05/05/2026
★★জরায়ু-মুখ ক্যান্সার ভ্যাক্সিন (Cervical Cancer vaccine)"★★
ক্যান্সারের নাম শুনলেই শুরু হয় আমাদের বুক দুরু দুরু!
তাও আবার জরায়ু মুখ ক্যান্সার (Cervical Carcinoma)!
এর নাম ও এর ভয়াবহতা সম্বন্ধে আমরা আজকাল সবাই কমবেশি শুনেছি, জেনেছি।
আনন্দের কথা হলো, এই ভয়াবহ ক্যান্সারের ভ্যাক্সিন ও এখন আমাদের হাতের মুঠোয় :)
এর তার কাছে শোনা, কিম্বা পুরোটা না জানার কারনে এই ভ্যাক্সিন এর দেবার গুরুত্ত, উপযোগিতা, সঠিক বয়স, কার্যকরীতা নিয়ে সবার জ্ঞানই প্রায় ভাসা ভাসা।
জরুরী কিছু অজানা/ভুল জানা তথ্যকে সম্পুরন করতেই তাই আজকের এই পোস্ট।
★★ কোন বয়সী নারীদের জন্য এই ভ্যাক্সিন?
-- মূলত ১৫-২৯ বয়সী যেকোনো অবিবাহিত(যৌন অভিজ্ঞতা হয়নি) নারীদের জন্য এই ভ্যাক্সিন কার্যকর।
১৫ বছরের আগে কিম্বা যৌন অভিজ্ঞতার পরে এই ভ্যাক্সিনের কার্যকারীতা কমে যায়।
তবে, ২৯+ বয়সী যেকোনো অবিবাহিতা নারী বিবাহের আগে এই ভ্যাক্সিন নিতে পারেন।
★★ কোন ধরনের অসুখ/কারন থাকলে নারীদের জন্য এই ভ্যাক্সিন নেয়া ঝুঁকিপূর্ণ?
-- গর্ভাবস্থায়।
-- অতিরিক্ত এলার্জি সমস্যা।
-- দীর্ঘ মেয়াদী রোগে অতিরিক্ত অসুস্থ রোগী।
-- শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অতিরিক্ত কম।
এসব রোগিদের ক্ষেত্রে নিজ নিজ রোগের চিকিতসা করে ভ্যাক্সিন নিতে পারবেন।
★★ এই ভ্যাক্সিন কি প্রতিটি নারীর নেয়া জরুরী?
-- যদি শারীরিক ভাবে সুস্থ থাকেন ও ভ্যাক্সিন নেবার বয়সে, অবস্থায় থাকেন তবে নিয়ে নেয়া ভালো।
★★ বিবাহিত ও সন্তান জন্ম দেবার পর কি এই ভ্যাক্সিন নেয়া যাবে?
-- যৌণ অভিজ্ঞতার পর বিবাহিত যেকোনো বয়সী নারী এই ভ্যাক্সিন নিতে পারবেন, তবে প্রয়োজনীয় টেস্ট করিয়ে। Pap's Smear টেস্ট করিয়ে আমরা বুঝে নেই, জরায়ুমুখে এখনো ক্যান্সার নেই কিন্তু ঝুঁকি আছে। তারা দিয়ে নিতে পারেন। অবশ্যই কার্যকরী হবে।
নারীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার (Cervical Cancer) সাধারণত হঠাৎ করে হয় না—ধীরে ধীরে কয়েক বছর ধরে ঝুঁকি বাড়ে।
ঝুঁকি বাড়ার বয়স
২৫ বছর বয়সের পর থেকে ঝুঁকি ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে
৩০–৪৫ বছর বয়সে ঝুঁকি বেশি দেখা যায়
তবে যে কোনো বয়সেই হতে পারে, বিশেষ করে যদি ঝুঁকির কারণগুলো থাকে
কেন এই বয়সে ঝুঁকি বাড়ে?
মূল কারণ হলো Human Papillomavirus (HPV) নামের ভাইরাস। এটি দীর্ঘদিন শরীরে থাকলে কোষে পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
★★ কাদের জন্য এই ভ্যাক্সিন নেয়া খুব'ই জরুরি?
-- পরিবারে মা, বোন, নানী, দাদী, খালা, ফুফু যেকারো এই ক্যান্সার আক্রান্ত হবার ইতিহাস আছে, তাদের জন্য খুব জরুরি! কারন, ক্যান্সারের জিন বংশগতিতে পরের প্রজন্মে ছড়ায়।
-- বছরে ৩-৪ বার যোনিপথ ইনফেকশন (প্রচুর সাদা/হলুদ স্রাব যাওয়া, মাসিকের পথে চুলকানি হওয়া)। প্রচুর ইউরিন ইনফেকশন হয় তারা সবাই।
-- জরায়ু ইনফেকশন, টিউমার, Adenomyosis, Endometriosis, Cervicitis এসব রোগ আছে ও চিকিৎসাধীন আছেন।
-- ব্রেস্ট টিউমার, ইনফেকশন।
Fibroadenoma, Fibrocystic disease ইত্যাদি রোগ আছে কিম্বা রোগের ইতিহাস আছে।
-- পরিবারের যেকোনো সদস্যের ক্যান্সার আক্রান্ত হবার ইতিহাস আছে। কিম্বা আপনার নিজের শরীরে অন্য কোনো ক্যান্সারের ইতিহাস আছে।
★★ ভ্যাক্সিন এর ডোজ কয়টি?
-- ৩টি
0 -- ১ম ডোজ।
1 -- ২য় (১ম টির ১মাস পর)
2 -- ৩য় (১ম টির ৬মাস পর)
★★ ভ্যাক্সিনের নাম কি?
-- Inj. Papillovax.
(এটা আমাদের দেশের মেডিসিন কোম্পানি Incepta Pharma তৈরি করছে এখন। এবং সুলভ মূল্য বিভিন্ন বেসরকারি হাস্পাতাল, ক্লিনিক, চিকিৎসক এর চেম্বারে পৌছে দিচ্ছে)
অন্যান্য কোম্পানির বিভিন্ন নামেও ভ্যাক্সিন আছে। তবে, সেগুলির দাম এর চেয়ে বেশি। সর্বসাধারণের সাধ্যের মধ্যে নয়।
★★ কোথায় পাওয়া যাবে এই ভ্যাক্সিন??
-- সরকারী পর্যায়ে এই ভ্যাক্সিন এখনো আমাদের দেশে আসেনি। দেয়া সম্ভব নয়।
-- বেসরকারিভাবে ঢাকা ও বিভিন্ন বিভাগীয় জেলা শহরের বড়, নামী হাস্পাতালে ও ব্যাক্তি উদ্যোগে বিভিন্ন গাইনি চিকিৎসকের নিজ চেম্বারে দেবার ব্যাবস্থা আছে।
★★★
আমার মালিবাগ মেডিনোভা চেম্বারে জরায়ু মুখ ক্যান্সার ভ্যাক্সিন, হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ভ্যাক্সিন, টিটেনাস ভ্যাক্সিন দেবার সুব্যবস্থা আছে।
যারা দিতে আগ্রহী, নিজ দায়িত্বে যোগাযোগ করে নিয়ে নিতে পারেন।
★★ কোনো সাইড ইফেক্ট/জটিলতা আছে কি?
-- যেকোনো ভ্যাক্সিন নিলে স্কিনে র্যাশ, জর এধরনের কিছু হাইপারসেন্সিটিভিটি রিএকশন হতে পারে কারো কারো।
-- উপরে উল্লেখিত কোনো রোগী এই ভ্যাক্সিন নিলে এসব স্বাভাবিক জটিলতা হতে পারে, এছাড়া অন্য কোনো ধরনের জটিলতার সম্ভাবনা নেই।
নারীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার (Cervical Cancer) সাধারণত হঠাৎ করে হয় না।
ধীরে ধীরে কয়েক বছর ধরে ঝুঁকি বাড়ে।
★★ ঝুঁকি বাড়ার বয়স--
২৫ বছর বয়সের পর থেকে ঝুঁকি ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে।
৩০–৪৫ বছর বয়সে ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। তবে যে কোনো বয়সেই হতে পারে, বিশেষ করে যদি ঝুঁকির কারণগুলো থাকে।
★★ কেন এই বয়সে ঝুঁকি বাড়ে?
মূল কারণ হলো,
Human Papillomavirus (HPV) নামের ভাইরাস। এটি দীর্ঘদিন শরীরে থাকলে কোষে পরিবর্তন ঘটিয়ে ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে।
★★ ঝুঁকি বাড়ার কারণ--
-- অল্প বয়সে বিয়ে/যৌন জীবন শুরু করা।
-- একাধিক যৌন পার্টনার।
-- বারবার সন্তান নেওয়া।
-- নিয়মিত স্ক্রিনিং(চেক আপ, টেস্ট) না করা।
-- ধূমপান এর বদভ্যাস।
-- শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা।
আশা করি, জরায়ুমুখ ক্যান্সারের ভ্যাক্সিন সম্বন্ধে আমাদের অনেক প্রশ্ন, ভুল ধারনার জবাব আমরা পেয়ে গেছি।
যা আমরা জানলাম, অন্যদের'ও জানাবো...
সমাজকে এই ক্যান্সার মুক্ত রাখতে আমাদের অল্প এইটুকু সচেতনতাই যথেস্ট। :)
সবাই ভালো থাকুন।
সুস্থ থাকুন।
শুভকামনা 😊
ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।
এডমিন
Hello Audity....