28/07/2026
পলিথিন মোড়াইয়া মাছ রাখি, মাংস রাখি! প্লাস্টিকের বোতলে দুধ রাখি! মাসের পর মাস রেখে দেই।
অথচ আমরা জানিই না ,লাখ লাখ মাইক্রোপ্লাস্টিক গিলছি!
এই যে ক্যান্সার, কিডনি ফেইলিউর, হরমোনের সমস্যা, লিভারের সমস্যা কেন বাড়ছে?
গবেষণায় বলছে, যদি কেউ দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় রাখলে পলিথিনটা দুর্বল হয়ে মাছ, মাংসে মাইক্রোপ্লাস্টিক লেগে যায়।
পলিথিনের বিষাক্ত কেমিক্যালও মিশে।
যতোই ধোইবেন, যতোই হিট দিবেন লাভ নাই প্লাস্টিক আর কেমিক্যাল চর্বিতে লেগেই থাকে।
শেষ পর্যন্ত আপনার আমার শরীরে প্রবেশ করে।
প্রবেশ করতে করতে বহু সমস্যা দেখা দেয়।
তারপর দৌড়াই হাসপাতাল, ডাক্তার, ফার্মেসীতে।
সঞ্চয়ের সব টাকা নষ্ট করে দিন শেষে মৃত্যু নিশ্চিত।
এমনিই আমরা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ভেজাল গিলছি।
তার উপরে আমরা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি ডেকে আনছি।
দেখেন না! দেশে চিকিৎসা নাই! ডাক্তারি ব্যবসা, হাসপাতাল ব্যবসা, ফার্মেসী ব্যবসা রমরমা।
কি এক অদ্ভুত ব্যাপার! গোটা একটা জাতি ভেজাল গিলছে। প্রত্যেকটা মানুষ ভেজাল খাইতে খাইতে অসুস্থ।
এদেশের কোন শ্রেণী পেশার মানুষ বাদ নাই
ডাক্তার ,ইঞ্জিনিয়ার, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ, আর্মি, সাংবাদিক ,শিক্ষক ,কৃষক, সাধারণ -অসাধারণ প্রত্যেকটা নাগরিক সবাই গিলছে!
অসুস্থ হচ্ছে! আর উদ্দেশ্যহীনভাবে দৌড়াচ্ছেন।
দেশে চিকিৎসা না পাইয়া ইন্ডিয়া, সিঙ্গাপুর ,চায়না যাচ্ছে! লাশ হয়ে ফিরছে!
এ নিয়া কারো কোন হুশ নাই! তেমন গবেষণা নাই, প্রতিরোধের প্ল্যান নাই, পলিসি নাই! পরবর্তী প্রজম্ম নিয়া মাথা ব্যথা নাই!
দেশের বড় বড় নীতিনির্ধারকদের দেখি , শুধু হাসপাতাল আর চিকিৎসা নিয়া বড় বড় লেকচার দিতে।
কিন্তু আমাদের পাবলিক হেল্থ কই? প্রতিরোধ কই?
অল্পশিক্ষিত জাতিরে কে বা কারা বুঝাবে?
কে বা কারা সচেতন করবে! প্রতিরোধ থেকে প্রতিকার কি বেশি জরুরী?
ভেজালের বিরুদ্ধে আইনের প্রয়োগ কই?
আজকেই দেখলাম, অ্যামেরিকার বিখ্যান জনসন কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করছে কারণ তাদের প্রোডাক্ট ব্যবহার কইরা একজনের ক্যান্সার ৫.৫ বিলিয়ন ডলার দিতে রাজি হইছে।
আমাদের দেশেও এমন আইন করতে হবে! ভেজাল প্রমাণ হইলে ২০-৫০ হাজার জরিমানা করে লাভ নাই।
যদি কোন কোম্পানি জাতির জন্য ক্ষতিকর জিনিস
উৎপাদন করে তাহলে তাকে কোটি কোটি টাকার মামলা দেন!
কঠিন শাস্তির বিধান করতে হবে।
তাহলে সব ঠিক হয়তে বেশিদিন লাগবে না।
ভাবতেই অবাক লাগে,ভেজালের বিরুদ্ধে দুচারটা মানুষ ছাড়া কেউ কথা বলে না। কয়েকটা মানুষ ছাড়া কেউ কাজ করে না।
তবে বলবে, তখনি বলবে যখন কিডনি ফেইলিউর আর ক্যান্সার এদেশে মহামারি আকার ধারণ করবে!
হাসপাতাল বেড আর ডাক্তারের সিরিয়ালের জন্য মানুষ রীতিমতো যুদ্ধ করবে।
অলরেডি শুরু হয়ে গেছে! বড় বড় লাইন ,কয়েক দিন অপেক্ষা ,বেড সংকট ,সিন্ডিকেট ,জায়গায় জায়গায় হয়রানি!
এছাড়া ২/৪ টা পরিবার খুঁজলে ২/১ জন রোগী পাবেন। সামনে হয়তো ঘরে ঘরে রোগী পাওয়া যাবে।
যে খাবার খেয়ে মানুষের বাঁচার কথা ছিল সে খাবার খেয়ে মানুষ অল্প বয়সে মারা যাচ্ছে।
তারপরেও অনুশোচনা কিংবা লজ্জা নাই আমাদের!!!
©