06/06/2026
★★★ হিটস্ট্রোক (Heat- Stroke)
গত ১০ বছরের মাঝে আজ ছিলো রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা (৪০.৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট)
নাতিশীতোষ্ণ দেশের এই জলবায়ুর পরিবর্তন ও অতিমাত্রায় গরমের জন্য আমাদের অপরিকল্পিত নগরায়ন, শহরে সবুজ ও প্রকৃতির স্বাভাবিক রূপ নষ্ট করা, দূষিত গ্যাসের ব্যবহার বৃদ্ধি ও সামগ্রিক অসচেতন...
অতিমাত্রায় দায়ী।
তীব্র দাবদাহে জনজীবন অতিষ্ঠ, ভোগান্তির শেষ নেই।
সময়ের সাথেই যেনো পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরম। গরম এতো তীব্রতর হচ্ছে যে, হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।
💥তার আগে জেনে নেই #হিটস্ট্রোক_কি?
আমাদের শরীরের রয়েছে নির্দিষ্ট তাপধারণ ক্ষমতা। যখন সেই নির্দিষ্ট ক্ষমতার চেয়ে বেশি তাপ অর্থাৎ ১০৫°F এর বেশি শরীর অতিক্রম করে, তখন অতিরিক্ত তাপের কারনে মানুষ অজ্ঞান হয়ে যায়, অসংলগ্ন আচরণ করে অথবা কোমায় চলে যেতে পারে।অল্প কথায় এটাই "হিটস্ট্রোক"।
🔴 #কিভাবে_বুঝবেন_হিটস্ট্রোক_হতে_যাচ্ছে?
হিট-স্ট্রোকের পূর্বে শরীর দুইটা ধাপ অতিক্রম করে।
1⃣শরীরের মাংসপেশিতে ব্যথা হয়, শরীর দুর্বল লাগে এবং প্রচণ্ড পিপাসা পায়।
2⃣এর পরের ধাপে শরীর তাপমাত্রার উপর নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকলে দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস, মাথাব্যথা, ঝিমঝিম করা, বমিভাব, অসংলগ্ন আচরণ ইত্যাদি দেখা দেয়।
এই দুই ক্ষেত্রেই শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ ঠিক থাকে এবং শরীর অত্যন্ত ঘামতে থাকে। এ অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে হিট স্ট্রোক হতে পারে।
#হিটস্ট্রোকের_লক্ষণ_কি_কি?
🚩রোদে বেশিক্ষণ থাকার ফলে তীব্র মাথাব্যাথা,বমিবমি ভাব ও বমি হতে পারে।
🚩শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত ১০৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যায়।
🚩মাংসপেশিতে ব্যাথা অনুভব হয়।
🚩রক্তচাপ কমে যায়।
🚩ত্বক শুষ্ক ও লালচে হয়ে যায়।
🚩প্রস্রাবের পরিমান কমে যায়।
🚩নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দ্রুত হয়।
🚩নিশ্বাস দ্রুত হয়।
🚩ঘাম বন্ধ হয়ে যায়।
🚩খিঁচুনি, মাথা ঝিমঝিম করা, অস্বাভাবিক আচরণ, হ্যালুসিনেশন, অসংলগ্নতা ইত্যাদি।
🚩রোগী শকে চলে যায়। এমনকি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।
🚩রোগী কোমায় যেতে পারে।
✅ #হিটস্ট্রোকের_লক্ষণ_দেখা_দিলে_যা_করবেন-
➡দ্রুত শীতল কোনো স্থানে চলে যেতে হবে। সম্ভব হলে, ফ্যান বা এসি ছেড়ে ঘরের তাপমাত্রা কমাতে হবে।
➡ বার বার ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন। সম্ভব হলে গোসল করুন।
➡প্রচুর পানি ও খাবার স্যালাইন পান করুন।
💥 #হিটস্ট্রোকে_আক্রন্ত_রোগীর_প্রাথমিক_চিকিৎসা-
✅আক্রান্ত ব্যাক্তিকে দ্রুত শীতল স্থানে নিয়ে যেতে হবে
✅আক্রান্ত ব্যাক্তির শরীরের কাপড় খুলে দিতে হবে বাতাস চলাচলের জন্য।
✅ শরীর ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে দিয়ে বাতাস করতে হবে। এভাবে অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমাতে হবে।
✅সম্ভব হলে কাঁধে, বগলে ও কুচকিতে বরফ দিতে হবে।
✅ রোগীর জ্ঞান থাকলে তাঁকে খাবার স্যালাইন পান করাতে হবে।
✅অ্যাম্বুলেন্সে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
✅সব সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, হিট স্ট্রোকে অজ্ঞান রোগীর শ্বাসপ্রশ্বাস এবং নাড়ি চলছে কি না।
✅প্রয়োজন হলে কৃত্রিমভাবে নিশ্বাস ও নাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করতে হতে পারে।
🔥 #হিটস্ট্রোক_হতে_রেহাই_পেতে-
❌কোমল পানীয় এবং চা কফি পান করা যাবেনা।
❌সরাসরি সূর্যালোকে কাজ করা যাবেনা।
❌বিরিয়ানি, রিচ ফুড,তেল মসলাদার খাবার বাদ দিয়ে সাদা ভাত,মাছ,সব্জি -ফলমূল বেশি খেতে হবে।❌দুপর ১২ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত বাইরে বের হওয়া উচিৎ না।বাইরে বের হতে সাদা কাপড় ও ছাতা ব্যবহার কতে হবে।
💥 #কাদের_হিটস্ট্রোকের_ঝুকি_বেশিঃ
★বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যাক্তি,
★যাদের শরীরের ওজন বেশি,
★যাদের হার্টের বা ফুসফুসের সমস্যা আছে,
★শিশু এবং ছোট্ট বাচ্চা,
★গর্ভবতী মহিলা বিশেষ করে যাদের শরীরে লবন পানির স্বল্পতা রয়েছে।
★যারা রোদে শারীরিক পরিশ্রম করে।
★কিছু কিছু ওষুধ,যেমনঃ প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ, মানসিক রোগের ঔষধ, বিষন্নতার ঔষধ হিট-স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
সবাই সাবধানে থাকুন, সুস্থ থাকুন।
হিট স্ট্রোক হতে নিজে বাঁচুন ও অন্যকে সচেতন করুন।
ডা: নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
১৫ এপ্রিল, ২রা বৈশাখ।
(মূল লেখা- ডা: মাহফুজা।
পরিমার্জিত)
ডা. নাজিয়া বিনতে আলমগীর।
গাইনি ও প্রসূতি বিদ্যা আলোচক, সার্জন।