02/08/2026
⚕️ একজিমা (Eczema)
একজিমা (Eczema) হলো ত্বকের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহজনিত (inflammatory) রোগ, যাতে ত্বক শুষ্ক, চুলকানিযুক্ত লালচে এবং প্রদাহযুক্ত দাগ তৈরি করে যা দৈনন্দিন আরাম এবং জীবনের মানকে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যাহত করতে পারে।অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস (Atopic dermatitis) একজিমার সবচেয়ে সাধারণ ধরণ।
সকল বয়সের মানুষের একজিমা হতে পারে। প্রায় ১০% থেকে ২০% শিশুর মধ্যে এই রোগের লক্ষণ দেখা যায়। সুখবর হল, একজিমা আক্রান্ত শিশুদের অর্ধেকই হয় এটিকে ছাড়িয়ে যায় অথবা বয়স বাড়ার সাথে সাথে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখতে পায়।
✅ প্রকারভেদঃ-
🔸 অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস: আপনার শৈশবে এই সাধারণ ধরণের রোগ হতে পারে।
🔸 কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস: ত্বকের প্রতিক্রিয়া জ্বালাপোড়া বা অ্যালার্জেনের সংস্পর্শে আসার ফলে ঘটে।
🔸 ডাইশিড্রোটিক একজিমা: হাত ও পায়ে ছোট, তরল-ভরা ফোস্কা দেখা দেয়।
🔸 নিউরোডার্মাটাইটিস: বারবার চুলকানির ফলে তীব্র চুলকানি হয়।
🔸 সংখ্যাসূচক বা ডিস্কয়েড একজিমা: জ্বালাপোড়া ত্বকে মুদ্রার আকৃতির দাগ তৈরি হয়
🔸 সেবোরিক ডার্মাটাইটিস: মাথার ত্বক এবং মুখের মতো তৈলাক্ত অংশে লক্ষণ দেখা দেয়
🔸 স্ট্যাসিস ডার্মাটাইটিস: পায়ের নিচের অংশে রক্ত সঞ্চালনের অভাব এই ধরণের রোগকে ট্রিগার করে।
✅ লক্ষণঃ-
🔸 তীব্র চুলকানি (বিশেষ করে রাতে)।
🔸 ত্বক লাল বা গাঢ় রঙের দাগ হয়।
🔸 ত্বক ফেটে যায় বা রক্তপাত হয়।
🔸 দীর্ঘস্থায়ী ঘামাচির ফলে ঘন, চামড়াযুক্ত জায়গা তৈরি হয়।
🔸 ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যায়।
🔸 ছোট ফুসকুড়ি বা পানি বের হয় (কিছু ক্ষেত্রে)।
🔸 ত্বক ফেটে যায়, মোটা হয়ে যায় বা খোসা ওঠা।
✅ কারণঃ-
একজিমার সুনির্দিষ্ট একটি কারণ নেই। সাধারণত কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করে:
🔸 বংশগত প্রবণতা। ২০-৩০% রোগীর ফিলাগ্রিন জিনের পরিবর্তন তাদের ত্বকের বাধাকে প্রভাবিত করে।
🔸 রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
🔸 ত্বকের সুরক্ষাব্যবস্থা (skin barrier) দুর্বল হওয়া।
🔸 অ্যালার্জি বা পরিবেশগত উদ্দীপক।
✅ জটিলতাঃ-
সঠিক যত্ন ছাড়া একজিমা গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে:
🔸 ত্বকের সংক্রমণ: ব্যাকটেরিয়া (বিশেষ করে স্ট্যাফিলোকক্কাস অরিয়াস), ভাইরাস, বা ছত্রাক ত্বককে সংক্রামিত করতে পারে।
🔸 অ্যালার্জিক অবস্থা: শরীর হাঁপানি এবং খাবারের অ্যালার্জির ঝুঁকিতে বেশি পড়ে।
🔸 ঘুম সমস্যা: ক্রমাগত চুলকানি স্বাভাবিক ঘুমের ধরণকে ব্যাহত করে।
🔸 মানসিক সাস্থ্য চ্যালেঞ্জ: দীর্ঘস্থায়ী লক্ষণগুলি প্রায়শই উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার কারণ হয়।
✅ যেসব কারণে একজিমা বেড়ে যেতে পারেঃ-
🔸 ধুলো, পরাগরেণু, পশুর লোম।
🔸 অতিরিক্ত খাড় যুক্ত শক্ত সাবান বা ডিটারজেন্ট।
🔸 অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা আবহাওয়া।
🔸 অতিরিক্ত ঘাম।
🔸 মানসিক চাপ, ডিপ্রেশন।
🔸 কিছু কাপড়, বিশেষ করে সিন্থেটিক কাপড়, উলের পোশাক
✅ প্রতিরোধঃ-
নিন্মলিখিত পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে একজিমা প্রতিরোধ করতে পারেন।
🔸 ত্বক পরিষ্কারের জন্য মৃদু ক্লিনজার ব্যবহার করা।
🔸 যেসকল জিনিস ট্রিগার করতে পারে এই রোগকে তা থেকে দূরে থাকা।
🔸 নিয়মিত ময়েশ্চারাইজিং, বিশেষ করে স্নানের পরে, প্রদাহ প্রতিরোধ করে
🔸 নরম, শ্বাস-প্রশ্বাসযোগ্য, সুতি কাপড় ব্যবহার করা।
🔸 উষ্ণ পানিতে গোসল করা।
🔸 স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
✅ ডায়াগনোসিস/ পরীক্ষাঃ-
🔸 ডাক্তাররা রোগীর অ্যালার্জির পারিবারিক ইতিহাসের পাশাপাশি লক্ষণগুলির ধরণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন।
যেসব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়, সেক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি পরীক্ষা সাহায্য করতে পারে:
🔸 প্যাচ টেস্টিং কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস সৃষ্টিকারী অ্যালার্জেন সনাক্ত করে
🔸 রক্ত পরীক্ষা ইমিউনোগ্লোবুলিন ই (IgE) এর মাত্রা পরীক্ষা করে
🔸 ত্বকের বায়োপসি রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করে, যদিও এটি খুব কমই ঘটে
✅ চিকিৎসাঃ- হোমিওপ্যাথিতে এই রোগের খুব ভালো চিকিৎসা বিদ্যমান। লক্ষণ অনুযায়ী হোমিওপ্যাথিক ঔষধ প্রয়োগ করে এই রোগের সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব। তাই যারা এই রোগে আক্রান্ত তারা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে পারবেন।
❇️ বি.দ্রঃ- আপনাদের যে কোন স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন-
ডা: বিনায়ক রঞ্জন বসু
BHMS(DU)
Gov. Reg. No: H-1275 (DG Health)
Mobile No: 01715-520220 (WhatsApp, imo)