ডা. জলধি নাথ রায় - সাইকিয়াট্রিস্ট

  • Home
  • Bangladesh
  • Dinajpur
  • ডা. জলধি নাথ রায় - সাইকিয়াট্রিস্ট

ডা. জলধি নাথ রায় - সাইকিয়াট্রিস্ট Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from ডা. জলধি নাথ রায় - সাইকিয়াট্রিস্ট, Psychotherapist, Punarbhaba Diagnostic, Jora Bridge, Balubari, Dinajpur.

এমবিবিএস, এমফিল
মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ।
সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান,
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ।

পুনর্ভবা ডায়াগনোস্টিক,
জোড়া ব্রিজ, দিনাজপুর সদর।
ফোন: +8801785-456830

পপুলার ডায়াগনোস্টিক,
ফুলবাড়ি বাসস্ট্যান্ড, দিনাজপুর সদর।
ফোন: +8809666-787815

30/08/2026

‘Can the subaltern speak?’—গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাক এই প্রশ্নটা করেছেন। কথাটার অর্থ কী কী হতে পারে?

এক. সাবঅল্টার্ন বোবা, অর্থাৎ তাদের কণ্ঠনালীতে বা ব্রেইনে অসুখ।
দুই. সাবঅল্টার্ন কথা বলতে পারে, কিন্তু তাদের কথা কেউ শোনে না, অর্থাৎ তাদের কথার কোনো কার্যকারিতা নেই।
তিন. যেসব কথা বা ডিসকোর্স প্রচলিত আছে এবং যেসব ডিসকোর্স দাবি করে যে তারা সাবঅল্টার্নদের কথা বলছে, তারাও সাবঅল্টার্নদের প্রকৃত চাওয়ার কথা বলে না।
চার. সাবঅল্টার্নদের এমন কিছু বক্তব্য থাকতে পারে যা ইউনিক, অর্থাৎ সেই বক্তব্য বা আকাঙ্ক্ষা শুধু তাদেরই হয়। এজন্য তাদের হয়ে কেউ কথা বলা সম্ভবই নয়।

এক নাম্বার অর্থটা স্পষ্টত ননসেনসিক্যাল, এটা আমি শুরুতেই বাদ দিলাম। দুই নাম্বার অর্থটা এত স্পষ্ট যে এটা নিয়ে জটিল কোনো ফিলোসফি বা তত্ত্ব চলে না। তিন এবং চার নিয়ে কথা হতে পারে।

* * *

জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতি কী কী? আমরা জানি, জ্ঞান অর্জনের পদ্ধতি হিসাবে দুইটা ধারা আছে: ইমপিরিসিজম এবং র‍্যাশনালিজম। ধরা যাক, একটা পাথর।

আমরা পাথরটার রঙ অবজার্ভ করতে পারি, এর ওজন নিতে পারি, এর শেপ জ্যামিতি দিয়ে বর্ণনা করতে পারি, এর অণু-পরমাণু কী কী পরীক্ষা করে দেখতে পারি। এসবই হলো ইমপিরিক্যাল জ্ঞান।

আমরা পাথর কাকে বলে এটার যৌক্তিক সংজ্ঞা খুঁজতে পারি, দুনিয়ার সব পাথর কোথায় এক এবং কোথায় আলাদা তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারি, পাথর মনে হওয়াটা পাথরে অবস্থিত না কি মানুষের মনে তার যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিতে পারি। এসবই র‍্যাশনাল জ্ঞান।

কিন্তু কারও কাছে এই পাথরটাকে মনে হচ্ছে দুর্ভাগ্যের প্রতীক। এই মনে হওয়াটা কি জ্ঞান? যদি জ্ঞান হয় সে সেই জ্ঞান কীভাবে অর্জন করেছে? এটা ইমপিরিক্যাল জ্ঞান নয়, র‍্যাশনাল জ্ঞানও নয়। এটা আসলে পাথরটার উপর একজনের আরোপিত ব্যক্তিগত মিনিং।

এই ধরনের ব্যক্তিগত এক্সপেরিয়েন্স ও ব্যক্তিগত মিনিংনির্ভর ভাষ্যকে কেউ যখন দুনিয়া বোঝার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে সেটাকে ঠিক সর্বজনগ্রাহ্য মত বলা যাবে কি? ঠিক এরকমই একটা ট্র্যাডিশন ফিলোসফিতে আছে। সেটা ফেনোমেনোলজি এবং এক্সিসটেনশিয়ালিজমের মধ্যে। হুসের্ল, হাইডেগার, মারলো পন্টি, সার্ত্রে যেই ধারার ফিলোসফার।

* * *

গায়ত্রী কী বলতে চেয়েছেন? খুব গভীরে, গায়ত্রী যা বলতে চেয়েছেন তা হলো এরকম: সাবঅল্টার্নদের জীবনঅভিজ্ঞতার মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারে যা শুধু তাদের কাছেই ইউনিকলি অর্থপূর্ণ। তাদের চাওয়ার মধ্যে এমন কিছু থাকতে পারে যা কেবল তাদের কাছেই প্রকাশিত।

অর্থাৎ এজন্য, প্রচলিত ডিসকোর্স বা রাজনৈতিক-সামাজিক সিস্টেম (পশ্চিমা ফেমিনিজম, মার্ক্সিজম, লিবারাজিম, ন্যাশনালিজম ইত্যাদি) সাবঅল্টার্নদের কথা বলতে পারছে না। লক্ষ করুন, এসব সিস্টেম ইমপিরিক্যাল বা র‍্যাশনাল জ্ঞাননির্ভর।

* * *

তাহলে কী করতে হবে? সাবঅল্টার্ন নিজেই কথা বলুক। আমরা আরও তাদের প্রতি মনোযোগী হই। কথা সহজ।

* * *

কিন্তু এর চেয়েও কঠিন প্রশ্ন আছে যার উত্তর গায়ত্রী দিচ্ছেন না। সাবঅল্টার্নদের নিজস্ব অভিজ্ঞতানির্ভর চাওয়া গ্রহণযোগ্য হবে কি না তার বিচার কোন্ সিস্টেমের ভিত্তিতে হবে? পাথরটা আসলেই দুর্ভাগ্যের প্রতীক কি না তার বিচার কীসের ভিত্তিতে হবে?

এসব ফিলোসফির এটাই সবচেয়ে বড় ফাঁক।

12/08/2026

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ: প্রসঙ্গটাকে ক্রিটিক্যালি কীভাবে দেখা যাবে?

স্বীকার করছি, এই প্রসঙ্গ হ্যান্ডেল করার মতো পর্যাপ্ত ফিলোসফিল্যাল এবং সাইকোলজিক্যাল পদ্ধতির ধারণা আমার নেই। পশ্চিমা স্কলাররা যেভাবে এমন প্রসঙ্গগুলো হ্যান্ডেল করেন, তেমন বাংলাদেশে হয় না। আবার, ঠিক এই প্রসঙ্গই পশ্চিমে একাডেমিক্যালি আলোচিত হয় কি না, আমি জানি না। অনুমান করছি এই ধরনের সিচুয়েশন পশ্চিমা সমাজে আনকমন।

* * *

আইনে ধর্ষণের স্ট্যান্ডার্ড সংজ্ঞা এরকম: কারও সম্মতি ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে যৌনকর্ম।

অফ কোর্স, যৌনকর্ম কাকে বলে, এবং দুইটা শরীরের কতদূর পর্যন্ত কন্ট্যাক্ট যৌনকর্ম হিসাবে ধর্তব্য, সেটাও ফিলোসফি ও সাইকোলজির একটা জটিল বিষয়। এবং যৌনকর্মের সীমারেখা টানাটা যথেষ্ট আরবিট্রারি। কিন্তু যেহেতু আইন অস্পষ্টতা দিয়ে চলতে পারে না, কাজেই জুরিসডিকশনে যৌনকর্মের একটা সীমারেখা টানা থাকে। এই সীমারেখা আইনের সুবিধার্থে, ফিলোসফিক্যাল বা সাইকোলজিক্যাল প্রশ্নের মীমাংসা অর্থে নয়।

এই পর্যন্ত তত সমস্যা নেই। তবে সমস্যার শুরু ধর্ষণের সংজ্ঞার পরবর্তী শর্তে:

যদি যৌনকর্ম সম্মতি ও ইচ্ছার ভিত্তিতেও হয়, তবুও ধর্ষণ হিসাবে পরিগণিত হবে যদি সেই সম্মতি বা ইচ্ছা কোনো ড্রাগ, নেশা বা অন্য কোনো দ্রব্য প্রয়োগের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

এই শর্তের সঙ্গে ভয় দেখিয়ে বা কৌশল প্রয়োগ করে অর্জিত সম্মতিও যোগ করতে পারেন।

প্রশ্ন হলো, উপরের শর্তের সঙ্গে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনকর্মের কোনো সাদৃশ্য আছে কি না? যদি সাদৃশ্য না দেখতে পান, একটা থট এক্সপেরিমেন্ট করুন:

যদি যৌনকর্ম সম্মতি ও ইচ্ছার ভিত্তিতেও হয়, তবুও তা ধর্ষণ বিবেচিত হবে যদি এই সম্মতি কোনো যাদু বা মন্ত্রের সাহায্যে অর্জিত হয়।

এই স্টেটমেন্টে কি কোনো সমস্যা আছে? সমস্যা নেই, কারণ এটা ড্রাগ বা নেশাদ্রব্য প্রয়োগের মতোই। এখন এই যাদু বা মন্ত্রের সাহায্যে অর্জিত সম্মতিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্জিত সম্মতি ও ইচ্ছার সঙ্গে তুলনা করুন, সাদৃশ্য দেখতে পাবেন। বিয়ের শর্তে যে সম্মতি ও ইচ্ছা অর্জিত সেটা গ্রহণযোগ্য কেবল বিয়ের মাধ্যমেই।

* * *

অবশ্যই, নৈতিক বা ফিলোসফিক্যাল মীমাংসা আর এই মীমাংসার বাস্তব প্রয়োগ ভিন্ন। যৌনকর্মের পেছনে বিয়ের শর্ত আদৌ ছিলো কি না, বিয়ে যে হলো না এর কারণ এক পক্ষের শুরু থেকেই প্রতারণা না কি সম্পর্কের বিবর্তন, এসব প্রমাণ করা খুবই কঠিন। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে যৌনকর্মকে নৈতিকভাবে ধর্ষণ বলা তত কঠিন নাও হতে পারে, যতটা কঠিন বাস্তবে এর প্রয়োগ।

* * *

এবার সত্যিকার জটিল একটা প্রশ্ন করা যাক। একজন যৌনকর্মী, যে টাকার বিনিময়ে যৌনকর্ম করে, তার সঙ্গে যৌনকর্ম করার পর প্রতিশ্রুত টাকা না দিলে ধর্ষণ বিবেচিত হতে পারে কি না? স্বীকার করছি, এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো ফিলোসফিক্যাল চিন্তাপদ্ধতি আমার নেই। ধর্ষণ কেন সিরিয়াস অফেন্স বিবেচিত হয়, ধর্ষণে কী ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এবং কীভাবে সেই ক্ষতি সাধিত হয়, এসব বেসিক প্রশ্ন এখানে উঠতে বাধ্য। এবং এসব বেসিক প্রশ্ন একজন যৌনকর্মীর ক্ষেত্রে উপরের কন্ডিশনে কীভাবে প্রযোজ্য হবে আমি ভাবতে পারছি না।

* * *

এবার এসব বেসিক প্রশ্ন প্রয়োগ করুন ধর্ষণের স্ট্যান্ডার্ড সংজ্ঞার ক্ষেত্রে, ড্রাগ বা নেশাদ্রব্য প্রয়োগের ক্ষেত্রে, বিয়ের প্রলোভনের ক্ষেত্রে। দেখুন ব্যাপারটা কীভাবে জটিল হয়ে যাচ্ছে। আপনি কি মনে করেন, এতদূর পর্যন্ত ফিলোসফিক্যালি এই সমস্যা ডিল করার মতো মানুষ এই দেশে কেউ আছে? আমি দেখি নি।

* * *

এসব বেসিক প্রশ্ন বিবেচনা করতে গিয়ে কেউ কেউ বলতে পারেন, যৌনকর্মের সময় কোনো না কোনো ফর্মে সুখপ্রাপ্তি ধর্ষণ বিবেচিত হতে পারে না। এটা এমন একটা প্রসঙ্গ, নৈতিকভাবে নষ্ট এই সমাজে যে প্রসঙ্গ তুলতে আমি ভয় পাই। তবে এটুকু বলতে পারি, আপনি যদি এমন ধারণা পোষণ করে থাকেন, তাহলে সেই ধারণা ভুল। সেক্স্যুয়াল বিহেভিয়ার সংক্রান্ত জার্নালগুলো ঘাটলেই আপনার ভুল ভাঙবে। যৌনকর্মে সম্মতি ও ইচ্ছার সঙ্গে যৌনকর্মে সুখপ্রাপ্তির সম্পর্ক আদপেই সরল নয়। সরল নয় শরীরের ভলান্টারি এবং ইনভলান্টারি রেসপন্সের সঙ্গে ইচ্ছা ও অনিচ্ছার সম্পর্ক।

কিছুদিন থেকে হানা আরেন্ট সম্পর্কে পড়ছি। কিন্তু আশাহত হলাম।যে কোনও পলিটিক্যাল ফিলোসফির (অন্য কথায় সোশ্যাল ফিলোসফি; আমার...
12/08/2026

কিছুদিন থেকে হানা আরেন্ট সম্পর্কে পড়ছি। কিন্তু আশাহত হলাম।

যে কোনও পলিটিক্যাল ফিলোসফির (অন্য কথায় সোশ্যাল ফিলোসফি; আমার ধারণা, এই দুইটা মূলত একই) মূল প্রশ্নই হলো নৈতিকতা বা ভ্যালু সংক্রান্ত সমস্যার মীমাংসা। হানার মধ্যে এই প্রশ্নেরই তেমন সিরিয়াস উত্তর দেওয়ার চেষ্টা নেই। সত্যি কথা বলতে কী, মিশেল ফুকোসহ কন্টিনেন্টাল ফিলোসফারদের অনেকের মধ্যেই এই প্রশ্নের উত্তর নেই, অথচ তারা রাজনীতি নিয়ে বলেই যাচ্ছেন।

সোজা ভাষায় বলতে গেলে একটা উদাহরণ দেওয়া যায়। গ্রামের অনেক মানুষ আছে যাদের কাজ কোন্দল বাঁধানো, কোন্দলের মীমাংসা করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। এদেরকে বলা হয় গ্রামের দেওয়ানি।

ব্যাপারটা এমন।

জাস্টিস (নৈতিকতা বা ভ্যালু সংক্রান্ত মীমাংসা) দুনিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের মধ্যে একটা। এবং পলিটিক্যাল ফিলোসফির যদি কোনো মূল্য থাকে তাহলে সেটা আছে এই প্রশ্নের জন্যই। এই প্রশ্নের উত্তর যাঁরা খুঁজেছেন, তাঁদের মধ্যে বিশ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, এখন পর্যন্ত আমার ধারণা, জন রলস।

02/07/2026

ক্যাটক্যাট ডাক্তার vs মঞ্জুভাষী ডাক্তার

অনেক ডাক্তারই দেখবেন মাঝেমধ্যেই ক্যাটক্যাট করে: এত দিন আনেন নাই কেন, কী বললেন ভালো করে বলেন, যখন সমস্যা ছিলো তখন আনলেন না কেন এখন তো কিছুই নাই, বললাম কী বুঝলেন কী ইত্যাদি।

আবার অনেকেই আছে রোগী বা রোগীর লোকজন আবোল-তাবোল যা-ই বলুক চুপচাপ খুব মন দিয়ে শুনে যায়, নিপাট নিরীহ।

যদি ভেবে থাকেন প্রথম দলের ডাক্তাররা সবাই মন্দ এবং দ্বিতীয় দলের সকলেই ভালো, তাহলে ভুল ভেবেছেন। অনেকেই আছে সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য খুবই মানসিক প্রেসার অনুভব করে, অপর্যাপ্ত উল্টাপাল্টা তথ্য পেলে তারা বিরক্ত হয়, ক্যাটক্যাট করে। অন্য দিকে অনেকেই আছে, ধুর বাল, ঠিক হোক না হোক, এত প্যাঁচ করার দরকার আছে, সুতরাং চুপচাপ শুনি।

11/02/2026
অটিজম: অসুখ না কি অসুখ নয়?এক.এই তর্কটা পশ্চিম দুনিয়ায় অনেক দিন ধরেই চলমান। এখন এই বিষয়টা প্রবেশ করেছে শিক্ষিত বাঙালি...
02/11/2025

অটিজম: অসুখ না কি অসুখ নয়?

এক.

এই তর্কটা পশ্চিম দুনিয়ায় অনেক দিন ধরেই চলমান। এখন এই বিষয়টা প্রবেশ করেছে শিক্ষিত বাঙালি মহলেও, তবে ঠিক তর্ক হিসাবে নয়, কিছু ছুটা মন্তব্য হিসাবে। এবং তর্কের গোড়ার বিষয়গুলো এখানে অনুপস্থিত।

* * *

ঠিক অটিজম নিয়েই নয়, তবে এই তর্কের অনুরূপ কিছু তর্কের সূচনা ষাটের দশকে। তত অর্গানাইজড ফ্যাশনে না হলেও, একই ধাঁচের কিছু চিন্তা এন্টিসাইকিয়াট্রি নামে পরিচিত। থমাস স্যাজ এবং মিশেল ফুকো ছিলেন এই ধাঁচের চিন্তার মূল দুইজন ব্যক্তি। তাঁদের প্রতিপাদ্য কী ছিলো এবং সাইকিয়াট্রির ঠিক কী জাতীয় সমস্যার প্রেক্ষিতে এসব প্রতিপাদ্যের সূচনা, সেসব বেশ দীর্ঘ বিষয়। বর্তমান আলোচনার জন্য সেসব জানা থাকা ভালো, তবে আমার ধৈর্য ও সময়ের স্বল্পতা হেতু সেসব আলোচনায় না গিয়ে অটিজম নিয়ে তর্কটার মূল কিছু পয়েন্ট বলা যাক।

* * *

অটিজমে কিছু কি ডিসএবিলিটি হয়? ধরা যাক, আপনি বললেন, এখানে সত্যিকার ডিসএবিলিটি কিছু হয় না, হয় কিছু 'আপাত ডিসএবিলিটি'। এমনকি ধরা যাক, আপনি ডিসএবিলিটিও বলতে চান না, বলতে চান অটিজমে 'আপাত অসুবিধা' কিছু হয়। যাই বলেন না কেন, কিছু যে হয় এটা অন্তত আপনাকে স্বীকার করতে হবে। নচেৎ, অটিজম নিয়ে তর্কের উপস্থাপনই অর্থহীন।

এখন, কিছু যে অসুবিধা হয় এটার প্রকৃতি কেমন?

দুই.

ধরা যাক, একজন মানুষের স্ট্রোক হলো। স্ট্রোকের কারণে তার ডান হাত ও পায়ে প্যারালাইসিস। স্পষ্ট যে মানুষটা এখন অনেক কাজই করতে সক্ষম নয়। আপনি কি এই মানুষটাকে ডিসএবলড বলতে রাজি আছেন? তার এই ডিসএবিলিটির কারণ কী? কারণটা মানুষটার মধ্যেই অবস্থিত, তার ব্রেইনের কিছু ড্যামেজ। এই যে ডিসএবিলিটি, যার কারণ মানুষটার মধ্যেই অবস্থিত হিসাবে আমরা ব্যাখ্যা করলাম, ব্যাখ্যার এই ধরনের নাম ডিসএবিলিটির মেডিকেল মডেল।

এবার ধরা যাক, বাংলা সাহিত্যের একজন শিক্ষকের কথা, যিনি তাঁর পেশায় খুবই সক্ষম। কিন্তু কোনো কারণে তিনি সাইবেরিয়ার একটা অঞ্চলে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হলেন, যেখানকার ভাষা তিনি জানেন না। এখন তিনি কি সেখানে আর শিক্ষকতা করতে পারবেন? আপনি কি এখন তাঁকে ডিসএবলড বলতে রাজি আছেন? যদি রাজি থাকেন, তাঁর এই ডিসএবিলিটির কারণ কী? কারণ তাঁর মধ্যে অবস্থিত নয়, অবস্থিত তিনি যে সমাজে এখন বাস করছেন সেই সমাজের মধ্যে। এই যে ডিসএবিলিটি, যার কারণ সমাজের মধ্যে অবস্থিত হিসাবে আমরা ব্যাখ্যা করলাম, ব্যাখ্যার এই ধরনের নাম ডিসএবিলিটির সামাজিক মডেল।

তিন.

অটিজমে যে ডিসএবিলিটি, বা ধরেন অসুবিধা, হয় তা কোন্ মডেল দিয়ে ব্যাখ্যাযোগ্য? যদি মেডিকেল মডেল দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারেন তাহলে এটাকে অসুখ বলা যেতে পারে, আর যদি সামাজিক মডেল দিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারেন তাহলে এটা অসুখ নয়। আরগুমেন্টের মূল রূপটা মোটামুটি এই।

মেডিকেল মডেলটা বিবেচনা করা যাক। আমরা এখনও ঠিক জানি না অটিজম ব্রেইন বা মনের ঠিক কী সমস্যার কারণে হয়। খুব সম্ভব, আমরা যদি অ্যাগজাক্ট কারণটা খুঁজে পাই, তখন নিঃসন্দেহে বলতে পারব যে অটিজম একটা অসুখ? না, তত সোজা আসলে নয়।

ধরা যাক, আমরা খুঁজে পেলাম apw নামক জিনের একটা পরিবর্তন বা এই নামের একটা মলিকুলের কারণে অটিজম হয়। আমরা কি এখন বলতে পারব অটিজম একটা অসুখ? ভেবে দেখেন, শরীরের সব জিন বা মলিকুল একইরকমের জিন বা মলিকুল, কোনোটার গায়ে লেখা নেই সে অসুস্থ। আমরা একটা জিন বা মলিকুলকে অসুস্থ বলি শুধু তখনই, যখন আমরা মানুষটার বাইরের অসুবিধাকে অসুখ বলতে রাজি থাকি।

ব্যাপারটা ক্লিয়ার করার জন্য অন্য একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরা যাক, বাঙালি একটা মেয়ে যার গায়ের রঙ কালো। এখন কালো রঙের জন্য দায়ী শরীরের কিছু মলিকুল ও জিন, এবং আমাদের সমাজে কালো রঙ কিছু অসুবিধাও তৈরি করে। সুতরাং কালো রঙ একটা অসুখ? খুব সম্ভব আপনি এখন যুক্তি দেখাবেন যে, এই অসুবিধা সমাজকর্তৃক আরোপিত, কাজেই অসুখ নয়, মলিকুল বা জিন চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও।

একই আরগুমেন্ট অটিজমের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আপনি বলতে পারেন অটিজমের অসুবিধাও সমাজকর্তৃক আরোপিত, সুতরাং এটা অসুখ নয়, apw নামক জিন বা মলিকুল চিহ্নিত হওয়া সত্ত্বেও।

সাধারণ মানুষ এবং ডাক্তারদের মধ্যে যাঁরা মেডিকেল সাইন্সের ফিলোসফি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন, তাঁদের মধ্যে একটা সরল ধারণা প্রচলিত আছে যে, কোনোকিছুকে অসুখ বলা যাবে কি না তা ক্লিয়ার হবে ব্যক্তির মধ্যে শারীরিক বা মানসিক কারণ অ্যাগজাক্টলি চিহ্নিত করা সম্ভব হলেই। এই ধারণা খুব সম্ভব ঠিক নয়। অ্যাগজাক্ট কারণ চিহ্নিত করার উপরে কোনোকিছুকে অসুখ বলা বা না বলা তেমন নির্ভর করে না।

তাহলে কারণ চিহ্নিত করার গুরুত্ব কী? গুরুত্ব হলো চিকিৎসা উদ্ভাবনের এবং একটা অসুখ থেকে আরেকটা অসুখ আলাদা করার ক্ষেত্রে। কিন্তু সমস্যা যদি হয় আরও গোড়ার প্রশ্ন, অসুখ বলা হবে কি না, তাহলে অ্যাগজাক্ট কারণের আবিষ্কার খুব হেল্পফুল নয়। মানসিক অসুবিধার ক্ষেত্রে এটা আরও বেশি প্রযোজ্য।

এবার ধরা যাক, অটিজমের কারণ হলো apw নামক জিন বা মলিকুল, এবং আমরা একটা ওষুধও আবিষ্কার করতে পেরেছি যা খেলে অটিজম ঠিক হয়ে যায়। এখন কি অটিজমকে অসুখ বলা যাবে? খুব সম্ভব এখনও যাবে না। একটা উদাহরণ কল্পনা করা যাক।

একজন মহিলার ব্রেস্ট তেমন উঁচু নয়। তিনি মনে করছেন যে তাঁর জন্য এটা অসুবিধার (ধরে নিন অসুবিধার বোধটা সমাজকর্তৃক আরোপিত)। তিনি সার্জারির মাধ্যমে ব্রেস্ট বড় করলেন। আপনি কি বলবেন, চিকিৎসা সম্ভব হলো বলেই ছোট ব্রেস্ট থাকা একটা অসুখ? খুব সম্ভব বলবেন না।

এভাবে আপনি যতক্ষণ অটিজমের অসুবিধাকে সমাজ-আরোপিত হওয়া সম্ভব মনে করবেন ততক্ষণ মেডিকেল মডেলের ফাঁক বের করা সম্ভব।

চার.

এই যে আমরা কারণ আবিষ্কার হওয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসা আবিষ্কার হওয়া পর্যন্ত, কল্পিত যদিও, অটিজমের অসুবিধার মেডিকেল মডেলকে উপেক্ষা করতে সক্ষম হলাম, কীসের জন্য? কারণ আমরা ধরে নিয়েছি অটিজমের অসুবিধা আসলে সমাজকর্তৃক আরোপিত। কিন্তু অটিজমের সামাজিক মডেল কি সত্যিই এতটা ভায়াবল যে এর জন্য মেডিকেল মডেলকে এতদূর পর্যন্ত উপেক্ষা করা যাবে? আপনিই সিদ্ধান্ত নিন, আমি শুধু সামাজিক মডেলটার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিই।

* * *

নব্বইয়ের দশকে নিউরোডাইভারসিটি নামক একটা সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু হয় (বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারভিত্তিক আন্দোলন নয় কিন্তু)। এর প্রপোনেন্টদের বক্তব্য, কালচারাল ডাইভারসিটির মতোই নিউরোডাইভারসিটিও একটা স্বাভাবিক ঘটনা। যাদেরকে আমরা নিউরোটিপিক্যাল (অন্য কথায় নরম্যাল) মানুষ মনে করি, তাদের মতোই অটিজমওলা মানুষরাও স্বাভাবিক। এবং তারা অন্যান্য মাইনরিটি গ্রুপের মতোই একটা মাইনরিটি গ্রুপ। অন্যান্য মাইনরিটি গ্রুপ যেমন সামাজিক ও রাজনৈতিক ইকুইটেবল এক্সেস থেকে বঞ্চিত, অটিজমওলা মানুষরাও একইভাবে বঞ্চিত। অটিজম নিজে থেকে অসুবিধাজনক নয়, অসুবিধা এখানে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সৃষ্ট। সামাজিক ও পলিসি লেভেলে পরিবর্তন আনলেই অটিজমের অসুবিধা আর থাকবে না, তারাও হবে এবলড, হয়ত আলাদাভাবে (ডিফারেন্টলি) এবলড। এখানে অটিজম কোনো অসুখ নয়, বরং অটিজম ব্যক্তির আইডেনটিটি, যেমন ইথনিসিটি একটা আইডেনটিটি।

অনেকেই হয়ত একমত হবেন যে, অটিজমের অসুবিধা যদি অল্প বা মাঝারি হয় তাহলে এই মডেল বেশ ভায়াবল। অন্তত সামাজিক ও পলিসি লেভেলে পরিবর্তন আনলে অনেককেই ভালো রাখা সম্ভব।

যেরকমই হোক না কেন, এই নিউরোডাইভারসিটি আন্দোলন পশ্চিমে বেশ পপুলার। তবে সাইকিয়াট্রিস্ট মহলে এই মডেল নিয়ে একাডেমিক্যালি তত উৎসাহ এখনও আসলে নেই।

পাঁচ.

শুরুর প্রশ্নে ফেরা যাক। অটিজম অসুখ না কি অসুখ নয়? আমি আসলে কোনো সিদ্ধান্ত দেব না, অথবা সিদ্ধান্ত নেওয়ার আসলে দরকার নেই। যেরকমই ভাবি না কেন, অটিজম নিয়ে যারা আছে তারা ভালো থাকুক, সেটা যেদিক থেকেই ভালো রাখা সম্ভব হয়।

যদি কোনোদিন ফলপ্রসূ চিকিৎসা বের হয়, মানুষ তখন শুধু সাইকিয়াট্রিস্টদের কাছেই যাবে, মেনে নেবে যে অটিজম একটা অসুখ। যদি কোনোদিন পলিসি মেকাররা এবং সমাজ সফল হয় অটিজমওলা মানুষদের ভালো রাখতে, মানুষ মেনে নেবে যে অটিজম আসলেই একটা স্বাভাবিক ডাইভারসিটি।

ততদিন আমরা কেবল অপেক্ষা করতে পারি।

(নোট: এটা বেশ আশ্চর্য যে, NHS-এর ওয়েবসাইটে অটিজম সম্পর্কে সরাসরি বলা হয়েছে, এটা কোনো অসুখ নয়। সত্য হচ্ছে, সাইকিয়াট্রির একাডেমিয়াতে এটা এখনও অসুখ হিসাবেই পরিগণিত। তাহলে NHS-এর ওয়েবসাইটে এটা বলা হলো কেন? খুব সম্ভব তাদের পলিসিমেকার লেভেলে নন-সাইকিয়াট্রিস্ট এমন কেউ আছেন যিনি নিউরোডাইভারসিটির প্রপোনেন্ট।)

18/08/2025

দুনিয়ার অদ্ভুততম অসুখের একটা হলো ইলনেস অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার। এই রোগীরা খুবই বোরিং এবং ফ্রাসট্রেটিং হয়ে থাকে। কখনও মনে হতে পারে এরা কি আসলে পাগল না কি অপদার্থ!

এসব রোগীর সিরিয়াস কোনো শারীরিক অসুখ বাস্তবে থাকে না, কিন্তু থাকে হলো অসুখ আছে এমন টেনশন। কিংবা শারীরিক সমস্যা যা আছে বাস্তবে সেটা অল্পই, কিন্তু টেনশন তার তুলনায় অনেক গুণ। সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং বিষয় হলো, তাদের শারীরিক সমস্যাগুলো প্রায়ই এমন হয় যেগুলো কোনো ডিফাইন্ড সিম্পটম ক্যাটেগরিতে পড়ে না। যেমন:

১. কানের সামনে গরম হয়, দপদপ করে।
২. কপালের এই জায়গায় ফুলে ওঠে।
৩. জিভে গরম ভাঁপ বের হয়।
৪. নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় কলিজার নিচে ফুলে ওঠে আর চাপ দিলে চুপসে যায়।

মনে হতে পারে, অশিক্ষিত মানুষ যাদের অসুখ সম্পর্কে ক্যাটেগরিক্যাল জ্ঞান নেই তাদেরই এই অসুখ হয়; কিন্তু সবসময় তেমন আসলে নয়।

এরা বারবার বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে যায়, কিন্তু সন্তুষ্ট হতে পারে না। বিভিন্ন টেস্ট করে, ভরসা পায় না। নিজের শরীর নিজে বারবার চেক করে এবং দিন যত যায় নতুন নতুন লক্ষণের জন্ম হয়। অসুখটা কিন্তু সাইকোটিক নয়।

এসব রোগীর চিকিৎসা করাও খুব কঠিনই। এবং অসুখটা যতই হাস্যকর মনে হোক, এর ফলাফল অনেক সময়ই হয় ভয়াবহ। দীর্ঘদিন-স্থায়ী টেনশন এবং এর জটিলতায় এদের অনেকের ব্যক্তি-কর্ম-পারিবারিক জীবন বিপর্যস্ত।

এসব রোগীর কেউ যখন ভালো হয়, মনে হয় মঙ্গলবিজয়ের আত্মপ্রসাদ অনুভব করলাম।

18/08/2025

মানসিক রোগীর হিস্ট্রি নেওয়ার সময় সবচেয়ে কঠিন পার্ট আমার মনে হয় দুইটা।

―উল্টাপাল্টা, অস্বাভাবিক, আজগুবি, অদ্ভুত কোনো কথা বলে বা আচরণ করে?
―আপনার কানের ভেতরে বা মাথার ভেতরে গোপনে কেউ কথা বলে? কোনো গায়েবি কথা বা আওয়াজ শোনেন?

প্রচুর মানুষ অস্বাভাবিক বা অদ্ভুত শব্দ দুইটার অর্থই বোঝে না। আজগুবি তার চেয়ে বেশি মানুষ বোঝে, উল্টাপাল্টা প্রায় সবাই বোঝে। কিন্তু কঠিন হলো, মানুষের উল্টাপাল্টার ধারণাকে সাইকিয়াট্রির উল্টাপাল্টার ধারণার মধ্যে ম্যাপিং করা, ফিট করা। এটার জন্য দরকার হয় ভার্বাটিম উদাহরণের। নচেৎ, ভুল হওয়া ওয়ান-টুয়ের ব্যাপারমাত্র।

―বিশ বছর বয়সী ছেলে রেগে গেলে বাবা-মায়ের গায়ে হাত তোলে। বোনকে মাগী বলে গালি দেয়। জিনিসপত্র ভাঙে। বাড়িতে লাফালাফি করে। আগেও অল্প অল্প এগুলো ছিলো, দুই বছর থেকে বেশি।
―বিশ বছর বয়সী এক মেয়ে সাত দিন থেকে মাঝেমধ্যেই বাবার সামনে এক লাইন দুই লাইন গান গায়, ভালো গানই। আগে গাইত না।

মানুষের কাছে প্রথমটাকে বেশি উল্টাপাল্টা মনে হলেও, এটা সাইকোটিক না-ও হতে পারে। সাইকোটিক হওয়ার সম্ভাবনা বেশি দ্বিতীয়টা।

দ্বিতীয় প্রসঙ্গটা আরেক ঝামেলা। মানুষ স্বপ্নে শোনা কথা, আশেপাশের বাস্তবের মানুষের কথা, মনে মনে মনোলগ, সবকিছুর সঙ্গে হ্যালুসিনেশনকে গুলিয়ে ফেলে। অনেকে প্রশ্নটাই বোঝে না।

বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ভাষায় প্রশ্ন করতে হয়, হ্যালুসিনেশনের কনসেপ্টটা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিতে হয়। তারপরেও অনেকের কাছে নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যায় না। একটা প্রশ্ন রেখে দিতে হয়।

12/08/2025

মানসিক সমস্যার জন্য পরামর্শ চেয়ে একটা গ্রুপে একজন পোস্ট করেছেন। তাঁর কিছু সমস্যা এরকম:

“আমার মনে হত ডাকাত আসবে তাই আমাকে পালাতে হবে।...রাত হলে, মনে হত খাটের নিচে কিছু আছে, আমার পা কেটে ফেলবে (এটা এখনো আছে)।...বাথরুমে গেলে মনে হত কেউ আমাকে জানালা দিয়ে দেখছে।...টর্চ জ্বালালে যেমন আলো হয় গোল, সেরকম একটা আলো দেখা শুরু করলাম।...আমি নিজে নিজে কথা বলি।...আমার সব সময় মনে হয় আমার সাথে কয়েকজন আছে। তারা সবসময় আমাকে দেখে।...আমার জীবনের অনেকটা সময় হুজুর, পীরের বাড়ি কেটেছে।...কাল রাতে অনেকটা সময় আমি ছেলেকে ধরতে পারিনি। কিছু একটা বাতাসের চাপ মত আটকায়ে ধরছিল।”

* * *

আমার পরামর্শ:

তিনি যতটুকু বলেছেন তার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ডায়াগনোসিস সম্ভব নয়। এসবের সঙ্গে যদি আরও কিছু থাকে তাহলে হয়ত নির্দিষ্ট ডায়াগনোসিস সম্ভব। তবে সবটুকু শোনার পরেও নির্দিষ্ট ডায়াগনোসিস সম্ভব নাও হতে পারে।

মানসিক অনেক সমস্যা আছে যেগুলো লক্ষ্মণ হিসাবে হাফ-ফর্মড, ক্যাটাগরি হিসাবে আনক্ল্যাসিফাইড, গুরুত্বের দিক থেকে বর্ডারিং টু ইভেন নরমাল। আলোচ্য রোগী যেসব বিবরণ দিয়েছেন সেগুলোও এরকম। এগুলোকে এমনকি বর্ডারিং টু নরমাল হিসাবেও দেখা সম্ভব হবে।

তিনি যতটুকু বলেছেন ততটুকু দিয়ে ভাবলে, এরকম বিশ্বাস আসলে ডিল্যুশন নয় এবং এরকম অনুভব হ্যালুসিনেশন নয়। এগুলোকে বলা যেতে পারে বিশ্বাসের কিছু অডিটি এবং পার্সেপশনের কিছু ডিস্টারবেন্স।

তবে চোখে আলো দেখাটাকে হ্যালুসিনেশন বলা গেলেও এটাকে তেমন গুরুত্বপুর্ণ কিছু মনে হয় না, এবং এটা চোখের সমস্যার কারণেও হতে পারে (ফ্লটার্স)।

জ্বিন বা আধিভৌতিক কোনাকিছু দিয়ে এসব ব্যাখ্যা করলে আমার মনে হয় না সেটা খুব হেল্পফুল হবে। অন্ধকার আরও কিছু অন্ধকারের জন্ম দেয়। কন্ট্রোলটা অদৃশ্য কোনোকিছুর হাতে না দিয়ে নিজের হাতে রাখাই ভালো।

সাইকিয়াট্রিস্ট দেখান, তবে এমন কাউকে দেখান যাঁর সাইকিয়াট্রির কনসেপচুয়াল ফাউন্ডেশন সম্পর্কে ধারণা ভালো।

আপনার ভালো থাকার একাধিক উপায়ই থাকতে পারে। এমনকি একটা উপায় হতে পারে সমস্যাগুলোকে নরমাল হিসাবে গ্রহণ করা। নরমাল হিসাবে গ্রহণ করা শুরু করলে একসময় এমনও হতে পারে এগুলোকে আর ডিস্টার্বিং মনে হচ্ছে না। তবে সেভাবে গ্রহণ করা যায় কি না বুঝতে হলে কমপ্লিট অ্যাসেসমেন্ট প্রয়োজন।

Address

Punarbhaba Diagnostic, Jora Bridge, Balubari
Dinajpur

Opening Hours

Monday 15:00 - 20:00
Wednesday 16:00 - 20:00
Thursday 15:00 - 20:00
Saturday 16:00 - 20:00
Sunday 15:00 - 20:00

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when ডা. জলধি নাথ রায় - সাইকিয়াট্রিস্ট posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share