28/02/2019
একজন প্রাক্তন নাস্তিক জ্বীনের (?) কাহিনী।
মক্কা গেলে একটি বইয়ের দোকানে সব সময় যাই, সেখানেই ভদ্রলোক পাশে দাড়িয়ে বাচ্চাদের বই উল্টে পাল্টে দেখছিলেন। তার চেহারা আর পোষাকে সাতন্ত্র্য ছিলো, বুঝতে পারছিলামনা কোন দেশের লোক তিনি।
আমার ছোটবেলা বরিশাল বানরিপাড়া বাস চলতো অনিয়মিত ভাবে। মাঝে মধ্যে বরিশাল শহর থেকে গ্রামের বাড়ীতে ৮ মাইল পথ হেটে যেতাম বাবার পেছন পেছন। গায়ের ভেতর দিয়ে হেটে যেতে কাস্তে হাতে অপরিচিত কিষান কাজ থামিয়ে জিজ্ঞেস করতো, -- 'মেয়াছাফের ঠিকানা' ? বাবা দাড়িয়ে ঠিকানা বললেই শেষ হতোনা, জ্ঞাতি গোষ্টির পরিচিত দু একজনকে জানার পর পান-তামুকের দাওয়াত নাকচ করতে করতে গ্রামে পৌছতে হতো। সেই সব স্মৃতি এখন কোথায় হারিয়ে গেছে, বাবা চলে গেছেন, কিনতু মেয়াছাপের ঠিকানা জানতে চাওয়ার রোগটা আমার মধ্যে ঢুকে গেছে। প্রায়শ: সফরের জীবনে তাই অপরিচিতজনদের সঙ্গে যেচে আলাপ করা আমার বদভ্যাস।
তাই বলেই ফেললাম,-- সবুজ পাগড়িতে আপনাকে বেশ মানিয়েছে।
আমার দিকে তাকিয়ে হেসে স্কটিশ আঞ্চলিক টানের ইংরেজিতে বললেন, এটি বাধতে হয়না। স্কটল্যান্ডের ঘন সবুজ ঘাস খাওয়া ভেড়াদের মোলায়েম পশম দিয়ে আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো টুপি বানাই। এমনভাবে বললেন, যেন স্কটল্যান্ড ছাড়া পৃথিবীর আর কোথাও সবুজ ঘাস আর ভেড়া নেই।
আবার বললেন, স্কটল্যান্ডের একজন নুতন মুসলমান এটির ডিজাইন করেছেন, ক্যাপের ভেতর থেকে সেলাই করে পাগড়ি বাধা,-- খোলো আর মাথায় লাগাও ব্যাস। খুব ক্রেডিট নিয়ে কথা বলে দম নিলেন আমার মেয়াছাপ ভদ্রলোক।
পরাজিত বাঙালী মানসিকতার লোক আমি, সব কিছুতে জিততে চাই জোড় করে,সেই নিরিখে বললাম, আমাদের বাংলাদেশের বরিশালের ঘাস আরো অনেক সবুজ, ভোলার মহিষেরা খায় আর তা দিয়ে আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো কটেজ চীজ বানাই। আমরা বলি ভোলার দই, উইশ আপনাকে খাওয়াতে পারতাম।
--- ওহ রিয়াল্লি, নেভার হার্ড অব।
আমি এখনো জিততে চাই, বললাম, স্কটিশ সুন্নতী পাগড়ির কথা কোনদিন শুনি নাই।
তিনি বললেন, -- সুন্নতী পাগড়ি কথাটা ঠিক হয় যদি সবুজ পাগড়ি কেউ তার হৃদয়ে প্রথম পড়ায় নবী (স)পরিধান করতেন বলে, পাগড়ি দিয়ে মুসলমান হলে সব শিখরাও মুসলমান। তাই আমার সবুজ পাগড়ির দিকে তাকিওনা।
বললাম, না তাকিয়ে উপায় আছে? পাগড়ির জন্যে কত শিখ মার খেলো আমেরিকায়, অমুসলিম জঙ্গীরা মুসলমান ভেবে পিটিয়েছে বেচারাদের। পাগড়িবিহীন মুসলমানরা তা জেনে হেসেছে কত।
তিনি প্রস্তাব করলেন,-- তেষ্টা লেগেছে, চলো কফি খেতে খেতে কথা বলি। তোমার সাথে আড্ডাটা জমবে মনে হয়, কাজ নেইতো তোমার ?
পাশেই ডানকিন ডোনাটসের কীয়স্ক। ব্লাক কফিতে চুমুক দিয়ে বললো, তুমি আমার পাগড়ি ছাড়া আর কি নিয়ে ভাবছো ?
---ভাবছিতো বটেই, কে তুমি, কনভার্ট না আদি মুসলমান, ইসলাম নিয়ে তোমার ভাবনা জানতে মন চায়। প্রথম নজরে তোমার চেহারা দেখে আমার মনে হয়েছিলো তুমি একজন জ্বিন। শুনেছি মক্কায় মানুষের বেশ ধরে অনেক জ্বিন নাকি ঘোরাঘুরি করে কাবার আশে পাশে। তাই অনেক কৌতুহলী আমি,- আমার জাতিগত গুন এটি, অন্যদের সব কিছু খুটিয়ে দেখা, গুন খোজার চেয়ে দোষ খুঁজে বের করা। কিছু মনে করোনা।
---ও তাই নাকি, আমি জ্বিন ! তাহলে আজ জানলে স্কটিশ জ্বিনরা কফি আর বোস্টন ক্রিম ডোনাট পছন্দ করে, (ও সেটাই খাচ্ছিলো )।
আমি হা হা করে হেসে বললাম, জানতামনা তবে দেখলাম আজকে। একজন বিলাতি সাহেব সবুজ পাগড়ি মাথায় কাবার বাজারে ঘুরছে, আধা নাকি স্বরে স্কটিশ ইংরেজী বলছে। আমার ছোটবেলায় এক আঙ্কেল পাগল হলে জ্বিন হাজির করা হয়েছিলো চিকিত্সা করাতে, তার কন্ঠের সাথে তোমার মিল আছে, তাই মনে হলো তোমাকে একটু ভালো করে দেখি। আচ্ছা বাদ দাও, তুমি জ্বিন না ফেরেশতা - তা আমার জানার দরকার নেই, তুমি কনভার্ট না জন্মগত মুসলিম ? সেটা বল আগে।
----মজার প্রশ্ন করেছ ? তার আগে তোমাকে একটা প্রশ্ন করি, তুমি কি একজন অথর, লেখালেখি কর ?
বললাম, অথর নই, কিনতু ফেসবুকে লেখি। খুশিমতো সবাই লিখতে পারে তাই আমিও লিখি। কেন ভাবলে একথা ?
হা হা হা করে জোরে হেসে আবার গম্ভীর হয়ে বললো, অনেক জ্বিনরা ফেসবুকে পোস্ট দেয় তুমি জানো ? তোমার ছবি দেখেছি মনে হয়।
চমকে ব্যাটার দিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখলাম, না মানুষই লোকটা, নাহয় ঠোট চেটে ক্রিম খাচ্ছে কেন ? বললাম, একজন জ্বিনের ফেসবুক পেজের নাম দাও তো ? আর তোমার ফেসবুক আইডি কি ?
আচ্ছা সেটা পরে দেয়া যাবে। তাহলে তোমরা বাঙালিরা ঠিক আমাদের আইরিশদের মতো, অন্যদের মাঝে নাক গলানোর স্বভাব। যাইহোক আল্লাহর কথা অনুসারে সব নবজাতকের মতো আমিও জন্মগতভাবে মুসলমান, নাস্তিক পিতা মাতার সাথে নাস্তিক হিসাবে বড় হয়েছি, তারপর রিভার্ট করে ইসলামে ফিরে আসি বছর তিনেক হলো। সে বলে যাচ্ছিলো, আমাদের উন্নত দেশগুলিতে সব আছে, সব পাই আমরা, শুধু দ্বীন নাই বলে সব কিছু অপরিপূর্ণ।
আমি শুনছিলাম, সে বলছিলো, -- দেখো আমি ছিলাম এক নম্বরের নাস্তিক। দার্শনিক ফ্রেডরিক নীটশে লিখেছিলেন, গড মারা গেছেন। টাইমস একবার কভার স্টোরী করেছিলো 'ডেথ অব গড'। নাস্তিক হিসাবে কথাগুলি খুব পছন্দ হয়েছিলো। আস্তিকদের সাথে বিতর্কে বড় বড় দার্শনিক আর বিজ্ঞানীদের নাম বলতাম, এরা কেউ আল্লাহতে বিশ্বাস করেনা, তাই আল্লাহ নেই যুক্তি দিতাম। শুধু বিজ্ঞান আর থিওরী নিয়ে কথা বলতাম। ভাবটা এই যে, যারা বিশ্বাসী তাদের জন্যে বিজ্ঞান নয়। আস্তিক ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, বৈজ্ঞানিক এরা কেউ বিজ্ঞানমনস্ক নয়, মুক্তমনা তো নয়ই, এই দুটো টাইটেল শুধু নাস্তিকদের সম্পত্তি। সব নাস্তিক বিতর্কের সময় এই ট্রিকস ব্যবহার করে।
তর্কে জিতে আসতাম ওদেরকে কনফিউজ করে, কিনতু কিছুদিন পরে নিজেই বুঝতাম, যে থিওরীর রেফারেন্সগুলি দিয়েছি তা বদলে উল্টা হয়ে গেছে। তবুও একা একা হাসতাম, ব্যাটা আন্ধা আস্তিক, সে বুঝবে কেমন করে, সে কি বই পড়ে ? আবার এটাও মনে হত, জার্মানির নীটশেকে পেলে একটা কথা জানতে চাইতাম, মরুক আর বাচুক আপনার কথায় তাহলে গড একসময় ছিলো ?
সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেলাম নাস্তিকদের বিজ্ঞানমনস্ক মুক্তমনা গুরু ব্রিটিশ চিন্তাবিদ এন্টনি ফ্লিউ থেকে। তিনি ৫০ বছর ধরে ৩০টি বইতে হেন প্রকারের যুক্তি নেই যা ব্যবহার করেননি স্রষ্টা নেই এই কথাটা প্রমান করতে। কিনতু কয়েক বছর আগে তার শেষ বই লিখলেন এই ভাবনায়, স্রষ্টা নেই লিখতে লিখতে আমি বুঝে ফেলেছি স্রষ্টা আছেন। তার বইয়ের নাম, দেয়ার ইজ এ গড, 'নো গড' কথাটি হাত দিয়ে কেটে 'এ গড ' লেখা হলো প্রচ্ছদে।
মাত্র তিনটি প্রশ্ন ফ্লিউকে আস্তিক বানায়, প্রথম,--প্রকৃতি কেন নিদৃষ্ট নিয়মে চলে ? দ্বিতীয়,-- সব জীবন পরিধিতে (ডাইমেনশন) আবদ্ধ কেন ? তৃতীয়ত:-- প্রকৃতির অস্তিত্বই বা রয়েছে কেন ? তবে তিনি বাইবেল আর কোরানে বর্ণিত স্রষ্টাকে নয়, এরিস্টটলের বর্ণিত স্রষ্টাকে বিশ্বাস করলেন।
----কিনতু আমি যখন আস্তিক হলাম, তখন ইসলামে প্রবেশ করলাম, কারণ খ্রিস্টধর্ম সহ বাকি সবগুলিতে অসঙ্গতি ছিলো, অপরিপূর্ণতা ছিলো।
আমি বললাম, -- কিনতু আজকাল অনেক লেখক, সমালোচক ইসলাম ধর্মের অপূর্ণতার অভিযোগ করে আর ত্রুটি খুঁজে।
তিনি বললেন, না ইসলামের কোনো ত্রুটি তুমি পাবেনা। ইসলাম ইউজারদের প্রচুর ত্রুটি আছে। নবী (স) একটিই ইসলাম দিয়ে গিয়েছিলেন, তার মৃত্যুর পর নতুন নতুন ব্যাখ্যা নিয়ে অনুসারীরা বিভক্ত হয়। তত্ব, রাজনীতি আর বানিজ্যিক স্বার্থে ১৪০০ বছর পরে দেখছ,-- জ্ঞান, যুক্তি আর সমঝোতায় ইসলাম নেই। তাই কেউ 'আমি ঠিক তুই বেঠিক' বিতর্ক, কেউ বন্দুক, কেউ চাপাতি হাতে যার যার জায়গায় স্থির দাড়িয়ে আছে যার যার ইসলাম নিয়ে। তোমার অযোগ্যতা তোমাকে অপরিপূর্ণতা অনুভব করাচ্ছে। আল্লাহ, কোরান, মোহাম্মদের ইসলাম পরিপূর্ণ আছে প্রথম থেকেই এবং কেয়ামত পর্যন্ত্য থাকবে। যারা এটি বুঝবে আর মানবে তারাই একমাত্র ইসলামের অনুসারী। বাকি সব ফিতনা গ্রস্থ।
আমি চুপ করে রইলাম। ভাবছিলাম তার কথা গুলি।
সে বলেই চলছিলো দেখো, পৃথিবীর সব জটিল জিনিস বুঝতে যোগ্যতা আর ট্রেনিং লাগে। গড আছে বা নেই, ইসলাম ভ্রান্তিতে ভরা,-- এসব কথা যে কেউ বলতে পারে, ভাবতে পারে, কোনো ট্যাক্স লাগেনা। কিনতু একটি ফ্যাক্টকে যখন অস্বিকার করে আমরা নাস্তিক হই, তখন আমরা মনে করি,-- আমি অনেক বুদ্ধিমান, সব বুঝি, অন্ধভাবে বিশ্বাস করতে হলে আমার বুদ্ধির দাম রইলো কই ? কিনতু যে কোনো কিছু বুঝতে হলে যোগ্যতা আর চর্চা লাগে, এই কথাটি প্রতিটি নাস্তিক সব সময় ভুলে থাকে।
একদিন এক আস্তিকের সাথে প্রচন্ড বিতর্ক হচ্ছিলো, তার একটি যুক্তি শুনে খুব ক্রোধান্বিত হয়েছিলাম, কিনতু তার কথাটিই আমাকে মুসলমান বানালো।
সে বলছিলো, মুরগীর একধরনের বুদ্ধি বা মগজ আছে, যা দিয়ে সে সন্ধ্যায় খোপে ঢোকে, ভোর রাতে ঠিক টাইমে কোকড় কো বলে স্লোগান দেয়, ডিম পাড়ে, বাচ্চা ফোটায়, বুদ্ধি দিয়ে শিকারী পাখি থেকে বাচ্চাদের সামলায়। এখন যদি মুরগিটি জানার চেষ্টা করে দুই পূরণ দুই কত ? তার সীমিত মগজ দিয়ে যদি তার উত্তর খুঁজে না পায় সঙ্গে সঙ্গে সে নাস্তিক হয়ে গেলো; বলতে শুরু করলো,-- অঙ্ক নেই, এলজেবরা নেই। আপনি তো মুরগি নন, আপনার মগজ দেয়াই হয়েছে কি কি আছে আর কি কি নেই তা বোঝার জন্যে। আল্লাহকে বোঝারই চেষ্টা করলেন না, মুরগির মতো কোকড় কো করেই যাচ্ছেন, আল্লাহ নেই, স্রষ্টা নেই, আসলে আপনার কোনো যোগ্যতাই নেই।
চিকেনের সাথে তুলনা করায় রাগ হয়ে,-- ইয়ু আর স্টুপিড, বলে চলে এসেছিলাম।
বিতর্কের বাইরে একা একা নির্জন মাঠে শুয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রশ্ন করতাম, আমি কি আসলে একটা চিকেন ? হেই গড, আর ইউ দেয়ার রিয়াল্লি, শো মি অ সাইন তুমি যদি সত্যিই থাকো। গড ওজ সাইলেন্ট।
কেন জানিনা একদিন টমাস ক্লিয়ারির কোরানের অনুবাদ কিনে ফেললাম হটাত। দিন দশেক পরে একটি মসজিদ দেখে ঢুকে গেলাম,-- 'আমি মুসলমান হতে চাই, কেমন এক আজব ঘোরের মধ্যে বলে ফেললাম, কেন তাও জানিনা। বুঝলাম পথ খুজতে হয়, তখন পথের মালিক পথ দেখিয়ে দেন।
যে নাস্তিকেরা গর্ব করে বলে আমরা নাস্তিক, আমরা বিশ্বাস করি কোনো গড নেই, তাদের এই কথাটি আরবিতে অনুবাদ করলে হয় - 'লা ইলাহা', তারা কিনতু এই কথা বলে কলেমা শাহাদাতের অর্ধেক প্রতিদিন উচ্চারণ করতে থাকে। এদের জন্যে বাকি থাকে শুধু কলেমার 'ইল্লাল্লাহ' কথাটি উচ্চারণ করা। ঈমানের অর্ধেক তাদের অলরেডি আছে। আমি এই দলের ছিলাম। গর্ব করে সবসময় বলতাম, আমি নাস্তিক, কোনো খোদা নেই, লা ইলাহা রোজ বলতাম।
আস্তিকরা নাস্তিকদের নাম শুনলেই মুখ বিকৃত করে, এটি ঠিক নয়, একদিন ওরা তোমার চেয়েও বড় বিশ্বাসী হতে পারে। ওদেরকে ঘৃনা না করে বন্ধু বানাও, বোঝাও। আল্লাহ তোমাকে পুরস্কৃত করবেন, তাকেও সঠিক পথ দেখাবেন, এবং এই পথ দেখানোর রাস্তা একেকজনের একেক ভাবে হয়।
কাবার মসজিদে মাগরিবের আজান ধ্বনিত হলো, অজু করার কথা বলেই সবুজ পাগড়িওয়ালা হারামের বাইরে জনতার ভীড়ে মিশে গেলো, আমি অবাক হয়ে দেখলাম বা আমার মনে হলো, সে ঠিক হেটে যাচ্ছেনা মাটিতে পা লাগিয়ে- অনেকটা স্কেটিং করার মতো আধা ফুট শুন্যে তার দুই পা স্থির,- দুরে সরে যাচ্ছে শুন্যের ওপর। মনে হলো লোকটার নাম জিজ্ঞেস করা হয়নি। চিত্কার করে বললাম, হেই ম্যান, হোয়াটস ইয়োর নেইম ?
টেবিল পরিস্কার করতে আসা বাংলাদেশী ভাইটি বললো, কাকে ডাকছেন, আর এতক্ষণ কার সাথে একা একা কথা বলছিলেন ? এগুলি কার জন্যে কিনলেন দুই ডোনাট দুই কফি, সবতো পড়ে আছে। আমি বললাম, ওই যে সবুজ পাগড়ি ওয়ালা, সেতো কফি আর ডোনাট খেলো।
ওয়েটার ভাইটি বলল, মক্কায় কেউ ইয়াবা খায়না, আফনে ফাইলেন কই ?
আমি বললাম, কি যা তা বলেন, এই যে দেখেন মোবাইলে সবুজ পাগড়িওয়ালার ছবি।
সে কিছুই দেখলোনা শুধু বললো, ওঠেন ওঠেন নামাজে যান, আর একবার ভালো কইরা ওমরা করেন। আফনারে জ্বিনে ধরছে।
আচ্ছা বলুনতো আপনারা কেউ কি সবুজ পাগড়িওয়ালা, দাড়িওয়ালা কারো ছবি দেখছেন, আমি কিনতু পোস্ট করেছি। এনাকে কেউ দেখতে পেলে আমার কথা বলবেন, ফেসবুকে যোগাযোগ করতে বলবেন দয়া করে।
Courtesy: Arifur Rahman