01/08/2026
আজকালকের দিনে হাঁটু বা জয়েন্টের ব্যথা একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা।
এটি শুধু বয়স্কদেরই নয়, তরুণদেরও একইভাবে ভোগাচ্ছে।
এই অসহ্য ব্যথার কারণে স্বাভাবিক হাঁটাচলা ও প্রতিদিনের জীবনযাত্রা হয়ে উঠছে দুর্বিষহ।
হাঁটু এবং জয়েন্ট আপনার শরীরকে সচল রাখে।
এই জয়েন্টগুলি সুস্থ থাকা মানে আপনি স্বাধীনভাবে সব কাজ করতে পারেন।
তবে, ব্যথার কারণে জীবন থমকে গেলে দেরি না করে সঠিক রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
ভুল ধারণা বা অবহেলায় সময় নষ্ট করলে ক্ষতি বাড়তে পারে।
রোগীদের সাধারণ প্রশ্ন (FAQs): মনের সংশয় দূর করুন
রোগীরা প্রায়শই আমাদের কিছু সাধারণ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করেন।
সেসব প্রশ্নের কিছু উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. আমার হাঁটু বা জয়েন্টে কেন ব্যথা হচ্ছে?
ব্যথার পেছনের প্রধান কারণ হতে পারে এসিএল (ACL) ইনজুরি (লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়া), হিপ এভিএন (AVN) বা আর্থ্রাইটিস (হাড়ের ক্ষয়), শোল্ডার (কাঁধ) ইনজুরি বা রোটেশনাল কাফ ইনজুরি, এবং অস্টিওপোরোসিস (হাড়ের ক্ষয়)।
২. আমি কি অপারেশন ছাড়াই সুস্থ হতে পারি?
বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই, প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক ব্যায়াম ও চিকিৎসার মাধ্যমে বিনা অপারেশনে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে, গুরুতর ইনজুরিতে অপারেশন আবশ্যক হতে পারে।
৩. অপারেশন কি নিরাপদ?
আধুনিক প্রযুক্তির কারণে বর্তমানের জয়েন্ট সার্জারিগুলি অত্যন্ত নিরাপদ এবং সাকসেস রেট খুব বেশি। কি-হোল (Key-hole) সার্জারি বড় কাটাছেঁড়া ছাড়াই করা হয়।
অপারেশন এর ধরন ও কিভাবে করা হয়:
কি-হোল সার্জারির জাদুকর। বর্তমান চিকিৎসা ব্যবস্থায় সবচেয়ে জনপ্রিয় অপারেশন হল আর্থ্রোস্কোপিক সার্জারি, যা কি-হোল (Key-hole) সার্জারি নামেও পরিচিত।
কিভাবে করা হয়:
হাঁটুর ওপর ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে একটি বিশেষ স্কোপ (Scope) প্রবেশ করানো হয়, যা ভেতরের অংশ বড় পর্দায় দেখায়।
এরপর, সূক্ষ্ম যন্ত্রের মাধ্যমে ছিঁড়ে যাওয়া লিগামেন্ট, বা ক্ষয় হওয়া অংশ মেরামত করা হয়।
এই পদ্ধতিতে বড় কাটাছেঁড়া লাগে না, ফলে রক্তক্ষরণ এবং ইনফেকশনের ঝুঁকি অনেক কম থাকে।
সুস্থ হতে কেমন সময় লাগে: দ্রুত সচলতার পথ
কি-হোল সার্জারির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, রোগী দ্রুত সচল হয়ে উঠতে পারে।
প্রাথমিক সচলতা: অপারেশনের দিন বা পরের দিন থেকেই রোগী হালকা হাঁটাচলা শুরু করতে পারে।
পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা: সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে রোগী পূর্ণাঙ্গ সুস্থ হয়ে ওঠে। এটি রোগীর শরীরের ধরন এবং ফিজিওথেরাপির ওপর নির্ভর করে। ছবিতে ছবিতে এই দিকটি স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে।
কি কি সাবধানতা মেনে চলতে হয়: সুস্থ থাকার গাইড
অপারেশনের পর এবং সুস্থ থাকার জন্য কিছু সাবধানতা মেনে চলা আবশ্যক:
১. ফিজিওথেরাপি: সার্জারির পর বিশেষজ্ঞ নির্দেশিত ব্যায়াম নিয়মিত করা অপরিহার্য। এটি আপনার জয়েন্টকে সচল রাখে এবং পেশিকে শক্তিশালী করে। ছবিতে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ক্ষয় বাড়ায়। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
৩. সঠিক পজিশন: উঠা, বসা, বা সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় সঠিক পজিশন বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
অভিজ্ঞ এবং আধুনিক চিকিৎসার পদ্ধতি রোগীকে দ্রুত সচল করে তুলতে পারে এবং জীবনকে আবার গতিশীল করে তুলতে পারে। সচল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
ডাঃ সি. এইচ. রবিন
এমবিবিএস, বিসিএস (স্বাস্থ্য) এমএস (অর্থোপেডিক সার্জারি)
সহকারী অধ্যাপক (আর্থ্রোস্কোপি, আর্থ্রোপ্লাস্টি এবং স্পোর্টস মেডিসিন)
অ্যাডভান্সড ক্লিনিক্যাল ফেলোশিপ ইন আর্থ্রোস্কোপি এবং আর্থ্রোপ্লাস্টি
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল)
আর্থ্রোস্কোপি এবং আর্থ্রোপ্লাস্টিতে ফেলোশিপ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত (জেবিসিএইচ, ভারত)
আর্থ্রোস্কোপি, আর্থ্রোপ্লাস্টি, অর্থোপেডিক ও ট্রমা সার্জন এবং স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ
প্রাক্তন- জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)
📍 চেম্বার: ট্রমা সেন্টার এন্ড এও অর্থোপেডিক হাসপাতাল, শ্যামলী।
📞 সিরিয়ালের জন্য যোগাযোগ: ১০৬০৪ অথবা ০১৩২৮-২২৬০১০