14/07/2026
©হানাফী ফিকহ
তাবিজ নিয়ে বিতর্ক: কুরআন, হাদিস ও ফুকাহায়ে কেরামের দৃষ্টিতে শরয়ী বিধান
বিষয়টি যথাযথভাবে অনুধাবনের জন্য আলোচনাটি কয়েক ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে—
১. শিরক
২. রুকইয়া
৩. তাবিজ ও তামীমাহ
▪ শিরক
ঈমান ভঙ্গের অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে শিরক করা। আল্লাহ তাআলার সত্তা বা গুণাবলিতে অন্য কাউকে অংশীদার সাব্যস্ত করাকেই শিরক বলা হয়।
যাত বা সত্তাগত শিরক বলতে বোঝায়—আল্লাহর সঙ্গে অন্য কাউকে উপাস্য বা ইলাহ হিসেবে বিশ্বাস করা। যেমন, অগ্নিপূজারীরা দুইজন উপাস্য বা স্রষ্টায় বিশ্বাস করার কারণে মুশরিক হয়েছে। আবার মূর্তিপূজারীরা বহু উপাস্যকে বিশ্বাস করার কারণে মুশরিক হিসেবে গণ্য হয়েছে।
সিফাত বা গুণাবলীতে শিরক হলো—আল্লাহ তাআলার যেসব বিশেষ গুণাবলি রয়েছে, সেগুলোর কোনো একটি অন্য কারো জন্যও আল্লাহর মতো করে সাব্যস্ত করা। যেমন কাউকে রিযিকদাতা, সন্তানদাতা, সুস্থতাদানকারী ইত্যাদি মনে করা। কারণ, কোনো সৃষ্টিজীব—সে ফেরেশতা হোক, নবী হোক, ওলি হোক, শহীদ হোক, পীর হোক বা ইমাম—কারো মধ্যেই আল্লাহ তাআলার গুণাবলির ন্যায় কোনো গুণ থাকতে পারে না।
এ ধরনের শিরককে শিরকে আকবর (বড় শিরক) এবং শিরকে জালী (সুস্পষ্ট শিরক) বলা হয়। এরূপ শিরকে লিপ্ত ব্যক্তি ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায়। শিরকে আকবর বা শিরকে জলীর বহু রূপ রয়েছে। যেমন—যে ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তাআলার প্রাপ্য, তাতে অন্য কাউকে শরিক করা; এমন বিষয়ে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা, যা স্বাভাবিক উপায়-উপকরণের ঊর্ধ্বে; কোনো উপায়-উপকরণ বা সৃষ্ট বস্তুকে তার স্রষ্টার মর্যাদা ও ক্ষমতার অধিকারী মনে করা; কিংবা আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতি ছাড়াই কোনো সৃষ্টি স্বতন্ত্রভাবে উপকার বা ক্ষতি করতে পারে—এমন বিশ্বাস পোষণ করা। এসবই শিরকে জলীর অন্তর্ভুক্ত এবং ইসলামে মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গণ্য।
শিরকের আরেকটি প্রকার হলো ‘শিরকে আসগার’ বা ‘শিরকে খফী’। এর অর্থ হলো—কোনো ইবাদত বা নেক আমল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য না করে মানুষের প্রশংসা, সুনাম বা অন্য কোনো পার্থিব স্বার্থ অর্জনের উদ্দেশ্যে করা। যেমন, মানুষ যেন তাকে নেককার, মুত্তাকি বা পরহেজগার মনে করে—এ উদ্দেশ্যে ইবাদত করা, অথবা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও সন্তুষ্টিকে উদ্দেশ্য বানিয়ে কোনো আমল করা।
হাদীসে এ ধরনের কাজকে ‘শিরকে খফী’ (গোপন শিরক) বা ‘শিরকে আসগার’ (ছোট শিরক) বলা হয়েছে। এ ধরনের শিরক মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয় না; তবে এটি মারাত্মক কবিরা গুনাহ। এর ফলে আমলের সওয়াব নষ্ট হয়ে যায় এবং ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কঠিন জবাবদিহির সম্মুখীন হয়। তাফসীরে ইবনে কাসীর ৫/২০২, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩/১৪৬৬, মারেফুল কুরআন, কান্ধলভী ৫/৩৭, আল মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ৬/৫৫, রদ্দুল মুহতার ৬/৪২৫,
আল্লাহর নিকট সর্বাধিক ঘৃণ্য, জঘন্য ও ক্ষমার অযোগ্য পাপ হলো শিরক। এটি এমন এক মহাপাপ, যা মানুষের সকল নেক আমলকে ধ্বংস করে দেয় এবং তাওবা ব্যতীত মৃত্যুবরণ করলে জান্নাতকে তার জন্য হারাম করে দেয়। পবিত্র কুরআনে হযরত লুকমান আলাইহিস সালামের তাঁর পুত্রকে প্রদত্ত মূল্যবান উপদেশসমূহ বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। সেই উপদেশের সর্বপ্রথম বিষয়ই ছিল—শিরক থেকে বেঁচে থাকা। তিনি বলেন—
وَإِذْ قَالَ لُقْمَانُ لِابْنِهِ وَهُوَ يَعِظُهُ يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
অর্থ: “স্মরণ করুন, যখন লুকমান উপদেশ দিতে দিতে তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, ‘হে আমার প্রিয় পুত্র! আল্লাহর সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। নিশ্চয়ই শিরক মহা জুলুম।’” সূরা লুকমান, ৩১:১৩
অন্যত্র আল্লাহ তাআলা আরও ইরশাদ করেন—
إِنَّهُ مَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنْصَارٍ
অর্থ: “নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, আল্লাহ তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন। তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম, আর জালিমদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না।” সূরা আল-মায়িদা, ৫:৭২
আরেক আয়াতে আল্লাহ তাআলা শিরকের ভয়াবহতা সম্পর্কে ঘোষণা করে বলেন—
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَنْ يَشَاءُ ۚ وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدِ افْتَرَىٰ إِثْمًا عَظِيمًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরিক করাকে ক্ষমা করেন না। তবে এর বাইরে অন্যান্য গুনাহ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে, সে তো এক মহাপাপের অপবাদ রচনা করল।” সূরা আন-নিসা, ৪:৪৮
শিরক যেমন আল্লাহ তাআলার নিকট সর্বাধিক ঘৃণিত ও জঘন্য পাপ, তেমনি কোনো তাওহীদে বিশ্বাসী মুসলিমকে অযথা মুশরিক বা কাফির বলে অপবাদ দেওয়াও অত্যন্ত ভয়াবহ অপরাধ। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি কোনো হালকা বিষয় নয়; বরং এমন একটি গুরুতর অভিযোগ, যার পরিণতি অত্যন্ত মারাত্মক। তাই কাউকে শিরক বা কুফরের সাথে সম্পৃক্ত করার আগে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহার্য।
এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
أَيُّمَا امْرِئٍ قَالَ لِأَخِيهِ: يَا كَافِرُ، فَقَدْ بَاءَ بِهَا أَحَدُهُمَا، إِنْ كَانَ كَمَا قَالَ، وَإِلَّا رَجَعَتْ عَلَيْهِ
অর্থ: “যে ব্যক্তি তার (মুসলিম) ভাইকে ‘হে কাফির!’ বলে, এ কথাটি অবশ্যই দুজনের একজনের ওপর বর্তাবে। যদি যাকে বলা হয়েছে সে বাস্তবেই কাফির হয়, তাহলে তা ঠিক আছে; অন্যথায় এ অভিযোগই অভিযোগকারীর দিকেই ফিরে যাবে।” সহীহ মুসলিম, হাদিস: ৬০; সহীহ বুখারী, হাদিস: ৬১০৪
▪ রুকইয়া
জাহেলিয়াত যুগে রোগ-ব্যাধি নিরাময়ের জন্য বিভিন্ন কুসংস্কারাচ্ছন্ন পদ্ধতির প্রচলন ছিল। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ঝাড়ফুঁক (الرُّقْيَة)। অর্থাৎ, কিছু মন্ত্র বা বাক্য পাঠ করে রোগীর শরীরে ফুঁ দেওয়া বা দম করা। সে যুগে এ ধরনের ঝাড়ফুঁকের ব্যাপক প্রচলন ছিল। বিভিন্ন রোগ ও সমস্যার জন্য আলাদা আলাদা মন্ত্র ব্যবহার করা হতো—সাপে কাটা রোগীর জন্য এক মন্ত্র, জ্বরের জন্য আরেক মন্ত্র, বদনজর থেকে বাঁচার জন্য ভিন্ন মন্ত্র, এমনকি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করার জন্যও বিশেষ মন্ত্র পাঠ করা হতো।
আরবিতে এ ধরনের ঝাড়ফুঁককে الرُّقْيَة (রুকইয়াহ) বলা হয়। তবে মনে রাখতে হবে, জাহেলিয়াত যুগের অধিকাংশ রুকইয়াই ছিল শিরক, কুফর ও বাতিল বিশ্বাসে পরিপূর্ণ। অথচ ইসলামের মূল ভিত্তিই হলো বিশুদ্ধ তাওহীদ। তাই ইসলাম আগমনের পর প্রাথমিকভাবে এ ধরনের সব ঝাড়ফুঁক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়, যাতে মানুষ শিরক ও কুসংস্কার থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—
إِنَّ الرُّقَى، وَالتَّمَائِمَ، وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ
অর্থ: “নিশ্চয় (শিরকপূর্ণ) ঝাড়ফুঁক, তামীমাহ (জাহেলিয়াতের পাথরবিশেষ) এবং তিওয়ালাহ (স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত মন্ত্র বা যাদু) শিরক।” সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৭৯
অতঃপর রাসূলুল্লাহ ﷺ শরীয়তসম্মত রুকইয়া (ঝাড়ফুঁক)-এর অনুমতি প্রদান করেন। তবে এ ব্যাপারে তিনি একটি মৌলিক শর্ত আরোপ করেন—রুকইয়ার মধ্যে কোনো শিরক, কুফর, বাতিল বিশ্বাস বা শরীয়তবিরোধী শব্দ ও কার্যক্রম থাকা যাবে না। যে রুকইয়া এসব ত্রুটি থেকে মুক্ত, তা কেবল বৈধই নয়; বরং রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেই তার অনুমোদন দিয়েছেন। যারা এ ধরনের রুকইয়া জানতেন, তাদের তা অব্যাহত রাখতে এবং অন্যদেরও শিক্ষা দিতে উৎসাহিত করেছেন।
এমনকি সাহাবায়ে কেরাম যখন তাঁদের প্রচলিত ঝাড়ফুঁকের বাক্যসমূহ রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে উপস্থাপন করতেন, তখন তিনি সেগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। যদি তাতে শিরক বা কুফরের কোনো উপাদান থাকত, তাহলে তা নিষিদ্ধ ঘোষণা করতেন। আর যদি তাতে শরীয়তবিরোধী কিছু না থাকত, তবে তিনি তা অনুমোদন দিতেন।
হযরত আউফ ইবনু মালিক আশজাঈ রাযি. বলেন,
كُنَّا نَرْقِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، كَيْفَ تَرَى فِي ذَلِكَ؟ فَقَالَ: اعْرِضُوا عَلَيَّ رُقَاكُمْ، لَا بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ تَكُنْ شِرْكًا.
“আমরা জাহিলিয়াত যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। পরে আমরা বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! এ ব্যাপারে আপনার মত কী?’ তিনি বললেন, ‘তোমরা তোমাদের ঝাড়ফুঁকের বাক্যগুলো আমাকে শোনাও। যতক্ষণ পর্যন্ত তাতে শিরক না থাকে, ততক্ষণ ঝাড়ফুঁকে কোনো অসুবিধা নেই।’” সহীহ মুসলিম, হাদিস: ২২০০ (এ হাদিসটি সুনানে আবু দাউদেও বর্ণিত হয়েছে।)
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন—“নবীজী আনসারী এক পরিবারকে বিষাক্ত প্রাণীর ঝাড়ফুঁকের অনুমতি দিয়েছেন।” সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১৯৩
সাহাবি উমাইর রাযি. বলেন—“আমি উন্মাদ রোগের জন্য যে ঝাড়ফুঁক করতাম, তা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সামনে উপস্থাপন করলাম। তিনি এর কিছু অংশের অনুমোদন দিলেন এবং কিছু অংশ থেকে নিষেধ করলেন। এরপর আমি কেবল সেই অংশ দিয়েই ঝাড়ফুঁক করতাম, যার অনুমতি রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে দিয়েছিলেন।” শরহু মা’আনিল আসার, হাদিস: ৭০৪৫
এ প্রসঙ্গে আপাতত এতটুকুই যথেষ্ট। রুকইয়া সম্পর্কিত আরও বহু হাদিস হাদিসের বিভিন্ন কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। সবগুলো উদ্ধৃত করলে আলোচনা অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ হয়ে যাবে।
উল্লেখিত হাদিসসমূহ থেকে বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যায় যে, যেসব ঝাড়ফুঁকের মধ্যে শিরক, কুফর বা শরীয়তবিরোধী বিষয় রয়েছে, সেগুলো হারাম ও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। পক্ষান্তরে, যে রুকইয়া এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, তা শরীয়তসম্মত ও বৈধ। যেহেতু এ বিষয়ে স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ হাদিসের মাধ্যমে সুস্পষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন, তাই পরবর্তী যুগের ফুকাহা ও মুহাদ্দিসগণও একই মত পোষণ করেছেন। তাঁদের কেউই শিরকমুক্ত রুকইয়াকে নিষিদ্ধ বলেননি; বরং হাদিসে বর্ণিত নীতির আলোকেই এর বৈধতা স্বীকার করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ইমাম মুহাম্মদ রহ. বলেন—
لا بأس بالرُّقَى بما كان في القرآن وما كان من ذكر الله، فأما ما كان لا يُعرف من الكلام فلا ينبغي أن يُرقى به.
“কুরআনের আয়াত এবং আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করতে অসুবিধা নেই। তবে হ্যাঁ, যেসব শব্দাবলীর অর্থ অস্পষ্ট তা দিয়ে ঝাড়ফুঁক করা নিষেধ (কেননা তা শিরকমুক্ত কি না জানা নেই)।” মুয়াত্তা মুহাম্মাদ, পৃ. ৩৭৩- ৩৭৪
ইমাম তাহাবী রহ. হাদিসগুলোর আলোচনার শেষে লিখেছেন—
فَدَلَّ ذَلِكَ أَنَّ كُلَّ رُقْيَةٍ لَا شِرْكَ فِيهَا فَلَيْسَتْ بِمَكْرُوهَةٍ.
অর্থাৎ“এসব হাদিস প্রমাণ করে যে, যে রুকইয়ার মধ্যে শিরক নেই, তা মোটেও অপছন্দনীয় (মাকরুহ) নয় (বরং বৈধ)।” শরহু মা’আনিল আসার, ৪/১৫৩
একই ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন ইমাম বায়হাকী রহ.। ঝাড়ফুঁক নিষিদ্ধ হওয়া সম্পর্কিত হাদিসগুলো উল্লেখ করার পর তিনি সেগুলোর সঠিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন—
وهذا كله يرجع إلى ما قلنا من أنه إن رقى بما لا يعرف أو على ما كان أهل الجاهلية من إضافة العافية إلى الرقى لم يجز، وإن رقى بكتاب الله أو بما يعرف من ذكر الله متبركًا به وهو يرى نزول الشفاء من الله تعالى فلا بأس به، وبالله التوفيق.
“এ হাদিসগুলোর প্রকৃত অর্থ হলো—যদি কেউ এমন শব্দ দ্বারা ঝাড়ফুঁক করে যার অর্থ জানা যায় না, অথবা জাহিলিয়াত যুগের বিশ্বাস অনুযায়ী এ ধারণা পোষণ করে যে, ঝাড়ফুঁক নিজেই রোগমুক্তি দান করে, তাহলে তা বৈধ নয়। পক্ষান্তরে, যদি কেউ কুরআনের আয়াত বা আল্লাহর যিকিরের মাধ্যমে বরকতের উদ্দেশ্যে ঝাড়ফুঁক করে এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে যে, প্রকৃত আরোগ্যদাতা একমাত্র আল্লাহ তাআলা, তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই। আল্লাহই তাওফিকদাতা।” সুনানে কুবরা, ইমাম বায়হাকী, ৯/৫৮০
রুকইয়া (ঝাড়ফুঁক) সম্পর্কিত হাদিসগুলো পর্যালোচনা করলে মোটামুটি দুই ধরনের বর্ণনা পাওয়া যায়।
প্রথম প্রকার হলো, যেসব হাদিসে ঝাড়ফুঁককে শিরক বলা হয়েছে। এসব হাদিস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জাহিলিয়াত যুগের সেইসব ঝাড়ফুঁক, যেগুলোতে শিরক, কুফর, শয়তানের সাহায্য প্রার্থনা বা অন্যান্য শরিয়তবিরোধী বিষয় বিদ্যমান ছিল। অনুরূপভাবে, যে কোনো ঝাড়ফুঁকে যদি শিরক বা অন্য কোনো হারাম বিষয় থাকে, তবে সেটিও নিঃসন্দেহে নিষিদ্ধ।
দ্বিতীয় প্রকার হলো, যেসব হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ রুকইয়ার অনুমতি দিয়েছেন। তবে তিনি এর একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছেন—যে রুকইয়ায় শিরক থাকবে, তা কোনো মুসলমানের জন্য বৈধ নয়; বরং তা হারাম এবং ঈমানের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পক্ষান্তরে, যে রুকইয়া শিরক ও কুফর থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত, তা বৈধ।
এ কারণেই ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলার নাম ও গুণাবলি, কুরআনের আয়াত এবং হাদিসে বর্ণিত দোয়া-যিকিরের মাধ্যমে রুকইয়া করা সুন্নত ও মাসনূন। একইভাবে, শিরক ও শরিয়তবিরোধী বিষয়মুক্ত অন্য যেকোনো অর্থবোধক বাক্য দিয়েও রুকইয়া করা বৈধ। তবে এর জন্য দুটি শর্ত অপরিহার্য—প্রথমত, ব্যবহৃত শব্দ বা বাক্যের অর্থ স্পষ্টভাবে জানা থাকতে হবে; দ্বিতীয়ত, তাতে কোনো কুফরি, শিরকি বা আপত্তিকর বিষয় থাকা যাবে না। পাশাপাশি এ দৃঢ় বিশ্বাস রাখতে হবে যে, প্রকৃত আরোগ্যদাতা একমাত্র আল্লাহ তাআলা; রুকইয়া কেবল একটি বৈধ মাধ্যম।
পক্ষান্তরে, যেসব তন্ত্র-মন্ত্র বা বাক্যের অর্থই বোঝা যায় না, সেগুলোকে উলামায়ে কেরাম বৈধ বলেননি। কারণ, অজ্ঞাত শব্দের মধ্যে শিরক, কুফর বা শয়তানি উপাদান থাকার আশঙ্কা প্রবল। আর যেহেতু রাসূলুল্লাহ ﷺ নিজেই বিভিন্ন রোগ, বদনজর ও বিপদ-আপদের জন্য বহু দোয়া ও যিকিরের মাধ্যমে রুকইয়া করেছেন এবং উম্মতকে তা শিক্ষা দিয়েছেন, তাই সুন্নতে বর্ণিত রুকইয়াই সর্বোত্তম, সর্বাধিক বরকতময় এবং অনুসরণযোগ্য।
দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমান সমাজে এ বিষয়ে ব্যাপক অজ্ঞতা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, যে-কারও কাছ থেকে ঝাড়ফুঁক নেওয়া যায়। তিনি কী পড়ে ঝাড়ফুঁক করছেন, তার মধ্যে শিরক বা কুফর আছে কি না—তা জানারও প্রয়োজন মনে করেন না। এমনকি কোনো কোনো ব্যক্তি বিধর্মী, মুশরিক, অগ্নিপূজক বা তান্ত্রিকের কাছেও নির্দ্বিধায় ঝাড়ফুঁকের জন্য যায়। আরও দুঃখের বিষয়, কেউ কেউ মুসলিমদের শরীয়তসম্মত রুকইয়ার চেয়ে তাদের তন্ত্র-মন্ত্রকে অধিক কার্যকর মনে করে। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ বিশ্বাস, যা একজন মুসলমানের ঈমানের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। (নাউযুবিল্লাহ)।
▪ তাবিজ
শরীয়তে এমন তাবিজ ও ঝাড়ফুঁক (রুকইয়া) বৈধ, যাতে কুরআনের আয়াত, হাদিসের দোয়া অথবা এমন অর্থবোধক বাক্য থাকে, যার মধ্যে শিরক, কুফর বা শরীয়তবিরোধী কোনো বিষয় নেই। তবে যদি তাবিজে শরীয়তবিরোধী কোনো বিষয় থাকে, অথবা এমন শব্দ ও বাক্য লেখা থাকে যার অর্থই জানা যায় না, তাহলে এ ধরনের তাবিজ ও ঝাড়ফুঁক বৈধ নয়।
শরীয়তসম্মত বাক্য ও দোয়ার মাধ্যমে তাবিজ ব্যবহার করা এবং ঝাড়ফুঁক করা বৈধ। এটি অন্যান্য বৈধ চিকিৎসাপদ্ধতির মতোই একটি বৈধ চিকিৎসার মাধ্যম। এর বৈধতা কুরআন, সুন্নাহ এবং উলামায়ে কেরামের বক্তব্য দ্বারা সুপ্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন—
وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْاٰنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ
অর্থ: “আমি কুরআনে এমন বিষয় অবতীর্ণ করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।” সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮২
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসীরে রূহুল মাআনীতে বলা হয়েছে—
“ইমাম মালিক রহ. বলেন, ‘যে তাবিজে আল্লাহ তাআলার নামসমূহ লেখা থাকে, তা বরকতের উদ্দেশ্যে রোগীর গলায় ঝুলিয়ে দেওয়াতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে এর দ্বারা যদি এমন বিশ্বাস করা হয় যে, তাবিজটি নিজেই অশুভ দৃষ্টি বা ক্ষতি প্রতিহত করে, তাহলে তা বৈধ নয়। আমার বক্তব্যের অর্থ হলো, বিপদ বা রোগ দেখা দেওয়ার পর আল্লাহর পক্ষ থেকে আরোগ্য ও মুক্তির আশায় এমন তাবিজ ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা নেই। এটি বদনজরের ক্ষেত্রে সুন্নাহসম্মত রুকইয়ারই অনুরূপ। তবে বিপদ আসার আগে তা ব্যবহার করাকে আমি অপছন্দ করি। যদিও এ মতটি ‘গরীব’ (অপ্রচলিত) মত।’
হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রহ.-এর মতে, আল্লাহর কিতাব (কুরআন)-এর আয়াত লিখে কোনো খাপ, নল বা ডিব্বির মধ্যে রেখে ঝুলিয়ে রাখা বৈধ। তবে সহবাসের সময় এবং পায়খানায় প্রবেশের সময় তা খুলে রাখতে হবে। তিনি বিপদ আসার আগে বা পরে—এমন কোনো পার্থক্য করেননি। ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির রহ. শিশুদের জন্য নিঃশর্তভাবে তাবিজ ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। ইমাম ইবনু সিরীন রহ.-ও মনে করতেন, কুরআনের আয়াত লিখে বড় বা ছোট—যে কারও গলায় ঝুলিয়ে দিতে কোনো অসুবিধা নেই।
প্রাচীনকাল থেকে পরবর্তীকাল পর্যন্ত বিভিন্ন নগরীর মুসলিমদেরও এটাই প্রচলিত আমল ও অভিমত।” তাফসীরে রূহুল মাআনী, সূরা আল-ইসরা (১৭): ৮২, খণ্ড ৮, পৃ. ১৩৯।
তাবিজের বৈধতার পক্ষে কুরআন, হাদিস ও সাহাবা-তাবেয়ীন থেকে একাধিক দলিল বিদ্যমান। নিম্নে এ বিষয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ হাদিস ও আসার উপস্থাপন করা হলো—
এক. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন—
إِذَا فَزِعَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَقُلْ: بِسْمِ اللهِ، أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ.
“তোমাদের কেউ যদি ঘুমের মধ্যে ভয় পায়, তবে সে যেন এ দোয়াটি পড়ে—
بِسْمِ اللهِ، أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ مِنْ غَضَبِهِ وَسُوءِ عِقَابِهِ، وَمِنْ شَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ شَرِّ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ.
এ হাদিসের বর্ণনাকারী সাহাবি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস রাযি. এ নির্দেশনার ওপর নিজেও আমল করতেন। তিনি তাঁর প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের এ দোয়াটি মুখস্থ করিয়ে দিতেন। আর যেসব সন্তান অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুখস্থ করতে সক্ষম ছিল না, তাদের জন্য তিনি দোয়াটি লিখে গলায় ঝুলিয়ে দিতেন। মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা, হাদিস: ২৩৫৪৭; মুসনাদ আহমাদ, ২/১৮১, হাদিস ৬৬৯৬: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৩৮৮৯; জামে তিরমিযী, হাদিস: ৩৫২৮; মুসতাদরাক হাকিম, হাদিস: ২০১০।
ইমাম তিরমিযী রহ. এ হাদিস সম্পর্কে বলেন—
حسن غريب
অর্থাৎ, “হাদিসটি হাসান এবং গরীব।”
এ হাদিসটি কুরআন-হাদিসের দোয়া লিখে শিশুদের গলায় ঝুলিয়ে দেওয়ার বৈধতার অন্যতম সুস্পষ্ট দলিল। কারণ, এ আমল একজন প্রসিদ্ধ সাহাবি করেছেন এবং তা হাদিসের কিতাবসমূহে কোনো আপত্তি ছাড়াই বর্ণিত হয়েছে।
অতএব, যারা কোনো প্রকার পার্থক্য না করে সব ধরনের তাবিজকেই শিরক বলে থাকেন, তাদের এ বক্তব্য গ্রহণ করলে অবধারিতভাবে এ মহান সাহাবির এ আমলকেও শিরক বলতে হয়। অথচ একজন সাহাবি ইচ্ছাকৃতভাবে শিরক করবেন—এ ধারণা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বরং এ বর্ণনাই প্রমাণ করে যে, কুরআনের আয়াত বা শরীয়তসম্মত দোয়া লিখে তাবিজ ব্যবহারকে সাহাবায়ে কেরাম শিরক মনে করতেন না।
দুই. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—কোনো নারীর সন্তান প্রসব কঠিন হয়ে গেলে তার জন্য একটি পাত্র বা থালায় নিম্নোক্ত দোয়া এবং কুরআনের এ দুটি আয়াত লিখে তা পানি দিয়ে ধুয়ে সেই পানি পান করানো হবে।
بِسْمِ اللهِ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللهِ رَبِّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعِ وَرَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا، كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ، بَلَاغٌ ۚ فَهَلْ يُهْلَكُ إِلَّا الْقَوْمُ الْفَاسِقُونَ.
মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা, বর্ণনা: ২৩৯৭৫।
এ বর্ণনা থেকে জানা যায়, সাহাবায়ে কেরামের নিকট কুরআনের আয়াত ও দোয়া লিখে তা ধুয়ে পান করানো বৈধ চিকিৎসাপদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত ছিল। এটি মূলত কুরআনের মাধ্যমে শিফা (আরোগ্য) অন্বেষণেরই একটি পদ্ধতি, যার ভিত্তি কুরআনের ﴿وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ﴾—”আমি কুরআনে এমন বিষয় অবতীর্ণ করি, যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য”—এই ঘোষণার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
তিন. হযরত আয়েশা রাযি. এর বর্ণনা—
عَنْ عَائِشَةَ: أَنّهَا كَانَتْ لَا تَرَى بَأْسًا أَنْ يُعَوّذَ فِي الْمَاءِ ثُمّ يُصَبّ عَلَى الْمَرِيضِ.
হযরত আয়েশা রা. রোগীর জন্য পানিতে কিছু পড়ে তা রোগীর গায়ে ঢেলে দেওয়াতে কোনো অসুবিধা মনে করতেন না। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২৩৯৭৫
চার. হাজ্জাজ রহ. বলেন—
أخبرني من رأى سعيد بن جبير يكتب التعويذ لمن أتاه، قال حجاج: وسألت عطاء فقال: ما سمعنا بكراهيته إلا من قبلكم أهل العراق.
বিশিষ্ট তাবেয়ী হযরত সায়ীদ ইবনে জুবাইর নিজে তাবীজ লিখতেন। বর্ণনাকারী হাজ্জাজ বলেন, আমি আতা ইবনে আবী রাবাহকে তাবীয বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন এতে কোনো অসুবিধার কথা আমরা শুনিনি। কেউ কিছু বললে তোমাদের ইরাকের কেউ বলতে পারে। মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবাহ, বর্ণনা ২৩৯৭৭
পাঁচ. আবু ইছমা রহ. বলেন—
سَأَلْتُ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ عَنِ التَّعْوِيذِ؟ فَقَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ إِذَا كَانَ فِي أَدِيمٍ.
অর্থ: “আমি হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রহ.-কে তাবিজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি উত্তরে বললেন, ‘এতে কোনো অসুবিধা নেই, যদি তা চামড়ার আবরণে (থলি বা খাপে) রাখা হয়।’” মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা, বর্ণনা: ২৪০০৯।
হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রহ. তাবেয়ীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম ও ফকিহ। তাঁর এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি শরীয়তসম্মত তাবিজের বৈধতায় বিশ্বাস করতেন। বিশেষ করে তাবিজকে চামড়ার খাপ বা আবরণে সংরক্ষণ করে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া থেকে প্রতীয়মান হয় যে, তাবিজের মূল বৈধতা তাঁর নিকট স্বীকৃত ছিল।
ছয়. আব্দুল মালিক রহ. বলেন—
عَنْ عَطَاءٍ فِي الْحَائِضِ يَكُونُ عَلَيْهَا التَّعْوِيذُ، قَالَ: إِنْ كَانَ فِي أَدِيمٍ، فَلْتَنْزِعْهُ، وَإِنْ كَانَ فِي قَصَبَةِ فِضَّةٍ، فَإِنْ شَاءَتْ وَضَعَتْهُ، وَإِنْ شَاءَتْ لَمْ تَضَعْهُ.
অর্থ: “হযরত আতা ইবনু আবী রাবাহ রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ঋতুবতী নারীর গলায় তাবিজ থাকলে এর বিধান কী? তিনি বললেন, ‘যদি তাবিজটি চামড়ার খাপে থাকে, তাহলে তা খুলে রাখবে। আর যদি রূপা বা অনুরূপ কোনো আবরণে সংরক্ষিত থাকে, তাহলে ইচ্ছা করলে খুলে রাখতে পারে, আবার না খুললেও কোনো অসুবিধা নেই।’” মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা, বর্ণনা: ২৪০১০।
এ বর্ণনা থেকেও প্রতীয়মান হয় যে, তাবেয়ীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ হযরত আতা ইবনু আবী রাবাহ রহ. তাবিজের বৈধতা স্বীকার করতেন। তাঁর আলোচনার বিষয় ছিল না ‘তাবিজ পরা বৈধ কি না’, বরং ঋতুবতী অবস্থায় কীভাবে তা ব্যবহার করা অধিক শোভন—এটি। এ থেকেই বোঝা যায়, কুরআন বা বৈধ দোয়াসম্বলিত তাবিজের বৈধতা তাঁদের নিকট একটি স্বীকৃত বিষয় ছিল।
সাত. ছুওয়াইর রহ. বলেন—
كَانَ مُجَاهِدٌ يَكْتُبُ لِلنَّاسِ التَّعْوِيذَ فَيُعَلِّقُهُ عَلَيْهِمْ.
অর্থ: “হযরত মুজাহিদ রহ. মানুষের জন্য তাবিজ লিখতেন, অতঃপর তা তাদের গলায় ঝুলিয়ে দিতেন।” মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা, বর্ণনা: ২৪০১১।
হযরত মুজাহিদ রহ. ছিলেন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা.-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছাত্র এবং তাবেয়ীদের প্রসিদ্ধ ইমাম ও মুফাসসির। তাঁর এ আমল থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, কুরআনের আয়াত বা শরীয়তসম্মত দোয়া লিখে তাবিজ ব্যবহার করা তাবেয়ীদের নিকট বৈধ ছিল। যদি এটি শিরক বা হারাম হতো, তবে তাঁর মতো একজন প্রখ্যাত ইমাম নিজে মানুষের জন্য তাবিজ লিখে তা তাদের গলায় ঝুলিয়ে দিতেন না। এটি শরীয়তসম্মত তাবিজের বৈধতার একটি সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক দলিল।
আট. হযরত জাফর আস-সাদিক রহ. তাঁর পিতা হযরত মুহাম্মদ ইবনু আলী (ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির) রহ. থেকে বর্ণনা করেন—
كَانَ لَا يَرَى بَأْسًا أَنْ يُكْتَبَ الْقُرْآنُ فِي أَدِيمٍ ثُمَّ يُعَلَّقَ.
অর্থ: “তিনি (ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির রহ.) চামড়ায় কুরআনের আয়াত লিখে তা গলায় বা শরীরে ঝুলিয়ে রাখতে কোনো অসুবিধা মনে করতেন না।” মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা, বর্ণনা: ২৪০১২।
ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির রহ. ছিলেন রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর দৌহিত্র হযরত হুসাইন রা.-এর পৌত্র এবং আহলুল বাইতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম। তাঁর এ বক্তব্য থেকেও স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, কুরআনের আয়াত লিখে তাবিজ ব্যবহার করা তাঁর নিকট বৈধ ছিল। অতএব, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন এবং আহলুল বাইতের ইমামগণের আমল ও ফতোয়া একত্রে প্রমাণ করে যে, শরীয়তসম্মত তাবিজকে তাঁরা কখনো শিরক বা হারাম মনে করেননি; বরং নির্ধারিত শর্তসাপেক্ষে এর বৈধতাই স্বীকার করেছেন।
নয়. ইসমাঈল ইবনু মুসলিম রহ. বিশিষ্ট তাবেয়ী ইমাম ইবনু সিরীন রহ.-এর ফতোয়া বর্ণনা করে বলেন—
أَنَّهُ كَانَ لَا يَرَى بَأْسًا بِالشَّيْءِ مِنَ الْقُرْآنِ.
অর্থ: “ইমাম ইবনু সিরীন রহ. কুরআনের আয়াত দ্বারা তাবিজ লিখতে কোনো অসুবিধা মনে করতেন না।” মুসান্নাফ ইবনু আবী শাইবা, বর্ণনা: ২৪০১৪।
দশ. ইউনুস ইবনু হিব্বান রহ. বলেন—
سَأَلْتُ أَبَا جَعْفَرٍ مُحَمَّدَ بْنَ عَلِيٍّ أَنْ أُعَلِّقَ التَّعْوِيذَ، فَقَالَ: إِنْ كَانَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ أَوْ كَلَامٍ عَنْ نَبِيِّ اللَّهِ فَعَلِّقْهُ وَاسْتَشْفِ بِهِ مَا اسْتَطَعْتَ.
অর্থ: “আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনু আলী (ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির রহ.)-কে তাবিজ পরিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘যদি তা আল্লাহর কিতাব (কুরআন) অথবা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর বাণী দ্বারা হয়, তাহলে তা পরিধান কর এবং এর মাধ্যমে যথাসাধ্য শিফা (আরোগ্য) অন্বেষণ কর।’” যাদুল মা’আদ, ৪/৩২৭।
এ বর্ণনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এখানে ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির রহ. কেবল কুরআন ও হাদিসসম্বলিত তাবিজকে বৈধই বলেননি; বরং এর মাধ্যমে চিকিৎসা ও শিফা অন্বেষণ করারও নির্দেশ দিয়েছেন। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, শরীয়তসম্মত তাবিজকে তিনি শিরক বা নাজায়েজ মনে করতেন না; বরং বৈধ চিকিৎসার একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতেন। তবে শর্ত হলো, তাবিজটি কুরআনের আয়াত বা সহিহ দোয়া-যিকিরসম্বলিত হতে হবে এবং এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, প্রকৃত আরোগ্যদাতা একমাত্র আল্লাহ তাআলা।
এগারো. আলকামা রহ. বলেন—
سَأَلْتُ ابْنَ الْمُسَيِّبِ، عَنِ الِاسْتِعَاذَةِ تَكُونُ عَلَى الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ؟ فَقَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ إِذَا كَانَ فِي قَصَبَةٍ أَوْ رُقْعَةٍ يَجُوزُ عَلَيْهَا.
অর্থ: “আমি হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ঋতুমতী নারী বা যার ওপর গোসল ফরজ হয়েছে, তার গায়ে তাবিজ থাকলে কোনো অসুবিধা আছে কি? তিনি বললেন, ‘যদি তা কোনো খাপ বা আবরণে থাকে কিংবা কোনো কাপড় বা কাগজে মোড়ানো থাকে, তাহলে এতে কোনো অসুবিধা নেই।’” মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, বর্ণনা: ১৩৪৮।
এ বর্ণনা থেকেও সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, তাবেয়ীদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকিহ হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রহ. শরীয়তসম্মত তাবিজের বৈধতা স্বীকার করতেন।
বারো. ইমাম মালিক রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হলো—
قِيلَ: فَيُكْتَبُ لِلْمَحْمُومِ الْقُرْآنُ؟ قَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ، وَلَا بَأْسَ أَنْ يُرْقَى بِالْكَلَامِ الطَّيِّبِ، وَلَا بَأْسَ بِالْمَعَاذَةِ تُعَلَّقُ، وَفِيهَا الْقُرْآنُ وَذِكْرُ اللَّهِ إِذَا أُحْرِزَ عَلَيْهَا أَدِيمٌ.
অর্থ: “তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, জ্বরে আক্রান্ত রোগীর জন্য কুরআনের আয়াত লিখে দেওয়া যাবে কি? তিনি বললেন, ‘এতে কোনো অসুবিধা নেই। উত্তম বাক্য (দোয়া-যিকির) দ্বারা রুকইয়া (ঝাড়ফুঁক) করতেও কোনো অসুবিধা নেই। তেমনি কুরআনের আয়াত ও আল্লাহর যিকিরসম্বলিত তাবিজ পরিধান করতেও কোনো অসুবিধা নেই, যদি তা চামড়ার আবরণে সংরক্ষিত থাকে।’” আবু যায়দ আল-কায়রাওয়ানী, কিতাবুল জামে, পৃ. ২৩৭–২৩৮।
ইমাম মালিক রহ. চার মাযহাবের অন্যতম ইমাম এবং মালেকি মাযহাবের প্রবর্তক। তাঁর এ সুস্পষ্ট ফতোয়া থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কুরআনের আয়াত লিখে চিকিৎসা করা, শরীয়তসম্মত রুকইয়া করা এবং কুরআন ও আল্লাহর যিকিরসম্বলিত তাবিজ পরিধান করা—সবই তাঁর নিকট বৈধ ছিল। তিনি কেবল কুরআনসম্বলিত তাবিজকে সম্মান ও সংরক্ষণের স্বার্থে চামড়ার আবরণে রাখার কথা উল্লেখ করেছেন। এটি শরীয়তসম্মত তাবিজের বৈধতার পক্ষে ইমামদের সুস্পষ্ট সাক্ষ্য।
তেরো. ইমাম আহমদ ইবনু হাম্বল রহ.-এর পুত্র আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ রহ. বলেন—
رَأَيْتُ أَبِي يَكْتُبُ التَّعْوِيذَ لِلَّذِي يَفْزَعُ، وَلِلْحُمَّى.
অর্থ: “আমি আমার পিতাকে (ইমাম আহমদ রহ.-কে) রাতে আতঙ্কগ্রস্ত ব্যক্তি এবং জ্বরে আক্রান্ত রোগীর জন্য তাবিজ লিখতে দেখেছি।” যাদুল মা’আদ, ৪/৩২৬।
তিনি আরও বলেন, কোনো নারীর সন্তান প্রসব কঠিন হয়ে গেলে আমার পিতা একটি সাদা পেয়ালা বা পরিষ্কার পাত্রে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা.-এর বর্ণিত আমলটি লিখে দিতেন। সেটি ছিল—
لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ الْحَلِيمُ الْكَرِيمُ، سُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَ مَا يُوعَدُونَ لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا سَاعَةً مِنْ نَهَارٍ بَلَاغٌ، كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا.
—যাদুল মা’আদ, ৪/৩২৭।
এ বর্ণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এটি কেবল ইমাম আহমদ রহ.-এর একটি ফতোয়া নয়; বরং তাঁর ব্যক্তিগত আমল। তিনি নিজ হাতে বিভিন্ন রোগীর জন্য কুরআন ও দোয়াসম্বলিত তাবিজ লিখে দিতেন এবং প্রসবকষ্টে আক্রান্ত নারীর জন্য হযরত ইবনু আব্বাস রা.-এর শেখানো আমলও অনুসরণ করতেন। এতে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, শরীয়তসম্মত তাবিজকে তিনি বৈধ চিকিৎসার একটি মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করতেন। অতএব, কুরআন ও সহিহ দোয়াসম্বলিত তাবিজকে সর্বপ্রকারে শিরক বা হারাম বলে আখ্যায়িত করা ইমাম আহমদ রহ.-এর প্রতিষ্ঠিত মত ও আমলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
উপরোক্ত বর্ণনাগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে একটি বিষয় দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে যায়—সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীদের যুগে শরীয়তসম্মত তাবিজের প্রচলন ছিল এবং তাঁরা একে বৈধ মনে করতেন। শুধু প্রচলনই ছিল না; বরং হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু আমর রা., আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রা., সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব রহ., মুজাহিদ রহ., সাঈদ ইবনু জুবাইর রহ., ইমাম মুহাম্মদ আল-বাকির রহ., ইবনু সিরীন রহ. প্রমুখ সাহাবী ও বিশিষ্ট তাবেয়ীগণ নিজেরাও কুরআনের আয়াত ও দোয়া লিখে তাবিজ দিতেন কিংবা এর বৈধতার ফতোয়া প্রদান করতেন। নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ—সকলেই তা ব্যবহার করত।
তাবিজের এ ব্যাপক প্রচলন ছিল বলেই তাঁদের সামনে এ ধরনের মাসআলা এসেছে যে, ঋতুমতী নারী বা যার ওপর গোসল ফরজ হয়েছে, সে তাবিজ কীভাবে ব্যবহার করবে? যদি তাবিজের ব্যবহারই না থাকত, তাহলে এ ধরনের প্রশ্নও উঠত না। কারণ, তাবিজে সাধারণত কুরআনের আয়াত বা দোয়া লেখা থাকত, আর অপবিত্র অবস্থায় কুরআনের আদব-আহকাম কী হবে—এ নিয়েই তাঁদের আলোচনা হয়েছে। উপর্যুক্ত বর্ণনাগুলো থেকে স্পষ্ট বোঝা যায়, এ বিষয়ে তাঁদের নিকট অসংখ্য প্রশ্ন আসত, যা সে যুগে শরীয়তসম্মত তাবিজের ব্যাপক প্রচলনেরই প্রমাণ।
তবে এ বিষয়টিও স্মরণ রাখা আবশ্যক যে, একজন মুসলিমের আকিদার কেন্দ্রবিন্দু হলো তাওহিদ। সে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, উপকার-অপকার, রোগ-ব্যাধি, সুস্থতা-অসুস্থতা, নিরাপত্তা-বিপদ—সবকিছুর একমাত্র মালিক ও নিয়ন্ত্রক আল্লাহ তাআলা। তাই রুকইয়া বা তাবিজ—যে মাধ্যমই অবলম্বন করা হোক না কেন, তা কখনোই স্বয়ং কার্যকর নয়; বরং আল্লাহর ইচ্ছা ও অনুমতিক্রমেই উপকার লাভ হয়।
অতএব, কেউ যদি তাবিজ ব্যবহার করে, তবে তা শুধুমাত্র একটি বৈধ ওসীলা হিসেবে করবে; কখনোই স্বতন্ত্র ক্ষমতাসম্পন্ন বা অলৌকিক প্রভাবসম্পন্ন বস্তু মনে করবে না। একই সঙ্গে নিশ্চিত হতে হবে যে, তাবিজটি কুরআনের আয়াত, সহিহ দোয়া বা শরীয়তসম্মত যিকির দ্বারা রচিত এবং তাতে কোনো শিরক, কুফর, জাদু, অস্পষ্ট মন্ত্র বা অন্য কোনো বাতিল বিশ্বাস ও হারাম বিষয়ের সংমিশ্রণ নেই। এ শর্তগুলো পূরণ হলেই শরীয়তসম্মত তাবিজ সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়ীন এবং পরবর্তী ফুকাহায়ে কেরামের দৃষ্টিতে বৈধ ও গ্রহণযোগ্য।
কোন তাবিজ শিরক ও হারাম?
তবে অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, বর্তমানে অনেক মানুষ শরীয়তসম্মত তাবিজ এবং শিরক-কুফরসম্বলিত তাবিজ—এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্যই করেন না। ফলে যে-কারও কাছ থেকে তাবিজ সংগ্রহ করে ব্যবহার করেন। এমনকি কেউ কেউ হিন্দু পুরোহিত, জ্যোতিষী, গণক, তান্ত্