Mohammad Neamat Hossain Ripon

Mohammad Neamat Hossain Ripon সভাপতি, বিসিএস হেলথ্ ক্যাডার এসোসিয়েশন
কেন্দ্রীয় কমিটি।
সহযোগী অধ্যাপক (নিওনেটোলজী)
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ

07/08/2026

ডা. জাহাঙ্গীর কবির নিয়ে ফেসবুক সরগরম। এই ব্যক্তি এমবিবিএস পাশ করার পর ফেনির কোন এক ক্লিনিকে ১২ বছর চাকরি করেছেন।

তারপর এলো YouTube যুগ। সুন্দর সুন্দর কথা বলে, মেডিকেল সায়েন্সকে নিয়ে গিয়েছে চকির তলায়।

পৃথিবীতে যত সায়েন্স আছে, মেডিকেল সায়েন্স হলো তারমধ্যে উন্নতম। একজন এমবিবিএস ডাক্তারের জানার সীমাবদ্ধতা আছে। তারমধ্যে উনি সীমার মাঝে অসীম করাপ্টেড ব্যক্তি।

#নীচে_কিছু_উদাহরণঃ

১) কিটো ডায়েটঃ এই ডায়েট মৃগীরোগের কোন ঔষধে যখন কন্ট্রোল করা যায় না - তখনই এই ডায়েট একটি উপায় হয়ে ধরা দেয়। সেই ডায়েট যা মৃগীরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়, তিনি তাকে ওজন কমানোর ডায়েট হিসাবে আবির্ভাব করেছেন। ভাবটা এমন এসম্পর্কে আর কোন চিকিৎসক কিছু জানে না।

এমবিবিএস একদম বেসিক ডিগ্রি। সবকিছুই শুধু বেসিকটুকু জানার সুযোগ থাকে এমবিবিএস'এ। কারণ এই সিলেবাস অনেক বিশাল।

ফলে এই ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে সে, চিকিৎসা বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। আর সম্ভব হয়েছে, সকল অল্প শিক্ষিত আর কিছু মাদ্রাসা মুরিদের জন্য।

শুধু এই ডায়েটের জন্য কত রোগীর ক্ষতি করেছে, তার হিসাব দেওয়া মুশকিল।

এমন এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে, দেশে প্রতারণা করার দায়ে তার বিরুদ্ধে বিএম&ডিসিতে মামলা হওয়া উচিৎ।

বাংলাদেশের বহু লোক আজও কলিকাতা হারবাল আর মঘা ইউনিয়নে লাইন দেয়। সেখানে জাহাঙ্গীর কবিরের কুশিক্ষায় কিছু মানুষ দৌঁড়াবে, তাই স্বাভাবিক।

২) লবণ ব্লাড প্রেসার বাড়ায়। পিংক সল্টে ৯৬%+ NaCl. আর এই NaCl এর কাজই হলো, শরীরে পানি ধরে রেখে প্রেসার বৃদ্ধি করে। গুগল একটি মজার জায়গা সেখানে আপনি যা চাইবেন,, তাই কেউ না কেউ লিখে রেখেছে। প্রশ্ন হলো লেখাগুলো কি অথেনটিক? এই অথেনটিক বুঝে পড়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিজের। ডা. জাহাঙ্গীর কবির প্রেসারের রোগীকে ভরা পেটে খাওয়া এবং প্রেসার কমানোর জন্য রেগুলার পিংক সল্ট খাওয়া উপদেশ দিয়ে থাকে। যার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিৎ। যে জানে না সল্ট প্রেসার বাড়ায়, তার অধিকার নাই, আর কোন মতামত দেওয়ার।

৩) FDA সরিষার তেল খেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেছে। এমনকি পাশের দেশ ভারতেও নিষেধ আছে। কারণ এর কম্পোজিশন। অথচ সে অধিক দামে ঘানি ভাঙা সরিষার তেল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, নিজেই ব্যবসা খুলে বসেছে। ভাবটা এমন ঘানিতে সরিষা ভাঙলে যে তেল তৈরি হয়, তাতে আর ক্ষতিকর উপাদান থাকে না। এমন মিথ্যা উপদেশ দেওয়ার দায়ে এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।

৪) নতুন নাকি কফি এনেমা আবিষ্কার করেছে। যে কোনমতে একটা এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে, ১২ বছর উপজেলায় ক্লিনিকে চাকরি করে কাটিয়েছে - আর জ্ঞানের যে অবস্থা - সে করবে আবিষ্কার?

৫) ডায়বেটিস দুই ধরনের। টাইপ ১ আর টাইপ ২। টাইপ ১ ডায়বেটিসে ইনসুলিন তৈরি করে যেসব কোষ, তা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এই ধরনের ডায়বেটিসে ইনসুলিনের কোন বিকল্প নাই। যা শরীরে হয়ই না - তা বাহির থেকে প্রয়োগ না করলে, এই ইনসুলিন কোথা থেকে আসবে? তিনি নাকি দুই ধরনের ডায়াবেটিসেই সরাসরি বলে, আর কোন ঔষধ বা ইনসুলিনের প্রয়োজন নাই। তার পরামর্শে চললেই নাকি টাইপ ১ ডায়াবেটিস ভাল হয়ে যাবে। এধরণের উপদেশ দিয়ে মানুষের ক্ষতি করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার দায়ে তাকে, ফৌজদারি আইনে মামলা করে জেলে পাঠানো উচিৎ। সরকার এখনই ব্যবস্থা না নিলে, দেশের বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেলবে। আর দেশের ক্ষতি মানেই, সরকারের উপর অতিরিক্ত বার্ডেন তৈরি।

৬) আজকাল নাকি টুথপেষ্ট, অলিভ অয়েল এমন হাজারো ব্যবসা নিয়ে গল্প ফেঁদেছে। প্রতারণা করে মানুষের কষ্টের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হওয়া উচিৎ।

৭) টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মর্ডান মেডিকেল চিকিৎসায়ও ডায়েট করা, হাঁটা এধরনের পরামর্শই প্রথমে দেওয়া হয়। সাধারণত টাইপ ২ তে ওজন কমালে ডায়বেটিস কন্ট্রোল হয়ে যায়। প্রতারণার একটা সীমা থাকে। মানুষকে টাইপ ১ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন বন্ধ করে, কত রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, তার হিসাব নাই।

এমন হাজার হাজার অনিয়মে সে এদেশে বিশাল ব্যক্তি সেজে বসেছে।

কিছুদিন ধরে দেখছি তার সাথে কেউ কেউ সরাসরি ডিবেট করতে চাচ্ছে। কি প্রয়োজন, এমন একজন প্রতারকের সাথে ডিবেট করার?

প্রতারকে দেশ ভরপুর। তাহলে কি মঘা বা কলিকাতা হার্বালের সাথেও ডিবেট করতে হবে??

একটা বিশাল উচ্ছৃঙ্খল মুরিদ গ্রুপ তৈরি করেছে। এদের কথাবার্তা শুনলে মনে হবে, মেডিকেল সায়েন্স পৃথিবীতে অনেক পেছানো, জাহাঙ্গীর কবিরই কিছুটা এই সায়েন্সের ভুল ধরে, রাস্তায় আনার চেষ্টা করছে।

কেউ কেউ (মুরিদ) তাকে নোবেল পুরষ্কার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অথচ এর কার্যকলাপের জন্য নোবেল তো দূরে থাকুক - বিজ্ঞানকে পায়ে ঠেলে দেওয়ার জন্য, এর দণ্ড নিশ্চিত করবে নোবেল কমিটি এতে কোন সন্দেহ নাই।

21/07/2026

#সচেতনতা_মূলক_পোস্টঃ (৩)

শরীরে তেল বিশেষ করে সরিষার তেল দেওয়া কি উপকারী?

প্রথমত শুষ্ক (Dry) চর্মে পেট্রোলিয়াম জেলি জাতীয় উপাদান ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার কিছু চর্মরোগে চিকিৎসক নিজেই এমন পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহারের উপদেশ দেন।

সমস্যা হলো দেশে জন্মের পরের দিন থেকেই সরিষার তেল লাগানো একটা বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মানুষের জৈবিক ক্রিয়ায় ঘাম একটি অতি প্রয়োজনীয় বিষয়। ঘাম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, গরমে ঘাম বেশি হয়ে তাপমাত্রা কমিয়ে রাখে, আবার শীতকালে ঠিক উল্টো কাজ করে। ঘাম কমে যায়।

তেল লোমকূপের ঘাম গ্রন্থি সাময়িক ভাবে হলেও বন্ধ করে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করে।

নবজাতকের জন্মের পর শুধুমাত্র একবার নাভীতে ৭.১% ক্লোরোহেক্সিডিন ব্যবহার করা হয়। যা এখন মোটামুটি সকল চিকিৎসক জানেন। কিন্তু তারপরে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় উপদেশটা দিতে ভুলে যান।

এরপর এই নাভীতে আর কোনকিছুই লাগানো বা ব্যবহার করা একদম নিষিদ্ধ। কিন্তু দিনের পর দিন এই নাভীতে সরিষার তেল লাগানো, সাথে কেউ কেউ ১-২ ফোঁটা করে ক্লোরোহেক্সিডিন ৩ বার ব্যবহার, গরম স্যাঁক দেওয়া, সিঁদুর লাগানো - এমন কোন অকাম নাই যা করেন না।

ফলশ্রুতিতে নাভী ভিজা থাকায়, সহজে শুকিয়ে পড়ে যায় না। আর পরবর্তী সমস্যা হিসাবে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় - Umbilical granuloma.

যার কারণে নাভীতে চিকিৎসক ইনটার্ভেনশন না দিল, জীবনেও স্বাভাবিক হবে না।

ফলে শরীরে খাঁটি হউক আর ঘানি ভাঙা (তা সবশেষে সরিষার তেলই হয়) তেল হউক, সচেতন ভাবে ব্যবহার পরিহার করুন।

আর চর্মের (শুষ্ক) সমস্যা থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ দেখান।

নবজাতকের জন্ম পরবর্তী যে রোগ হয়ে থাকে, তারমধ্যে আর যাই থাকুক, সর্দি-কাশি বলে কোন রোগের উপসর্গ নাই।

তাই জন্ম হতে ঠান্ডা কাশি নিয়ে জন্ম হয়েছে, তাই তেল শরীরে মাখাতে হবে, এই অপকর্ম থেকে দূরে থাকুন। নবজাতককে সুস্থ রাখুন।

(চলবে)

14/07/2026

#সচেতনতা_মূলক_পোস্টঃ (২)

যত দ্রুত সম্ভব, বাচ্চা জন্মের পর পর তরল খাবার হিসাবে মাকে গরুর দুধ খেতে দিন।

এদেশে প্রচলিত একটি ধারণা, সিজারের রোগীকে ৩ মাস গরুর দুধ দেওয়া নিষেধ। কারণ জিগ্যেস করলে, উত্তর দেয় - সিজারের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন হবে। তাই গরুর দুধ খেতে দেওয়া যাবে না।

উত্তরে জিজ্ঞেস করি, গরুর দুধ খেলে কি ক্ষতস্থান দিয়ে দুধ চুঁইয়ে পড়ে? সরাসরি উত্তর দেয় না।

দ্বিতীয় প্রশ্ন করি, গরুর দুধ কি, অপুষ্টকর খাবার? তারও উত্তর - না। যদি দু'টো উত্তরই না হয়, তাহলে কেন মাকে গরুর দুধ দেন না? বেশির ভাগ উত্তরে বলে, ডাক্তার না করেছে। আরেকটু ভালভাবে জিজ্ঞেস করলে, বুঝা যায়, স্বল্প শিক্ষিত নার্স নিষেধ করেছে।

গরুর দুধে Allergic Colitis হতে পারে বা কারো কারো Lactose intolerance থাকতে পারে। এমন অসুবিধা থাকলে, বাচ্চা জন্মের আগেই জানা থাকার কথা। সেক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারে।

কিন্তু বিষয়টি তা নয়। লোকজনের ধারণা গরুর দুধের কারণে সিজারের জায়গায় ইনফেকশন হবে! কি অদ্ভুত বিশ্বাস এদের। যদি কোন চিকিৎসকও এমন ধারণা পোষণ করে থাকনে, তাহলে আমার বলার কিছু নাই। ধারণা করি, অহেতুক চিকিৎসকের কথা বলে। এক্ষেত্রে বলতে পারি, শুধু চিকিৎসক হলেই হবে না, সাথে যথেষ্ট ভাল আই-কিউ থাকা আবশ্যক।

গরুর দুধে রয়েছে, প্রচুর ক্যালসিয়াম আর ফসফেট - যা বাচ্চার মায়ের শরীরের প্রয়োজনের পাশাপাশি নবজাতকের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে।

বেশির ভাগ Lactating মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোতে, শরীরে ক্যালসিয়াম, ফসফেটসহ বহু ভিটামিন, মিনারেলের ঘাটতি ঘটে। তার সাথে বাচ্চা প্রতিদিন ১-২ লিটার বুকের দুধ খাওয়ায় পানির স্বল্পতা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি সমস্যা যা মা, চিকিৎসককে বলে থাকেন - কষা (Constipation) আর শরীর চাবানো ব্যথা।

এর সহজ সমাধানের একটি হলো গরুর দুধ। যেমন ক্যালসিয়াম আর ফসফেটের ঘাটতি পূরণ করবে, তেমনই শরীরের প্রয়োজনীয় পানির কিছুটা অভাব মিটাবে।

ফলে Lactating মাকে প্রয়োজনীয় খাবারের দেড়গুণ বেশি খাবার খেতে হবে, তেমনই প্রথম দিন থেকেই গরুর দুধ যেন মায়ের প্রথম তরল খাবার হয়, তাও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ফলে কুসংস্কার থেকে বের হয়ে আসুন। গরুর দুধ কখনই ক্ষতস্থানে ইনফেকশন করে না। বরং পুষ্টিকর খাবার হওয়ায় এবং প্রচুর জলীয় অংশ থাকায়, ক্ষতস্থান তাড়াতাড়ি ভাল হবে আর কষা হতেও (পানির ঘাটতি পূরণ হওয়ায়) মুক্তি পাবেন। পাশাপাশি সকল খাবার, বিশেষ করে সবজি, ফলমূল বেশি করে খেতে দিন।

সকল মায়েরা ভাল থাকুক।🌹🧡🧡🧡🌹

(চলবে)

13/07/2026

#সচেতনতা_মূলক_পোস্টঃ (১)

বাড়িতে ডেলিভারিকে 'না' বলুন।

এখনো বাংলাদেশের ৬০% সন্তান বাড়িতে ডেলিভারি হয়। কারণ হিসাবে মুরুব্বিরা (মা/শাশুড়ী) যে উদাহরণ দেখান -

আমার এতগুলো বাচ্চা বাসায় হয়েছে, তেমন কিছুই তো হয়নি। বরং হাসপাতালে গেলে অহেতুক সিজার করবে। অথচ হয়তো তার ২-৩ টা সন্তান বেঁচে আছে, আর ৩-৪টি বাচ্চা প্রসব জটিলতায় মারা গিয়েছে।

সত্যটা হলো - এমন ঘটনা (সিজার) কিছু যে ঘটছে না, তাও নয়। তবে বেশির ভাগ ঘটনা ঘটে, প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে। আর সাধারণত এগুলো উপজেলা পর্যায়ের ক্লিনিকগুলোতে বেশি হয়ে থাকে।

সেখানে যারা নার্স সেজে আছে, তাদের কেউই ডিপ্লোমাধারী নার্স নন। একজন যোগ্য নার্সকে বেতন দিয়ে রাখার মত অবস্থা এদেশের ক্লিনিক, বিশেষ করে উপজেলায় নাই। বরং কিছু মহিলাকে এপ্রন পড়িয়ে নার্স হিসাবে উপস্থাপন করে থাকে।

হয়তো কারোই ডেলিভারি বিষয়ে কোন প্রশিক্ষণ নাই, এমনকি অনেকের ধারণাও নাই। এদের বেশির ভাগ মনে করে, টেনেহিঁচড়ে বাচ্চা বাহির করতে পারলেই, একে নরমাল ডেলিভারি বলে।

ফলে প্রসব বেদনার কিছুক্ষণ পরেই, হয়তো oxytocin মিশ্রিত স্যালাইন দিয়ে প্রসবকে তরান্বিত করে, নবজাতককে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

এরা হয়তো জানেই না - প্রথম প্রসবের সময়কাল প্রায় ১৮ ঘন্টা আর আগে বাচ্চা থাকলে ১২-১৪ ঘন্টা। এতদিনের অভিজ্ঞতায় প্রথম যা বুঝেছি, বাচ্চাকে মৃত্যু মুখে ঠেলে দেওয়ার প্রধান কারণ এই Oxytocin Saline.
অথচ সরকার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিপ্লোমা নার্সকে ৩ বছরের নরমাল ডেলিভারির প্রশিক্ষণ দিয়ে, নিয়োগ দিয়েছেন। এরা মিডওয়াইফ হিসাবে পরিচিত।

বর্তমান সময়ে যেকোন গ্রাম থেকে উপজেলা হাসপাতালে যেতে সর্বোচ্চ ২-৩ ঘন্টা সময় লাগে। ফলে প্রসব বেদনা উঠার পরও যথেষ্ট সময় থাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার।

কিন্তু বেশিরভাগ রোগীর অভিভাবক দালালের খপ্পরে পড়ে ক্লিনিকে ধাবিত হয়। দালালরা প্রথম যে উপায় অবলম্বন করে, তাহলো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সঠিক পাওয়া যায় না। সময়মত ডাক্তার, নার্স আসে না।

অথচ হাসপাতালে ২৪ ঘন্টা চিকিৎসক/নার্স কর্মরত থাকেন। শুধু তাই নয়, উচ্চতর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ সর্বক্ষণ ডিউটিতে থাকেন (প্রতি শিফটেই কেউ না কেউ থাকেন)।

অন্যদিকে এসএসসি ফেল বা স্বল্প শিক্ষিত কিছু মহিলা দিয়ে উপজেলা পর্যায়ের ক্লিনিক চলছে। যারা না থাকলে, নিশ্চিত অনেক নবজাতক অকালে প্রাণ হারাতো না।

বর্তমানে নতুন আরেকটি অভিযোগ বা অভিভাবকদের মত পাওয়া যায়। আর তাহলো নার্সই তো হাসপাতালে ডেলিভারি করাতো - তাকেই তো বাড়িতে নিয়ে এসে, ডেলিভারি করিয়েছি। তারপরও হাসপাতালে যাবে না।

অথচ বাস্তবতা ভিন্ন। আগেই বলেছি প্রসববেদনার সময়কাল। মায়ের প্রসববেদনা উঠলেই, তারা নার্স বাড়িতে নিয়ে হাজির করে। প্রশ্ন হলো এই ১২-১৮ ঘন্টা কোন নার্স বাড়িতে বসে থাকবে?

প্রশ্নই আসে না। সে বাড়িতে গিয়েই প্রথমেই যে অকাম করবে, তাহলো Oxytocin drip (Saline) আরম্ভ করবে। আর ফলশ্রুতিতে টেনেহিঁচড়ে Perinatal Asphyxia বানিয়ে, একটা পরিবার ধ্বংস করে দিবে।

ঠিক এই মা'ই যদি হাসপাতালে ডেলিভারি করাতেন, শিফট পরিবর্তনের কারণে এক নার্স চলে গেলে, আরেক নার্স এসে দায়িত্ব নিতেন মায়ের। ফলে বাচ্চারা নিশ্চিত ভাবে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যেতো। শুধু তাই নয়, এই মৃত্যু না হলেও, প্রতিবন্ধী বাচ্চা হয়ে একটা পরিবার যে ধ্বংস হয়ে যেতো, তা থেকেও দেশ মুক্তি পেতো।

দাদি/নানিরা অতীত যুগের মানুষ। তাই প্রতি বাবা-মাকে বলছি, নিজের দায়িত্ব নিজে নিতে শিখুন। ধ্বংস হলে, আপনারা শেষ হয়ে যাবেন। যদি বাচ্চা বেঁচেও যায় (HIE III হলে), অবশ্যই প্রতিবন্ধী বাচ্চা হবে।

এমন বাচ্চা পেলে মরার সময়ও শান্তিতে থাকতে পারবেন না। শুধু মনে হবে, মরে গেলে এই প্রতিবন্ধী বাচ্চা কে দেখবে?

তাই সময় থাকতে সচেতন হন। বাড়িতে ডেলিভারিকে ' #না' বলতে শিখুন। আর অবশ্যই সরকারি হাসপাতালে যাবেন। মনে রাখবেন সরকারি হাসপাতাল হয়তো পাঁচ তারকা হোটেল হবে না, কিন্তু নিশ্চিত থাকুন সঠিক চিকিৎসা পাবেন।

ভাল থাকুক সকল বাবা-মায়েরা। 🌹🧡🧡🧡🌹

Mohammad Neamat Ripon

(চলবে)

06/02/2026

Celebrating my 5th year on Facebook. Thank you for your continuing support. I could never have made it without you. 🙏🤗🎉

17/09/2023

#বাচ্চার_খাদ্য_রুচি_নাকি_অভ্যাস?

নবজাতক শিশু বিশেষজ্ঞ হিসাবে সবচেয়ে বেশি যেই অসুবিধার কথা শুনে থাকি --

বাচ্চার খাবারে রুচি নাই। একদম কিছু খেতে চায় না। অথচ তখনই হয়তো বাচ্চা চিপসের প্যাকেট হত চিপস বের করে বা দোকানের জুস নল দিয়ে টেনে খাচ্ছে।

তাহলে সমস্যা কোথায়??

সমস্যা হলো যখন মায়েরা খাবারকে রুচি মনে করে। অথচ খাবার একটি অভ্যাস।

Food কে Habit বলে, রুচি বলে না।

যখন বলি বাচ্চা তো এখনই চিপস খাচ্ছে। আবার কেউ চাইলেও একটুকরো দেয় না। তাহলে রুচি নাই বলছেন কেন??

পরবর্তী কথাই থাকে - বাহিরের খাবার খায়, শুধু বাসার খাবার খেতে চায় না। তখন মায়েদের জিজ্ঞেস করি - মা পৃথিবীতে এমন কোন ঔষধ আছে, যা দিলে চোর আর চুরি করবে না?

যদি মনে করেন, ঔষধ খেলেই চোর আর চুরি করবে না, তাহলেই শুধুৃমাত্র ঔষধ দিলে বাচ্চা আর বাহিরের খাবার না খেয়ে, বাসার খাবার খাবে।

অতএব যে অভ্যাস তৈরি করার দায়িত্ব বাবা-মায়ের, তা কেন চিকিৎসকের উপর চাপিয়ে দিচ্ছেন?

বরং অভ্যাস তৈরি করুন। পৃথিবীর কোন ঔষধ যদি রুচি বাড়ায়ও এই বাচ্চা অতিরিক্ত রুচির জন্য, আরো বেশি চিপস্, চকলেট, ফোসকা খাবে।

তাই দায়িত্ব নিতে শিখুন। আর অভ্যাস কখনই একদিনে গড়ে উঠে না। সময় দিন। ভিটামিন রুচি বাড়ানোর ঔষধ নয়। যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন, ততই আপনার জন্য মঙ্গল।

শেষে বলি - বাচ্চার দায়িত্ব, ক্ষুধা লাগলে খাবে। আর বাবা-মায়ের দায়িত্ব, বাচ্চা কি ধরনের খাবার খাবে, তা ঠিক করে দেওয়া।

বর্তমান পরিস্থিতিতে উল্টো ঘটনাই সকল সমস্যার কারণ। বাচ্চা ঠিক করে, কি খাবে? চিপস্, চকলেট নাকি আইসক্রিম।

আর ক্ষুদা লাগে বাবা-মাদের। সারাদিন একই দুশ্চিন্তায় থাকে - বাচ্চাতো কিছুই খেলো না। ফলে ২০-৩০ মিনিট পর পরই একটা খাবার নিয়ে বাচ্চার সামনে হাজির হয়। আর বাচ্চা খাবার দেখলেই চিল্লাচিল্লি করে। খেতে তো চায়ই না, সাথে জোর করার জন্য, বমি করে পরিস্থিতি আরো কঠিন করে তোলে।

বাচ্চার খাবারে গ্যাপ তৈরি করুন। ক্ষুধা বুঝতে দিন। বাচ্চার বাড়ির খাবারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। অকারণে নিজের দায়িত্ব চিকিৎসকের উপর চাপিয়ে দিবেন না।

ধন্যবাদ doctortv.net'কেhttps://www.doctortv.net/health-tips/382867
08/09/2023

ধন্যবাদ doctortv.net'কে

https://www.doctortv.net/health-tips/382867

বহুদিন একাডেমিক বিষয়ে কিছু লিখি না। তবে এবারের ডেঙ্গুর ভয়াবহতা এত বেশী, না লিখলে অন্যায় হবে। যা প্রথমেই বলা উচিৎ ড...

07/09/2023
আজকের শহীদুল্লাহ্ স্যার কর্তৃক আয়োজিত নবজাতক বিশেষজ্ঞদের মিলন মেলার কিছু খন্ড চিত্র। বিশেষ কারণে শেষ পর্যন্ত থাকতে পারি ...
05/09/2023

আজকের শহীদুল্লাহ্ স্যার কর্তৃক আয়োজিত নবজাতক বিশেষজ্ঞদের মিলন মেলার কিছু খন্ড চিত্র। বিশেষ কারণে শেষ পর্যন্ত থাকতে পারি নাই।

ভাল থাকুক সকল নবজাতক বিশেষজ্ঞ পরিবারের সদস্যরা।

মক্কায় চাকরি সুবাদে তায়েফ ভ্রমণ। অসাধারণ ছিল সেই আবহাওয়া। আধা ঘন্টার মধ্যে কমপক্ষে ৭-৮ বার মেঘে ঢেকে গিয়েছিলাম। একহাত দূ...
03/09/2023

মক্কায় চাকরি সুবাদে তায়েফ ভ্রমণ। অসাধারণ ছিল সেই আবহাওয়া। আধা ঘন্টার মধ্যে কমপক্ষে ৭-৮ বার মেঘে ঢেকে গিয়েছিলাম। একহাত দূরের বন্ধুদেরও দেখা যাচ্ছিল না।

মক্কায় তখন তাপমাত্রা প্রায় ৪০-৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অথচ তায়েফে সোয়েটার/ব্লেজার পড়তে হয়েছিল।

Address

Faridpur

Telephone

+8801938110280

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mohammad Neamat Hossain Ripon posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Mohammad Neamat Hossain Ripon:

Shortcuts

Share