21/09/2026
মুক্তা আমার এক ব্লাড ক্যান্সারের রোগী। ব্লাড ক্যান্সার মানে-একেবারে সবচেয়ে ভয়াবহ যেটা, সেইটা - একিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া।
মুক্তারা অত্যন্ত দরিদ্র। তার স্বামী একজন কাঠমিস্ত্রী। বাড়ি নরসিংদী।
গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করলাম, নানাভাবে সাহায্য সহযোগীতাও করলাম। মুক্তার স্বামী বাড়িতে তার জায়গার একাংশ বিক্রি করে দিল। তা দিয়ে তার চিকিৎসা হলো।
এখন সে প্রায় সুস্থ। বলা যায় বিপদমুক্ত। ফলো আপ ট্রিটমেন্টে আছে৷ আমার সাথে হোয়াটসঅ্যাপেই গত তিনমাস চিকিৎসা নিয়েছে। তো গত সপ্তাহে বললাম একবার আসো, সরাসরি দেখিয়ে যাও৷
আজ এসেছিলো। সকাল এগারটায় পৌঁছে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দিয়েছে। পিজি থেকে বেরিয়ে আমার আসতে আসতে পৌনে তিনটা বাজবে। ভাবলো স্যার আসার আগেই লাঞ্চটা সেরে নেওয়া যাক।
দুপুর দেড়টার দিকে তার স্বামী তার জন্য খাবার আনতে গেলো গ্রীনরোডের একটা হোটেল থেকে। ধানমন্ডি ছয় নম্বর গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল থেকে বেরুলেই তো গ্রীন রোড। জনাকীর্ণ রাস্তা। ভরদুপুরে রিকশা,গাড়ি আর পথচারীতে মিলে জায়গাটা একদম ঠাসাঠাসি হয়ে থাকে৷ এইসময়ে মুক্তার স্বামীকে ছিনতাইকারী ধরল।
বেচারার সাথে ছিল সতের হাজার টাকা৷ একেবারে তিনমাসের ওষুধ পত্র কিনে নিয়ে যাবে বলে সাথে করে এনেছিলো। টাকাটা সে ধার করে এনেছে।
ছিনতাইকারী হাতে একটুখানি ক্ষুর বা ছুরির পোচও দিয়েছে। হাত কেটে গেছে৷ তবে বড় কিছু হয়নি।
আমি পৌনে তিন্টায় হাসপাতালে পৌছে দেখি মুক্তা অঝোরে কাঁদতেছে। ঘটনার বিবরণ শুনে আমি হতভম্ব। আমি এই পথ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করি। এই গ্রীন রোডে ভরদুপুরে ছিনতাই! কিভাবে সম্ভব!
জানতে পারলাম গত একমাসে আরো দুজন রোগীর লোক এভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে, একই কায়দায়, একই সময়ে, মানে দুপুর বেলা।
মনে হলো, মুক্তার স্বামী আজকে মরেও যেতে পারত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে। ঠিক ঠাক চিকিৎসা দিতে পারলে অনেক সময়ই ক্যানসার ভাল করে ফেলা যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের সমাজের যে গভীর অসুখ হয়েছে সেটা ভাল না হলে তো লাভ নাই। হয়ত দেখা যাবে ক্যান্সার জয় করা একজন মানুষ মরে গেলো ছিনতাইকারীর ছুরিতে৷
আহারে জীবন! আহারে বাংলাদেশীদের জীবন!মুক্তা আমার এক ব্লাড ক্যান্সারের রোগী। ব্লাড ক্যান্সার মানে একেবারে সবচেয়ে ভয়াবহ যেটা - একিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া।
মুক্তারা অত্যন্ত দরিদ্র। তার স্বামী একজন কাঠমিস্ত্রী। বাড়ি নরসিংদী। দরিদ্র বলেই আমার একজন সুহৃদ কলিগ বিশেষ রেফারেন্স দিয়ে আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন।
গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করলাম, নানাভাবে সাহায্য সহযোগীতা করলাম। মুক্তার স্বামী বাড়িতে তার জায়গার একাংশ বিক্রি করে দিল। তা দিয়ে তার চিকিৎসা হলো।
এখন সে প্রায় সুস্থ। বলা যায় বিপদমুক্ত। ফলো আপ ট্রিটমেন্টে আছে৷ আমার সাথে হোয়াটসঅ্যাপেই গত তিনমাস চিকিৎসা নিয়েছে। তো গত সপ্তাহে বললাম একবার আসো, সরাসরি দেখিয়ে যাও৷
আজ এসেছিলো। সকাল এগারটায় পৌঁছে পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে দিয়েছে। পিজি থেকে বেরিয়ে আমার আসতে আসতে পৌনে তিনটা বাজবে। ভাবলো স্যার আসার আগেই লাঞ্চটা সেরে নেওয়া যাক।
দুপুর দেড়টার দিকে তার স্বামী তার জন্য খাবার আনতে গেলো গ্রীনরোডের একটা হোটেল থেকে। ধানমন্ডি ছয় নম্বর গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল থেকে বেরুলেই তো গ্রীন রোড। জনাকীর্ণ রাস্তা। ভরদুপুরে রিকশা,গাড়ি আর পথচারীতে মিলে জায়গাটা একদম ঠাসাঠাসি হয়ে থাকে৷ এইসময়ে মুক্তার স্বামীকে ছিনতাইকারী ধরল।
বেচারার সাথে ছিল সতের হাজার টাকা৷ একেবারে তিনমাসের ওষুধ পত্র কিনে নিয়ে যাবে বলে সাথে করে এনেছিলো। টাকাটা সে ধার করে এনেছে।
ছিনতাইকারী হাতে একটুখানি ক্ষুর বা ছুরির পোচও দিয়েছে। হাত কেটে গেছে৷ তবে বড় কিছু হয়নি।
আমি পৌনে তিন্টায় হাসপাতালে পৌছে দেখি মুক্তা অঝোরে কাঁদতেছে। ঘটনার বিবরণ শুনে আমি হতভম্ব। আমি এই পথ দিয়ে প্রতিদিন চলাচল করি। এই গ্রীন রোডে ভরদুপুরে ছিনতাই! কিভাবে সম্ভব!
জানতে পারলাম গত একমাসে আরো দুজন রোগীর লোক এভাবে ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে, একই কায়দায়, একই সময়ে, মানে দুপুর বেলা।
মনে হলো, মুক্তার স্বামী আজকে মরেও যেতে পারত। চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতি হয়েছে। ঠিক ঠাক চিকিৎসা দিতে পারলে অনেক সময়ই ক্যানসার ভাল করে ফেলা যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের সমাজের যে গভীর অসুখ হয়েছে সেটা ভাল না হলে তো লাভ নাই। হয়ত দেখা যাবে ক্যান্সার জয় করা একজন মানুষ মরে গেলো ছিনতাইকারীর ছুরিতে৷
আহারে জীবন! আহারে বাংলাদেশীদের জীবন!