09/06/2026
ইভিএল (EVL) – Endoscopic Variceal Ligation)
EVL কী?
ইভিএল (Endoscopic Variceal Ligation) হলো একটি এন্ডোস্কোপিক চিকিৎসা পদ্ধতি, যেখানে খাদ্যনালীর (Esophagus) ভ্যারিসেস বা অস্বাভাবিকভাবে ফোলা রক্তনালীগুলোকে বিশেষ রাবার ব্যান্ড দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। এর ফলে রক্তনালীতে রক্তপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে ভ্যারিসেস শুকিয়ে যায়।
ভ্যারিসেস কেন হয়?
ভ্যারিসেস সাধারণত লিভারের দীর্ঘমেয়াদি রোগের কারণে সৃষ্টি হয়। যখন লিভারের ভেতর রক্তপ্রবাহে বাধা তৈরি হয় (Portal Hypertension), তখন খাদ্যনালীর রক্তনালীগুলো ফুলে যায়।
প্রধান কারণসমূহ”
লিভার সিরোসিস, দীর্ঘদিনের হেপাটাইটিস বি বা সি, অ্যালকোহলজনিত লিভার রোগ, পোর্টাল ভেইন থ্রম্বোসিস এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ।
EVL কেন করা হয়?
১. রক্তক্ষরণ প্রতিরোধে
যেসব রোগীর বড় ভ্যারিসেস রয়েছে, তাদের ভবিষ্যতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমানোর জন্য EVL করা হয়।
২. জরুরি রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে
ভ্যারিসেস ফেটে রক্তক্ষরণ হলে জরুরি ভিত্তিতে EVL করে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
৩. পুনরায় রক্তক্ষরণ প্রতিরোধে
একবার রক্তক্ষরণ হওয়ার পর পুনরায় রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমানোর জন্য নিয়মিত EVL করা হয়।
EVL করার পদ্ধতি”
রোগীকে সাধারণত ৬–৮ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে বলা হয়। এন্ডোস্কোপের মাথায় একটি বিশেষ ব্যান্ডিং ডিভাইস লাগানো হয়। এন্ডোস্কোপ খাদ্যনালীতে প্রবেশ করানো হয়। ভ্যারিসেস শনাক্ত করা হয়। ভ্যারিসেসকে সাকশন করে রাবার ব্যান্ড লাগানো হয়। একাধিক ভ্যারিসেস থাকলে একই সেশনে একাধিক ব্যান্ড লাগানো যেতে পারে। সাধারণত পুরো প্রক্রিয়াটি ১০–২০ মিনিট সময় নেয়।
EVL-এর সুবিধা’’
রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। অপারেশন ছাড়াই করা যায়। তুলনামূলক নিরাপদ পদ্ধতি। হাসপাতালে থাকার সময় কম লাগে। পুনরায় রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কমায়।
সম্ভাব্য জটিলতা”
যদিও EVL নিরাপদ পদ্ধতি, তবুও কিছু জটিলতা হতে পারে:
গলা ব্যথা, বুকের মাঝখানে অস্বস্তি বা ব্যথা, গিলতে কষ্ট হওয়া, ব্যান্ড লাগানো স্থানে আলসার, পুনরায় রক্তক্ষরণ, খুব বিরল ক্ষেত্রে খাদ্যনালীতে সংকোচন (Stricture)
EVL-এর পর করণীয়”
প্রথম ২৪ ঘণ্টা, ঠান্ডা বা তরল খাবার গ্রহণ।, অতিরিক্ত গরম খাবার এড়িয়ে চলা। পর্যাপ্ত পানি পান করা। পরবর্তী কয়েকদিন নরম খাবার খাওয়া। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ। ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার।
কখন দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে?
নিম্নলিখিত লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে—
রক্তবমি, কালো পায়খানা, তীব্র বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া।
ফলো-আপ”
ভ্যারিসেস সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত সাধারণত প্রতি ২–৪ সপ্তাহ অন্তর EVL করা হতে পারে। এরপর নিয়মিত এন্ডোস্কোপি ফলো-আপ প্রয়োজন, কারণ ভ্যারিসেস পুনরায় তৈরি হতে পারে।
উপসংহার”
EVL হলো খাদ্যনালীর ভ্যারিসেসজনিত রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য একটি নিরাপদ, কার্যকর এবং বহুল ব্যবহৃত এন্ডোস্কোপিক পদ্ধতি। বিশেষ করে লিভার সিরোসিস ও পোর্টাল হাইপারটেনশনজনিত রোগীদের ক্ষেত্রে এটি জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।