুতে এসে সাদিক কায়েমকে যে কথা বলতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তোলপাড় | Abu Sadik Kayem || Abu Sadik Kayem || DUCSU Shibir ....

https://www.youtube.com/watch?v=1_vKaA2wcRE
18/01/2026

https://www.youtube.com/watch?v=1_vKaA2wcRE

#এখনটিভি ্বাস্থ্যের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি | Aroggo Niketon | Health Program | Mediacal Show | Ekhon TV...

নিরাপদ মাতৃত্ব : কী ও করণীয় ?ডা. হালিদা হানুম আখতারআমি চিকিৎসা পেশা শুরু করি, ১৯৭১ – এর মুক্তিযুদ্ধের সময়েই। আজ মায়ের স্...
05/01/2026

নিরাপদ মাতৃত্ব : কী ও করণীয় ?
ডা. হালিদা হানুম আখতার

আমি চিকিৎসা পেশা শুরু করি, ১৯৭১ – এর মুক্তিযুদ্ধের সময়েই। আজ মায়ের স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলছি আমরা। কথা বলছি, নিরাপদ মাতৃত্ব নিয়ে। সে সময় দেখতাম, ১ লাখ শিশু জন্ম দিতে গিয়ে প্রায় ছয়শটি মা মারা যেতো। আর হিসাব করলে দেখা যেতো, একদিনে ২৫টির ওপর মায়ের মৃত্যু হচ্ছে।

এই ক্ষেত্রে দেখা যেতো, গর্ভকালীন সেবার অভাব, কোথায় প্রসব করাবে সেই সম্পর্কে জ্ঞানের অভাব (প্রসবের জন্য যে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান দরকার- হাসপাতাল বা সেবাকেন্দ্র দরকার- এগুলোর অভাব) প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ধাত্রীর অভাব ইত্যাদি কারণে মায়ের মৃত্যু হচ্ছে।

তবে এই ৫৩ বছরে আমরা মাতৃমৃত্যুর হার অনেক কমিয়ে এনেছি। প্রতি এক লাখ শিশু জন্ম দিতে গিয়ে এখন প্রায় ১৭০ জন মা মারা যায়। দিন হিসাবে চিন্তা করলে ১৪ জন মা একদিনে মারা যায়।

আজ আমাদের আলোচনার মূল বিষয় নিরাপদ মাতৃত্ব।মাতৃমৃত্যুর হার ও গর্ভকালীন জটিলতা কমিয়ে আনতে গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের কী ধরনের সেবা দরকার এবং কীভাবে দরকার- এসব বিষয়েই জানবো।

চারটি সেবা বা অ্যান্টিনেটাল কেয়ার

গর্ভের সময় অন্তত চারটি সেবা বা অ্যান্টিনেটাল কেয়ার নিতে হবে। এই সেবা কেন নিতে হবে ? এখানে দুটো প্রাণের সুস্থতার বিষয় রয়েছে। একটি মা এবং অপরটি গর্ভের শিশু। দুইটি প্রাণের সুস্থতা নিশ্চিতে, মা-টি গর্ভধারণ করলে তাকে চিকিৎসক বা সেবাকেন্দ্রে নিয়ে চারটি চেকআপ বা অ্যান্টিনেটাল কেয়ার অবশ্যই নিতে হবে।

একজন মা প্রথম সেবাটা নেবেন মাসিক বন্ধ হওয়ার পর, ১৬ সপ্তাহ বা চার মাসে। চার মাস পড়লে তিনি চিকিৎসকের কাছে বা সেবাকেন্দ্রে যাবেন। দ্বিতীয় সেবাটি নেবেন, ২৪ সপ্তাহ বা ছয় মাসে। তৃতীয়টি, ৩২ সপ্তাহ বা আট মাস পড়লে। আর শেষ বা চতুর্থটি, ৩৬ সপ্তাহ বা নয় মাসে নিতে হবে।

এই সময় কী দেখা হয় এবং কী করতে হবে ?

এই সময়ে প্রথম চেকআপে দেখা হয়, গর্ভটি ঠিকমতো রয়েছে কি না, অর্থাৎ জরায়ুতে ভ্রূণটি ঠিকমতো রয়েছে কি না- শিশু ঠিকমতো গর্ভে নড়াচড়া করছে কি না।

এই সময় থেকেই চিকিৎসক বা সেবাদানকারীর সঙ্গে প্রসব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। কোথায় ও কীভাবে প্রসব হবে, সেটি জানবে। এর জন্য যে টাকা-পয়সা জোগাড় করা দরবার সেটিও পরিকল্পনার মধ্যে চলে আসবে। কারণ, চিকিৎসকের কাছে গেলে বা কেন্দ্রে গেলে টাকা লাগবে। ভর্তি হয়ে ডেলিভারি করাতে গেলেও টাকা প্রয়োজন। তাই আমরা প্রথম থেকেই টাকা জমাতে উপদেশ দিই।

আমি সূর্যের হাসিতে কাজ করার সময় ‘মায়ের ব্যাংক’ নামে একটি প্লাস্টিকের ব্যাংক তাদের দিতাম, টাকা জমাতে। এটি তারা প্রসবের সময় ব্যবহার করতে পারতো। এই সময় জন্ম পরিকল্পনা কার্ড তৈরি করেছিলাম। এই কার্ডের প্রথমে প্রসবকালীন খরচের বিষয়টি ছিলো।

এটি বলার কারণ, এই টাকা হাতে না থাকলে অনেক সময় পরিবারের লোকজন অনভিজ্ঞ দাই দিয়ে ডেলিভারি করায়। এর খারাপ দিক হলো, মায়ের কষ্ট হয়, ধাত্রী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হওয়ার কারণে অনেক সময় মরা শিশু হতে দেখা যায়। এই জন্য টাকা সঞ্চয় করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাছে ডেলিভারি করাতে হবে। আমি পরামর্শ দেবো, গর্ভের প্রথম থেকেই এই পরিকল্পনা করতে।

এখানে আমার ব্যক্তিগত আরেকটি পরামর্শ থাকবে। আপনারা চিকিৎসকের কাছে গেলে স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে যাবেন। আমরা সাধারণত মনে করি, চেকআপের সময় পুরুষের থাকা লাগবে না। তবে স্বামী এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যক্তি। সম্পূর্ণ প্রসবের সময়টিতে তার বিরাট একটি ভূমিকা রয়েছে। সুতরাং যতবার চিকিৎসকের কাছে যাবেন, স্বামীকে সঙ্গে নেবেন।

চারটি অ্যান্টিনেটাল কেয়ারে আরো পরীক্ষা করা হয়। দেখা হয়, মায়ের ওজন বাড়ছে কি না, রক্তস্বল্পতা রয়েছে কি না, মায়ের উচ্চতা ঠিক কি না। আমরা জানি, মা খাটো হলে, তার জরায়ুও তেমন থাকে। এই ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত প্রসব হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। শিশুটি গর্ভে বড় হচ্ছে ঠিকই, তবে মায়ের পেলভিস ছোট হলে, প্রসব হতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হয়। এতে মা ও শিশুর ক্ষতি বা মৃত্যু হতে পারে।

আরো দেখি, মায়ের রক্তচাপ। কোনো বিপদচিহ্ন রয়েছে কি না, সেগুলো সনাক্ত করি। টিটি টিকার দেওয়ার দরকার হলে, সেটি দিই। অন্যান্য প্রতিষেধক ব্যবস্থা নিতে হলে, সেটিও দেওয়া হয়। অ্যানিমিয়া থাকলে এর চিকিৎসা দিতে হবে। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভিজিটে আমরা দেখি, বাচ্চার স্পন্দন। সে নড়াচড়া ঠিকমতো করছে কি না।

অনেক সময় হেমোরেজ বা অতিরিক্ত রক্তস্রাব হয়ে মা মারা যায়। প্রায় ৩০ শতাংশ মায়ের মৃত্যুর কারণ, ব্লিডিং হওয়া। তাই আগে থেকে ব্লাড ডোনার ঠিক করে রাখতে হবে।

অনেক সময় আপনারা শুনেছেন একলামসিয়া বা খিঁচুনি হয়। রক্তচাপ বেশি থাকলে, পায়ে পানি আসলে এ ধরনের জটিলতা হতে দেখা যায়। এসব জটিলতা এড়াতে ব্যবস্থা নিতে হবে। এগুলো প্রতিরোধ করা না গেলে লেবার পেইন হলে খিঁচুনি হতে পারে। এই ক্ষেত্রে গর্ভের শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে, আর মায়ের তো থাকেই।

চতুর্থ ভিজিটটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখনো বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখি, আমাদের সব মা এই চারটি ভিজিট নিতে আসে না। এই অ্যান্টিনেটাল চেকআপের উদ্দেশ্য হলো জটিলতা হওয়ার আগেই যেন চেকআপ নেওয়া যায়।

আরো কয়েকটি জরুরি বিষয়

অনেক সময় হয়তো প্রসবের সময় মাকে ক্লিনিকে নেওয়া সম্ভব হলো না, হঠাৎ করে ডেলিভারির জন্য কাউকে বাড়িতে ডাকতে হলো- এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে আপনার নাগালের মধ্যে রয়েছে এমন কোনো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ঠিক করে রাখতে হবে। এমন ব্যক্তিকে ঠিক করবেন, যাকে ডাকলে পাওয়া যায়। সেই ব্যক্তির নাম, ফোন নম্বর, ঠিকানা আগে থেকেই রেখে দিতে হবে। সব জায়গাতো আর শহর নয়, অনেক সময় হয়তো নৌকায় আসতে হবে, যানবাহন পাওয়ার জটিলতা রয়েছে। তাই আগে থেকে প্রসব পরিকল্পনা করতে হবে। জন্ম পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এগুলো বিরাট অংশ।

আরেকটি বিষয় হলো, লেবার পেইন উঠলে কীভাবে হাসপাতাল বা ক্লিনিকে যাবেন। অ্যাম্বুলেন্সে যাবেন? না কি অন্য কোনো যানবাহনে যাবেন- এগুলো ঠিক করে রাখতে হবে। এই পরিকল্পনাও আগে থেকে করবেন।

এ ছাড়া পরিচিত কোনো মানুষকে আপনার সঙ্গে সেবাকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য আগে থেকে বলে রাখতে হবে, যেন কোনো সমস্যা হলে তাকে ডাকা যায়।

আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলতে চাই, সেবাদানকারীদের জন্য। একজন মায়ের প্রসবের সময় হয়ে আসলে, এর তিন থেকে চারদিন আগে তাকে মনে করিয়ে দিতে হবে, ‘আপনি অমুক তারিখে আসবেন’। বিদেশে কাজ করার সময় আমি দেখেছি, তারা ফোন, ম্যাসেজ বা ইমেলেইর মাধ্যমে মনে করিয়ে দেয়। আমার অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, এই বিষয়টি ভীষণ কাজে লাগে। একজন মাকে ফোন করে বলা হলে, সে ভীষণ খুশি হয়। তার অ্যান্টিনেটাল চেকআপ বাদ যায় না।

পরিশেষে এটাই বলবো, একজন মায়ের সুরক্ষা ও নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য গর্ভাবস্থায় চারটি চেকআপ অবশ্যই নিতে হবে। এতে ডেলিভারি সুন্দর হবে এবং একজন মা সুস্থ শিশু নিয়ে সেবাকেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে পারবে।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

নারীর ডিমেনসিয়া বেশি হয় কেন?ডা. হালিদা হানুম আখতারআমি আজ ডিমেনসিয়া নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি। ডিমেনসিয়া একটি মস্তিষ্কের ক্ষয়জ...
05/01/2026

নারীর ডিমেনসিয়া বেশি হয় কেন?
ডা. হালিদা হানুম আখতার

আমি আজ ডিমেনসিয়া নিয়ে কথা বলতে চাচ্ছি। ডিমেনসিয়া একটি মস্তিষ্কের ক্ষয়জনিত রোগ। আমরা এটি সম্পর্কে বেশি কিছু জানি না।

এই সমস্যা হলে যে স্মৃতিশক্তি কমে আসে, লোপ পায় বা মানুষের ব্যবহারের ধরনটা বদলে যায়, এই বিষয়ে আমাদের অনেক ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। বাংলাদেশে ও সারা পৃথিবীতে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ ডিমেনসিয়াতে ভুগে। এ দেশে এটি ধীরে ধীরে বাড়ছে।

বাংলাদেশে যেই সমীক্ষণটা করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ১১ লাখ মানুষ ডিমেনসিয়াতে ভুগছে। একে আমরা কম ধরছি। কারণ, সবাইকে আমরা তথ্যের আওতায় আনতে পারি না। আমি নারী স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করি। দেখা যাচ্ছে, প্রতি চারজনের মধ্যে তিনজন নারীই ডিমেনসিয়াতে ভুগছে।

আলঝাইমার সোসাইটির একটি পত্রিকা রয়েছে, এতে ডিমেনসিয়া সম্পর্কে খুব সুন্দর করে লেখা রয়েছে। তারা বলছে, 'মস্তিষ্কের বিভিন্ন রোগের ক্ষতিকর প্রক্রিয়ার ফলাফলের রূপে ডিমেনসিয়ার উদ্ভব ঘটে। ডিমেনসিয়া শব্দটি এমন একটি অবস্থাকে বোঝায়, যার ফলে মস্তিষ্কের বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমে ধীরে ধীরে অবনতি ঘটে। যেমন, স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়া, চিন্তা ও চেতনার পরিবর্তন, কিছু বলতে গিয়ে সঠিক শব্দ খুঁজে না পাওয়া বা অন্যের কথা বুঝতে গিয়ে অসুবিধা হওয়া, ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন ও স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া।'

বিষয়টি বিরাট। এটি পুরুষ বা নারী, যারই হোক। এই যে তার একটি মানসিক ও শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে, এটি নিয়ে আমরা শঙ্কিত। আমাদের বয়স যত বাড়ছে, আয়ু বাড়ছে, (যেহেতু এটি প্রবীণদের বেশি হতে দেখা যায়) তত এটি সামাজিক চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সুতরাং আমার মনে হয় এখন বিষয়টি নিয়ে সমাজ, পরিবার ও সেবাদানকারীদের জানাটা খুব দরকার হয়ে পড়েছে।

একটি উদাহরণ দিই। ২০২০ এর তথ্য অনুযায়ী, কোভিডের সময় যুক্তরাজ্যে ৩৩ হাজার নারী মারা যায় এবং ৪১ হাজার পুরুষ মারা যায়। তাহলে ওখানে কী দেখা গেলো, যে কোভিডের কারণে নারীর চেয়ে পুরুষের মৃত্যু বেশি হচ্ছে। তবে ঐ একই দেশে ডিমেনসিয়ার ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, ২৪ হাজার পুরুষ মারা যাচ্ছে, আর ৪৬ হাজার নারী মারা গেছে। সেটি একটি উন্নত দেশ, ওখানে দেখা যাচ্ছে, পুরুষের তুলনায় দ্বিগুণ নারী মারা যাচ্ছে।

বাংলাদেশের দিকে আসলে দেখা যাচ্ছে, প্রতি চারজনের তিনজন ডিমেনসিয়াতে ভুগছে। এটা একটি বিরাট চিন্তা ও শঙ্কার বিষয়। আমরা যারা নিজেরা নারী স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করি, তাদের জন্য বিরাট একটা শঙ্কার ব্যাপার। এই নারীদের প্রবীণ বয়সে কীভাবে সেবা করা হবে, কীভাবে চিকিৎসা দেওয়া হবে, তার পরিবার একে কীভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারবে- এসব নিয়ে বিরাট শঙ্কা রয়েছে।

তো, নারীর কেন পুরুষের তুলনায় মৃত্যু বেশি হচ্ছে, ডিমেনসিয়া বেশি হচ্ছে, এসব বিষয় নিয়ে আজ আলোচনা করবো।

বাংলাদেশে ২০২০- এ যে সমীক্ষণ হয়েছিলো, তাতে দেখা গেছে, ১১ লাখ ডিমেনসিয়াতে ভুগছে। এর মধ্যে পুরুষ হলো, দুই লাখ ৮০ হাজার। আর নারী আট লাখ ৩০ হাজার। মানে ৭৫ দশমিক পাঁচ শতাংশ তারা। তিনগুণ হলো নারী ও একগুণ পুরুষ। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫-এ এটি বেড়ে নারীদের মধ্যে প্রায় ১০ লাখের মতো হবে, পুরুষদের মধ্যে তিন লাখের বেশি হবে। সুতরাং এটা কিন্তু বাড়ছে। সংখ্যা যত বাড়বে, তত দুশ্চিন্তার কারণ হবে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে যে নারীর কেন ডিমেনসিয়া বেশি হবে? গবেষণা করে দেখা গেছে, নারীর শরীরে যে ইসট্রোজেন হরমোন রয়েছে বা নারী জাতীয় হরমোন রয়েছে, সেটি মস্তিষ্ককর জন্য একটি সুরক্ষা। বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে তাকে সুরক্ষা দিয়ে রাখে। নারীর মেনোপজ হলে, মাসিক বন্ধ হয়ে গেলে, পঞ্চাশ বছর বয়সে বা এই রকম সময়ে ইসট্রোজেন কমে আসে। এতে মস্তিষ্কের সুরক্ষাটা কমে যায়।

যেহেতু নারীরা সারাদেশে পুরুষদের তুলনায় কয়েক বছর বেশি বাঁচে, তাই তাকে প্রবীণ অবস্থায় বেশিদিন বেঁচে থাকতে হয়। এটি একটি কারণ যে তখন তার ক্ষয়জনিত বিষয়টা বেশি থাকে। এর জন্য সমস্যাটা আরেকটু বাড়তে পারে। এটিও একটি কারণ। বিভিন্ন সমীক্ষাতে সেটাই দেখেছি।

আমরা আরো দেখছি, নারীরা যেভাবে অন্যদের বিভিন্ন সেবায় নিয়োজিত করে, পরিবার ও নিজের সন্তানের যত্ন ইত্যাদিতে, এতে তাদের একটি মানসিক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। এটি একটি কারণ হতে পারে ডিমেনসিয়ার জন্য। সুতরাং বয়স যত বাড়বে মস্তিষ্কের ক্ষয়-ক্ষতিটা বেশি হবে।

আরো একটি বিষয় দেখা যায়, ডিমেনসিয়া ও আলঝাইমার কাছাকাছি। দেখা যায়, আলঝাইমারটা আবার নারীদের বেশি। সুতরাং অনেক ধরনের বায়োলজিক্যাল কারণ ও অন্যান্য কারণে নারীর ডিমেনসিয়াটা বেশি হয়।

আমরা রিস্ক ফ্যাক্টর চিন্তা করলে দেখবো, যার ডায়াবেটিস রয়েছে, তার মস্তিষ্ককে আক্রান্ত করে। যার হার্ট ফেইলিউর রয়েছে, সেটাও তো মস্তিষ্কে অক্সিজেন কম পৌঁছাতে পারে। হার্ট ফাংশন ঠিকমতো না হলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন কম হয়ে যাচ্ছে। তখন মস্তিষ্কের ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের দেশে ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে। ফুসফুসটা ভালোভাবে কাজ না করলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন কম যাবে।

আরেকটি বিষয় দেখা যাচ্ছে, আমাদের দেশে তামাক পানটা অনেক। পুরুষের মধ্যে রয়েছে। নারীরাও বিভিন্নভাবে তামাক সেবন করে। তামাকটাও মস্তিষ্কের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ কারণ। আমরা যখন লেখাপড়া করছি, তখন দেখছি নন কমিউনিক্যাবল রোগ (যেমন: ডায়াবেটিস, হার্টের অবস্থা, ফুসফুসের অবস্থা ও মানসিক অবস্থা) তামাকের কারণে প্রভাবিত হচ্ছে। এই জিনিসগুলো যাদের বেশি তাদের ডিমেনসিয়াটা বেশি।

আরেকটি বিষয় হলো, জেনেটিক। অনেক সময় দেখা যায় পরিবারে কারো হয়ে থাকলে, তাহলে পরিবারের অন্যজনের হওয়ার আশঙ্কা একটু বেশি। আবার এমন নয় যে পরিবারে এককজনের হলেই আরেকজনের হবে, সেটি নয়। তবে কারো জিনে বিষয়টি থাকলে এটি ট্রান্সফার হয়ে অন্যজনের ডিমেনসিয়া হওয়ার একটি আশঙ্কা রয়েছে।

আরেকটি বিষয় আমরা দেখেছি, মস্তিষ্কে আঘাত পেলেও ডিমেনসিয়া হওয়ার একটি ঝুঁকি থেকে যায়। ২০১৫ তে বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্স যে সমীক্ষা করেছিল, সেখানে দেখা গেছে, ১০০ জনের মধ্যে ৭২ জন নারী অত্যাচারের শিকার। সেই নির্যাতনটা শারীরিক হতে পারে, মানসিক বা আর্থিক হতে পারে। যৌননির্যাতনও হয়। সুতরাং যে নারী ৭২ শতাংশ নির্যাতনের শিকার, সে যে কী অবস্থায় থাকে সহজেই বুঝতে পারছেন। এর মধ্যে অনেক রকম আঘাতের আশঙ্কা তার থাকে। আবার যারা খেলোয়ার তাদেরও মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ার আশঙ্কা অনেক। সুতরাং নারীর ঝুঁকি বেশি।

আমাদের সমাজে এমনিতেই নারীর অবস্থান নিচে, সেই জায়গাতে এরা ডিমেনসিয়াতে ভুগলে, তাহলে অবস্থাটা আরো কঠিন। এদের পাগল বলা হচ্ছে, এদের সেবার জন্য আমাদের সমাজে টাকা খরচ করা হয় না।

আমরা এটিও দেখেছি একজন গর্ভবতী নারীর প্রসবের সময় আসলে পরিবার তার জন্য টাকা খরচ করতে চাইছে না। বাংলাদেশের সমীক্ষায় এখনো দেখা যায়, ৫৩ শতাংশ নারীর প্রসব বাড়িতে হয়। তাকে হাসপাতালে নেওয়ার টাকা আমাদের থাকে না।

সুতরাং ডিমেনসিয়া একজন নারীর বেশি হলে, সে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, কম সেবার শিকার হচ্ছে। পরিপূর্ণ সেবা নিয়ে সুস্থ অবস্থাতে যে তাকে পরিচর্যা করা হবে, সেই অবস্থান থেকেও সে অনেক দূরে থাকে। সুতরাং আমার যেটা মনে হয়, আমাদের সবাইকে বিষয়টি ভালোভাবে জানতে হবে। বুঝতে হবে ডিমেরসিয়াটা একটি পাগল অবস্থা নয়, এটি মস্তিষ্কের ক্ষয়জনিত একটি বিষয়। এটি একটি রোগ। একে আমরা ঠিক করার চেষ্টা করলেও সেভাবে সারে না। সারতে সময় লাগে। ওষুধ-পত্র দিয়ে আমরা হয়তো একটু স্থির রাখতে পারি, তবে এটা কখনোই ভালো হয় না।

সুতরাং এই মাকে সেবা দেওয়ার জন্য একটি পরিবারের ভীষণ মানসিক, শারীরিক ও আর্থিক প্রস্তুতি থাকতে হবে। না হলে ডিমেনসিয়া আক্রান্ত নারীটি অসহায় হয়ে পড়বে।

বাল্যবিবাহকে 'না' বলুনডা. হালিদা হানুম আখতারআজ আমাদের বিশেষভাবে আলোচনার বিষয় বাল্যবিবাহকে আমরা প্রতিরোধ করবো কীভাবে? ...
05/01/2026

বাল্যবিবাহকে 'না' বলুন
ডা. হালিদা হানুম আখতার

আজ আমাদের বিশেষভাবে আলোচনার বিষয় বাল্যবিবাহকে আমরা প্রতিরোধ করবো কীভাবে? কারণ, একে বন্ধ করতে হবে, প্রতিরোধ করা জরুরি। এর জন্য একটি সম্মিলিত প্রচেষ্টার খুবই প্রয়োজন।

বাল্যবিবাহ একটি চুক্তি। একজন নারী ও পুরুষের মধ্যে এই চুক্তি হয়। এই চুক্তি হতে পারে, শুধু যারা সাবালক তাদের। আমাদের দেশের নিয়ম অনুযায়ী একজন নারী ১৮ বছর হলে তবে সাবালিকা হবে। একজন পুরুষ ২১ বছর হলে তবে সাবালক হয়। নারীর বয়স ১৮ এর আগে বিয়ে দেওয়া হলে, সে সাবালক হলো না এবং সে চুক্তির যোগ্যও হলো না।

একটি ছেলের ২১ এর কম বয়স হলে সে সাবালক হলো না, তার চুক্তিটি গ্রহণযোগ্য হবে না। সেই জন্য আমাদের এই জিনিসগুলো বুঝতে হবে। আইনগত ব্যবস্থাগুলো জানতে হবে। সেই জন্য আমরা চিন্তা করি ছোট অবস্থায় নারীর বিয়ে দিয়ে দিলে, তার যে শারীরিক বিভিন্ন ধরনের জটিলতা হয়, সেগুলো অনেক। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভ হবে, মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি থাকে, শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে, বাধাগ্রস্ত প্রসব হতে পারে। বাধাগ্রস্ত প্রসবের জন্য আবার ফিসচুলার আশঙ্কা থাকে। ফিসচুলা হলে প্রস্রাবের গন্ধ গা দিয়ে বের হতে থাকে। অথবা পায়খানার রাস্তায় এটি হলে গা দিয়ে পায়খানার গন্ধ বের হবে। এমন হলে একজন নারীর জীবনে মহা বিপর্যয় চলে আসে।

আরেকটা জিনিস আমরা দেখেছি, একজন নারী ১৮ বছর বয়সের আগে বিয়ে হয়ে গেলে কিন্তু তার পড়াটা বন্ধ হয়ে যাবে। তার বিয়ে হলেই তাকে বলে যে 'তুমি গর্ভধারণ করে দেখাও যে বন্ধ্যা নও'। যখন সে গর্ভধারণ করে ফেললো তখন তাকে স্কুল থেকে ছুটি নিয়ে নিতে হয়। এর মানে গর্ভবতী হয়ে গেলে তার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো। যখন তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন তার অর্থ উপার্জন করা, নিজের জীবনকে শক্তিশালী করার প্রক্রিয়া থাকে না। এর মানে বাল্যবিবাহ একটি নারীর জীবনে কত বড় অভিশাপ নিয়ে আসে, এটা সবাইকে বুঝতে হবে।

সে নারী বলেই আমাদের কোনো অধিকার নেই বলার, 'তুমি এই অবস্থার শিকার হও বা তুমি একটি অন্যায়ের শিকার হও'। এটা আমাদের সামাজিকভাবে বুঝতে হবে, বাবা-মাকে বুঝতে হবে।

মা-বাবার হয়তো দুটো সন্তান। ছেলে ও মেয়ে। কিন্তু মেয়েকে বিসর্জনটা বেশি দিতে হবে। এই যে সামাজিকভাবে একটি মেয়ের প্রতি আমাদের অবজ্ঞা, অবহেলা ও বৈষম্যপূর্ণ আচরণ- এটি থেকে রুখে দাঁড়াতে হবে। সমষ্টিগতভাবে রুখে দাঁড়ানো দরকার।

সরকারকে প্রতিরোধ করতে হবে। কারণ, সরকার আইন করছে। তবে আইনের ব্যবস্থাপনাটাও যেন ভালো হয়, প্রয়োগ ঠিকমতো হয়, সেটি খেয়াল করতে হবে। আমরা যারা স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছি, এটাও তাদের দায়িত্ব। তারা সোচ্চারে, কাজে, কর্মে, বক্তৃতায়, চর্চায় বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে বলবে। এই বাল্যবিবাহ দিয়ে একজন নারীর ওপর অন্যায় করা যেতে পারে না। মৃত্যৃর দিকে ঠেলে দেওয়া ঠিক নয়।

সামাজিকভাবে আমাদের কী করা দরকার? যখন আপনি জানতে পারছেন, এই বাড়িতে একটি বাল্যবিবাহ হচ্ছে, তখন আপনাকে কী করতে হবে? তখন আপনাকে প্রশাসনিক যেসব মানুষ রয়েছে, তাদের খবর দিতে হবে। জানাতে হবে এখানে বাল্যবিবাহ হচ্ছে, এটা বন্ধ করতে হবে। তবে এই ব্যাপারে অবগত সবাই কিন্তু কার্যকারিতাটা আমরা কম দেখি। সুতরাং সবাই মিলে এটি বন্ধ করতে না পারলে, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছি। এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এটা আমাদের নৈতিকভাবে ঠিক নয়। একটা নারীকে তার অবস্থান থেকে সরিয়ে নিয়ে এসে তার উপর অত্যাচার করবো, অগ্রগতিকে বন্ধ করবো, সেটা হবে না। এটা যে একটি অন্যায় এই জ্ঞানটা মানুষের থাকতে হবে। এর জন্য নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে হবে, স্কুল কলেজের শিক্ষকদেরও এই বিষয়ে সোচ্চার হতে হবে। তাদেরও ওই মেয়েটাকে সুরক্ষা দিতে হবে।

আমরা দেখেছি, স্কুলে রচনা প্রতিযোগিতা করলে, সেখানে ছাত্রদের নিয়ে লিখতে বললে, তখনও শিশুদের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে। তো একে একটি সামাজিক আন্দোলন হিসেবে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। না হলে, আমরা এই নারীদের পিছিয়েই রাখবো সারাজীবন। আর একটি দেশ কখনো উন্নত হয় না, যখন এর নারী পিছিয়ে থাকে। দেশের অগ্রগতি পিছিয়ে যায়। আমাদের বলতে হবে, 'আসুন, আমরা সবাই মিলে বাল্যবিবাহকে রোধ করি'। সোচ্চার হই এটি বন্ধে। বাল্যবিবাহকে 'না' বলি।

লেখক:
রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

তামাক সেবনের ক্ষতি কী?ডা. হালিদা হানুম আখতারআমরা একটা কথা ইংরেজিতে খুব শুনে থাকি। সেটি হলো, To***co kills half of its u...
05/01/2026

তামাক সেবনের ক্ষতি কী?
ডা. হালিদা হানুম আখতার

আমরা একটা কথা ইংরেজিতে খুব শুনে থাকি। সেটি হলো, To***co kills half of its users। এর মানে তামাক এমন একটি জিনিস, যা এর ব্যবহারকারীর অর্ধেককে মেরে ফেলে। এখন প্রশ্ন আসতে পারে, কেন এই কথা বলা হচ্ছে? আজ আমরা সেটিই আলোচনা করবো, তামাক এতো প্রাণঘাতী কেন?

যুক্তরাষ্ট্রের ডাটা দেখলে দেখা যাবে, পাঁচ জনের মধ্যে একজন মারা যাচ্ছে ধূমপানের কারণে। একটি কথা আমরা বলি, সেটি হলো, তামাক প্রায় দেহের প্রতিটি অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ব্যক্তির রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। দেহের সব অঙ্গে যত রকম রোগ হয়ে থাকে, প্রায় সবকটির প্রকোপ সে বাড়ায়।

ফুসফুসের রোগ বাড়ায়
প্রথমেই জানাতে চাই, ধূমপান ফুসফুসের কী ক্ষতি করে? প্রায় ৯০ শতাংশ ধূমপায়ীদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসার হয়। এই ক্যানসারে প্রতি বছর পুরুষের তুলনায় আবার নারী বেশি মারা যাচ্ছে। অনুন্নত দেশে তামাক সেবন বেশি। অনুন্নত দেশে ফুসফুসের ক্যানসার, একই কারণে বেশি। সুতরাং এই ক্যানসার একটি বড় বিষয়।

আরেকটি হলো, সিওপিডি। ক্রনিক অবসট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ। ৮০ শতাংশ ধূমপায়ীদের মধ্যে রোগটি হচ্ছে। সিওপিডি ফুসফুসের কষ্টের একটি বিষয়। এই রোগ নারী ও পুরুষ উভয়েরই হয়। এতে ফুসফুসের যে নালী রয়েছে বা অ্যালভিওলাই রয়েছে- যেখানে বাতাস যাওয়া-আসা করে- সেগুলোর লেয়ার নষ্ট হয়ে যায় বা সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। এতে অঙ্গটির কাজ ভালোভাবে হয় না। ফুসফুসের মধ্যে সমস্যা হয়ে যায়।

হার্টের রোগ বাড়ায়
ধূমপান হার্টের রোগকে বাড়িয়ে দেয়। যারা তামাক সেবন করে, তাদের করোনারি হার্ট ডিজিজ দুই থেকে চারগুণ বেশি হয়।

স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়
স্ট্রোকের বিষয়টিও ঘটে তামাক গ্রহণের কারণে। যারা ধূমপায়ী তাদের মধ্যে দুই থেকে চারগুণ বেশি স্ট্রোকের ঝুঁকি থাকে।

অ্যাজমা অ্যাটাক বাড়ায়
অন্যদিকে যাদের অ্যাজমা অ্যাটাকের সমস্যা রয়েছে, তামাক গ্রহণ তাদের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি আরো বাড়ায়। ধূমপানের কারণে অ্যাজমা অ্যাটাক ঘন ঘন হতে পারে, রোগমুক্তির সম্ভাবনা কমতে পারে।

হাড়ের রোগ বাড়ায়
এ ছাড়া তামাক গ্রহণ আমাদের হাড়কে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। হাড়কে ভঙ্গুর করে দিচ্ছে। অস্টিওপরোসিস বাড়াচ্ছে। মেনোপজের পরে নারীর মধ্যে এই সমস্যা এমনিতেই বেশি দেখা যায়। এর ওপর সে তামাক ব্যবহার করলে, এর ঝুঁকি বাড়ে।

দাঁতের রোগ বাড়ায়
তামাক দাঁতের ক্ষতি করে। দাঁত আলগা করে দিচ্ছে। মাড়ির স্বাস্থ্যকে নষ্ট করছে। মুখে গন্ধ হচ্ছে। সুতরাং তামাক গ্রহণ দাঁতের স্বাস্থ্যকেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করছে। দেখা যাচ্ছে, যারা ধূমপান করে তাদের দাঁত দ্রুত পড়ে যাচ্ছে।

চোখের রোগ বাড়ায়
তামাক গ্রহণ চোখেরও ক্ষতি করে। একটা বয়সের পড়ে চােখে ছানি হয়। তবে দেখা যাচ্ছে, যারা ধূমপায়ী তাদের ছানি বয়সের আগেই হচ্ছে। এর মানে ধূমপান চোখের ছানির সমস্যা বাড়াচ্ছে।

অপরদিকে, চোখের মধ্যে আরেকটি বিষয় হয়। সেটি হলো ম্যাকিউলার ডিজেনারেশন। এর কারণে বেশি বয়সের আগেই অন্ধত্ব বেড়ে যায়।

ডায়াবেটিস বাড়ায়
আমরা জানি, ডায়াবেটিসের প্রকোপ বর্তমানে খুবই বেড়েছে। যারা ধূমপায়ী, তাদের এই সমস্যাটি বেশি হয়।

দেহের সংক্রমণ বাড়ায়
তামাক গ্রহণকারীদের সারা দেহে সংক্রমণ বা প্রদাহ বেশি হয়। তাদের সংক্রমণ হলে, সারতে সময় লাগে। প্রদাহ হলেও সহজে ভালো হতে চায় না। এতে ভোগান্তি বেড়ে যায়। চিকিৎসার খরচ বাড়ে।

ত্বক ও চুলে ক্ষতি বাড়ায়
গবেষণায় দেখা গেছে, তামাক গ্রহণকারী ব্যক্তিরা কানে কম শোনে। অনেকের চুল পড়ে যায়। অনেকের আবার চামড়ায় সংক্রমণ হয়। সুতরাং ধূমপানের কারণে কয়েকভাবেই শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ধূমপানের কারণে রোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং রোগ নিরাময় হতেও দেরি হয়।

বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বাড়ায়
এ ছাড়া ধূমপান নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। দেখা যাচ্ছে, নারীর জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ছে। নারী ওভারি ক্যানসারের ঝুঁকিতে পড়ছে। ওভারির কার্যক্রম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সন্তান হচ্ছে না।

আরেকটি বিষয় আমরা দেখতে পাই বন্ধ্যত্ব। এটি নারীর কারণে হচ্ছে। তার ওভারি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এমন হয়। আবার পুরুষের কারণেও হচ্ছে। পুরুষের স্পার্ম অকেজো হয়ে যাচ্ছে, সময়ের আগে। স্পার্মের আকৃতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর গুণগত মান ঠিক থাকছে না। তাই পুরুষ ও নারীর উভয়ের কারণেই বন্ধ্যত্ব হচ্ছে। এ ছাড়া তামাক গ্রহণের কারণে দেহের হাত ও পায়ের যে সমন্বয় সেটি কমে যায়।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে, তামাক দেহের বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ধূমপান সম্পূর্ণ দেহকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। এটি খুব শঙ্কার বিষয়।

আর রোগ হলেই তো আপনাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। টাকা খরচের প্রয়োজন পড়বে। সবাই তো আর অত ধনী বা বড়লোক নয়, যে সেবা নিতে পারবে। তখন সেবা না নিতে পারলে তার মৃত্যু আরো এগিয়ে আসবে। সুতরাং দীর্ঘদিন সুস্থভাবে বাঁচতে চাইলে তামাক গ্রহণ একদমই বন্ধ করে দেওয়া প্রয়োজন। তাহলে অনেকটাই সুস্থভাবে বাঁচা সম্ভব।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

কিশোরী নির্যাতন কেন হচ্ছে, প্রতিরোধ কেন জরুরি ?ডা. হালিদা হানুম আখতারআজ নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে কথা বলতে চাই। ২০২২ সা...
05/01/2026

কিশোরী নির্যাতন কেন হচ্ছে, প্রতিরোধ কেন জরুরি ?
ডা. হালিদা হানুম আখতার

আজ নারীর প্রতি সহিংসতা নিয়ে কথা বলতে চাই। ২০২২ সালে দৈনিক প্রথম আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এখানে বলা হয়, নারীর জন্য নিরাপদ কোনো স্থান নেই। ঘরে-বাহিরে নির্বিশেষে কন্যা শিশুর প্রতি সহিংসতা ও যৌন নিপীড়ন বেড়েই যাচ্ছে।

কেবল মে মাসেই ধর্ষনের শিকার হয়েছে ৮৪টি। এর মধ্যে চারজন কিশোরীসহ ১০জন প্রতিবন্ধী। দলবদ্ধ ধর্ষনের শিকার হয়েছে একজন প্রতিবন্ধী কিশোরী ও দুইজন নারী।

তাই বলা যায়, নারীর প্রতি সহিংসতা কিন্তু বেড়েই চলেছে। কমেনি। কমার কোনো পরিসংখ্যান পাইনি। তাহলে নারী কোথায় নিরাপদ এটা আমাদের চিন্তা করতে হবে এবং কোথায় সে নির্যাতনের শিকার বেশি হচ্ছে, সেটি জানতে হবে।

আর এই বিষয়ে নারীকে দোষ দিলে হবে না। নির্যাতনের শিকার যে হয়, সে তো দোষী নয়। তাকে নির্যাতন যে করে তার সমস্যা রয়েছে। অনেক সময় নারী কোথাও গেলে, রাস্তায় গেলে, বাসে চড়লে, স্কুলে যাওয়ার পথে ধর্ষনের শিকার হয়। তাহলে সে যাবে কোথায় ? আর আমাদের মতো উন্নতিকামী বাংলাদেশে নারী কেন ঝুঁকিতে থাকবে ? নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকবে ? এই প্রশ্নগুলো কি আমরা নিজেরা নিজেদের করতে পারি ? আমার মনে হয়, আজ সময় এসেছে এসব প্রশ্ন বার বার করার।

একজন কিশোরীর কথা চিন্তা করি। কিশোরীকে তো স্কুলে যেতে হবে। আবার পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, অনেক কিশোরী চাকরি বা কাজ করছে। বাড়িতে কাজ করছে। বাড়িতে একজন কিশোরী কাজ করলে তার ওপর সহিংসতার পরিমাণ চিন্তার বাহিরে। এসব নিয়ে অনেক পরিসংখ্যান রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিক্স ২০১১ ও ২০১৫ সালে সমীক্ষা করেছে। ২০১৫- এর সমীক্ষা থেকে দেখা যায়, প্রায় ৪৩ শতাংশ কিশোরী, যারা বিবাহিত, তারা স্বামীর মাধ্যমে সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এই সহিংসতার ধরন মারপিট হতে পারে, আর্থিক হতে পারে, যৌন নির্যাতন হতে পারে। তাহলে দেখা যাচ্ছ, দুই জনের মধ্যে একজন বিবাহিত কিশোরী, তার জীবদ্দশায় সহিংসতার শিকার হয়। তাহলে, সেই নারী কোথায় যাবে? বা কোথায় রয়েছে ? চিন্তা করুন।

আর যারা বিবাহিত নয়, তারা যখন বাহিরে যাচ্ছে, তারা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। তারা পথের মধ্যে ধর্ষনের শিকার হয়। একজন দিয়ে নয়, দলবদ্ধ ধর্ষনের শিকার হতে দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় ধর্ষিতা নারীকে মেরে ফেলা হচ্ছে। মেরে তাকে, জমিতে বা পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। মেয়েটি যে একজন মানুষ সেটাই যেন আমরা ভুলে যাই। একজন নারী বা কিশোরী যে একজন মানুষ আমরা কেমন করে ভুলে যাই? নিজেদের প্রশ্ন করতে শিখতে হবে। তাই, এমন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সামাজিক পরিবর্তন দরকার। আমাদের নৈতিক চরিত্রের পরিবর্তন করতে হবে।

আবার একজন ধর্ষককে হয়তো আইনগতভাবে ধরা হল। আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে দেখতে পাচ্ছি। তবে তার শাস্তিটা কী হচ্ছে, সেটি কিন্তু জানতে পারছি না। শাস্তি না দেখানো হলে কিন্তু এসব অপরাধ কমবে না।

বাহিরের দেশগুলোতে দেখবেন, আপনি খুব দ্রুত গতিতে গাড়ি চালালে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলে ম্যাসেজ চলে আসে ' তুমি স্পিডে গাড়ি চালিয়েছো, তোমার ফাইন হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই টাকা না দিলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কাটা যাবে।' এটি হল শাস্তি।

এখন একজন মানুষ আরেকজনকে মেরে ফেললে তার কী শাস্তি হচ্ছে, আমরা কিন্তু জানতে পারি না। ধরা পড়া বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে, এই পর্যন্ত জানি। তবে তার শাস্তিটি জনসম্মুখে না দিতে পারলে অপরাধ বন্ধ হবে না।

আমাদের এই নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সবার দায়িত্ব এটি বন্ধ করা। কোনো অবস্থাতেই একজন নারীকে আমরা নির্যাতনের শিকার দেখতে চাই না।

তবে, এটিতো গেলে মারামারি-কাটাকাটি ধরনের সহিংসতা। এবার আরেকটি দিকও বলতে চাই। আরেকটি বিষয় হল, একজন নারীকে আমরা ১৮ বছরের আগে বিয়ে দিয়ে দিই। এটি একটি নির্যাতন। ১৮ বছরের আগে তাকে গর্ভধারণে বাধ্য করা হচ্ছে, এটি আরেক ধরনের নির্যাতন। গর্ভধারণের পর চারবার অ্যান্টিনেটাল কেয়ারে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, সেটি দেওয়া হচ্ছে না। তার বাড়িতে থাকা যে অভিভাবক, সে হয়তো বলছে 'আমাদের তো এভাবেই ১৪টা বাচ্চা হয়েছে, আমাদের তো হাসপাতালে যেতে হয় নাই। তোমাকে প্রথম বাচ্চাতেই এতো হাসপাতালে যেতে হবে কেন?' এটি বন্ধ করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, গর্ভাবস্থায় অন্তত পক্ষে চারবার চিকিৎসক দেখিয়ে চেকআপ বা অ্যান্টিনেটাল কেয়ার জরুরি। না হলে মেয়েটির মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়বে। আরেকটি বিষয় হল, মেয়েটির প্রসব বাড়িতে করা যাবে না। তার প্রসব একটি ক্লিনিক্যাল জায়গাতে করাতে হবে, যেখানে চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছেন। না হলে একেও নির্যাতন বলতে হবে।

সুতরাং, বাড়িতে যে অভিভাক রয়েছে (স্বামী, শাশুড়ি বা অন্যান্য) তাদের সবার দায়িত্ব হবে মেয়েটিকে সেবাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া।

সন্তান প্রসবের সময় কিশোরীর করুণ মৃত্যুর অনেক ঘটনা রয়েছে। এগুলো গল্প নয়। বাস্তব ঘটনা। মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়নি। বাড়িতে দাই দিয়ে প্রসব করানো হয়েছে। তবে ফুল পড়েনি। ফুল বের করতে নাড়ি ধরে টান দেওয়া হয়েছে। এতে রক্তপাত হয়ে মা মারা গেছে। আবার হয়তো খাঁমচি দিয়ে ফুল বের করা হল, কিছুক্ষণ পর মেয়েটি মারা গেলো। এসব হল নির্যাতন। এগুলো থেকে নারীকে বাঁচাতে হবে।

এসবের দায়িত্ব কিন্তু মেয়েটির পরিবারের। কারণ, সে তো একজন বাচ্চা মেয়ে। পরিবার তাকে ছোটবেলায় বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। তাকে সন্তান হওয়ার জন্য বাধ্য করছে। আবার চিকিৎসকের কাছেও নিয়ে যাচ্ছে না। তার পেছনে টাকা খরচ করতে চাইছে না। এগুলো সব নির্যাতনের সংজ্ঞায় পড়ে।

তাই সবার প্রতি ভীষণভাবে নিবেদন থাকবে, কিশোরীর যে প্রজনন স্বাস্থ্যের অধিকার, সেটি তাকে দিতে হবে। তার লেখাপড়া, ভালো খাবার খাওয়া, সেবা পাওয়ার অধিকার তাকে দেওয়া প্রয়োজন। না হলে আমরা অপরাধ করবো। নির্যাতনের পর্যায়ে আমাদের কাজটি পড়ে যাবে। তখন নির্যাতনের জন্য কোনো শাস্তি থাকলে, সেটি আমাদেরও হওয়া প্রয়োজন।

লেখক :
রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

তামাক সেবন প্রতিরোধে করণীয়ডা. হালিদা হানুম আখতারআমরা জানি, তামাক সেবন একটি প্রাণঘাতী বিষয়। বাংলাদেশে এর প্রকোপ অনেক। দ...
05/01/2026

তামাক সেবন প্রতিরোধে করণীয়
ডা. হালিদা হানুম আখতার

আমরা জানি, তামাক সেবন একটি প্রাণঘাতী বিষয়। বাংলাদেশে এর প্রকোপ অনেক। দেখা যাচ্ছে, ১৫ বছরের ওপরে প্রাপ্ত বয়স্ক যারা রয়েছে, তাদের ৩৫ শতাংশের বেশি ধূমপান করে বা তামাক গ্রহণ করে। এর মধ্যে পুরুষ ৪৬ শতাংশ, নারী ২৫ শতাংশ।

আমরা এটিও জানি, যারা তামাক গ্রহণ করছে, তাদের অর্ধেকের মৃত্যু হয়ে যায় বা মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক থাকে। পাশাপাশি রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। এই রোগের জন্য, তাদের চিকিৎসার জন্য যে ব্যয়, সেটা একটা বিরাট টাকার অংশ। যারা অতো ধনী নয়, তারা ভুগে ভুগে তাড়াতাড়ি মারা যায়। সুতরাং এটা বড় বিষয়। আবার যারা সেবা দিচ্ছে, তাদের জন্যও রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

তাহলে এখন আলোচনার বিষয়, একটি দেশে কীভাবে আমরা তামাক সেবন কমিয়ে নিয়ে আসতে পারি। কী কী পথ অবলম্বন করলে সেটি কমিয়ে নিয়ে আসা যায়।

তামাক প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, একটি দেশে কারা বেশি ধূমপান করছে, সে বিষয়ে সমীক্ষা করা। একে গ্যাটস বলা হচ্ছে। এটি জানার পরে কীভাবে তামাক গ্রহণ থেকে মানুষকে বের করে নিয়ে আসা যায়, অর্থাৎ কীভাবে ও কাদের কাউন্সেলিং করা যায় -এই বিষয়ে একটি নির্দেশনা তৈরি করা। যারা তামাক সেবন করছে, তাকে কোন পদ্ধতিতে এটি থেকে বিরত করা যায়, সেই বিষয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সাহায্য করা। তামাক সেবন একজন ব্যক্তির দেহে কত রকম ক্ষতি করছে, এটি তাকে জানানো।

আরেকটি হলো, যারা সিগারেট বা বিড়ি তৈরি করে, বিভিন্ন ধরনের তামাক সেবনের পথ তৈরি করে, তাদের যে বিজ্ঞাপন রয়েছে, সেগুলো কীভাবে কমিয়ে নিয়ে আসা যেতে পারে, সেটি চিন্তা করা। অন্য আরেকটি বিষয় হলো, সিগারেট বা বিড়ির ওপর বেশি কর বসানো হলে হয়তো এটি গ্রহণ কমিয়ে নিয়ে আসতে পারা যাবে।

এরকম কতগুলো বিষয় সারা পৃথিবী করছে। কেউ বেশি করছে, কেউ কম করছে। কিছু দেশ রয়েছে যারা সফল হয়েছে এবং এটি নিয়ে তারা অনেক এগিয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপনের গায়ে ঠিকই লেখা রয়েছে যে তামাক আপনার ক্ষতি করবে। তবুও সিগারেট বিক্রি হচ্ছে। এই বিক্রির বিষয়টা কমিয়ে নিয়ে আসা। গুল খেলে যে মুখে ক্যানসার হতে পারে, এটি মানুষকে বলতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে, তুমি এই সমস্যায় পড়তে পারো। তুমি অসুস্থ হয়ে পড়লে বাড়ি-ঘর বিক্রি করতে হতে পারে। সন্তানরা আরো গরিব হয়ে যাবে। এইসব তথ্যগুলো তামাক গ্রহণকারীর কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

আবার কর বাড়ালে হয়তো সরকারের লাভ হলো। একদম নিম্নবিত্তরা হয়তো কিনছে না। তবে একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এতে অনেকেই কম দামের জিনিস ব্যবহার করা শুরু করবে। এতে ক্ষতি। তাই ব্যক্তি বিশেষে তথ্য দিতে হবে, সাহায্য করতে হবে যেন তারা তামাক সেবন বন্ধ করে, সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকেও জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।

আমি নারী স্বাস্থ্যের মানুষ হিসেবে ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি কয়েকটি পর্যায় বা ভাগে দেখি। একটি হলো, ওই ব্যক্তি যে তামাক গ্রহণ করছে, সে নারী বা পুরুষ হোক, তাকে সাবধান করা। আরেকটি হলো, তার পরিবারে যারা রয়েছে, তাদের বিষয়টির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানানো। এরপর আশেপাশে যে কমিউনিটি রয়েছে, তারা নিজেরা সচেতন হবে এবং অন্যকে সতর্ক করবে। আরেকটি হলো প্রতিষ্ঠান। স্কুল-কলেজ ইত্যাদি। তারা জানবে এবং অন্যদের সচেতন করবে। এরপর হলো সরকার। সরকার তার নিজস্ব জনগণকে সুস্থ রাখার জন্য যে চেষ্টা করছে তার জন্য নির্দেশনা দিতে হবে। সেগুলো আবার সুষ্ঠুভাবে পালন হচ্ছে কিনা- এই বিষয়ে তদারকি করা প্রয়োজন।

স্কুলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বলা যায়, ‘তোমার পরিবারের ব্যক্তিদের তামাক সেবনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে বলবে। তাদের তুমি প্রেরণা দিবে এটি বন্ধ করার জন্য।’ সুতরাং এই শিক্ষার্থীদের আজকে তথ্যটা দিলে তারা সবসময় এটি নিয়ে কাজ করবে। আবার পরিবারের লোকদেরও বলতে হবে।

অনেকে তামাককে হালকা জিনিস মনে করে। তবে এটি যে ক্ষতিকর ও প্রাণঘাতী সেটা বোঝাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার ও আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।

রাস্তাঘাটে সিগারেটের যে বড় বড় ব্যানার দেয়, এর পাশাপাশি তামাক গ্রহণের ক্ষতিকর দিকগুলোর ছবিও দিতে হবে। এগুলো সাধারণ দেখা যায় না।

তামাক প্রতিরোধে ব্যক্তি, কমিউনিটি, প্রতিষ্ঠান ও সরকারকে দায়িত্ববান হতে হবে। সরকারকে সচেতন করতে হবে এবং সরকারের কাছে দাবিও জানাতে হবে এগুলো প্রতিরোধে।
বলতে হবে, ‘সিগারেট বা তামাক খেও না। তাহলে তোমার শরীরে যে ক্ষতি হবে, সেটি অপূরণীয়’।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন ডা. হালিদা হানুম আখতারজরায়ুমুখের ক্যানসার নারীর ক্যানসারের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে ...
05/01/2026

জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে ভ্যাকসিন
ডা. হালিদা হানুম আখতার
জরায়ুমুখের ক্যানসার নারীর ক্যানসারের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। নারীর জরায়ুর নিচে একটি মুখ থাকে। সেখানে ক্যানসার হতে পারে।

এটি সাধারণত হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভি- এর সংক্রমণে হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি বিজ্ঞান এতো এগিয়েছে, এইচপিভির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে সুখকর খবর হচ্ছে, আমরা বাংলাদেশে এই ভ্যাকসিন নিয়ে এসেছি। ইপিআই-এর মাধ্যমে এটি দেওয়া হয়।

নয় থেকে চৌদ্দ বছর বয়স পর্যন্ত যে মেয়েরা রয়েছে তাদের একটি ডোজ টিকা দিলে, তার জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধ হয়। আবার ২৬ বছর পর্যন্ত যারা রয়েছে, টিকা নেয়নি, ক্যানসার হয়নি, তারাও তিন ডোজ নিলে ক্যানসারটি প্রতিরোধ করা যায়।

যেকোনো ক্যানসার বেশি হলে ভোগান্তি বাড়ে, পরিবারের অনেক টাকা খরচ হয় এবং রোগীরও কষ্ট বাড়ে। তাই, নারীরা সময় থাকতেই এই ভ্যাকসিন নিয়ে নিজেকে সুরক্ষিত রাখুন এবং ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতন হন।

লেখক :
রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।

ডায়াবেটিস: নারী স্বাস্থ্যের ঝুঁকি ও প্রতিকারডা. হালিদা হানুম আখতারডায়াবেটিস সম্পর্কে আমাদের একটি ধারণা রয়েছে যে, এটি একট...
05/01/2026

ডায়াবেটিস: নারী স্বাস্থ্যের ঝুঁকি ও প্রতিকার
ডা. হালিদা হানুম আখতার

ডায়াবেটিস সম্পর্কে আমাদের একটি ধারণা রয়েছে যে, এটি একটি রোগ। হ্যাঁ, এটি একটি রোগ। এটি দেহের একটি মেটাবলিক সমস্যা। শুধু রোগ নয়, এর সঙ্গে যে সমস্যা হয়, সেখান থেকে বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাই, এটি একটি ক্ষতিকারক রোগ। এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এর আরেকটি দিক রয়েছে, এটি জনস্বাস্থ্যের একটি রোগ।

কেন এটি বলছি? ডায়াবেটিস বাড়ে-কমে বা হয়, এর কয়েকটি দিক রয়েছে। যেমন, আমার জীবন-যাপনটা কী রকম, আমি ব্যায়াম করছি কি না, আমি খাবারকে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রাখছি কি না, আমি অতি মাত্রায় শর্করা খাচ্ছি কি না-এসব বিষয় এই রোগে জরুরি ভূমিকা পালন করে।

আবার এই রোগে একজন ব্যক্তি ও পরিবারের আর্থ সামাজিক অবস্থার ওপরও নির্ভর করে। কারণ, এর সঙ্গে তার ব্যবহারিক দিকটা, তার জীবন অতিবাহিত করার যে বিষয়টি তার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

তার রোজগার, তার বাসস্থান, তার শিক্ষা, চিকিৎসা করার সামর্থ্য, তার রোজগার, সে পুষ্টিকর খাবার খেতে পারছে কি না, না কি সে অন্য ধরনের খাবার খাচ্ছে। এসব বিষয়ের সঙ্গে ডায়াবেটিসের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।

আরেকটি হলো, অসুখটা হয়েই গেলে এর জন্য যে পরীক্ষা বা নিয়মিত চেকআপ করতে হয়, তার জন্য অর্থের প্রয়োজন। আবার ডায়াবেটিস অন্য অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করলো কি না, এটি বুঝতে হলেও অর্থের দরকার। সেই টাকা ব্যক্তিটির কাছে রয়েছে কি না সেটি বুঝতে হবে। এর ওপর তার ডায়াবেটিসের সার্বিক ব্যবস্থাপনাটা নির্ভর করে। সুতরাং এটি একটি ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়।

কারণ, আমরা দেখেছি, যারা দরিদ্র, তাদের মধ্যে যে অসমতাটা রয়েছে, তা হলো, খাদ্য বা তার চিকিৎসা নেওয়ার অবস্থান যেটি এগুলোর ওপর নির্ভর করে। পাশাপাশি তার শিক্ষার ওপরও নির্ভরশীল। সে শিক্ষিত একটি ব্যক্তি হলে তাকে আমরা সচেতন করতে পারি, যেন সে রোগ নির্ণয় করে আগেই জানতে পারে এবং প্রতিরোধ করতে পারে। এর চিকিৎসার মাধ্যমে অন্য কোনো জটিলতা যেন না হয়, সেই বিষয়টি সে বুঝতে পারবে। সুতরাং এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

কারণ, আমরা দেখেছি যে ডায়াবেটিস শুধু একটি ব্যক্তিকেই আক্রান্ত করে না, তার পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ, এটি যখন একটি ব্যক্তির পরিবারের অর্থটি ধরে টান দেয়, সেটা তার পরিবারের জন্য একটি বিরাট ব্যয়বহুল বিষয়।

আবার অনেক সময় দেখা যায়, তার হার্টে সমস্যা হয়ে গেলো। কারণ, আমরা জানি ডায়াবেটিস হার্টকেও আক্রান্ত করে। অথবা তার চোখ ও কর্নিয়া আক্রান্ত হয়। হয়তো তার কিডনির সমস্যা হয়ে গেলো। তো কোনো কিছু জটিল হয়ে পড়লে, সেটি ঠিকঠাক করা ভীষণ ব্যয়বহুল হয়ে যায়।

যারা অর্থবান তারা ব্যয় করে চিকিৎসা করে ভালো হয়ে যেতে পারে; একটা সমান অবস্থায় আসতে পারে। তবে যারা দরিদ্র, তাদের জন্য এটি একটি বিরাট বিষয় হয়ে যায়। অর্থের অভাবে সম্পূর্ণ চিকিৎসা করা জটিল হয়ে পড়ে। সুতরাং এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।

যারা দরিদ্র, তাদের ক্ষেত্রে যে জটিলতা হয়, সেটি হলো, চিকিৎসা না করতে পারলে, এটি দেহের অন্য অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে, প্রভাবিত করে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে নিয়ে যায়।

আমরা জানি, ডায়াবেটিস হলে মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি থাকে। উন্নত দেশগুলোতে আমরা দেখেছি, ১০ ডলারের মধ্যে এক ডলার ডায়াবেটিসের জন্য ব্যয় হয়। কারণ, এর অনেক জটিলতা হয়ে যায়। এটিও দেখা গেছে যে, ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ব্যয়ভারটা দ্বিগুণ। সুতরাং এটা বিরাট একটি ক্ষয়জনিত রোগ, যেটি পরিবার, ব্যক্তি ও তার আর্থিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

সুতরাং এর জন্য আমরা একে বলি, এটি একটি জনস্বাস্থ্য রোগ। তাই এই বিষয়ে জ্ঞান থাকা দরকার। সবাই মিলে এর প্রতিরোধ করা, এটি নির্ণয় করে পরিবারের কারো জন্য যেন ক্ষতিকর না হয়, এরকম একটি ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে ২০১১ থেকে ২০১৭ এর মধ্যে নারী-পুরুষের ডায়াবেটিসের প্রাধান্য বেড়ে গেছে। ছিলো ১১ বা ১২ দশমিক শতাংশ, সেটি বেড়ে গিয়ে ছয় বছরে ১৪ শতাংশ হয়েছে। আরেকটি জিনিস হলো, দশজন নারী পুরুষের মধ্যে ছয়জনই জানে না, তার ডায়াবেটিস রয়েছে কি না। এটি আরো সাংঘাতিক বিষয়। আমি জানলে তো চিকিৎসা করতে পারি। খাবার খাওয়া, ব্যায়ামের মাধ্যমে আমার ডায়াবেটিসকে কমিয়ে রাখতে পারি।

তবে যে জানেই না, অসুস্থ সে কীভাবে নিজেকে প্রতিরোধ করতে পারবে? তো এই অজানা বিষয়টিও তার জন্য বিরাট বড় চিকিৎসার অভাব, জ্ঞানের অভাব, তার শিক্ষা ও অর্থের অভাব, তার সচেতনতার অভাব। এসব কারণে সে রোগটিকে ধরে বসে রয়েছে। অনেকে জানেও না, তার এই রোগটি হয়েছে। এটি স্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য দুটোর ক্ষেত্রেই শঙ্কার বিষয়।

আরেকটি জিনিস আমি দেখেছি, নারীর ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসটা একটি বয়সে পুরুষের তুলনায় বেশি হয়। নারী সাধারণত পরিবারের দ্বিতীয় স্থানের ব্যক্তি, তার হাতে পয়সা থাকে না, তার হাতে সময় থাকে না, ঘর-সংসার চালাতে হয়। সে কোন চিকিৎসকের কাছে যাবে, কখন যাবে সেটি সে জানে না। যাওয়ার জন্য যে অর্থের সংকুলান দরকার, সেটিও নেই। এই জন্য চিকিৎসা সেবার আওতায় নারীরা কম আসে। তাই জটিলতা বেশি হয়। এসব কারণে তাদের মৃত্যু বেশি হয়ে থাকে।

সুতরাং নারীর এই রোগটি হলে ভোগান্তিটা বেশি হয়। এই বিষয়টি আমাদের সবারই জানা দরকার। বিশেষ করে নারীদের আরেকটি বিষয় রয়েছে, নারীর মধ্যে শিক্ষার যে অভাব রয়েছে, সেটিও তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে। পুরুষদের মধ্যে আবার দেখা গেছে, যারা বিত্তশালী তাদের ব্যবহারিক দিকের কারণে ডায়াবেটিস বেশি হয়।

সুতরাং নারী-পুরুষের কিছু পার্থক্য রয়েই গেছে, যেটি আমাদের জানা দরকার। এবং আমরা জনস্বাস্থ্য ও সচেতনতা সৃষ্টি করার সময় তথ্য দিলে আমরা দলটিকে আলাদা করতে পারবো। তাহলে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও ব্যবস্থা গ্রহণে তাদের আরো বেশি সচেতন করতে পারা যাবে।

সুতরাং ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ হলো, যেখানে আমার জ্ঞান থাকতে হবে; আমাকে সচেতন থাকতে হবে; আমার আর্থ-সামাজিক অবস্থান থাকতে হবে; আমার শিক্ষা থাকতে হবে; এসব মিলিয়ে সচেতনতা থাকলে ডায়াবেটিসকে নিয়ে ভুগতে হবে কম। ডায়াবেটিসকে আমার আওতার মধ্যে রাখতে পারবো। এটি নিয়েই মানুষকে অনেকদিন বাঁচতে হয়। তবে শরীরচর্চা ও সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মধ্য দিয়ে যেতে পারলে ডায়াবেটিস নিয়েও অনেকদিন টিকে থাকা যায়।

এই বিষয়ে আমাদের সবার কর্তব্য হলো, পরিবারের সবাইকে সচেতন করা, যেন ডায়াবেটিস হলে, তারা সঙ্গে সঙ্গে ধরতে পারে।

লেখক : রোকেয়া পদকে ভূষিত বিশিষ্ট নারী ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ

Address

Dhaka
1215

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Halida Hanum Akhter posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category