21/06/2026
ঔষধের পরিচয়:
উৎস : ছত্রাক জাতীয় উদ্ভিদ।
সমার্থক শব্দ: টোড স্টুল-বাগ অ্যাগারিক, (অ্যাগারিকাস মাস্কারিয়াস – অ্যামানিটা), অ্যামানিটা মাস্কারিয়া, ফ্লাই অ্যাগারিক, বাগ অ্যাগারিক, শ্যাম্পিনিওঁ ফু। **লাল মাশরুম।
আবাসস্থল: ইউরোপ, এশিয়া এবং আমেরিকা; শুষ্ক স্থানে, বিশেষ করে শুকনো পাইন বনে।
গোত্র: ছত্রাক।
(সাদা ছোপযুক্ত একটি বিষাক্ত লাল-টুপিওয়ালা মাশরুম)।
চূর্ণীকরণ: যত্নসহকারে শুকানো টুপি (পাইলিয়াস) থেকে চূর্ণীকরণ আকারে প্রস্তুত করা হয়;
অথবা
তাজা ছত্রাক থেকে টিংচার আকারে ওষুধ প্রস্তুত করা হয়।
যে সব অঙ্গে কাজ করে:
মেরুদণ্ডীয় অক্ষঃ মাথার পেছনের অংশ।
স্নায়ুসমুহ, কোমরের অঞ্চল।
পেরিস্টালসিস (অন্ত্র বা অন্য কোন নালীর পেশীর অনৈচ্ছিক সংকোচন ও প্রসারণ, যা তরঙ্গের মতো গতি সৃষ্টি করে এবং নালীর ভেতরের উপাদানকে সামনের দিকে ঠেলে দেয়।)
হার্ট।
রক্তসংবহন।
শ্বসন।
বক্ষ।
যে সমস্তে রোগের বৃদ্ধি হয়:
বাতাসঃ ঠান্ডা বাতাস, হিমশীতল বাতাস, উন্মুক্ত বাতাস, ঝোড়ো বাতাস।
ক্লান্তিঃ মানসিক ক্লান্তি, সঙ্গমে ক্লান্তি। লাম্পট্য (ব্যাভিচার;অমিতাচারের কারণে ক্লান্তি)।
অ্যাল্কোহল পানে।
চাপে / পীড়নে।
স্পর্শে।
সকাল বেলায়।
মাসিক চলাকালীন সময়ে।
যে সমস্তে রোগের উপশম হয়:
সামান্য নড়াচড়ায়।
যে সমস্ত লক্ষণে ওষুধ কাজ করে: তা নিচে আলোচিত হলো:
অনেক লক্ষণ ই ধীরে ধীরে শুরু হয়।
অনেক লক্ষণ (টিউবারকুলিনাম)।
অনিয়মিত, কৌণিক (কোণাকোণি), অনিশ্চিত এবং অতিরঞ্জিত গতিবিধি (ইগ্নাসিয়া); সে অনেক বেশী দূরে হাত বাড়ায়, টলমল করে বা অনেক উঁচুতে পা ফেলে, জিনিসপত্র ফেলে দেয়, ইত্যাদি।
কাঁপুনি, খিঁচুনি, ঝাকুনি বা পেশীর (তন্তুর) সমন্বয়হীন আক্ষেপ (খিঁচুনি); এই খিচুনি আক্ষেপ - যেখানে এবং সেখানে হয়; < চোখের পাতাদ্বয়ে অথবা জিহ্ববাতে বেশী হয়।
কাঁপতে কাঁপতে শিউরে উঠে।
উদ্বিগ্ন এবং অস্থির।
Chorea রোগ রোগ (স্নায়ুবিক রোগ, যার বৈশিষ্ট্য হলো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বা মুখের মাংসপেশীর আকস্মিক ও অনৈচ্ছিক নড়াচড়া।)
অঙ্গগুলির উপড়ে ঠাণ্ডা সূঁচ, একটি ঠাণ্ডা ফোঁটা অথবা একটা ওজন অনুভূত হয়।
বেদনাদায়ক খিঁচুনি, তারপর শরীরের কিছু অংশ শক্ত ও ঠাণ্ডা হয়ে যায়।
……………মতিভ্রম (অত্যধিক হাসিখুশি) অথবা নিরস (বোকা ভাব) এবং, মাথা ঝিমঝিম করে , (মাথা ঘোরায়, হতবুদ্ধি হয়); মনে হয় যেন মাতাল।
মাথা সামনে পিছনে এদিক-ওদিক ঘোরায়।
মাথা ব্যাথা। > মল ত্যাগে অথবা প্রস্রাবে মাথা ব্যাথার উপশম।
দোদুল্যমান অক্ষিগোলক। (অক্ষি গোলক ঝুলে যায়)।
চোখের কোনায় আঠালো রস।
চোখের সামনে কালো কালো কণা ভাসতে দেখা যায়, যা সাধারণত চোখের ভিট্রিয়াস হিউমারে থাকা কণার কারণে ঘটে থাকে।
মুখের কোণ ঝুলে যায়।
পেটের ইপিগ্যাস্ট্রিক অঞ্চলে একটা পিন্ডের মতো অনুভূতি হয়।
অন্ত্রের মধ্যে গুড়গুড় শব্দ ও গাঁজন তৈরী হয় ।
গরম বায়ু যায় বা গরম বীর্যপাত হয়; ঠান্ডা প্রস্রাব হয়। (ঠাণ্ডা প্রস্রসাবের সময় গরম বায়ু বা বীর্যপাত হয়)।
হঠাৎ হঠাৎ কাশি, তারপর হাঁচি; যেন মেরুদন্ড থেকে আসছে; সহজে ছোট বস্তুকণার মতো অস্বচ্ছ কফ বা শ্লেষ্মার দলা বেরিয়ে আসে।
অস্পষ্ট, কাঁপাকাঁপা (খাপছাড়া) কথা বলে।
সহবাসের সময় বুক ধরফড় করে; পরে তা কমে যায়।
অকাল বীর্যপাত।
হৃদপিন্ড থেকে বাম স্ক্যাপুলা পর্যন্ত চাপ বা বিদ্ধকর জ্বালাপোড়া অনুভব করে।
অ্যাঞ্জিনা পেক্টোরিস; এতে (বুকের হার্ট অঞ্চলে) শুধু তীব্র ব্যথা হয়।
(অ্যাঞ্জিনা পেক্টোরিস = করোনারি ধমনীর রোগ, যার ফলে হৃদপিন্ডের পেশীতে রক্ত চলাচল কমে যায় {মায়োকার্ডিয়াল ইস্কেমিয়াও বলে}ফলে বুকে ব্যাথা, চাপ বোধ, অস্বস্তি, ঘাম হয় ও কোন কোন ক্ষেত্রে বধজমের সৃস্টি হয়)।
দুধ নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্টি হয় মেটাস্টেসিস (ক্যান্সারের প্রাথমিক স্থান থেকে দূরে দ্বিতীয় পর্যায়ভুক্ত মারাত্মক টিঊমারের বিকাশ হয়)।
একক কশেরুকা (মেরুদন্ডের হাড়) তাপের প্রতি সংবেদনশীল হয়।
মেরদন্ড সংবেদনশীল, > চাপ বা স্পর্শে ব্যথা বাড়ে; মেরুদন্ড বরাবর তীব্র ব্যথা ও জ্বালাপোড়া হয়; মেরুদন্ড খাটো মনে হয় (সালফার), < ঝুঁকে পড়লে ব্যথা কমে; মেরুদন্ড শক্ত হয়ে যায়।
বাহুদুটি অস্থির থাকে ।
জ্বালাপোড়া – চুলকানি (এপিস মেল), < ত্বকে; মনে হয় যেন বরফ জমে গেছে; চুলকাতে চুলকাতে বা আঁচড়াতে আঁচড়াতে চুলকানোর স্থান পরিবর্তিত হয় (এবং এতে কিছুটা জ্বালা পোড়া ,চুলকানির উপশম হয়)।
ঠাণ্ডা লাগলে ত্বকে ব্যথা হয়।
শৈত্যজনিত ক্ষত (ঠান্ডার সংস্পর্শে এলে ত্বকে রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার কারণে সাধারণত হাত বা পায়ে সৃষ্ট ত্বকের একটি বেদনাদায়ক ও চুলকানিযুক্ত ফোলা চিলব্লেইন্স বা শৈত্যজনিত ক্ষত )।
হাইতোলে; ব্যথা অথবা খেচুনীর আগে হাইতোলে; সহগামী লক্ষণ হিসাবে হাই তোলে।
ঠাণ্ডা লাগে অথবা সহজেই ঘাম হয়।
বিপরীতি পাশে ঘাম হয়।
রাতে ঘাম হয়।
চুলকানি, পুরা আক্রান্ত অংশজুড়ে চুলকানি।
নিতম্ব দুটি ঠাণ্ডা থাকে।
প্রতিষেধকঃ ওষুধ : কফিয়া, পালসাটিলা।
সম্পুরকঃ ঔষধ : ক্যাল্ক্যারিয়া কার্ব।
সম্পর্কিতঃ ঔষধ : ফাইজস্টিগ্মা। টিউবারকুলিনাম।