শিশু চিকিৎসক ডা. শাওন

শিশু চিকিৎসক ডা. শাওন “আর আমি যখন অসুস্থ হই, তখন তিনিই আমাকে সুস্থ করেন।”
(সূরা আশ শোয়ারা, ৮০)

21/07/2026

শিশুকে টিকা না দেয়া কোন গর্বের ব্যাপার না, আপনার শিশুকে টিকা দিন, সুস্থ রাখুন।

এক মা আমাকে সকালে রিপোর্টটা পাঠালেন।১৬ দিনের বাবু যার শরীরে কোন এন্টিবায়োটিক কাজ করছে না।কারণে পরে আসছি এই সময় গুলাতে আস...
20/07/2026

এক মা আমাকে সকালে রিপোর্টটা পাঠালেন।
১৬ দিনের বাবু যার শরীরে কোন এন্টিবায়োটিক কাজ করছে না।কারণে পরে আসছি এই সময় গুলাতে আসলে ডা: এর ও কিছু করার থাকেনা।
তাই শুধু বাচ্চা না বড়দের ও কিছু হলেই এন্টিবায়োটিক খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
যাতে আপনার বাচ্চার উপর এর ইফেক্ট না পড়ে।

Dr.Tajrina Rahman Jenny
Child specialist

18/07/2026

আমি: মা, বাবুর কি হয়েছে?

মা: স্যার বাচ্চার রক্তে বিষ আছে!!!

14/07/2026

🧬 জন্মগত ইচথিওসিস (Congenital Ichthyosis): মাছের আঁশের মতো ত্বক এবং আমাদের সামাজিক সচেতনতা 🧬

​আমাদের চারপাশে এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের ত্বক সাধারণ মানুষের মতো মসৃণ নয়। বিশেষ করে কিছু শিশুর জন্মের পর থেকেই পুরো শরীর শুষ্ক, খসখসে এবং মাছের আঁশের মতো শক্ত চামড়ায় ঢেকে যায়। এই বিরল জিনগত চর্মরোগটির নামই হলো 'কনজেনিটাল ইচথিওসিস' (Congenital Ichthyosis)।

​গ্রিক শব্দ 'ইচথি' (Ichthy) মানে মাছ। এই রোগে আক্রান্তদের ত্বক দেখতে অনেকটা মাছের আঁশের মতো দেখায় বলেই চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই নামকরণ।

​🔴 এটি কেন হয়?
এটি কোনো ইনফেকশন বা নোংরা থাকার কারণে হয় না। এটি সম্পূর্ণ একটি জিনগত বা বংশগত (Genetic) রোগ। বাবা-মায়ের জিনে ত্রুটি থাকলে শিশুর এই সমস্যা নিয়ে জন্ম হতে পারে।

​⚠️ সবচেয়ে জরুরি কথা: এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়!
অনেকেই এই রোগে আক্রান্ত শিশু বা মানুষকে দেখলে ভয় পান, দূরে সরে যান কিংবা মনে করেন এটি ছোঁয়াচে। দয়া করে এই ভুল ধারণা থেকে বেরিয়ে আসুন। আক্রান্ত রোগীকে স্পর্শ করলে বা তাদের সাথে মেলামেশা করলে এই রোগ অন্য কারও শরীরে ছড়ায় না।

​💔 আক্রান্ত ব্যক্তিদের কষ্টগুলো কেমন হয়?

​চরম শুষ্কতা ও চুলকানি: ত্বক এতটাই শুষ্ক হয়ে যায় যে সেখানে তীব্র চুলকানি ও জ্বালাপোড়া হয়।
​ত্বক ফেটে যাওয়া: চামড়া ফেটে রক্ত বের হতে পারে, যা অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক।
​ইনফেকশনের ঝুঁকি: ফেটে যাওয়া চামড়ার ফাঁক দিয়ে সহজেই ব্যাক্টেরিয়া ঢুকে ইনফেকশন হতে পারে।
​ঘাম না হওয়া: অনেক সময় ত্বক অতিরিক্ত পুরু হওয়ার কারণে ঘামগ্রন্থি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে গরমে শরীর ঠান্ডা হতে পারে না এবং আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন।

​🩹 নিয়ন্ত্রণ ও যত্নের উপায়:
ইচথিওসিস পুরোপুরি নিরাময় করার মতো কোনো স্থায়ী ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি। তবে সঠিক যত্ন ও চিকিৎসার মাধ্যমে এটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব:
​১. অতিরিক্ত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার: সাধারণ ক্রিমের চেয়ে ঘন পেট্রোলিয়াম জেলি বা ভারী ময়েশ্চারাইজার দিনে কয়েকবার পুরো শরীরে লাগাতে হবে (বিশেষ করে গোসলের পর ত্বক হালকা ভেজা থাকতেই)।
২. হালকা গরম পানিতে গোসল: খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না। গোসলের পানিতে সামান্য ইমোলিয়েন্ট বা ওটমিল মিশিয়ে নিলে ত্বক নরম থাকে।
৩. কোমল সাবান: ক্ষারহীন, মাইল্ড বা গ্লিসারিনযুক্ত সাবান ব্যবহার করতে হবে।
৪. হাইড্রেশন: প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খেতে হবে।
৫. অভিজ্ঞ চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ: চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ল্যাকটিক অ্যাসিড, ইউরিয়া বা স্যালিসিলিক অ্যাসিডযুক্ত বিশেষ ক্রিম ব্যবহার করতে হবে।

​🤝 আমাদের করণীয়:
ইচথিওসিসে আক্রান্ত রোগীরা শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি তীব্র মানসিক ও সামাজিক ট্রমার মধ্য দিয়ে যান। স্কুল, কলেজ বা কর্মক্ষেত্রে তাদের অবহেলা না করে সহানুভূতিশীল হোন। আপনার একটু সহানুভূতি এবং সুন্দর ব্যবহার একটি শিশুর মুখে হাসি ফোটাতে পারে। ❤️
​আসুন, সচেতনতা ছড়াই, কুসংস্কার দূর করি!

​ #ইচথিওসিস #চর্মরোগ #সচেতনতা

NB: Video credit gies to it’s original owner.

14/07/2026

একসময় যে অসুখগুলোতে ছিল নিশ্চিত মৃত্যু, চিকিৎসার কথাও মানুষ চিন্তা করতে পারতো না, মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ সেগুলোতেও অত্যন্ত সফলভাবে অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে! ❤️

​চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অবিশ্বাস্য অগ্রগতি এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। 🧬

​📌 ফুসফুসের টিউমার: কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই অপারেশন!

এখন ফুসফুসের টিউমার অপসারণের জন্য পুরো বুক কাটার প্রয়োজন হয় না। আধুনিক মেশিনের সাহায্যে (Minimal Invasive/Interventional Procedure) কোনো কাটাছেঁড়া ছাড়াই এই জটিল অপারেশন করা হচ্ছে।
​এই অসাধারণ এবং দৃষ্টান্তমূলক কাজটি সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল (Khwaja Yunus Ali Medical College & Hospital)-এর বিশিষ্ট ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজিস্ট ডা. সাফায়েত আহমেদ (Dr. Safayet Ahmmed) স্যার। স্যারের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা! 🙏✨

​📌 নিওরোসার্জারিতে নতুন দিগন্ত: ব্রেইন অপারেশন
শুধু ফুসফুস-ই নয়, ব্রেইনের মতো অতি সংবেদনশীল অংশের অপারেশনেও এসেছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। ব্রেইনের কোনো ক্ষতি না করে, বিভিন্ন 'ন্যাচারাল করিডর' (Natural Corridors) ব্যবহার করে এখন অত্যন্ত নিখুঁত ও নিরাপদভাবে অনেক জটিল অপারেশন সম্পন্ন করা হচ্ছে।

🧠 বিজ্ঞানের এই জয়যাত্রা সত্যিই আমাদের আশান্বিত করে।
​চিকিৎসা সেবার এই উৎকর্ষতা প্রতিটি মানুষের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে আসুক। 🤲

14/07/2026

নবজাতকের শরীর মোচড়ানো, পেট ফাঁপা কিংবা তথাকথিত গ্যাসের সমস্যায় আমরা কতই না দুশ্চিন্তা করি! কিন্তু সত্যি বলতে, এসব সমস্যার জন্য প্রচলিত কোনো ওষুধই চিকিৎসাবিজ্ঞান অনুযায়ী শতভাগ কার্যকরী নয়।
​আমাদের দেশে বহুল ব্যবহৃত ড্রপ সিমেথিকন (যেমন: ফ্লাকল, গ্যাসনিল, সিমিকন ইত্যাদি) আসলে গ্যাসের সমস্যায় কতটা উপকারে আসে, তা নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। কিছু ক্ষেত্রে প্রোবায়োটিক কাজ করলেও, তা সবার জন্য সমান কার্যকরী নয়।
​তাহলে মূল কারণগুলো কী?
১. অ্যারোফেজিয়া (Aerophagia): দুধ খাওয়ার সময় শিশুর পেটে বাতাস ঢুকে যাওয়া।
২. DBGI (Disordered Brain-Gut Interaction): শিশুর মস্তিষ্ক ও পরিপাকতন্ত্রের মধ্যকার সমন্বয়ের ঘাটতি, যা বয়সের সাথে ঠিক হয়ে যায়।
৩. ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স: কিছু শিশুর ক্ষেত্রে দুধের শর্করা হজমে সমস্যা হওয়া।
​বাচ্চার অনবরত কান্না আর অস্বস্তি দেখে মায়েরা ও পরিবার চরম হতাশায় ভোগেন। কিন্তু মনে রাখবেন, শত সাবধান হলেও দুধ খাওয়ার সময় শিশু কিছুটা বাতাস গিলবেই। এই জমে থাকা বাতাস বের করার দুটি দারুণ উপায় হলো:
​শিশুকে নিয়মমতো ঢেকুর তোলানো।
​পেটের কিছু বিশেষ ব্যায়াম করানো (যা ভিডিওতে দেখানো হয়েছে)।
​আশা করি, এই নিয়মগুলো মেনে চললে নতুন মায়েরা ও পরিবার উপকৃত হবেন। তথ্যটি শেয়ার করে অন্যদেরও জানার সুযোগ করে দিন!

১৯৯৫/৯৬ সাল।উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স,জকিগঞ্জ এ চাকুরির প্রথম পোস্টিং। আউটডোরে রোগী দেখার সময় নিজেকে বিশ্বের একমাত্র বি...
13/07/2026

১৯৯৫/৯৬ সাল।
উপজেলা স্বাস্হ্য কমপ্লেক্স,জকিগঞ্জ এ চাকুরির প্রথম পোস্টিং।
আউটডোরে রোগী দেখার সময় নিজেকে বিশ্বের একমাত্র বিপ্লবী মানবসেবক মনে হতো তখন।

সেই বিপ্লবী আবেগ নিয়ে সকাল ৮টায় অফিসে গিয়ে আবার ফিরে আসতাম কোয়ার্টারে। কারণ, অফিসটাইম সর্বত্র সমানভাবে কাজ করেনা। অত সকালে বহির্বিভাগ খোলা হতোনা তখন। তাই, দ্বিতীয় দফায় আসতাম সাড়ে আটটা নাগাদ।

জকিগঞ্জ তখন খুবই দুর্গম এলাকা। অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে পড়া অঞ্চল। কুশিয়ারা নদীর একপাশে জকিগঞ্জ, অন্যপাশে ভারতের করিমগঞ্জ।
শিক্ষার হার তখন যথেষ্ট কম ছিল জকিগঞ্জ। তবে, ধর্মীয় অনুভূতি ছিল প্রবল। ৭/৮ বছরের শিশুদের কেও বোরকা পড়তে দেখতাম।

প্রতিদিন আউটডোর উপচে পড়া ভীড়। সেই ভীড়ের মাঝে প্রতি সপ্তাহে তিন/চারদিন আসতেন এক বৃদ্ধ। বয়স ৬০-৭০ এর মাঝামাঝি হবে। তার কোমর ব্যাথাআসহ নানারকম ব্যাথা ছিল প্রধান সমস্যা। এর বাইরে আরও অনেক কিছু। আমি ধৈর্যের সাথে প্রতিদিন শুনতাম। দেখতাম। ওষুধ লিখে দিতাম। অনেক ওষুধই তখন সাপ্লাই কম হতো। বাজেট ছিল কম।

তো সেই বৃদ্ধ চাচা হাসপাতাল থেকে পাওয়া ওষুধ নিয়ে আবার আমার কাছে আসতেন। অন্যান্য ওষুধ কেনার সামর্থ্য নাই। বিপ্লবী আমি তখন আমার টেবিলের ড্রয়ারে ওষুধ কোম্পানির রেখে যাওয়া স্যাম্পল ঘেঁটে তাকে ওষুধ দিয়ে দিতাম যেটুকু পারা যায়।

ওষুধ পেয়ে দাড়িয়ে থাকতেন। স্হানীয় ভাষায় বলতেন, বেদনার লাগি গাতনি দেওকা আমারে। গাতনি মানে ইনজেক্টেবল। আমি নিরবে খুঁজে খুঁজে কখনোও ডাইক্লোফেনাক, কখনও অন্য কিছু দিতাম।

একদিন কাজের ব্যাস্ততা ছিল খুব। সেই ভদ্রলোক আসলেন। অন্যান্য ব্যাবস্হা দিয়ে গাতনির প্রশ্নে জানালাম যে, গাতনি নাই। আবার যখন পাবো, তখন দিব। বলে আমি অন্য রোগী নিয়ে ব্যাস্ত হয়ে পড়লাম। সেদিন আবার আমার জরুরী বিভাগের দায়িত্বও ছিল।

বহির্বিভাগের রুম থেকে বেরিয়ে জরুরী বিভাগে রোগী দেখতে যাচ্ছি। হাসপাতালের নীচে বেশ কয়েকজনের ভীড়ের মঝখানে কে যেন চিৎকার চেঁচামেচি করছে।
এগিয়ে গেলাম সেদিকে। দেখলাম,সেই বৃদ্ধকে কেন্দ্র করে ভিড় জমেছে। বৃদ্ধ চেঁচিয়ে বলছে, ডাক্তর হকল চুর। সরকার আমরার লাগি ওষুদ দেইন। ডাক্তর হকলে বেচিয়া খাইলায়....... ইত্যাদি।

আমার বিপ্লবী মন হঠাৎ বিদ্রোহী হয়ে আরেকটু এগিয়ে বৃদ্ধকে কিছু বলবো ভেবে পরক্ষণেই থেমে গেলাম। বিদ্রোহী মনকে শান্ত করে জরুরী বিভাগে গিয়ে রোগী দেখায় মন দিলাম। কিন্তু, ঘটনাটা মনে প্রচন্ড দাগ কেটে রইলো।

আমি একাকী প্রায়শই ঘটনাটা মনে করি আর ভাবি। একজন মানুষকে প্রায় টানা তিন মাস তার সব ওষুধই আমি সরবরাহ করতে চেষ্টা করেছি। একদিন শুধু একটা ইঞ্জেক্টেবল দিতে না পারায় সে কত অবলীলায় চিকিৎসককে চোর বানিয়ে ফেললো।

আসলে মানুষের মন, মনের গতিপথ খুবই বিচিত্র। স্রষ্টা ব্যতিত আর কারো পক্ষেই তা সঠিক অনুধাবন অসম্ভব।

জয় হোক বিপ্লবের।

ডা. এসএএ শাফী

পাশের বাড়ির রোগীর সাথে তুলনা বন্ধ করুন, চিকিৎসকের কথা শুনুন!​ক্যান্সার চিকিৎসায় আমাদের প্রতিদিন এমন অসংখ্য রোগীর মুখোমুখ...
13/07/2026

পাশের বাড়ির রোগীর সাথে তুলনা বন্ধ করুন, চিকিৎসকের কথা শুনুন!
​ক্যান্সার চিকিৎসায় আমাদের প্রতিদিন এমন অসংখ্য রোগীর মুখোমুখি হতে হয়, যারা নিজের রোগকে পাশের বাড়ির কোনো রোগীর লক্ষণের সাথে তুলনা করে জীবনের চরম ঝুঁকি ডেকে আনেন।
এমন কয়েকটি বাস্তব ও নির্মম ঘটনা আপনাদের সাথে শেয়ার করছি:
​🛑 ঘটনা ১: অবহেলা ও ভুল চিকিৎসা
​এক নারী রোগীর ব্রেস্টে টিউমার হয়েছিল। তিনি দীর্ঘ ১ বছর ধরে হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেয়েছেন। কারণ? পাশের বাসার এক নারীর নাকি এমন টিউমার ছিল এবং তিনি হোমিওপ্যাথি খেয়ে ভালো হয়েছেন।
​বাস্তবতা: ব্রেস্ট টিউমার সাধারণত দুই রকমের হয়—
​বেনাইন বা ভালো টিউমার: যেমন ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা বা ফাইব্রোসিস্টিক ডিজিজ। এগুলোতে চিকিৎসা না করলেও রোগী দীর্ঘদিন স্বাভাবিক থাকতে পারেন। সম্ভবত পাশের বাসার রোগীর সেটিই ছিল।
​ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যান্সার : এই রোগীর ক্ষেত্রে টিউমারটি আসলে ক্যান্সার ছিল। ভুল ধারণার পেছনে ছুটে আজ ২ বছর পর ক্যান্সারটি তার লিভার ও ফুসফুসে ছড়িয়ে পড়েছে। স্তনের টিউমারটি বিশাল আকার ধারণ করে সেখান থেকে পুঁজ পড়ছে।
​🛑 ঘটনা ২: অপারেশন না করা
​দ্বিতীয় এক রোগী কেমোথেরাপি নেওয়ার পর তার টিউমারটি ছোট হয়ে আসে। এরপর তাকে অপারেশনের পরামর্শ দেওয়া হলে তিনি তা করেননি। তার যুক্তি—পাশের বাসার অমুক রোগীর তো অপারেশন লাগেনি, সে তো ভালো আছে!
​বাস্তবতা: ক্যান্সার যদি একদম শেষ পর্যায়ে (Last Stage) থাকে, তখন অনেক সময় আমরা অপারেশন করি না। পাশের বাসার রোগীর হয়তো সেই অবস্থা ছিল। কিন্তু এই রোগীর ক্যান্সার ছিল আর্লি স্টেজে (Early Stage), যেখানে অপারেশন করাটা বাধ্যতামূলক ছিল। ফলাফল? ৬ মাস পর তিনি স্তনে বিশাল আকারের টিউমার এবং পুঁজ পড়ার সমস্যা নিয়ে আবার ফিরে এসেছেন।
​🛑 ঘটনা ৩: রেডিওথেরাপি না দেওয়া
​তৃতীয় এক রোগী কেমোথেরাপি শেষ করার পর আর রেডিওথেরাপি নেননি। কারণ, পাশের বাসার রোগীর নাকি রেডিওথেরাপি লাগেনি।
​বাস্তবতা: আর্লি স্টেজের কিছু ক্যান্সারে অপারেশনের পর শুধু কেমোথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে, রেডিওথেরাপি নাও লাগতে পারে। কিন্তু এই রোগীর ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত জরুরি ছিল। চিকিৎসকের পরামর্শ না মেনে বসে থাকার মাত্র ৬ মাসের মাথায় অপারেশনের জায়গায় ক্যান্সার আবার ফিরে এসেছে।
​🛑 ঘটনা ৪: সাইকেল সংখ্যা নিয়ে অযথা আতঙ্ক
​অনেকের ধারণা, পাশের বাসার রোগীকে ৮টা কেমোথেরাপির সাইকেল দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তাকে কেন ১৭টা দেওয়া হলো? রোগী ভাবছেন তার ক্যান্সার হয়তো আর সারবেই না!
​বাস্তবতা: সাধারণত কেমোথেরাপি ৮টি সাইকেল দেওয়া হলেও, কোনো রোগীর যদি HER2 (হার্ট-টু) পজিটিভ ডিজিজ থাকে, তবে তাকে টোপোগ্রাফিক/টার্গেটেড থেরাপি (Trastuzumab) ১৭টি সাইকেল পর্যন্ত দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এটি ক্যান্সার পুরোপুরি নির্মূল করার জন্যই দেওয়া হয়, ভয়ের কিছু নেই।
​মনে রাখুন: ক্যান্সারের চিকিৎসা সবার জন্য এক নয়!
​ক্যান্সারের চিকিৎসা কখনো পাশের বাসার রোগীর প্রেসক্রিপশন দেখে বা তুলনা করে হয় না। ব্রেস্ট ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর:
​ক্যান্সারের স্টেজ (Stage) এবং গ্রেড (Grade)
​রোগীর বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতা
​ইমিউনোহিস্টোকেমিস্ট্রি (IHC) রিপোর্ট—যেমন ER, PR এবং HER2 স্ট্যাটাস।
​ক্যান্সারের চিকিৎসায় অপারেশন, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি এবং হরমোন থেরাপি রয়েছে। কার কোন থেরাপি লাগবে, কয়টি সাইকেল লাগবে এবং কোনটি আগে বা পরে লাগবে—এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেবল একজন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ (Oncologist) রোগীর রিপোর্ট পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করতে পারেন।
​সতর্কবার্তা:
পাশের বাসার রোগীর সাথে তুলনা করে নিজের সর্বনাশ ডেকে আনবেন না। নিজে নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া বা চিকিৎসা বন্ধ করা বন্ধ করুন। যেকোনো সমস্যা বা জিজ্ঞাসায় সরাসরি আপনার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন
ডাঃ মনি রানী
ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ
রেডিওথেরাপি বিভাগ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রংপুর
চেম্বার রংপুর স্পেশালাইজড হাসপাতাল

যে জায়গা টা দেখতে পাচ্ছেন, এটা ঢাকা মেডিকেলের কোন ওয়ার্ড না। এটা Lift এর সামনের Common space. মানে দুধ যেমন উতলায় উঠে জা...
09/07/2026

যে জায়গা টা দেখতে পাচ্ছেন, এটা ঢাকা মেডিকেলের কোন ওয়ার্ড না। এটা Lift এর সামনের Common space.
মানে দুধ যেমন উতলায় উঠে জাল দিলে।এটা এমন ই এক জায়গা ঢাকা মেডিকেলে ঠিক তেমন রোগীর Overflow হয়। আমি সিড়িতেও রোগী দেখেছি। ২-১ বছর আগে FCPS medicine পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের জন্য যুক্তরাজ্য থেকে কয়েকজন প্রফেসর আসেন।
তিনি ঢাকা মেডিকেলের Lift এর সামনে এমন অবস্থা দেখে চমকে উঠেন, এক রোগীকে দেখিয়ে আমাদের প্রফেসর কে বলেন।
👨‍⚕️: whats the problem with this patient ?
👨🏻‍⚕️: This patient was suffering from Uro sepsis. ( মানে প্রশাবের ইনফেকশন পুরো শরীরে ছড়িতে পরেছে)
👨‍⚕️: O my god! This patient needed ICU support. Why is he on this stair case? ( তার ICU support দরকার, সিড়ির এখানে কেন?)
👨🏻‍⚕️: Because we dont have enough ICU facilities ( কারন আমাদের পরিমিত ICU সুবিধা নেই)
👨‍⚕️ : But this is a case of high mortality. Patient may get worse. Do they really live? ( কিন্তু এই রোগীর মরার সম্ভাবনা অনেক বেশি,যেকোন সময় খারাপ হয়ে যাবে।এরা কি আসলেই বাচে? )

👨🏻‍⚕️: Dont be surprised professor . We have discharged a same case yesterday who was lying just beside him. ( একটু হেসে, অবাক হবার কিছু নাই, আমরা একটা Same case সুস্থ করে বাড়িতেও পাঠিয়ে দিয়েছি, সে এই রোগীর ই পাশে বিছানা পেতে ছিলো।)
স্যারের ভাষ্যমতে এই কথা শুনে British professor এর চোখ ছানাবড়া হয়ে গিয়েছিলো।কিছু সময় নিয়ে সে একটা কথাই জাস্ট বলতে পেরেছে।

👨‍⚕️:How come professor!! ( কিভাবে সম্ভব!!)

👨🏻‍⚕️: Bcz this is not London , This is Bangladesh sir!!

#ডাঃসওগাত_এহসান
গত বছরের পোস্ট

🛑 শিশুর খাবারে লবণ কি আসলেই নিষিদ্ধ? জেনে নিন সঠিক তথ্য!​গত ২-৩ বছর ধরে একটা অদ্ভুত ট্রেন্ড লক্ষ্য করছি—অনেক মা শিশুর এক...
08/07/2026

🛑 শিশুর খাবারে লবণ কি আসলেই নিষিদ্ধ? জেনে নিন সঠিক তথ্য!

​গত ২-৩ বছর ধরে একটা অদ্ভুত ট্রেন্ড লক্ষ্য করছি—অনেক মা শিশুর এক বছর বয়স না হওয়া পর্যন্ত পরিপূরক খাবারে (Complementary Food) একদমই কোনো লবণ যোগ করছেন না। এমনকি অনেকে বলছেন, ৬ মাস পর যখন শিশুর বাড়তি খাবার শুরু হয়, তখন নাকি লবণ দেওয়া যাবেই না!

​আসলে কি তাই? উত্তর হচ্ছে: না, এই ধারণাটি সঠিক নয়। 🛑

​❌ ভুল ধারণার ফলাফল:

লবণ ছাড়া একদম স্বাদহীন খাবার দেওয়ার ফলে শিশুরা খাবার খেতে চায় না। আর শেষ পর্যন্ত মা-বাবাকে জোর করে খাওনোর মতো একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে হয়।

​⚠️ তথাকথিত ভাইরাল তথ্যের ফাঁদ:

দুঃখজনকভাবে, কিছু চিকিৎসকও আজকাল একই পরামর্শ দিয়ে থাকেন। আমি যখন জানার চেষ্টা করলাম যে এই ধারণার উৎস কী, তখন বুঝলাম এর পেছনে রয়েছে আমাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথাকথিত কিছু ‘পুষ্টিবিদ’ এবং ভাইরাল ‘ডাক্তার’। যারা কোনো নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক তথ্য বা গবেষণা না পড়েই স্রেফ ট্রেন্ড ফলো করে এই ধরণের পরামর্শ দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

​🩺 একজন শিশু চিকিৎসকের (Paediatrician) আকুল আবেদন:

সত্যিই খুব হতাশ লাগে যখন দেখি মানুষ প্রমাণভিত্তিক চিকিৎসার (Evidence-based medicine) পরিবর্তে ভাইরাল ট্রেন্ড এবং ইউটিউব বিজ্ঞাপননির্ভর তথাকথিত বিশেষজ্ঞদের অন্ধভাবে বিশ্বাস করছে।

​📚 আমাদের করণীয়:

অনুগ্রহ করে নিজে জানুন, সঠিক তথ্যটি পড়ুন এবং নিয়মিত পড়াশোনা করুন। কারণ জ্ঞান অর্জনের একমাত্র নির্ভরযোগ্য পথ হলো সঠিক উৎস থেকে পড়াশোনা করা। গুজবে কান দিয়ে নিজের শিশুর ক্ষতি করবেন না।

​👉 পোস্টটি শেয়ার দিয়ে অন্য মা-বাবাদেরও সঠিক তথ্যটি জানতে সাহায্য করুন! 🙏

​ #শিশুর_খাবার #সচেতনতা

Address

Faridpur
7802

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when শিশু চিকিৎসক ডা. শাওন posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to শিশু চিকিৎসক ডা. শাওন:

Shortcuts

Share

Category