08/07/2026
বাচ্চাদের আচরণ আর মানসিক সুস্থতার সম্পর্ক দুই টাই একই সাথে পারস্পরিক ভাবে জড়িত আপনার সন্তানের মানসিক সুস্থতার যত্ন নিন তার অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুন।
অনেক সময় আমরা শুধু বাচ্চাদের আচরণ দেখি, কিন্তু সেই আচরণের পেছনের অনুভূতিগুলো দেখি না।
কেউ খুব রাগ করে, কেউ চুপচাপ হয়ে যায়, কেউ পড়াশোনায় আগ্রহ হারায়, আবার কেউ খুব বেশি জেদী হয়ে ওঠে।
আমরা তখন বলি—
"বাচ্চাটা খুব বদমেজাজি।"
"কথা শোনে না।"
"ইচ্ছে করে এমন করে।"
বাস্তবে অনেক আচরণই কোনো সমস্যা নয়—বরং একটি বার্তা।বাচ্চারা সব সময় ভাষায় নিজের কষ্ট প্রকাশ করতে পারে না। তাই তারা অনেক সময় আচরণের মাধ্যমে জানায় যে তাদের ভেতরে কিছু একটা ঠিক নেই।
যেমন
• হঠাৎ খুব রেগে যাওয়া
• অকারণে কান্না করা
• নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া
• বন্ধুদের এড়িয়ে চলা
• পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া
• অতিরিক্ত ভয় বা উদ্বেগে থাকা
এসব আচরণের পেছনে থাকতে পারে মানসিক চাপ, পারিবারিক অশান্তি, স্কুলের চাপ, বুলিং, অবহেলা, অথবা নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি।
শুধু শাসন করলে সমস্যার সমাধান হয় না।
প্রথমে জানতে হবে—
"তুমি কেমন অনুভব করছ?"
একজন শিশুর মানসিক সুস্থতা তার আত্মবিশ্বাস, শেখার ক্ষমতা, সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতের ব্যক্তিত্বের ভিত্তি তৈরি করে।যে শিশু নিজেকে নিরাপদ, সম্মানিত ও ভালোবাসার যোগ্য মনে করে, সে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
অভিভাবক, শিক্ষক এবং পরিবারের সদস্যদের একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি
আচরণকে বিচার করার আগে, সেই আচরণের কারণ বোঝার চেষ্টা করুন।
কারণ, প্রতিটি শিশুর খারাপ আচরণের পেছনে একটি না-বলা গল্প থাকতে পারে।
শিশুর মনকে গুরুত্ব দিন। সুস্থ মনই একটি সুন্দর ভবিষ্যতের ভিত্তি।
কাউন্সিলিং নোট:
শিশুর আচরণ পরিবর্তন করতে চাইলে, শুধু তাকে বদলানোর চেষ্টা করবেন না—তার পরিবেশ, অনুভূতি এবং প্রয়োজনগুলোকেও গুরুত্ব দিন।
তাহানী আকতার
মেন্টর কাউন্সিলর স্টুডেন্ট সাইকোলজি বিষয়ক