31/07/2026
কঠিন মানুষকে বদলানোর চেষ্টা না করে কীভাবে নিজেকে সামলাবেন?
আপনি কাউকে বারবার বোঝাচ্ছেন—
“এভাবে কথা বলবেন না।”
“আমার কথাটাও একটু বুঝুন।”
কিন্তু কিছুদিন পর দেখলেন,
মানুষটা আবার একই আচরণ করছে।
আপনি বোঝাচ্ছেন, আশা করছেন,
তারপর আবার হতাশ হচ্ছেন।
একসময় মনে হয়—
ওকে আমি কীভাবে বদলাব?
কিন্তু প্রশ্নটা হতে পারে—
“ওকে বদলানোর বদলে
আমি কীভাবে নিজেকে সামলাব?”
Psychology কী বলে
কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণে,
আবার কিছু বিষয় অন্যের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।
সে কী ভাববে, কীভাবে কথা বলবে,
নিজের ভুল স্বীকার করবে কি না—
এসব আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই।
কিন্তু আপনি ঠিক করতে পারেন—
কীভাবে উত্তর দেবেন,
কোন আচরণ গ্রহণ করবেন
এবং কোথায় সীমা টানবেন।
Psychology-তে একে Circle of Control বলা হয়।
অন্যকে বদলাতে ব্যস্ত থাকলে
নিজের মানসিক শক্তি ক্ষয় হতে থাকে।
তাহলে কি চুপ থাকবেন?
না।
নিজেকে সামলানো মানে
অন্যায় নীরবে সহ্য করা নয়।
কেউ অসম্মানজনকভাবে কথা বললে বলতে পারেন—
“আপনি শান্তভাবে কথা বললে
আমি বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।”
কেউ বারবার সীমা অতিক্রম করলে
সেটা স্পষ্টভাবে জানাতে পারেন।
প্রয়োজনে যোগাযোগের ধরনও বদলাতে পারেন।
Boundary মানে অন্যকে নিয়ন্ত্রণ করা নয়;
নিজের জন্য কোন আচরণ গ্রহণযোগ্য,
সেটা নির্ধারণ করা।
একটি প্রশ্ন বদলে দিন
“ও কেন এমন করছে?”
এর বদলে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—
“ও এমন আচরণ করলে
আমার জন্য স্বাস্থ্যকর পদক্ষেপ কী?”
তাহলে মনোযোগটা
তার পরিবর্তনের অপেক্ষা থেকে
নিজের সিদ্ধান্তের দিকে ফিরবে।
ইসলাম কী শেখায়
আমরা অনেক সময় চাই,
প্রিয় একজন মানুষ বদলে যাক।
কিন্তু আল্লাহ বলেন—
“আপনি যাকে ভালোবাসেন,
তাকে হেদায়েত করতে পারবেন না;
বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা
হেদায়েত করেন।”
— সূরা আল-কাসাস: ৫৬
আপনি পরামর্শ দিতে পারেন,
ভালো আচরণের উদাহরণ হতে পারেন।
কিন্তু অন্য একজন মানুষ
নিজেকে পরিবর্তন করবে কি না—
সেটা তার নিজের সিদ্ধান্ত।
তাই তার পরিবর্তনের অপেক্ষায়
নিজের জীবন আটকে রাখবেন না।
বাস্তবে কী করবেন?
কঠিন পরিস্থিতিতে থামুন
এবং নিজেকে প্রশ্ন করুন—
“এটা কি আমার নিয়ন্ত্রণে?”
“আমি কি আমার অবস্থান
পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি?”
“এখন কোন প্রতিক্রিয়াটা
আমার জন্য ভালো হবে?”
তারপর পরিস্থিতি অনুযায়ী
কথা বলুন, সীমা টানুন,
আলোচনা থামান কিংবা
প্রয়োজনে যোগাযোগ কমান।
সব সম্পর্ক থেকে দূরে যাওয়া
সবসময় সম্ভব হয় না।
তখন লক্ষ্য না—
“কীভাবে তাকে বদলাব?”
বরং—
“তার আচরণের মধ্যেও
আমি কীভাবে নিজের ভারসাম্য রাখব?”
সব মানুষ নিজের ভুল বুঝবে না।
সবাই আপনার কথাও শুনবে না।
তাই অন্যের পরিবর্তনের বদলে
নিজের করণীয়টুকু পরিষ্কার করুন।
কখন বোঝাতে হবে,
কখন সীমা টানতে হবে,
আর কখন ছেড়ে দিতে হবে—
এটা বুঝতে শেখাই
নিজেকে সামলানোর অংশ।
মিশকাতুল জান্নাত এলিন
কনসালট্যান্ট সাইকোলজিস্ট | Soul Wellness