10/01/2026
"নিজে ডাক্তার হয়েও অন্য ডাক্তারের খারাপ ব্যবহারে আমার মায়ের কাছে আজ আমি অসহায়"
সাধারণ মানুষ ডাক্তারদের খারাপ ব্যবহারের স্বীকার হয়ে দু:খ সহ্য করতে না পেরে অহরহ পোস্ট করে।
আর আজ আমি খুব অসহায় হয়ে এই পোস্ট করলাম কারণ আমি নিজে ডাক্তার হয়েও অন্য ডাক্তারের খারাপ ব্যবহার পেয়ে আমার মা আজ ১২দিন ধরে
কান্না করতেছে।
যে মা আমাকে অনেক কষ্টে ডাক্তার বানিয়েছে,
রোগীদের সাথে ভালো ব্যবহার করাইতে শিখিয়েছে।রোগীদেরকে নিজের মা বলে ডাকতে শিখিয়েছে।
রোগীদের নিজের আত্নীয়-স্বজন মনে করে চিকিৎসা দিতে শিখিয়েছে।
যে মা স্ট্রিকলি বলে দিয়েছে,
আমি যেদিন মারা যাবো,সেদিন তার জন্য শোক পালন না করে,অসহায় গরীব অসুস্থ মানুষদের যেন চিকিৎসা দেয়।
কিন্তু এতো কিছু শিখানো মা আমার #ডা_মো_আরশাদ_হোসেনের করা অপমানজনক ব্যবহার ভুলতে পারছে না। আজ ১২ দিন পরেও যখনই আরশাদ হোসেনের খারাপ ব্যবহারের কথা মনে পড়ছে তখন ই অঝরে কান্না করে দিচ্ছে।
তার খারাপ ব্যবহারের পর থেকে আমার আম্মার প্রায় দিনই হার্ট-বিট বেড়ে যাচ্ছে,বুকে চাপ অনুভূত হচ্ছে।
সব সময় মন খারাপ করে থাকতেছে।যখনই একা একা থাকতেছে তখন ই অঝরে কান্না করতেছে।
আমার মা কিছু দিন আগে পড়ে গিয়ে কোমড়ে ব্যাথা পান।সেই সময় আমি কিছু ওষুধ বলে দেয়,যেগুলো খেয়ে কিছু দিন ভালো থাকেন।
কিন্তু ওষুধ শেষ হয়ে যাবার পর আবার ব্যাথা ফিরে আসে।
তখন আমার বড় ভাই আমাকে না জানিয়ে নওগাঁতে ডা. আরশাদের কাছে নিয়ে যান। তিনি এক্সরে করে তা দেখে চিকিৎসা দেন। তার দেওয়া ওষুধে প্রথম কিছুদিন ব্যাথা কম থাকলেও। তার দেওয়া ওষুধের ডোজ শেষ না হতেই আম্মার কোমড় ব্যাথা বেড়ে যায়।শুয়লে উঠতে পারতো না,ডান-বাম কাত ঘুড়তে পারতো না।
ডা. আরশাদ হোসেনের ওষুধ খেয়েও আম্মার খারাপ অবস্থা দেখে আম্মাকে ঢাকায় নিয়ে আসি।
ঢাকায় নিয়ে এসে MRI সহ অন্য সকল পরীক্ষা করে Degenerative Disc Disease এবং ডায়াবেটিস ধরা পরে। ঢাকায় পিজি হাসপাতাল সহ সব মিলিয়ে ৫-৬ জন ডাক্তার দেখায়।তার মধ্যে আছেন নিউরোমেডিসিন, নিউরোসার্জারী, ফিজিক্যাল মেডিসিন,রিউমাটোলজি,ডায়াবেটোলজির ডাক্তার। তিনারা সবাই দেখে চিকিৎসা দিয়েছেন। আর বলেছেন এই অসুখ কখনো সম্পূর্ণ সুস্থ হবে না।ব্যাথা হালকা পাতলা থাকবেই।কোন ভারী কাজ করা যাবে না।
এইসব চিকিৎসা প্লাস থেরাপি চলার ৬ মাস আম্মা আগের থেকে অনেক ভালো আছে,আলহামদুলিল্লাহ।
আগে কোন কাজ ই করতো না কিন্তু এইসব ওষুধে কিছুটা উন্নতি হওয়ায় হালকা টুকটাক কাজ করতে চায় কিন্তু আমরা সেগুলোও বন্ধ করে রেখেছি।
শুধু মাত্র রাইস কুকারে ভাত রান্না ছাড়া কোন কাজই নেই।
যেহেতু চিকিৎসার প্রায় ৬মাস হয়েছে এবং ডাক্তার + ডাক্তার বেটা বলেছে যে এই অসুখ ভালো হবে না,রেষ্টে থাকতে হবে। তাই আম্মার জানার ইচ্ছা যে ৬মাস পরে সেই কথা একই থাকে নাকি অসুখ ভালো হয়ে গেছে।
ভয়ে আমাকে না বলতে পেরে বড় ভাইকে বলেছে যে আমাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যা।
সেই অনুযায়ী আমাকে না জানিয়ে ১২দিন আগে মঙ্গলবারে ডা. আরশাদের কাছে নিয়ে যান।
এর আগে যেহেতু তিনি শুধু মাত্র এক্সরে করেছেন।কিন্তু এইবার সাথে করে MRI সহ আরো অনেক রিপোর্ট পেয়েছেন তাই আগে থেকেই মনোকষ্টে ছিলেন। এই অবস্থায় আমার মা শুধু জিজ্ঞাসা করেছে , ডাক্তার সাহেব আমার এই অসুখ কি কোনোদিন ভালো হবে না?
যেই বলেছে আর কই যাবেন,
ডা. আরশাদ খেপে গিয়ে অনেক কথা শুনিয়েছেন।
বলেছেন,তোমরা নওগাঁর মহিলা কেমন মানুষ আমি চিনি না।কি কি অকাম করে আইসেন আমি জানি না।
এই অসুখ কোনোদিনও ভালো হবে না,প্যারালাইজড হয়ে যাবেন।বিছানায় শুয়ে জীবন কাটানো।
আর বলেছে ডায়াবেটিস কোন অসুখ হলো।ওইটা এমনি ঠিক করা যায় সহ আরো যা যা মুখে আসে সব বলেছে। তখন তো আমার মা ভয়ে চুপ হয়ে গেছে।
সাথে যেহেতু বড় ভাই ছিলো কিছু বুঝে উঠতে না পেরে ভয়ে বলেছে,আমার ভাই পিজি তে আছে ,সে ডাক্তার।
যেই শুনেছে ডাক্তার আর কই যাবেন।
ডাক্তার হয়েছে তো কি হয়েছে।আমার থেকে বড় ডাক্তার কে আছে।আমি হাড়ের সবচাইতে বড় ডাক্তার। বাপ-দাদার ৪০০ বিঘা জমি রেখে এসে ডাক্তারী করতেছি। সরকারী চাকরী ছেড়ে দিয়ে এসে ডাক্তারী করতেছি,ইত্যাদি শুনিয়ে দিয়েছে।
মা এবং বড় ভাই যেহেতু গ্রামের মানুষ ভয়ে কিছু না বলেই চলে এসেছে।
আমি সেই শুক্রবারে চেম্বার করতে বাসায় গিয়ে দেখি আম্মা কান্না করতেছে।আমি জিজ্ঞাসা করলে তখন ডুকরে পড়ে কানতেছে আর বলতেছে আমার বেটাই তো ওর থেকে ভালো বলেছিলো।
কেন যে ওই ডাক্তারের কাছে গেলাম।এমন ব্যবহারে মানুষ সুস্থ হবে কিভাবে।আমি তো আরো বেশি অসুস্থ হয়ে গেলাম,বাপ।
আপনারা জনগন ই বলেন,এখানে আমার সহজ সরল মায়ের কি দোষ ছিলো।যে এইভাবে অপমান করলো।
আর সেই অপমান এখনো তার মন থেকে যাচ্ছে না।
আজ ১২ দিন পরে আব্বা ফোন দিয়ে বলে তুর মা কান্নাকাটি করতেছে,প্রেসার বেশি,হার্টবিট -১২০।
আমার মায়ের এই অবস্থা করলো তার দায় কে নিবে?
মানুষকে যেখানে সুস্থ করার কথা সেখানে আরো অসুস্থ করে দিলো তার দায় কার?
আপনাদের কাছে আমি এর প্রতিকার চাই প্লিজ...
নইলে আমি আমার মায়ের কাছে এর জন্য সারা জীবন দায়ী হয়ে থাকবো।
আর তার কাছে ডাক্তার মানেই খারাপ ব্যবহার মনে গেথে যাবে।আমার উপর থেকেও বিশ্বাস উঠে যাবে।
প্লিজ......