30/07/2026
গাইনোকোমাস্টিয়া (Gynecomastia) হলো পুরুষের এক বা উভয় স্তনে গ্রন্থিযুক্ত (glandular) টিস্যু অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া। এটি চর্বি জমার (pseudogynecomastia) থেকে আলাদা।
কারণ
বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের পরিবর্তন (সবচেয়ে সাধারণ)
বার্ধক্য
স্থূলতা
টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া বা ইস্ট্রোজেন বেড়ে যাওয়া
ওষুধ: স্পাইরোনোল্যাকটোন, সিমেটিডিন, ফিনাস্টেরাইড, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক, অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ইত্যাদি
লিভার বা কিডনির দীর্ঘমেয়াদি রোগ
থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা
টেস্টিস বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার
লক্ষণ
স্তনের নিচে নরম বা শক্ত গুটি
স্তন বড় হয়ে যাওয়া (একপাশে বা দুইপাশে)
ব্যথা বা স্পর্শে সংবেদনশীলতা
খুব কম ক্ষেত্রে নিপল থেকে রক্ত বা স্রাব (এটি হলে দ্রুত মূল্যায়ন প্রয়োজন)
রোগ নির্ণয়
বিস্তারিত ইতিহাস ও শারীরিক পরীক্ষা
প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা (টেস্টোস্টেরন, ইস্ট্রোজেন, LH, FSH, β-hCG, প্রোল্যাকটিন, থাইরয়েড, লিভার ও কিডনি ফাংশন)
প্রয়োজনে স্তনের আল্ট্রাসাউন্ড বা ম্যামোগ্রাফি
টেস্টিসে সন্দেহ থাকলে আল্ট্রাসাউন্ড
চিকিৎসা
কারণভিত্তিক চিকিৎসা
বয়ঃসন্ধিকালের অধিকাংশ ক্ষেত্রে ৬–২৪ মাসের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যেতে পারে
প্রয়োজনে ওষুধ (যেমন ট্যামক্সিফেন) বিশেষজ্ঞের পরামর্শে
দীর্ঘদিনের, বড় আকারের বা কসমেটিক/ব্যথাজনিত সমস্যায় সার্জারি (Subcutaneous mastectomy, প্রয়োজনে liposuction)
যদি গাইনোকোমাস্টিয়া একপাশে হয়, দ্রুত বড় হতে থাকে, শক্ত ও অনিয়মিত গুটি থাকে, বা নিপল থেকে রক্ত/স্রাব বের হয়, তাহলে স্তন ক্যান্সারসহ অন্যান্য গুরুতর কারণ বাদ দিতে দ্রুত সার্জন বা এন্ডোক্রিনোলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সকলের সুচিকিৎসা ও সর্বোচ্চ চিকিৎসা কামনায়