16/02/2025
লাইলাতুল নেসফে শাবান সম্পর্কে,
আবার অনেক দিন পর ফিরে এলাম লাইলাতুল নেসফে শাবান অথবা শবেবরাতের রাত সম্পর্কে কিছু লেখার জন্য।
অবশ্যই এটা একটা মহিমান্বিত রজনী এবং পবিত্র রজনী এটাই রহমতের মাস। এ দিনে আল্লাহ্ সবাইকে মাফ করে দিবেন শুধু মাফ করবেন না দুই ব্যক্তিকে:
১. শিরক করে যারা অর্থাৎ আল্লাহর একত্ববাদ বিশ্বাস করে না।
২. যারা হিংসা বিদ্বেষ ও লিপ্ত। কেননা হিংসার প্রভাবে মানুষ ধনসম্পদের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়, লোভের বশবর্তী হয় এবং পাপে লিপ্ত হয় কাজেই কি দাড়ালো?
আমাদেরকে সর্বপ্রথম শিরক এবং হিংসা থেকে বেঁচে থাকতে হবে এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে আমি যত টুকু বুঝতে পেরেছি, লাইলাতুল নেসফে শাবান সুন্দরভাবে পেতে হলে আমার নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে হবে এবং পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। আল্লাহর প্রিয় বন্দা হতে হবে।
এখন প্রশ্ন হলো আল্লাহর প্রিয় বান্দা হতে হলেকি করতে হবে?
ভাই ও বোনেরা আল্লাহ্ কে পেতে হলে সর্বক্ষণ চেষ্টা করতে হবে। প্রথমত নামাজ পড়তে হবে শুধু নামাজ পড়লেই হবে না, নামাজের অনেক প্রস্তুতি আছে, উত্তম রূপে ওজু করতে হবে।আউয়াল ওয়াক্তেই নামাজ পড়তে হবে, খুশু খুজুর সাথে নামাজ পড়তে হবে, নিজেকে সম্পূর্ণ ভাবে সপে দিতে হবে আল্লাহর কাছে। মনে করতে হবে আল্লাহ্ আপনাকে দেখছে, সামনে আল্লাহ্ পিছনে মালাকুল মউত, ডাইনে জান্নাত বামে জাহান্নাম, দেখবেন আপনার ভালো লাগতে শুরু হয়ে গেছে ,আপনার মন থেকে অশান্তি, অপরাধ বোধ সরে যাচ্ছে। নামাজের আগে নিজে একটু সাজুন, সুরমা লাগান আর ভাবুন মৃত্যুর পরেতো সুরমা দিয়েই সাজাবে, দেখি একটু রিহার্সেল হউক, কল্পনা করি মৃত্যুর পর আমাকে কেমন লাগবে? দেখবেন নামাজের পর হালকা লাগছে। আপনার চেহারায় নূর এসে গেছে, দেখবেন আল্লাহ্ আপনার জীবনে বরকত,শান্তি, সাফল্যের দুয়ার খুলে দিয়েছেন। আপনার জীবনকে করে দিয়েছেন পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন। আপনি না চাইতেই অনেক কিছু পাচ্ছেন,আপনি শুনতে পাচ্ছেন ঝর্নার নির্ঝরণী সুর, সেই সুরে যেন আল্লাহর স্তুতিকারী গজল শুনতে পাচ্ছেন।
শবে বরাতকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো নামাজ, রোজা রাখা, বিশেষ নিয়মে নামাজ পড়া, মাগরিবের পরে সারারাত নামাজ পড়া, পটকাবাজি, আতশবাজি, হালুয়া রুটি বানানো বা বিতরণ করাটা বিদআত। শবে বরাতের নামাজ সারা রাত জেগে যদি ফজরের নামাজ বাদ যায় তাহলে সবই বরবাদ।
আসুন আমরা আইয়ামে বীজের রোজা রাখি শাবান মাসের ১৩, ১৪,১৫ রোজা রাখি। সেটা সবচেয়ে উত্তম। তওবার নামাজ পড়ি, সালাতুল তাসবিহ পড়ি,শুকরিয়ার নামাজ পড়ি, তাহাজ্জুত এর নামাজ পড়ি, সদাকা করি, দান করি, বেশি বেশি আস্তাগফিরুল্লাহ পড়ি, দরুদ শরীফ পড়ি, সালামের প্রচার ও প্রসার করি, , আখলাখের উন্নতি করি, গরীব দুঃখী, এতিম এর উপর একটু সদয় হই,
ভিক্ষুক কে ভৎস'না না করি। হারাম, হালাল না মেনে চললে, সুদ ঘুষ বর্জন না করলে আল্লাহর প্রিয় হওয়া যাবে না। এক হাজার রাকাত নামাজ পড়েও কোনো লাভ নাই।
আল্লাহকে সর্বক্ষণ সব কাজে প্রতি চেতনায় ধ্যান ধারনায় খুঁজে বেড়াতে হয়। আল্লাহর ভালোবাসা পাওয়ার জন্য জীবনকে উৎসর্গ করতে হবে। তা হলে আল্লাহকে পেয়ে গেলে দুনিয়া ও আখেরাত ও পেয়ে গেলেন। এটা একদিনের ১০০ রাকাত নামাজে নয়, প্রতিটি মুহুর্তে সারা জীবন ধরে সাধনা করতে হয়, কঠিন বিপদে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। তাতেই আল্লাহকে পাওয়া যাবে, তখন আর আল্লাহর কাছে বিষয়ভিত্তিক চাইতে হবে না। দেখবেন আল্লাহ্ আপনাকে একটা পরিপূর্ণ সুখী জীবন দিয়ে দিয়েছেন, অর্থ থাকুক আর না থাকুক। এটাই আল্লাহকে ভালোবাসা তথা আল্লাহ্কে পাওয়া।
অধ্যাপক ডাঃ নিলোফার শামীম আফজা।