07/08/2026
ডা. জাহাঙ্গীর কবির নিয়ে ফেসবুক সরগরম। এই ব্যক্তি এমবিবিএস পাশ করার পর ফেনির কোন এক ক্লিনিকে ১২ বছর চাকরি করেছেন।
তারপর এলো YouTube যুগ। সুন্দর সুন্দর কথা বলে, মেডিকেল সায়েন্সকে নিয়ে গিয়েছে চকির তলায়।
পৃথিবীতে যত সায়েন্স আছে, মেডিকেল সায়েন্স হলো তারমধ্যে উন্নতম। একজন এমবিবিএস ডাক্তারের জানার সীমাবদ্ধতা আছে। তারমধ্যে উনি সীমার মাঝে অসীম করাপ্টেড ব্যক্তি।
#নীচে_কিছু_উদাহরণঃ
১) কিটো ডায়েটঃ এই ডায়েট মৃগীরোগের কোন ঔষধে যখন কন্ট্রোল করা যায় না - তখনই এই ডায়েট একটি উপায় হয়ে ধরা দেয়। সেই ডায়েট যা মৃগীরোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়, তিনি তাকে ওজন কমানোর ডায়েট হিসাবে আবির্ভাব করেছেন। ভাবটা এমন এসম্পর্কে আর কোন চিকিৎসক কিছু জানে না।
এমবিবিএস একদম বেসিক ডিগ্রি। সবকিছুই শুধু বেসিকটুকু জানার সুযোগ থাকে এমবিবিএস'এ। কারণ এই সিলেবাস অনেক বিশাল।
ফলে এই ভাসা ভাসা জ্ঞান নিয়ে সে, চিকিৎসা বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। আর সম্ভব হয়েছে, সকল অল্প শিক্ষিত আর কিছু মাদ্রাসা মুরিদের জন্য।
শুধু এই ডায়েটের জন্য কত রোগীর ক্ষতি করেছে, তার হিসাব দেওয়া মুশকিল।
এমন এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে, দেশে প্রতারণা করার দায়ে তার বিরুদ্ধে বিএম&ডিসিতে মামলা হওয়া উচিৎ।
বাংলাদেশের বহু লোক আজও কলিকাতা হারবাল আর মঘা ইউনিয়নে লাইন দেয়। সেখানে জাহাঙ্গীর কবিরের কুশিক্ষায় কিছু মানুষ দৌঁড়াবে, তাই স্বাভাবিক।
২) লবণ ব্লাড প্রেসার বাড়ায়। পিংক সল্টে ৯৬%+ NaCl. আর এই NaCl এর কাজই হলো, শরীরে পানি ধরে রেখে প্রেসার বৃদ্ধি করে। গুগল একটি মজার জায়গা সেখানে আপনি যা চাইবেন,, তাই কেউ না কেউ লিখে রেখেছে। প্রশ্ন হলো লেখাগুলো কি অথেনটিক? এই অথেনটিক বুঝে পড়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ নিজের। ডা. জাহাঙ্গীর কবির প্রেসারের রোগীকে ভরা পেটে খাওয়া এবং প্রেসার কমানোর জন্য রেগুলার পিংক সল্ট খাওয়া উপদেশ দিয়ে থাকে। যার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা হওয়া উচিৎ। যে জানে না সল্ট প্রেসার বাড়ায়, তার অধিকার নাই, আর কোন মতামত দেওয়ার।
৩) FDA সরিষার তেল খেতে সম্পূর্ণ নিষেধ করেছে। এমনকি পাশের দেশ ভারতেও নিষেধ আছে। কারণ এর কম্পোজিশন। অথচ সে অধিক দামে ঘানি ভাঙা সরিষার তেল খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, নিজেই ব্যবসা খুলে বসেছে। ভাবটা এমন ঘানিতে সরিষা ভাঙলে যে তেল তৈরি হয়, তাতে আর ক্ষতিকর উপাদান থাকে না। এমন মিথ্যা উপদেশ দেওয়ার দায়ে এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।
৪) নতুন নাকি কফি এনেমা আবিষ্কার করেছে। যে কোনমতে একটা এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে, ১২ বছর উপজেলায় ক্লিনিকে চাকরি করে কাটিয়েছে - আর জ্ঞানের যে অবস্থা - সে করবে আবিষ্কার?
৫) ডায়বেটিস দুই ধরনের। টাইপ ১ আর টাইপ ২। টাইপ ১ ডায়বেটিসে ইনসুলিন তৈরি করে যেসব কোষ, তা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে এই ধরনের ডায়বেটিসে ইনসুলিনের কোন বিকল্প নাই। যা শরীরে হয়ই না - তা বাহির থেকে প্রয়োগ না করলে, এই ইনসুলিন কোথা থেকে আসবে? তিনি নাকি দুই ধরনের ডায়াবেটিসেই সরাসরি বলে, আর কোন ঔষধ বা ইনসুলিনের প্রয়োজন নাই। তার পরামর্শে চললেই নাকি টাইপ ১ ডায়াবেটিস ভাল হয়ে যাবে। এধরণের উপদেশ দিয়ে মানুষের ক্ষতি করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার দায়ে তাকে, ফৌজদারি আইনে মামলা করে জেলে পাঠানো উচিৎ। সরকার এখনই ব্যবস্থা না নিলে, দেশের বড় ধরনের ক্ষতি করে ফেলবে। আর দেশের ক্ষতি মানেই, সরকারের উপর অতিরিক্ত বার্ডেন তৈরি।
৬) আজকাল নাকি টুথপেষ্ট, অলিভ অয়েল এমন হাজারো ব্যবসা নিয়ে গল্প ফেঁদেছে। প্রতারণা করে মানুষের কষ্টের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে, তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হওয়া উচিৎ।
৭) টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মর্ডান মেডিকেল চিকিৎসায়ও ডায়েট করা, হাঁটা এধরনের পরামর্শই প্রথমে দেওয়া হয়। সাধারণত টাইপ ২ তে ওজন কমালে ডায়বেটিস কন্ট্রোল হয়ে যায়। প্রতারণার একটা সীমা থাকে। মানুষকে টাইপ ১ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন বন্ধ করে, কত রোগীকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, তার হিসাব নাই।
এমন হাজার হাজার অনিয়মে সে এদেশে বিশাল ব্যক্তি সেজে বসেছে।
কিছুদিন ধরে দেখছি তার সাথে কেউ কেউ সরাসরি ডিবেট করতে চাচ্ছে। কি প্রয়োজন, এমন একজন প্রতারকের সাথে ডিবেট করার?
প্রতারকে দেশ ভরপুর। তাহলে কি মঘা বা কলিকাতা হার্বালের সাথেও ডিবেট করতে হবে??
একটা বিশাল উচ্ছৃঙ্খল মুরিদ গ্রুপ তৈরি করেছে। এদের কথাবার্তা শুনলে মনে হবে, মেডিকেল সায়েন্স পৃথিবীতে অনেক পেছানো, জাহাঙ্গীর কবিরই কিছুটা এই সায়েন্সের ভুল ধরে, রাস্তায় আনার চেষ্টা করছে।
কেউ কেউ (মুরিদ) তাকে নোবেল পুরষ্কার দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অথচ এর কার্যকলাপের জন্য নোবেল তো দূরে থাকুক - বিজ্ঞানকে পায়ে ঠেলে দেওয়ার জন্য, এর দণ্ড নিশ্চিত করবে নোবেল কমিটি এতে কোন সন্দেহ নাই।