05/09/2026
📌শিশুর সাধারণ কিছু সমস্যা ও করণীয়
শিশুর সর্দি-কাশি, নাক বন্ধ, পেটের সমস্যা, ডায়াপার র্যাশ, কৃমি, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা কিংবা অন্যান্য ছোটখাটো অসুস্থতা নিয়ে বাবা-মায়ের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।
শিশুকে কোনো ওষুধ দেওয়ার আগে তার বয়স, ওজন, শারীরিক অবস্থা এবং ওষুধের সঠিক formulation বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
📌শিশুর ঠান্ডা, কাশি ও নাক বন্ধ হলে
শিশুর সাধারণ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে প্রথমে পর্যাপ্ত তরল, বিশ্রাম এবং নাক পরিষ্কার রাখার দিকে নজর দিতে হবে। নাক বন্ধ থাকলে Normal Saline nasal drops ব্যবহার করা যেতে পারে। রাতে নাক বন্ধ হয়ে ঘুমের সমস্যা হলে শিশুকে মাথা সামান্য উঁচু করে শোয়ানো যেতে পারে।
শিশুর যদি শুষ্ক কাশি থাকে, তাহলে Butamirate Citrate গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করা হয়, যা বাজারে Syrup Bukof/Mirakof নামে পাওয়া যায়।
ডোজ হিসেবে প্রতি ১০ কেজি ওজনে ২.৫ মিলি করে দিনে ০৩ বেলা, ০৫/০৭ দিন দেওয়া হয়।
উদাহরণ হিসেবে, শিশুর ওজন যদি ২০ কেজি হয়, তাহলে ০৫ মিলি করে দিনে ০৩ বেলা, ০৫/০৭ দিন দেওয়া হয়। ১৫ কেজি ওজন হলে একই অনুপাতে ডোজ হিসাব করতে হবে।
কফযুক্ত কাশি হলে SYRUP. BRODIL LEVO (1 mg/5 ml) দেওয়া হয়। ১–৩ বছর বয়সী শিশুর জন্য: ২.৫ মিলি, ৩ বার, ৭ দিন।
শিশুর সাধারণ সর্দি, অ্যালার্জি বা হাঁচির ক্ষেত্রে Cetrizine গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করা হয়। বাজারে এটি Alatrol Pediatric Drop নামে পাওয়া যায়।
ডোজ হিসেবে প্রতি কেজি ওজনে ৩ ফোটা দেওয়া হয়। শিশুর ওজন ৫ কেজি হলে ১৫ ফোটা বা ১ মিলি করে ১ বার এবং ১০ কেজি হলে ৩০ ফোটা বা ২ মিলি করে ১ বার দেওয়া হয়। ২.৫ কেজি হলে একইভাবে ওজন অনুযায়ী হিসাব করতে হবে।
ঠান্ডা বা অ্যালার্জির কারণে নাক বন্ধ হলে Afrin Nasal Drop ব্যবহার করা হয়। এর Generic Name Oxymetazoline Hydrochloride। এটি নাকের ভেতরের ফোলা টিস্যু কমিয়ে নাক বন্ধভাব দূর করতে সাহায্য করে।
ডোজ: ১ ফোটা, ২ নাকের ছিদ্রে, ৩ বেলা।
Afrin Nasal Drop ৩ দিনের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে rebound congestion হতে পারে।
কফযুক্ত কাশিতে শিশুকে আরাম দিতে বয়স উপযোগী উষ্ণ তরল খাবার দেওয়া যেতে পারে। ১ বছরের বেশি বয়সী শিশুকে অল্প মধু দেওয়া যেতে পারে। ১ বছরের কম বয়সী শিশুকে মধু দেওয়া যাবে না।
গরম পানির সরাসরি ভাপ শিশুকে দেওয়া উচিত নয়, কারণ এতে পোড়ার ঝুঁকি থাকে। ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হলে Humidifier ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুর পিঠে জোরে চাপড়ানো বা Chest Percussion করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
কাশির সঙ্গে শ্বাস নিতে কষ্ট, বুক দেবে যাওয়া, ঠোঁট নীলচে হওয়া, শিশুর খেতে না পারা, অতিরিক্ত দুর্বল হয়ে যাওয়া বা দীর্ঘদিন জ্বর থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
📌যেসব বাচ্চা সন্ধ্যার পর হাত-পায়ে ব্যথার কথা বলে, অর্থাৎ Growing Bone Pain থাকে—
Tab. Calbo JR (250 mg): রাতে ১টি করে, চিকিৎসার মেয়াদ ১ মাস।
ব্যথা যদি দিনের বেলাতেও থাকে, নির্দিষ্ট একটি জায়গায় ক্রমাগত হয়, ফুলে যায়, জ্বর থাকে বা শিশুর হাঁটতে সমস্যা হয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
📌দাঁত উঠতে দেরি হলে
যেসব বাচ্চাদের দাঁত উঠতে দেরি হচ্ছে বা এখনো দাঁত ওঠেনি—
Syrup.D3 (400IU), Cholecalciferol: ১ মিলি, ১ বেলা, ১ মাস।
বয়স অনুযায়ী ডোজ ঠিক করতে হবে।
📌রাতে নাক বন্ধ হয়ে গেলে
রাতে নাক বন্ধ হয়ে ঘুমের সমস্যা হলে শিশুকে মাথা সামান্য উঁচু করে শোয়ানো যেতে পারে।
এরপরও যদি ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, Norsol/Solo Drop ১ ফোটা করে ২ নাকে দেওয়া হয়।
📌Diaper Rash হলে কী করবেন
ডায়াপার র্যাশ শিশুদের খুব সাধারণ একটি সমস্যা। প্রতিবার প্রস্রাব বা পায়খানার পর diaper change করতে হবে।
De-rash Ointment ০৩ বেলা Pampers পরানোর আগে লাগাবেন, ০৭ দিন।
শিশুর Skin বেশি sensitive হলে সম্ভব হলে কিছু সময় Pampers না পরানো ভালো।
📌শিশুর Scabies হলে বাসায় প্রাথমিক চিকিৎসা
আপনার বাচ্চার যদি Scabies হয়, তাহলে Elimate Plus Lotion/Lorix Cream ব্যবহার করা হয়।
রাতে ঘুমানোর আগে মুখ ও মাথা বাদে সারা শরীরে লোশন লাগাবেন। ১২ ঘণ্টা পর সকালে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করিয়ে দেবেন।
পরিবারের সকল সদস্যকে একই সময়ে একই নিয়মে ব্যবহার করতে হবে। ব্যবহার্য সকল কাপড়-চোপড় ভালোভাবে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে এবং লেপ-তোষক রোদে দিতে হবে।
একই নিয়মে ৭ দিন পর আবার লোশন ব্যবহার করবেন।
ডোজ হিসেবে ১–৫ বছরের বাচ্চার জন্য 1/4th tube, ৬–১২ বছরের জন্য 1/2th tube এবং ১২ বছরের বেশি বয়সের জন্য Full tube দেওয়া হয়।
📌শিশুর পেটে ব্যথা হলে (অবশ্যই ডাক্তার দেখানো উচিত)
বাচ্চাদের পেটে ব্যথা খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। তবে পেট ব্যথার কারণ বিভিন্ন হতে পারে।
Syp. VISRAL/ALGIN-এর বয়স অনুযায়ী ডোজ:
৬ মাস–২ বছর: ½ চামচ, দিনে ৩ বার, ভরা পেটে।
২–৬ বছর: ১ চামচ, দিনে ৩ বার, ভরা পেটে।
৬–১০ বছর: ১.৫ চামচ, দিনে ৩ বার, ভরা পেটে।
চিকিৎসার মেয়াদ: ৩–৫ দিন।
📌শিশুর ডায়রিয়া হলে কী করবেন
ডায়রিয়ায় শিশুর শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে। তাই প্রথম কাজ হলো পর্যাপ্ত তরল ও ORS দেওয়া।
খাবারের মধ্যে ORS, ডাবের পানি, খিচুড়ি, চিড়ার পানি, ভাতের মাড়, আলু ভর্তা এবং কলা ভর্তা ভাত দেওয়া যেতে পারে।
ORS বা খাবার স্যালাইন খাওয়ানোর নিয়ম হিসেবে ৬ মাসের আগে খাবার স্যালাইন না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
২ বছরের কম বয়সী শিশুর জন্য প্রতিবার পায়খানার পর ১০–২০ চামচ এবং ২ বছরের বেশি বয়সী শিশুর জন্য প্রতিবার পায়খানার পর ২০–৪০ চামচ।
Syp. Zinc/Xinc/Nid:
৬ মাসের কম বয়সী শিশুর জন্য ½ চামচ দিনে ২ বার, ১৪ দিন।
৬ মাসের বেশি বয়সী শিশুর জন্য ১ চামচ দিনে ২ বার, ১৪ দিন।
Probiotics/Enterogermina Sachet: ১ প্যাকেট পানি বা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে দিনে ১ বার, ৫ দিন।
📌শিশুর কৃমির ওষুধ দেওয়ার নিয়ম
৩-৬ মাস পরপর বাচ্চাদের কৃমির ওষুধ দিতে হবে।
১৩ মাস–২ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য প্রথমবার কৃমির ওষুধ দেওয়ার সময় Syp. Delentin/Melphin ব্যবহার করা হয়। ডোজ: ১ চামচ ১ বার, ৭ দিন পর আবার ১ চামচ।
২৫ মাস বা তার বেশি বয়সী বাচ্চাদের জন্য Syp. Solas: ১ চামচ সকালে এবং রাতে, এভাবে ৩ দিন।
অথবা Syp. Almex: ২ চামচ ১ বার, ৭ দিন পর আবার ২ চামচ।
📌শিশুর হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য
শিশুর হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা খাবার হজমে অসুবিধা হলে Ezylife Syrup ব্যবহার করা হয়।
বয়স অনুযায়ী ডোজ:
১–২ বছর: ২.৫ মিলি, ১ বেলা।
২–৫ বছর: ০৫ মিলি, ০১ বেলা।
৫–১২ বছর: ০৫ মিলি, ০২ বেলা।
১২ বছর ও তার বেশি: ০৫ মিলি, ০৩ বেলা।
📌শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে
নিউমোনিয়া শিশুর ফুসফুসের সংক্রমণ। সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে সর্দি-কাশির মতো শুরু হওয়া, হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, ক্ষুধামন্দা এবং দুর্বলতা থাকতে পারে।
গুরুতর লক্ষণের মধ্যে দ্রুত শ্বাস নেওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, বুক দেবে যাওয়া, ঠোঁট বা নখ নীলচে হয়ে যাওয়া, বারবার বমি, খেতে না চাওয়া এবং খুব বেশি দুর্বল বা অসংলগ্ন হয়ে যাওয়া উল্লেখযোগ্য।
দ্রুত শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে ২ মাসের কম বয়সে >৬০ বার/মিনিট, ২–১২ মাসে >৫০ বার/মিনিট এবং ১–৫ বছরে >৪০ বার/মিনিট হলে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।
গুরুতর কোনো লক্ষণ দেখা দিলে, শিশু খেতে না পারলে, নিস্তেজ হয়ে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা জ্বর দীর্ঘস্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
নিউমোনিয়া প্রতিরোধে শিশুর নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করুন, পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার দিন, বুকের দুধ চালিয়ে যান এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখুন।
শিশুর কোনো উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে, গুরুতর হলে বা ওষুধ দেওয়ার পরও উন্নতি না হলে নিজে থেকে ওষুধ পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
Dr.Tanvir Ahmed