01/05/2026
নারীরা কেন শ্বশুর শ্বাশুরির থেকে আলাদা হয়ে যেতে চায়?
শ্বশুর বাড়িতে বলা হয় যে এই বাড়ির মেয়ে সে। কিন্তু বাবার ঘরে নারী সোফায় যেভাবে বসতো সেভাবে সে শ্বশুর বাড়িতে বসলে বলা হবে বউকে কিছুই শেখায় নাই। বাবার বাড়িতে নারী যেভাবে কোন কিছু না ভেবে নিজের মত মুখে খাবার ভরিয়ে কিংবা ইনফরমাল ভাবে রিলাক্সড হয়ে খেতে পারে সেইটা তো শ্বশুর বাড়িতে পারে না। বাবার বাড়িতে নারী ঘরে যে পোশাকে ঘুরে শ্বশুর বাড়িতে তো পারে না। বাবার বাড়িতে কিছু ভাল না লাগলে একটা নারী চিল্লালে সেইটা রাগ শ্বশুর বাড়িতে সেইটা চিল্লালে হয়ে যায় বেয়াদবী। নারী বাবার বাড়িতে যখন তখন ঘুমাতে পারে কিন্তু শ্বশুর বাড়িতে পারে না। নারী বাবার বাড়িতে মুড সুইং হলে দরজা আটকিয়ে পারসোনাল স্পেস নিয়ে আবার স্বাভাবিক হয়ে বের হয়। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতে হাল্কা দরজা লাগানোই খারাপ কাজ। মেয়ে বলে বাড়িতে আনলেও একটা নারী ফিল করে যে এইখানে তার একটায় কাজ সেইটা হলো সুপারম্যানের মত একটা চরিত্রে থাকা। দিন রাত বাড়ির সব কাজ করো, সবার সাথে মেপে কথা বলো, একদম ডিসিপ্লিনে চলো, কোন ক্লান্তিতে ভুগা যাবে না।
নারী অনেক আশা নিয়ে বিয়ে করে যে নারী বলে বাবার বাড়িতে অনেক স্বাধীনতা পায়নি। কিন্তু শ্বশুর বাড়ি এসে দেখে বাবার বাড়ির থেকেও এইটা আরো ভয়ংকর জেল খানা। তখন নারী স্বামীকে চাপ দেয় চলো আলাদা হই। পুরুষ ভাবে বাপ মাকে দেখতে পারে না, বাপ মাকে খরচ দিলে দেখতে পারে না। এর জন্য সে আলাদা হতে চায়।
নারীর নিজের কোন বাড়ি নেই। যে জন্ম ঘরে জন্ম হয় সেইটা বাবার বাড়ি, যে বাড়িতে বিয়ে হয় সেইটা শ্বশুর বাড়ি আর স্বামী মারা গেলে শ্বশুর বাড়ি হয়ে যায় ছেলের বাড়ি। নারী নিজের একটা ঘর চায়। নারী নিজের স্বাধীনভাবে থাকার মত একটা ঘর। যে ঘরে সে আসলে যেমন সেভাবেই মুক্তভাবে বাঁচবে। নারীকে বাবার ঘরে রোল প্লে করতে হয়, আবার স্বামীর ঘরেও আবার সন্তানের ঘরেও। নারী আলাদা হতে চাইছে মানে সে একটা নিজের ঘর চায়। নিজের ঘর। যেখানে নেই গোড়ামি, কালচারের নামে কঠিন নিয়ম, যেখানে তাকে সুপারম্যান হওয়ার অভিনয় করতে হবে না।