27/06/2026
https://www.facebook.com/share/p/1BTA3yN1LD/
আমাদের সেন্টারে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু রোগী আসেন, যারা পিঠ, কোমর বা ঘাড়ের ব্যথা নিয়ে এসে বলেন যে ইন্টারনেটের সাহায্য নিয়েও তাঁদের কষ্ট কমেনি, উল্টো বেড়েছে।
কিছুদিন আগের কথা, এক কর্মজীবী যুবক তীব্র কোমরের ব্যথায় প্রায় বাঁকা হয়ে কোনোমতে আমাদের সেন্টারে ঢুকলেন। ওনার স্ত্রী অত্যন্ত চিন্তিত মুখে বললেন, "স্যার, উনার হালকা কোমর ব্যথা ছিল। ইউটিউবে 'কোমর ব্যথার ৫টি সহজ ব্যায়াম' দেখে উনি গত এক সপ্তাহ ধরে ঘরে নিজে নিজেই কিছু স্ট্রেচিং করা শুরু করেন। কিন্তু তিন দিন আগে একটা কঠিন ব্যায়াম করার পরপরই ওনার কোমর পুরো লক হয়ে যায়, এখন ব্যথার চোটে উনি সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারছেন না।"
আমি উনার শারীরিক অবস্থা এবং পূর্বের রিপোর্ট পরীক্ষা করে দেখলাম, ভুল এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যায়ামের কারণে মেরুদণ্ডের ডিস্কের সমস্যাটি (PLID) আরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। আমাদের সমাজে চিকিৎসকের সুনির্দিষ্ট রোগ নির্ণয় ছাড়া কেবল ইউটিউব বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভিডিও দেখে নিজে নিজে থেরাপিউটিক ব্যায়াম করার এই প্রবণতা এখন ঘরে ঘরে বড় ধরণের বিপদ ডেকে আনছে।
ইউটিউবের ব্যায়ামগুলো সাধারণত সাধারণ ফিটনেস বা সুস্থ মানুষের জন্য তৈরি করা হয়, কোনো নির্দিষ্ট জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য নয়। কোমর, ঘাড় বা হাঁটুর ব্যথার পেছনে অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। যেমন- কারো ডিস্ক প্রল্যাপ্স হতে পারে, কারো হাড় ক্ষয় হতে পারে, আবার কারো মাংসপেশির টান বা স্পাজম হতে পারে। রোগ এবং রোগীর শারীরিক গঠন, বয়স ও সক্ষমতাভেদে ফিজিওথেরাপিউটিক ব্যায়াম বা এক্সারসাইজ থেরাপি সম্পূর্ণ আলাদা হয়। একজন দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্ট রোগীর সমস্যা নিখুঁতভাবে ক্লিনিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট বা মূল্যায়ন করে নির্ধারণ করেন যে কোন ব্যায়ামটি উনার জন্য উপকারী আর কোনটি ওনার ক্ষতি করবে। না বুঝে ভুল ভঙ্গিতে বা ভুল মাত্রায় ব্যায়াম করলে মেরুদণ্ডের ডিস্ক ও নার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা রোগীকে স্থায়ী পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
ব্যায়াম অবশ্যই শরীরের জন্য উপকারী, তবে যখন সেটি কোনো ব্যথার নিরাময় বা থেরাপি হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন তার জন্য সঠিক ক্লিনিক্যাল নির্দেশনার প্রয়োজন। আপনার শরীর বা মেরুদণ্ড কোনো পরীক্ষাগার নয় যে ভিডিও দেখে যা ইচ্ছা তাই এক্সপেরিমেন্ট করবেন। তাই পিঠ, কোমর, ঘাড় বা জয়েন্টের যেকোনো ব্যথায় ভুগে থাকলে আন্দাজে ভিডিও দেখে কসরত করে নিজের সমস্যাকে আরও জটিল করবেন না। লক্ষণ দেখা দিলে ঘরে বসে সময় নষ্ট না করে সরাসরি আমাদের মতো কোনো বিশেষায়িত সেন্টারে এসে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের তত্ত্বাবধানে আপনার জন্য সুনির্দিষ্ট ও নিরাপদ ব্যায়ামগুলো শিখে নিন।
মনে রাখবেন, সঠিক নিয়মে করা সঠিক থেরাপি যেখানে আপনাকে দ্রুত সুস্থ করতে পারে, সেখানে না জেনে করা একটিমাত্র ভুল মুভমেন্ট আপনার জীবনকে চিরতরে যন্ত্রণাদায়ক করে তুলতে পারে। সজাগ হোন, নিজের মেরুদণ্ড ও স্বাস্থ্যকে সুরক্ষিত রাখুন।