Dr Nazma Begum Shanta

Directions

Dr Nazma Begum Shanta Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Dr Nazma Begum Shanta, Doctor, Dhaka.
(1)

Medicine | Diabetes | Thyroid Specialist
Women’s health | Lifestyle disease

মেডিসিন ডায়াবেটিস ও হরমোন বিশেষজ্ঞ
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট
হাসপাতাল
চেম্বার - সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতাল
রুম 506
শহীদ খালেক ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল এই পেজটি পরিচালিত হচ্ছে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ দ্বারা, যেখানে
ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, নারীদের স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইলজনিত রোগ নিয়ে
সঠিক চিকিৎসা তথ্য, সচেতনতা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়।
সুস্থ জীবনযাপনের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।

চেম্বারে আসা একজন নানার গল্প…যে গল্পটা শুনে আমার নিজেরও মনটা ভার হয়ে গেল।প্রায় ৬০ বছর বয়সী একজন ভদ্রলোক তাঁর ১৪ বছরের না...
28/09/2026

চেম্বারে আসা একজন নানার গল্প…
যে গল্পটা শুনে আমার নিজেরও মনটা ভার হয়ে গেল।

প্রায় ৬০ বছর বয়সী একজন ভদ্রলোক তাঁর ১৪ বছরের নাতিকে নিয়ে আমার চেম্বারে এসেছিলেন।
নাতির তিন দিন ধরে জ্বর।

রোগীর ইতিহাস নিতে নিতে স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করলাম—

— “রোগী আপনার কে হন?”

ভদ্রলোক বললেন,
— “আমার মেয়ে ঘরের নাতি, ম্যাডাম।”

কথা বলতে বলতে জানতে পারলাম, তাঁর মেয়ের তিন সন্তান—দুই মেয়ে, এক ছেলে।
এই ছেলেটিই ১৪ বছরের।

একসময় নানাকে জিজ্ঞেস করলাম,
— “পড়ালেখা করে?”

নানা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
— “না ম্যাডাম… পড়ে না।”

— “কেন?”

এবার তিনি নিজেই বললেন,
“সারাদিন মোবাইল টিপে। রাত জেগে মোবাইল দেখে, সকালে ঘুমায়।”

জিজ্ঞেস করলাম,
— “মোবাইলটা কে দিয়েছে?”

নানা বললেন,
— “ওর বাবা দিয়েছে।”

তারপর যে গল্পটা শুনলাম, সেটাই আসল কষ্টের জায়গা।

এই নানাই একজন রিকশাচালক।
নিজে রিকশা চালিয়ে, অনেক কষ্টে চার লাখ টাকা জোগাড় করে নিজের মেয়ের জামাইকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন।

স্বপ্ন ছিল—
জামাই বিদেশে যাবে, ভালো আয় করবে, মেয়ে ভালো থাকবে, নাতি-নাতনির ভবিষ্যৎ সুন্দর হবে।

কিন্তু আজ সেই বাবা বিদেশে থেকেও স্ত্রী-সন্তানদের তেমন খোঁজ নেন না।

ছেলেটা পড়ালেখা করছে না দেখে তার মা তাকে ঢাকায় নানার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

নানা সারাদিন রিকশা চালান।
নাতিকে একটা ফ্যাক্টরিতে কাজেও ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন—
কিন্তু নাতি কাজও করবে না।

সারাদিন মোবাইল।
রাত জেগে মোবাইল।
পড়ালেখা নেই।
কাজের প্রতি আগ্রহ নেই।

আমি ছেলেটার দিকে তাকিয়ে ভাবছিলাম—

এই বয়সে একটা ছেলে কী স্বপ্ন দেখছে?
সে নিজেকে কোথায় দেখতে চায়?
সে কি জানে, তার ভবিষ্যতের জন্য কত মানুষ কতটা কষ্ট করছে?

যে নানা রোদে-বৃষ্টিতে রিকশা চালিয়ে টাকা জমিয়ে তার বাবাকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন,
সেই নানাই আজ বলছেন—

“আমি তো চেয়েছিলাম আমার মেয়ে ভালো থাকবে, আমার নাতি-নাতনিগুলো মানুষ হবে।
আমি এত কষ্ট করলাম… কিন্তু কিছুই হলো না।
আমি টোটালি ফেইলড, ম্যাডাম…”

এই কথাটা বলতে বলতে মানুষটা কেঁদে ফেললেন।

সেদিন আমার মনে হলো—
তিনি আসলে ব্যর্থ নন।

ব্যর্থ তিনি নন, যিনি নিজের সামর্থ্যের শেষটুকু দিয়ে সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছেন।

কিন্তু আমরা কি কখনো আমাদের সন্তানদের বোঝাই—

বাবা-মা কতটা কষ্ট করে?
নানা-নানি, দাদা-দাদি কতটা ত্যাগ করেন?
একটা টাকা উপার্জনের পেছনে কত ঘাম ঝরে?

আজকের অনেক কিশোর-কিশোরী রাত জাগছে, দিনের বেলা ঘুমাচ্ছে।
মোবাইল, গেম, সোশ্যাল মিডিয়া তাদের জীবনের বড় একটা অংশ হয়ে যাচ্ছে।
পড়াশোনায় মনোযোগ কমছে, দায়িত্ববোধ কমছে, ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাও অনেক সময় হারিয়ে যাচ্ছে।

মোবাইল খারাপ নয়।
প্রযুক্তিও খারাপ নয়।
কিন্তু প্রযুক্তি যেন আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ কেড়ে না নেয়।

আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—
সন্তানের সামনে বাবা-মায়ের দায়িত্ববোধের উদাহরণ তৈরি করতে হবে।

কারণ সন্তান শুধু আমাদের কথা শোনে না,
আমাদের কাজও দেখে শেখে।

আমি জানি না, সেই ১৪ বছরের ছেলেটার ভবিষ্যৎ কী হবে।

কিন্তু আমি চাই, আজ থেকে সে একবার অন্তত তার নানার দিকে তাকিয়ে ভাবুক—

“এই মানুষটা আমার জন্য কত কিছু করেছেন।
আমি কি সত্যিই তাঁর কষ্টের মূল্য দিতে পারছি?”

আর আমরা বাবা-মায়েরা একবার ভাবি।

একটা সন্তানকে মানুষ করতে শুধু টাকা লাগে না।
লাগে সময়, শাসন, ভালোবাসা, মূল্যবোধ আর নিজের জীবনের উদাহরণ।

কারণ সন্তানকে পৃথিবীতে আনা সহজ,
কিন্তু তাকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা—এটাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

নিজের যত্ন নিন, বিশেষ করে আমার মা-বোনেরা। আপনি সুস্থ থাকলে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে।

— ডা. নাজমা বেগম শান্তা
Medicine, Diabetes & Thyroid Disease Specialist

চেম্বার:
🏥 Salauddin Specialized Hospital
শনিবার–বুধবার | সন্ধ্যা ৬:৩০–৯:৩০

🏥 Shohid Khaled Ibrahim General Hospital, Wari (NHN)
রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার | বিকেল ৫:০০–৭:০০

🏥 Ibn Sina Diagnostic Centre, Maijdee, Noakhali
প্রতি মাসের ২য় শুক্রবার

আজ চেম্বারে দুইজন নারী এলেন—দুজনের সমস্যাই প্রায় একই। কিন্তু তাদের পাশে থাকা মানুষ দুজনের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।প্রথমে...
16/09/2026

আজ চেম্বারে দুইজন নারী এলেন—দুজনের সমস্যাই প্রায় একই। কিন্তু তাদের পাশে থাকা মানুষ দুজনের আচরণ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা।

প্রথমে এলেন একজন দম্পতি।
স্ত্রীর বয়স ৪৭ বছর। তিনি থাইরয়েডের রোগী। কিছুদিন ধরে মাসিক অনিয়মিত, গত প্রায় ৩ মাস ধরে মাসিক হয়নি। এর সঙ্গে শুরু হয়েছে—

• হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া
• অতিরিক্ত ঘাম
• অল্পতেই গরম লাগা
• মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
• শরীর ও পিঠে ব্যথা
• মন খারাপ ও অস্থিরতা

কথা বলতে বলতে বুঝলাম, শুধু শারীরিক সমস্যাই নয়—মাসিক বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, সামনে কী হবে—এই চিন্তাটাও তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে।

আমি তাকে বুঝিয়ে বললাম, বয়স ও উপসর্গের সঙ্গে এটি পেরিমেনোপজের সময়কার পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। এই সময়ে হরমোনের ওঠানামার কারণে মাসিক অনিয়মিত হওয়া এবং এমন নানা শারীরিক ও মানসিক উপসর্গ দেখা দিতে পারে।

আমি যখন কাউন্সেলিং করছিলাম, তার স্বামী খুব মন দিয়ে শুনছিলেন।

একসময় স্ত্রীকে বললেন—

“এটা যদি এই বয়সের স্বাভাবিক পরিবর্তনের অংশ হয়, তাহলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আমরা একসঙ্গে সামলাব।”

স্ত্রীকে আশ্বস্ত করছিলেন, বুঝতে চেষ্টা করছিলেন, পাশে থাকার কথা বলছিলেন।

সত্যি বলতে, একজন চিকিৎসক হিসেবে সেই দৃশ্যটা আমার খুব ভালো লেগেছিল।

---

এরপর আরেকজন নারী এলেন, স্বামীকে সঙ্গে নিয়ে।
তারও বয়স মেনোপজের কাছাকাছি। ডায়াবেটিস আছে এবং একই ধরনের পেরিমেনোপজাল উপসর্গ নিয়ে তিনি এসেছেন।

আমি তাকেও একইভাবে বুঝিয়ে বলছিলাম—

কেন মাসিক অনিয়মিত হচ্ছে, কেন হঠাৎ গরম লাগছে, কেন ঘাম হচ্ছে, কেন মেজাজের পরিবর্তন হচ্ছে—এগুলো কীভাবে এই সময়ের হরমোনাল পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

কিন্তু এবার দেখলাম অন্য একটি দৃশ্য।

তার স্বামী বিষয়টি বুঝতে বা শুনতে আগ্রহী নন। বরং বিরক্ত হচ্ছিলেন।

আর তখন আমার মনে হলো—

একই বয়সের পরিবর্তন।
একই ধরনের শারীরিক সমস্যা।
কিন্তু পাশে থাকা মানুষের আচরণ একজন নারীর অভিজ্ঞতাকে কতটা বদলে দিতে পারে!

🌸 প্রিয় স্বামীরা, মনে রাখবেন—পেরিমেনোপজ কোনো “বাহানা” নয়।

এই সময় একজন নারী নিজেও অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যান। শরীরের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ, মন খারাপ, অস্থিরতা বা খিটখিটে মেজাজও হতে পারে।

তাই স্ত্রী যদি বলে—

“হঠাৎ গরম লাগছে”,
“আমার খুব ঘাম হচ্ছে”,
“মনটা ভালো নেই”,
“আমি অস্থির লাগছে”—

তাহলে তাকে নিয়ে হাসাহাসি না করে, বিরক্ত না হয়ে একটু শুনুন, একটু বুঝুন, একটু পাশে থাকুন।

কারণ অনেক সময় চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের মানুষের ভালোবাসা, ধৈর্য ও বোঝাপড়াও একজন নারীর জন্য অনেক বড় সাপোর্ট। ❤️

আর প্রিয় নারীরা, মাসিক অনিয়মিত হওয়া বা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে নতুন কোনো উপসর্গ দেখা দিলে নিজের মতো করে ধরে নেবেন না যে “এটা শুধু মেনোপজ”। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন—কারণ অন্য কারণও থাকতে পারে।

একজন নারীর জীবনের এই পরিবর্তনের সময়টাকে সমস্যা হিসেবে নয়, জীবনের একটি নতুন পর্যায় হিসেবে বুঝতে শিখি।

নিজের যত্ন নিন, বিশেষ করে আমার মা-বোনেরা। আপনি সুস্থ থাকলে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে।

ডা. নাজমা বেগম শানতা
মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগ বিশেষজ্ঞ

🏥 চেম্বার:
Salauddin Specialized Hospital
শনিবার–বুধবার | সন্ধ্যা ৬:৩০–৯:৩০

Shohid Khaled Ibrahim General Hospital, Wari (NHN)
রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার | বিকাল ৫:০০–৭:০০

Ibn Sina Diagnostic Centre, Maijdee, Noakhali
প্রতি ২য় শুক্রবার

আজ চেম্বারে একজন মাকে দেখে একটা কথা খুব মনে হলো—“মেয়ের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করে দেওয়া, হয়তো বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্...
07/09/2026

আজ চেম্বারে একজন মাকে দেখে একটা কথা খুব মনে হলো—
“মেয়ের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করে দেওয়া, হয়তো বাবা-মায়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।”

আজ একজন বয়স্ক দম্পতি এসেছিলেন আমার কাছে। স্বামী রোগী, বয়স প্রায় ৬০। স্ত্রীও পঞ্চাশের কাছাকাছি।

স্বামী তার স্ত্রীকে আমার সামনে ঠিকমতো কথাই বলতে দিচ্ছিলেন না। স্ত্রী কী সমস্যা অনুভব করছেন, সেটা বলার আগেই স্বামী তার হয়ে সব বলে দিচ্ছিলেন।

একপর্যায়ে আমার সামনেই স্ত্রীকে মারতে উদ্যত হলেন কয়েকবার।

আমি বললাম,
“আপনি এমন আচরণ করছেন কেন?”

আমার কথা শুনে তিনি চুপ হয়ে গেলেন।

কিন্তু স্ত্রীটির মুখের দিকে তাকিয়ে আমার আরও বেশি খারাপ লাগছিল।

মনে হচ্ছিল,
এই আচরণ তার কাছে নতুন নয়।
সে যেন এই কষ্টের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে গেছে।

হয়তো বহু বছর ধরে সহ্য করছেন।

কিন্তু কেন?

কারণ তার নিজের কোনো আয় নেই।
ছেলেরা আলাদা হয়ে গেছে।
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ হয়নি।
তাই চাইলেও হয়তো নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার মতো স্বাধীনতা নেই।

আজ চেম্বার থেকে বের হওয়ার পর একটা কথাই বারবার মনে হচ্ছিল—

আমরা বাবা-মায়েরা মেয়ের বিয়ের জন্য যতটা চিন্তা করি, মেয়ের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য কি ততটা চিন্তা করি?

মেয়ের বিয়ের জন্য গয়না কিনবেন।
ফার্নিচার দেবেন।
অনেক কিছু দেবেন।

কিন্তু তার আগে তাকে শিক্ষিত করুন।

একটা দক্ষতা দিন।
নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দিন।
নিজের পায়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতা দিন।
নিজের আয় করার সুযোগ দিন।

কারণ আমরা জানি না, তার ভবিষ্যতে কী অপেক্ষা করছে।

স্বামী ভালো হবে—আমরা সবাই সেটাই চাই।

কিন্তু যদি কখনো স্বামী ভালো না হয়?

যদি অসম্মান করে?

যদি মানসিকভাবে ভেঙে দেয়?

যদি শারীরিক নির্যাতন করে?

তখন যেন আপনার মেয়ের মনে অন্তত এই কথাটা থাকে—

“আমি অসহায় নই।
আমি চাইলে নিজের জীবন নিজে চালাতে পারি।”

একটা মেয়েকে স্বাবলম্বী করা মানে তাকে সংসার ভাঙতে শেখানো নয়।

বরং তাকে এমন শক্তি দেওয়া,
যাতে সে ভালোবাসার সংসারে ভালোবেসে থাকতে পারে—অসহায় হয়ে নয়।

তাই বাবা-মায়েদের বলছি—

মেয়েকে শুধু বিয়ে দেওয়ার জন্য বড় করবেন না।
মেয়েকে জীবন সামলানোর জন্য বড় করুন।

তার হাতে শুধু গয়না তুলে দেবেন না—
একটা শিক্ষা তুলে দিন।

শুধু বিয়ের খরচের জন্য টাকা জমাবেন না—
তার ভবিষ্যতের সক্ষমতা তৈরিতে বিনিয়োগ করুন।

কারণ স্বামী, সন্তান, সংসার—সবই জীবনের অংশ।

কিন্তু নিজের পরিচয়, নিজের শিক্ষা আর নিজের সক্ষমতাটুকু যেন কোনো মেয়েকে হারাতে না হয়।

একদিন আপনার মেয়েটা যেন আপনাকে বলতে পারে—

“বাবা-মা, তোমরা আমাকে শুধু বড় করোনি।
আমাকে এমনভাবে তৈরি করেছো, যাতে জীবনে যাই হোক না কেন, আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারি।” ❤️

মেয়েকে দুর্বল করে ভালোবাসবেন না।
তাকে শক্ত করে ভালোবাসুন।

নিজের যত্ন নিন, বিশেষ করে আমার মা-বোনেরা। আপনি সুস্থ থাকলে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে।
━━━━━━━━━━━━━━━━━━

ডা. নাজমা বেগম শান্তা
🌿 মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগ বিশেষজ্ঞ

📍 চেম্বারসমূহ

🏥 সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতাল
শনিবার–বুধবার | সন্ধ্যা ৬:৩০টা–রাত ৯:৩০টা

🏥 শহীদ খালেদ ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, ওয়ারী (NHN)
রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার | বিকেল ৫টা–সন্ধ্যা ৭টা

🏥 ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মাইজদী, নোয়াখালী
প্রতি মাসের ২য় শুক্রবার

━━━━━━━━━━━━━━━━━━

#মেয়েকে_শিক্ষিত_করুন #মেয়ের_পায়ের_নিচে_মাটি_শক্ত_করুন #নারীর_স্বাবলম্বিতা #নারীর_অধিকার #মেয়ের_ভবিষ্যৎ #নারীর_নিরাপত্তা #নিজের_পায়ে_দাঁড়ান

✈️ “ডাক্তার দেখাতে এত দূর থেকে বাংলাদেশে আসলেন?”একদিন এক প্রবাসী ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম,— “ভাই, বিদেশে তো চিকিৎসার অনেক ভাল...
03/09/2026

✈️ “ডাক্তার দেখাতে এত দূর থেকে বাংলাদেশে আসলেন?”

একদিন এক প্রবাসী ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম,

— “ভাই, বিদেশে তো চিকিৎসার অনেক ভালো ব্যবস্থা। তাহলে এত কষ্ট করে বাংলাদেশে এলেন কেন?”

তিনি একটু হেসে বললেন,

— “আপা, আপনি বিদেশে থাকলে বুঝতেন!”

তারপর বললেন,

“ডাক্তার দেখাতে চাইলে আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। পছন্দের ডাক্তারকে সবসময় পাওয়া যায় না। কখনো কয়েক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হয়। আর চিকিৎসার খরচ?”

একটু থেমে বললেন,

“বাংলাদেশে যে চিকিৎসাটা করাতে পারি, সেখানে সেটার জন্য অনেক বেশি টাকা খরচ হয়ে যায়।”

তাই তিনি কী করেন?

৭ দিন, ১০ দিন কিংবা ১৪ দিনের ছুটি বা ভিসার সময় নিয়ে বাংলাদেশে আসেন।
প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করান।
বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান।
চিকিৎসা নেন।
তারপর আবার বিমানে করে বিদেশে ফিরে যান।

শুধু তিনি নন—এমন অনেক প্রবাসী ভাই-বোনের সঙ্গে আমার প্রতিদিন দেখা হয়

তখন একটা বিষয় খুব মনে হয়—

আমরা দেশে বসে যেটাকে স্বাভাবিক মনে করি, প্রবাসীরা সেটাকেই অনেক সময় সৌভাগ্য মনে করেন।

নিজের ভাষায় কথা বলা, নিজের পছন্দের ডাক্তারকে দেখানো, দ্রুত পরীক্ষা করানো, পরিচিত পরিবেশে চিকিৎসা নেওয়া—এসবের মূল্য বিদেশে গিয়ে অনেকেই নতুন করে বুঝতে পারেন।

অথচ দেশে বসে আমরা কত সহজেই বলি—

“বাংলাদেশের ডাক্তার ভালো না!”

হ্যাঁ, আমাদের সিস্টেমে সমস্যা আছে।
ভুল চিকিৎসা হলে প্রশ্ন করতে হবে।
অবহেলা হলে জবাবদিহিতা চাইতে হবে।

কিন্তু তার পাশাপাশি এটাও সত্য—

এই দেশের হাজার হাজার ডাক্তার প্রতিদিন মানুষের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রবাসীদের বাংলাদেশে চিকিৎসা নিতে আসার গল্পগুলোও তাই আমাদের শোনা উচিত।কারণ নিজের দেশের চিকিৎসার মূল্যটা অনেক সময় দেশে থেকে নয়, বিদেশে গিয়ে বোঝা যায়।

কারণ কখনো কখনো দূর থেকে দেখলেই নিজের দেশের মূল্যটা বেশি বোঝা যায়। 🇧🇩❤️

ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। নিরাপদে থাকুন।

নিজের যত্ন নিন, বিশেষ করে আমার মা-বোনেরা। আপনি সুস্থ থাকলে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে।

ডা. নাজমা বেগম শান্তা
মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগ বিশেষজ্ঞ

🏥 চেম্বার

Salauddin Specialized Hospital
শনিবার–বুধবার | সন্ধ্যা ৬:৩০–৯:৩০

Shohid Khaled Ibrahim General Hospital, Wari (NHN)
রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার | বিকেল ৫:০০–৭:০০

Ibn Sina Diagnostic Centre, Maijdee, Noakhali
প্রতি মাসের ২য় শুক্রবার

02/09/2026
**“ম্যাডাম, আমার মেয়েটার তো মাত্র ১৩ বছর… ওর কি সারাজীবন ইনসুলিন নিতে হবে?”প্রশ্নটা করে মা কাঁদছিলেন। মেয়েটির রিপোর্টে ড...
02/09/2026

**“ম্যাডাম, আমার মেয়েটার তো মাত্র ১৩ বছর… ওর কি সারাজীবন ইনসুলিন নিতে হবে?”

প্রশ্নটা করে মা কাঁদছিলেন। মেয়েটির রিপোর্টে ডায়াবেটিস ধরা পড়েছে।

কিছুতেই কান্না থামছে না।

আমি ওনাকে বুঝাচ্ছি, সাহস দিচ্ছি—কিন্তু সত্যি বলতে কী, ওনার কান্না দেখে আমিও নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলাম না।

কারণ আমার চোখের সামনে তখন শুধু একজন রোগী ছিল না…
আমার নিজের মেয়েটাকেও মনে হচ্ছিল।

মেয়েটাকে যখন ইনসুলিনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বোঝাতে শুরু করলাম, তখন সেও কাঁদতে শুরু করল।
“আমি ইনসুলিন নেব না…”
ওর ভয়টা আমি বুঝতে পারছিলাম।
মাত্র ১৩ বছর বয়স।

স্কুল আছে, বন্ধু আছে, খেলাধুলা আছে, স্বপ্ন আছে…
আর হঠাৎ করে জীবনে ঢুকে গেল “ডায়াবেটিস” শব্দটা।

আমি তখন কিছুক্ষণ চিকিৎসার কথা বাদ দিলাম।
ওর সঙ্গে গল্প করলাম।

স্কুলের কথা জিজ্ঞেস করলাম।
বন্ধুদের কথা বললাম।
কী করতে ভালোবাসে, কী খেতে ভালোবাসে—সেসব নিয়ে কথা বললাম।

তারপর আস্তে করে বললাম—
“ডায়াবেটিস হয়েছে মানে তুমি আর অন্যদের মতো থাকবে না—এটা সত্যি নয়।
তোমাকে শুধু নিজের শরীরটার একটু বেশি যত্ন নিতে হবে।”

প্রায় আধা ঘণ্টা কথা বলার পর মেয়েটা ধীরে ধীরে শান্ত হলো।

শেষে যখন মা-মেয়ে আমার চেম্বার থেকে বের হলো…
দুজনের চেহারায় স্থিরতা ছিল। ❤️
সেদিন আমার কাছে এর চেয়ে বড় পাওয়া আর কিছু ছিল না।

কিন্তু এই ঘটনাটার আরেকটা দিক আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করতেই চাই।

আমি মেয়েটার মাকে জিজ্ঞেস করলাম—
“আপনি কীভাবে বুঝলেন যে ওর ডায়াবেটিস হতে পারে?”

তিনি বললেন,
“ম্যাডাম, ও হঠাৎ শুকিয়ে যাচ্ছিল। শরীরটা কালচে লাগছিল। আমরা ভাবছিলাম, ও হয়তো লম্বা হচ্ছে, বড় হচ্ছে—তাই এমন হচ্ছে।”

তারপর একদিন ছাদে খেলাধুলা করে বাসায় এসে মেয়েটা বলল—
“আমার খুব ক্ষুধা লাগছে, আমাকে খেতে দাও।”
খাবার খাওয়ার পরও ক্ষুধা কমছে না।
ঠান্ডা পানি খেল।
তারপরও পিপাসা।
শরীর কাঁপছিল।
মায়ের মনে সন্দেহ হলো।
তারপর পরীক্ষা।
আর সেখানেই ধরা পড়ল ডায়াবেটিস।

প্রিয় বাবা-মা, একটা কথা মনে রাখবেন।
আপনার সন্তান যদি হঠাৎ—

➡️ অস্বাভাবিকভাবে ওজন হারায়
➡️ বারবার বা অতিরিক্ত ক্ষুধার কথা বলে
➡️ খুব বেশি পানি খায়
➡️ বারবার প্রস্রাব করে
➡️ অস্বাভাবিক দুর্বল বা ক্লান্ত হয়ে পড়ে

তাহলে শুধু এটা ভেবে বসে থাকবেন না যে—
“বড় হচ্ছে বলেই এমন হচ্ছে।”

প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করুন।
বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের ক্ষেত্রে টাইপ ১ ডায়াবেটিস দ্রুত শনাক্ত করা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আর যদি ডায়াবেটিস ধরা পড়েই যায়—
দয়া করে সন্তানের সামনে ভেঙে পড়বেন না।

আমি জানি, একজন মায়ের জন্য খবরটা কতটা কঠিন।

কিন্তু আপনার সন্তান তখন সবচেয়ে বেশি যেটা চায়, সেটা হলো—
আপনার হাতটা।
আপনার সাহস।
আপনার ভালোবাসা।
তাকে বলুন—
“তুমি অসুস্থ হয়ে শেষ হয়ে যাওনি।
তোমার জীবন থেমে যায়নি।
আমরা সবাই তোমার সঙ্গে আছি।” ❤️
সঠিক চিকিৎসা, প্রয়োজন অনুযায়ী ইনসুলিন, স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং পরিবারের সহযোগিতা—এসবের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়েও একটি শিশু সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে।

গতকাল সেই ছোট্ট মেয়েটার চিকিৎসা শুরু হয়েছে।
আমি জানি, সামনে তাদের জন্য অনেক নতুন কিছু শেখার আছে।

কিন্তু আমি এটাও জানি—
মেয়েটা পারবে।
তার মা পারবে।
তার পরিবারও পারবে। ❤️

আর একজন চিকিৎসক হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় শান্তি ছিল—
যে মা কাঁদতে কাঁদতে আমার চেম্বারে ঢুকেছিলেন, তিনি মেয়েকে নিয়ে হাসিমুখে বের হয়েছেন।
হয়তো আমি তার সব কষ্ট দূর করতে পারিনি।
কিন্তু অন্তত তার ভয়টা একটু কমাতে পেরেছি।

কখনো কখনো একজন চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের পাশাপাশি একটু সাহস, একটু সময় আর একটু ভালোবাসারও প্রয়োজন হয়।

আল্লাহ এই ছোট্ট মেয়েটাকে সুস্থ, সুন্দর ও আনন্দময় জীবন দান করুন। 🤲❤️

আপনার পরিচিত কোনো বাবা-মায়ের সন্তান যদি এমন লক্ষণে ভুগে থাকে, পোস্টটি তাদের সঙ্গে শেয়ার করুন।
হয়তো আপনার একটি শেয়ার কোনো একটি শিশুর ডায়াবেটিস একটু আগেই শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।

— ডা. নাজমা বেগম শান্তা
Medicine, Diabetes & Thyroid Disease Specialist
🏥 Salauddin Specialized Hospital
শনিবার–বুধবার | সন্ধ্যা ৬:৩০–৯:৩০
🏥 Shohid Khaled Ibrahim General Hospital, Wari (NHN)
রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার | বিকেল ৫:০০–৭:০০
🏥 Ibn Sina Diagnostic Centre, Maijdee, Noakhali
প্রতি মাসের ২য় শুক্রবার

নিজের যত্ন নিন, বিশেষ করে আমার মা-বোনেরা। আপনি সুস্থ থাকলে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে।

☕ কফি এনেমা দিয়ে লিভার ডিটক্স? উপকারের চেয়ে বিপদই বেশি!সোশ্যাল মিডিয়ায় ইদানীং “লিভার ডিটক্স” করার নতুন টোটকা হিসেবে Coff...
27/08/2026

☕ কফি এনেমা দিয়ে লিভার ডিটক্স? উপকারের চেয়ে বিপদই বেশি!

সোশ্যাল মিডিয়ায় ইদানীং “লিভার ডিটক্স” করার নতুন টোটকা হিসেবে Coffee E***a বেশ জনপ্রিয় হচ্ছে।

কিন্তু মনে রাখবেন—প্রাকৃতিক জিনিস মানেই নিরাপদ নয়।

পায়ুপথ দিয়ে কফি প্রবেশ করালে লিভার পরিষ্কার হয়—এমন নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। বরং ভুলভাবে করলে হতে পারে গুরুতর শারীরিক জটিলতা।

⚠️ কফি এনেমার সম্ভাব্য ক্ষতি—

🔸 অতিরিক্ত পানি ও ইলেক্ট্রোলাইট বের হয়ে গিয়ে ডিহাইড্রেশন ও লবণের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে।

🔸 মলদ্বার ও অন্ত্রে জ্বালা, প্রদাহ, ক্ষত বা রক্তপাত হতে পারে।

🔸 খুব গরম তরল ব্যবহার করলে টিস্যু পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

🔸 অপরিষ্কার বা ভুল পদ্ধতিতে করলে জীবাণু সংক্রমণ এমনকি গুরুতর ইনফেকশনও হতে পারে।

🔸 বারবার এনেমা ব্যবহার করলে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

🔸 কফির ক্যাফেইন শরীরে শোষিত হয়ে বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা, কাঁপুনি বা হৃদস্পন্দনের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

আর কেউ কেউ কফি এনেমার পর শরীর হালকা লাগার কথা বলেন।
এর মানেই কিন্তু লিভার ডিটক্স হয়েছে—এমন নয়। অন্ত্র সাময়িক খালি হওয়া, ক্যাফেইনের প্রভাব কিংবা placebo effect-এর কারণে এমন অনুভূতি হতে পারে।

🫀 তাহলে লিভারকে ডিটক্স করতে কী করবেন?

আলাদা কোনো “ডিটক্স” পানীয় বা এনেমার প্রয়োজন নেই। আমাদের লিভার ও কিডনি প্রতিনিয়ত শরীরের বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ প্রক্রিয়াজাত ও বের করার কাজ করে।

তাই লিভার ভালো রাখতে বরং—
✅ সুষম খাবার খান
✅ অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার কমান
✅ নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
✅ ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
✅ অপ্রয়োজনীয় ওষুধ/হারবাল ডিটক্স এড়িয়ে চলুন
✅ ধূমপান ও অতিরিক্ত অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন

সোশ্যাল মিডিয়ার ট্রেন্ড দেখে নিজের শরীরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন না।

লিভার ডিটক্সের নামে এমন কোনো পদ্ধতি নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

নিজের যত্ন নিন, বিশেষ করে আমার মা-বোনেরা। আপনি সুস্থ থাকলে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে।

ডা. নাজমা বেগম শান্তা
মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগ বিশেষজ্ঞ

🏥 চেম্বার:

সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতাল
শনিবার–বুধবার | সন্ধ্যা ৬:৩০–রাত ৯:৩০
শহীদ খালেদ ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, ওয়ারী (NHN)

রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার | বিকেল ৫:০০–৭:০০

ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মাইজদী, নোয়াখালী
প্রতি মাসের ২য় শুক্রবার

“ম্যাডাম, আমি মাঝে মাঝে ভুলেই যাই—আমি ভাত খেয়েছি কি না…”আজ চেম্বারে আসা একজন ৩০ বছর বয়সী রোগীর কথা আমাকে খুব গভীরভাবে ছু...
24/08/2026

“ম্যাডাম, আমি মাঝে মাঝে ভুলেই যাই—আমি ভাত খেয়েছি কি না…”

আজ চেম্বারে আসা একজন ৩০ বছর বয়সী রোগীর কথা আমাকে খুব গভীরভাবে ছুঁয়ে গেছে।
নাম-পরিচয় বলছি না।
কারণ মানুষের ব্যক্তিগত কষ্টকে আমি কখনোই প্রকাশ করতে চাই না।
তবে গল্পটা সত্যি। আর এই গল্পের মধ্যে হয়তো আমাদের সমাজের অনেক নারীর জীবনের একটা ছবি লুকিয়ে আছে।

মেয়েটি বিবাহিত। বিয়ের প্রায় ১০ বছর হয়েছে। তার দুইটি ছোট মেয়ে—একজনের বয়স ৪ বছর, আরেকজনের আড়াই বছর।
সে আরও একটি সন্তান নিতে চাচ্ছে। থাইরয়েডের সমস্যার জন্য আমার কাছে এসেছে।

কিন্তু কথা বলতে বলতে বুঝলাম, তার সমস্যাটা শুধু থাইরয়েডে সীমাবদ্ধ নয়।

সে ঠিকমতো ঘুমাতে পারে না।
খাওয়ার রুচি নেই।
ঠিকমতো খাওয়াও হয় না।

আরও একটু কথা বলার পর সে তার জীবনের আসল গল্পটা আমাকে বলল।

তার শাশুড়ি প্রায় ৯ বছর ধরে স্ট্রোকের রোগী। বিছানায় থাকেন। নিজের টয়লেটের কাজ নিজে করতে পারেন না।

গত নয় বছর ধরে এই মেয়েটিই তার শাশুড়ির প্রস্রাব-পায়খানা পরিষ্কার করে, গোসল করায়, কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করে, বিছানা পরিষ্কার করে।

একদিকে দুইটি ছোট সন্তান।
তাদের খাওয়ানো, গোসল করানো, স্কুলে নিয়ে যাওয়া-আসা, টিফিন তৈরি করা, পড়াশোনা করানো।
অন্যদিকে রান্না, সংসার।

তার ওপর একজন অসুস্থ মানুষকে সারাক্ষণ দেখাশোনা করা।
সবকিছুই প্রায় একা হাতে।

সে বলছিল,
“ম্যাডাম, আমি মাঝে মাঝে ভুলেই যাই—আমি ভাত খেয়েছি কি না।”
আজও নাকি সে দুপুরে ভাত খায়নি। বিকেলে ক্ষুধা লাগার পর মনে হয়েছে—
“আচ্ছা, আমি তো আজ ভাতই খাইনি!”

আমি জিজ্ঞেস করলাম,
“কেউ সাহায্য করে না?”

বলল, সাহায্যের মানুষ রেখেছে। কিন্তু শাশুড়ির অবস্থা দেখে তারাও বেশিদিন থাকতে চায় না।

তার নিজের মা একবার সাত দিনের জন্য মেয়ের কাছে থাকতে এসেছিলেন।
কিন্তু মেয়ের এই কষ্ট তিন দিন দেখার পর তিন দিনের মাথায় চলে গিয়েছিলেন।
কারণ একজন মা হয়তো নিজের মেয়ের এতটা কষ্ট চোখের সামনে সহ্য করতে পারেননি।

আর সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় কী জানেন?
এই মেয়েটি চাইলে হয়তো অনেক কিছুই করতে পারত না।
চাইলেই বলতে পারত—
“আমি পারছি না।”
“আমারও তো জীবন আছে।”
“আমারও তো দুইটা ছোট বাচ্চা আছে।”
কিন্তু সে এখনও করে যাচ্ছে।

কেন?

সে বলল—
“আমার স্বামী একমাত্র ছেলে। তার বাবা-মাকে দেখার মতো আর কেউ নেই। আমি যদি না করি, তাহলে কে করবে?”

তার নিজেরও কোনো ভাই-বোন নেই।
তার স্বামীরও কোনো ভাই-বোন নেই।

দুই পরিবারের একমাত্র সন্তান তারা দুজন।

আর এই মেয়েটি তার শাশুড়ির সেবা করে যাচ্ছে—
একদিকে স্বামীর প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধ থেকে,
অন্যদিকে আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান পাওয়ার আশায়।

তার কথা শুনে আমার ভেতরে একই সঙ্গে দুটো অনুভূতি হলো।

একদিকে তার জন্য গভীর শ্রদ্ধা।
অন্যদিকে তার জন্য ভীষণ কষ্ট।

কারণ আমরা অনেক সময় একজন নারীর দায়িত্বগুলোকে খুব স্বাভাবিক ধরে নিই।
সে রান্না করবে।
বাচ্চা সামলাবে।
সংসার সামলাবে।
অসুস্থ শ্বশুর-শাশুড়িকে দেখবে।
স্বামীকে দেখবে।
সব করবে।

কিন্তু খুব কম মানুষ একবার জিজ্ঞেস করে—
“তুমি কেমন আছো?"

আজকের এই রোগী আমাকে আবার মনে করিয়ে দিলেন—
আমাদের আশেপাশে এমন অসংখ্য নারী আছেন, যারা নিজের যত্ন নেওয়ার সময়টুকুও অন্যদের দিয়ে দেন

আর সেই মেয়েটির জন্য আমার অন্তর থেকে দোয়া রইল—
আল্লাহ তার কষ্ট দেখুন।
তার ক্লান্তি দূর করুন।
তার সংসারে ভালোবাসা ও সহযোগিতা বাড়িয়ে দিন।
তার শাশুড়িকে সুস্থতা দিন।
আর তার এই নীরব ত্যাগকে উত্তম প্রতিদানে কবুল করুন।

নিজের যত্ন নিন, বিশেষ করে আমার মা-বোনেরা। আপনি সুস্থ থাকলে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে।

ডা. নাজমা বেগম শান্তা
মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েড রোগ বিশেষজ্ঞ

📍 সালাউদ্দিন স্পেশালাইজড হাসপাতাল
শনিবার–বুধবার | সন্ধ্যা ৬:৩০টা–রাত ৯:৩০টা

📍 শহীদ খালেদ ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল, ওয়ারী (NHN)
রবিবার, মঙ্গলবার ও বৃহস্পতিবার | বিকেল ৫টা–সন্ধ্যা ৭টা

📍 ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মাইজদী, নোয়াখালী
প্রতি মাসের ২য় শুক্রবার

চিকিৎসকের পরিচয় তাঁর পোশাকে নয়, তাঁর যোগ্যতায়সম্প্রতি একজন নারী চিকিৎসককে তাঁর সুন্দর ও স্মার্ট সাজ-পোশাকের কারণে যেভাবে...
22/08/2026

চিকিৎসকের পরিচয় তাঁর পোশাকে নয়, তাঁর যোগ্যতায়

সম্প্রতি একজন নারী চিকিৎসককে তাঁর সুন্দর ও স্মার্ট সাজ-পোশাকের কারণে যেভাবে কটূক্তি ও হেয় করা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

আমাদের সমাজে এখনো যেন একটা অলিখিত নিয়ম আছে—নারী চিকিৎসক মানেই সাদামাটা পোশাক, প্রসাধনহীন চেহারা, যতটা সম্ভব নিজেকে আড়ালে রাখা।

কিন্তু একজন চিকিৎসকও তো একজন মানুষ।

তাঁর রুচি থাকতে পারে, ব্যক্তিত্ব থাকতে পারে, নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার ইচ্ছা থাকতে পারে। এতে তাঁর পেশাদারিত্ব একটুও কমে যায় না।

বরং একজন চিকিৎসকের পরিপাটি উপস্থিতি, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব রোগীর মনে আস্থা তৈরি করতে পারে।

সুন্দর হওয়া কোনো অপরাধ নয়।
সাজগোজ করা চরিত্রের মাপকাঠি নয়।
আর নারী হওয়া কারও চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করার লাইসেন্স নয়।

কোনো চিকিৎসকের পোশাক, চেহারা বা সাজসজ্জাকে কেন্দ্র করে চরিত্রহনন করবেন না।

একজন নারী চিকিৎসক একই সঙ্গে হতে পারেন সুন্দরী, স্মার্ট, রুচিশীল এবং অত্যন্ত দক্ষ ও মানবিক একজন চিকিৎসক।
এই পরিচয়গুলোর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই।

আমাদের মূল্যায়নের ভাষাটাই বদলাতে হবে।
একজন চিকিৎসককে তাঁর lipstick নয়, তাঁর knowledge দিয়ে বিচার করুন।
তাঁর পোশাক নয়, তাঁর professionalism দিয়ে বিচার করুন।
তাঁর চেহারা নয়, তাঁর কাজ দিয়ে বিচার করুন।

প্রতিটি নারী চিকিৎসকের জন্য চাই সম্মানজনক ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ।

#চিকিৎসকসুরক্ষাআইন
#নারীদেরজন্যনিরাপদকর্মস্থল




একটা মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করুন—সে কি সত্যিই খারাপ মা?অল্প বয়সী একটা মেয়ে।চোখের সামনে কত মানুষ, কত কথা, কত হৈচৈ...
20/08/2026

একটা মায়ের চোখের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করুন—সে কি সত্যিই খারাপ মা?

অল্প বয়সী একটা মেয়ে।
চোখের সামনে কত মানুষ, কত কথা, কত হৈচৈ—কিন্তু তার চোখ যেন কোথাও নেই।

তার ১৪ দিনের শিশুটি আর বেঁচে নেই।

খবরটা পড়েই অনেকেই হয়তো বলবে—
“কীভাবে একটা মা নিজের সন্তানকে মেরে ফেলতে পারে?”কারণ আমাদের দেশের so called সাংবাদিক গুলো খবরটি এভাবেই negatively প্রকাশ করেছে

কিন্তু আমি একটু অন্যভাবে ভাবতে চাই।

একজন মা প্রায় ১০ মাস নিজের শরীরের ভেতর একটা মানুষকে বহন করেন।

তারপর প্রসবের শারীরিক কষ্ট, অপারেশন, দুর্বলতা, ব্যথা—সবকিছুর মধ্য দিয়ে গিয়ে সেই শিশুকে বুকের মধ্যে তুলে নেন।
তারপর শুরু হয় আরেক যুদ্ধ।

রাতের পর রাত ঘুম নেই।
শিশু কখন কাঁদবে, কখন খাবে, কখন অসুস্থ হবে—সারাক্ষণ একটা ভয়।

নিজে খাওয়া হয়েছে কি না, গোসল হয়েছে কি না, একটু ঘুম হয়েছে কি না—এসব যেন নিজের কাছেই অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়।

আমি এই অনুভূতিটা খুব কাছ থেকে জানি।
আমার নিজের বাচ্চা যখন জন্মের পর ছোট ছিল, প্রায় এক মাস আমি ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি।
রাতে বাচ্চা ঘুমিয়ে গেলেও আমার ঘুম আসত না। বারবার তাকিয়ে দেখতাম—
শ্বাস নিচ্ছে তো?
কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?
ঠান্ডা লাগছে না তো?
ঠিকমতো ঘুমাচ্ছে তো?
একসময় মনে হতো, চোখ বন্ধ করলেই যেন কিছু একটা হয়ে যাবে।

সেই সময় বুঝেছি—একটা ছোট শিশুর দায়িত্ব শুধু মায়ের ভালোবাসার বিষয় নয়, এটা প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপেরও বিষয়।

আর সেই জায়গা থেকেই একটা কথা খুব জোর দিয়ে বলতে চাই—
একজন নতুন মাকে শুধু “ভালো মা” হওয়ার উপদেশ দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না।
তার পাশে দাঁড়াতে হয়।
কেউ তাকে বলবে,
“তুমি একটু ঘুমাও, বাচ্চাকে আমি দেখি।”
কেউ তার খাবারটা এগিয়ে দেবে।
কেউ বলবে,
“তুমি একটু বিশ্রাম নাও, সবসময় তোমাকেই সামলাতে হবে না।”
কারণ একটা শিশুর যত্ন শুধু মায়ের দায়িত্ব নয়।
বাবারও দায়িত্ব। পরিবারেরও দায়িত্ব।

আরেকটা বিষয় আমাদের খুব গুরুত্ব দিয়ে বুঝতে হবে—প্রসবের পর একজন মায়ের মানসিক অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। দীর্ঘদিন ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত চাপ, উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা postpartum mental health সমস্যাকে “নাটক”, “দুর্বলতা” বা “মায়ের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা” বলে উড়িয়ে দেওয়া ভয়ংকর ভুল।

কোনো মা যদি অস্বাভাবিক আচরণ করেন, প্রচণ্ড অস্থির থাকেন, বাস্তবতা বুঝতে সমস্যা হয়, নিজের বা শিশুর ক্ষতি করার কথা বলেন কিংবা আচরণে হঠাৎ বড় পরিবর্তন দেখা যায়—তাকে একা না রেখে দ্রুত চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।

কারণ তখন তাকে গালি দেওয়ার চেয়ে
তার পাশে দাঁড়ানো অনেক বেশি জরুরি।
আমি জানি না সেই মায়ের সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল।
ঘটনার সম্পূর্ণ সত্যও আমি জানি না।
তাই বিচার করার আগে একটু থামি।
একজন শিশুকে হারানোর কষ্ট যেমন ভয়াবহ,
তেমনি একজন মায়ের নিজের সন্তানকে হারানোর—এবং সেই ঘটনার সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলার—মানসিক যন্ত্রণা কল্পনা করাও কঠিন।

আমরা শিশুটার জন্য কাঁদব। অবশ্যই কাঁদব।
কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন করি—
এই মায়ের পাশে কে ছিল?
তার শেষ কবে টানা কয়েক ঘণ্টা ঘুম হয়েছিল?
কেউ কি তাকে বলেছিল—
“তুমি একা নও”?
কেউ কি বুঝেছিল তার আচরণে কোনো বিপদের সংকেত আছে কি না?
তাহলে তাকে শুধু “খারাপ মা” বলে চলে যাবেন না।
তার আগে আমাদের জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল—
“আপনি কেমন আছেন?”

নিজের যত্ন নিন, বিশেষ করে আমার মা-বোনেরা। আপনি সুস্থ থাকলে আপনার পরিবার সুস্থ থাকবে।

ডা. নাজমা বেগম শান্তা
Medicine, Diabetes & Thyroid Disease Specialist
🏥 Salauddin Specialized Hospital
শনিবার–বুধবার | সন্ধ্যা ৬:৩০–৯:৩০
🏥 Shohid Khaled Ibrahim General Hospital, Wari (NHN)
রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার | বিকেল ৫:০০–৭:০০
🏥 Ibn Sina Diagnostic Centre, Maijdee, Noakhali
প্রতি ২য় শুক্রবার

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr Nazma Begum Shanta posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category