26/07/2026
আমি মনে করি, একজন চিকিৎসকের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কোনো সার্টিফিকেট, পদোন্নতি বা পুরস্কার নয়...
বরং সেই মুহূর্ত, যখন দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, অশ্রু, দোয়া আর সংগ্রামের পর একজন মা প্রথমবারের মতো তার সন্তানের মুখ দেখে।
বিয়ের পর দীর্ঘ ৪ বছর ধরে একটি সন্তানের জন্য কত আশা, কত নির্ঘুম রাত, কত পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কত চিকিৎসা... সবকিছুর মধ্যেও তারা আশা ছাড়েননি। একসময় তারা আমার চিকিৎসায় আস্থা রাখলেন।
অবশেষে, গত শুক্রবার মহান আল্লাহর অসীম রহমতে তাদের ঘর আলো করে এসেছে ৩.৬ কেজি ওজনের একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তান।
মায়ের কোলে যখন প্রথমবারের মতো সেই ছোট্ট শিশুটিকে তুলে দেওয়া হলো, তখন তাদের চোখের আনন্দাশ্রু যেন বলে দিচ্ছিল....এই অপেক্ষার প্রতিটি দিন সার্থক।
এই দৃশ্যের সাক্ষী হতে পারা, এই আনন্দের সামান্য অংশীদার হতে পারা, একজন গাইনি ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসক হিসেবে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সৌভাগ্যগুলোর একটি।
প্রতিদিনই এমন অসংখ্য গল্প আমার জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়। প্রতিটি গল্পের পেছনে থাকে অজস্র কষ্ট, ধৈর্য, বিশ্বাস আর মহান আল্লাহর অশেষ রহমত।
আমি জানি, চিকিৎসক শুধু চেষ্টা করতে পারেন। ফলাফলের মালিক একমাত্র মহান আল্লাহ। তিনিই আমার মতো ক্ষুদ্র একজন মানুষকে এই কাজের উপলক্ষ বানিয়েছেন, বন্ধ্যাত্বে ভেঙে পড়া অসংখ্য দম্পতির মুখে হাসি ফোটানোর সুযোগ দিয়েছেন।
আলহামদুলিল্লাহ।
যারা এখনও সন্তান লাভের অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য একটি কথাই বলব, আশা হারাবেন না। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা এবং আল্লাহর ওপর অটল ভরসা....অলৌকিক আনন্দের দরজা খুলে দিতে পারে।
সবাই ছোট্ট শিশুটির জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহপাক যেন তাকে নেক, সুস্থ ও কল্যাণময় জীবন দান করেন এবং তার বাবা-মায়ের জীবন চিরদিন আনন্দে ভরে রাখেন।
ডাঃ রুখসানা মমতাজ (লিজা)
আবাসিক সার্জন (গাইনী)
গাইনী,বন্ধ্যাত্ব ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ও সার্জন।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল,
সদর, দিনাজপুর।
চেম্বারঃ
মাইক্রোল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টার
আইন কলেজ গেট,বালুবাড়ি
দিনাজপুর।
সিরিয়ালের জন্য 01755-305253.