25/08/2026
বাংলাদেশ একমাত্র দেশ যেখানে "সুস্থ্য রোগী" শব্দটি ব্যবহার হতে দেখা যায়। যে সুস্থ্য, সে রোগী না এবং যে রোগী, সে সুস্থ্য না - এই কমনসেন্স এদেশের মানুষের নাই।
হাঁটতে থাকা রোগী হঠাৎ পড়ে গিয়ে ম*রে গেলে "আল্লাহর মাল আল্লায় নিছে।" অথচ ঐ একই ঘটনা হাসপাতালে ঘটলে, আমার রোগী ডাক্তার মা*রছে।
কি পরিমাণ ভা*গাড় হইলে মানুষ বলতে পারে- "ক্যানোলা করার পরে আমার রোগী ম*রছে, ইঞ্জেকশন দিয়া আমার রোগী মা*রছে।"
হার্ট এটাক, স্ট্রোক, সাডেন কার্ডিয়াক ডে*থ, শক, অর্গান ফেইলর - এই শব্দগুলা বাইরের দেশে যে লেভারি করে, সেও জানে। এরকম অনেক কন্ডিশন আছে যখন মৃ*ত্যু অলমোস্ট ইনেভিটেবল। ভাগ্যগুনে মানুষ ফিরে আসে।
উপর ছবির মহিলার রুগীর কম্পলেইন ছিলো বুকে ব্যাথা। মিডল এইজ মহিলা, বুকে ব্যাথা, কম্প্রেসিভ ইন নেচার - এই সিচুয়েশনে ফার্স্ট ক্লিনিকাল ডায়াগনোসিস হচ্ছে হার্ট এটাক, আনটিল প্রোভেন আদারওয়াইজ।
এ ধরণের রোগী দেখবেন কথা বলতেছে, কিন্তু তার ব্লাড প্রেশার নিল, পালস পাওয়া যায় না। সোজা কথায় কার্ডিওজেনিক শক।
এমন রোগীর চিকিৎসার জায়গা হচ্ছে করোনারি কেয়ার ইউনিট। অথচ এই ছোট্ট দেশ যেখানে পাদ মারলে টেকনাফ থেকে তেতুলিলায় শুনা যায়, সেখানে জনসংখ্যা মাশাল্লাহ ১৮ কোটি। বাংলাদেশ থেকে ১১ গুণ বড় অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা মাত্র ৩ কোটি।
তো সিসিইউ নাই, ওয়ার্ডে বেড পর্যন্ত নাই। রোগীকে বারান্দায় শুয়ে রাখতে হয়। বিশ্বাস না হলে ওসমানীর কার্ডিয়াক ইউনিটে একবার যেয়ে দেইখেন। হার্ট এটাকের রোগী, বারান্দায় শুয়া। কিচ্ছু করার নাই, সিসিইউ তে যে আছে, সে না ম*রলে বা সুস্থ্য না হলে নতুন কাউকে ঢুকানোর সুযোগ নাই।
বেডসংখ্যা ২ হাজার, রোগী ৫ হাজার। প্রতি ১০ মিনিটে রোগি ভর্তি হয় ৫ টা। পুরাতন রোগী থাকে একেক বিভাগে ৩০০। ডাক্তার কাকে রেখে কাকে দেখবে?
এইগুলার সমাধান আসলে কার হাতে সবাই জানে। কিন্তু তার দৌড় যতটুকু সেই জায়গা পর্যন্ত ক্ষমতা দেখায়। এই যে আপনার রোগীর বুকে ব্যাথা, কিন্তু রাষ্ট্র সিসিইউ তে সিট দিতে পারলোনা, রাষ্ট্রের কাছে বিচার চাইছেন? তা পারবেন না। বাহাদুরি করবেন ডাক্তারের সাথে।
এইভাবে করলে ডাক্তার আর রোগীর গায়ে হাত দিবেনা। বলবে এখানে হবেনা। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা, উপজেলা থেকে জেলা, জেলা থেকে বিভাগ, বিভাগ থেকে ঢাকায় ছুটে বেড়াবেন। মাঝখানে রোগী লাশ হবে, নিজেও কাহিল হবেন।
এই প্র্যাক্টিস বন্ধ করেন। সাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলুন। যেই দেশে রুগীর হাসপাতালের বারান্দায় থাকা লাগে, সেইখানে সঠিক চিকিৎসার আশা করা বোকামি।
আপনার রোগীর পেছনে ২ মিনিট দিতে দিতে আরও নতুন ২ রোগী হাসপাতালের সিড়িতে ভর্তি হয়ে পড়ে আছে। ঐ দুই রোগীও তার এটেন্ড করা লাগবে। ডাক্তার করবেটা কি?
ইন্টারনেশনাল স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী প্রতি ১০০০ মানুষের জন্য ১ জন ডাক্তার থাকা লাগে। বাংলাদেশে ১ জন ডাক্তারের বিপরীতে আছে ২২০০ জন। দ্বিগুণের থেকেও বেশি। এই লোড নিতে কি সে বাধ্য?
দেশ আপনারে হাসপাতালে একটা সিট দিতে পারেনা, সেটা নিয়ে কথা নাই। অথচ আপনি আছেন ডাক্তারদের পেছনে। সাথে আছে আপনার আজগুবি আলাপ- ইঞ্জেকশন দিয়া মা*রছে।
©