Dr. Fahmida Mahbuba Bonna

Directions Website Contact the practice

Dr. Fahmida Mahbuba Bonna It's the page for medical information.
(2)

“ম্যাডাম, আমার বউ প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর থেকে আমি আর শান্তিতে নাই!”সামনে বসা ভদ্রলোকের কথা শুনে আমি বললাম,“কেন? কী হয়েছে?...
28/09/2026

“ম্যাডাম, আমার বউ প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর থেকে আমি আর শান্তিতে নাই!”

সামনে বসা ভদ্রলোকের কথা শুনে আমি বললাম,
“কেন? কী হয়েছে?”

উনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললেন,
“আগে অফিস থেকে বাসায় যাইতাম, বউ দরজা খুলে দিত। এখন দরজা খুলে বলে, ‘আমার জন্য কী আনছো?’”

আমি বললাম,
“এটা তো খুব স্বাভাবিক!”

উনি বললেন,
“স্বাভাবিক কই? একদিন বললো আম খেতে ইচ্ছা করছে। আমি আম আনলাম।”

“তারপর?”

“আম দেখে বললো, ‘এই আম না, ওই পাশের দোকানের আম খেতে ইচ্ছা করছে!’”
পরে আবার গিয়ে ঐ আমই আনলাম ।

আমি একটু হাসলাম।

উনি আবার বললেন,
“পরের দিন বললো টক খাবে। তেঁতুল আনলাম। বললো, ‘না, আজকে টক না… মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করছে।

আমি বললাম,
“আপনি তখন কী করলেন?”

উনি খুব গম্ভীর হয়ে বললেন, কী আর করব .. আবার গিয়ে মিষ্টি আনলাম । তবে যেটা বুঝলাম
ম্যাডাম, বাচ্চা হওয়ার আগে আমারই পরীক্ষা শুরু হইছে! ধৈর্য্য পরীক্ষা!

আমি আর হাসি আটকাতে পারলাম না।

আসলে গর্ভাবস্থায় এমন অনেক কিছুই হতে পারে। খাবারের পছন্দ বদলে যাওয়া, কোনো খাবারের প্রতি হঠাৎ খুব টান তৈরি হওয়া, আবার কোনো পরিচিত গন্ধেই বমি চলে আসা, মেজাজের পরিবর্তন…

তাই স্বামীদের জন্য ছোট্ট পরামর্শ:

বউ যদি বলে,
“আজকে এটা খেতে ইচ্ছা করছে।”

সঙ্গে সঙ্গে জিজ্ঞেস করবেন না,
“কালকেও তো এটা খাইছো, আজ আবার কেন?”

চুপচাপ সম্ভব হলে এনে দিন।

আর যদি পাঁচ মিনিট পর বলে,
“না, এখন আর এটা খেতে ইচ্ছা করছে না…”

তাহলে রাগ করবেন না।

কারণ এই সময়ে শুধু বউয়ের পেটেই বাচ্চা বড় হচ্ছে না।

স্বামীর ধৈর্যও একটু একটু করে বড় হওয়ার কথা….😊!

~ ডা.ফাহমিদা মাহবুবা বন্যা ~

আমার উপর তার ভীষণ রাগ… আমি কেন তাকে টেনে টুনে দুনিয়ায়  আনতে গেছি ? দুনিয়ায় না আসলে তো মা বকা দিতে পারতো না ..!আমার আসল...
28/09/2026

আমার উপর তার ভীষণ রাগ… আমি কেন তাকে টেনে টুনে দুনিয়ায় আনতে গেছি ?

দুনিয়ায় না আসলে তো মা বকা দিতে পারতো না ..!

আমার আসলে বিচার হওয়া উচিত!

পরে উনাকে বলে দিছি - এবার যে আপু / ভাইয়া আসতেছে .. সে আসার পর দরকার হলে তাকে পেটে ফেরত পাঠিয়ে দিবো !

এই সিদ্ধান্তও তার মনপুত হয়নি । সে ফেরত চলে গেলে ভাইয়া / আপুকে কে দেখবে তাহলে ??

কী বিপদ বলেন তো দেখি … কোনদিকে যাই এখন …🥴?

বাই দ্যা ওয়ে - মুরুব্বির নাম ঐন্দ্রিলা !

সি-সেকশনের পর আরামে ঘুমানোর নিয়ম ও নিরাপদ চলাফেরা-সি-জারিয়ান অপারেশনের পর প্রথম কিছুদিন পিঠের ব্যথা, সেলাইয়ের টান আর ক্ল...
28/09/2026

সি-সেকশনের পর আরামে ঘুমানোর নিয়ম ও নিরাপদ চলাফেরা-

সি-জারিয়ান অপারেশনের পর প্রথম কিছুদিন পিঠের ব্যথা, সেলাইয়ের টান আর ক্লান্তি মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবে ঘুমোনো বা ওঠাবসা করা বেশ কষ্টের হতে পারে। সঠিক পজিশনে শুলে এবং বালিশের সঠিক ব্যবহার জানলে সেলাইয়ের ওপর চাপ না ফেলেই বেশ আরামে বিশ্রাম নেওয়া সম্ভব।

১. শোয়ার উপযুক্ত পজিশন

চিৎ হয়ে শোয়া: সেলাইয়ের জায়গায় সরাসরি কোনো চাপ লাগে না। পিঠের নিচে হালকা সাপোর্ট এবং হাঁটু দুটো সামান্য উঁচুতে রাখলে পেটের টান অনেকটাই কমে আসে।

বাঁ কাতে শোয়া: রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে এবং সদ্যজাতকে নিরাপদে বুকের দুধ খাওয়াতে এই ভঙ্গিটি সবচেয়ে আরামদায়ক।

সামান্য হেলান দিয়ে শুয়ে থাকা (Semi-Fowler's Position): বালিশ দিয়ে মাথা ও পিঠ কিছুটা উঁচু (প্রায় ৪৫ ডিগ্রি) করে রাখলে পেটের ওপর চাপ কম পড়ে, বুক জ্বালাপোড়া বা শ্বাসকষ্টের সমস্যাও দূরে থাকে।

২. বালিশ দিয়ে এক্সট্রা সাপোর্ট নেওয়ার সঠিক উপায়

হাঁটুর নিচে বালিশ: চিৎ হয়ে শোয়ার সময় পেটের পেশি শিথিল রাখতে সাহায্য করে।

দুই হাঁটুর মাঝখানে বালিশ: কাতে শোয়ার সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখে এবং কোমর ব্যথা প্রতিরোধ করে।

পেটে বালিশ হালকা চেপে রাখা: হাঁচি বা কাশি দেওয়ার সময় সেলাইয়ের স্থানে বালিশ দিয়ে হালকা চাপ দিয়ে রাখলে ব্যথার অনুভূতি কম হয়।

পিঠের পেছনে সাপোর্ট: পাশ ফিরে শোয়ার সময় যেন দুম করে পেছনে গড়িয়ে না যান, সে জন্য পিঠের পেছনে একটি শক্ত বালিশ দিয়ে রাখতে পারেন।

৩. বিছানা থেকে নিরাপদ ওঠাবসার পদ্ধতি (Log Roll Technique)

হুট করে সোজাসুজি উঠে বসলে পেটের পেশি ও সেলাইয়ে টান লাগতে পারে। তাই নিচে দেওয়া নিয়ম মেনে উঠুন:
1. প্রথমে বিছানায় সম্পূর্ণ পাশ ফিরে কাত হন।
2. পা দুটো আস্তে আস্তে বিছানার নিচে নামিয়ে দিন।
3. হাতের তালু এবং কনুইয়ের ওপর ভর দিয়ে ধীরে ধীরে শরীর উঁচিয়ে উঠে বসুন।

৪. প্রয়োজনীয় সতর্কতা

পেটে ভর দিয়ে শোবেন না: সি-সেকশনের পর প্রথম ৬–৮ সপ্তাহ উপুড় হয়ে শোয়া একদম অনুচিত।

মোচড় দেওয়া বা ঝোঁকা যাবে না: শরীর দুমড়ে-মুচড়ে বা দ্রুত ঝুকে কোনো কিছু তোলার চেষ্টা করবেন না।

বিছানার সঠিক উচ্চতা: এমন উচ্চতার বিছানা ব্যবহার করুন যেন ওঠাবসা করার সময় হাঁটুতে বা পেটে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

বিশেষ টিপস: প্রথম কয়েকটা দিন যেকোনো দরকারে পরিবারের সদস্যদের সাহায্য নিন। সেলাইয়ের জায়গায় অতিরিক্ত লালচে ভাব, তীব্র ব্যথা কিংবা অস্বাভাবিক রক্তপাত খেয়াল করলে দেরি না করে চিকিৎসককে জানান।

~ ডা. ফাহমিদা মাহবুবা বন্যা ~

“ম্যাডাম, আমার খুব একা একা লাগে , কিছুই ভালো লাগে না, মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছে করে…”কথাটা বলেই হু হু করে কাঁদতে শুরু করল...
28/09/2026

“ম্যাডাম, আমার খুব একা একা লাগে , কিছুই ভালো লাগে না, মাঝে মাঝে মরে যেতে ইচ্ছে করে…”

কথাটা বলেই হু হু করে কাঁদতে শুরু করলেন শারমিন( ছদ্মনাম) । আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম।

ওর বাচ্চার বয়স ৯ মাস। পুরো প্রেগন্যান্সির জার্নিতে আমার তত্ত্বাবধানে ছিল।
বাচ্চা আছে, সংসার আছে, স্বামী আছে… বাইরে থেকে দেখলে হয়তো মনে হবে, এই মানুষটার আবার কষ্ট কী?

কিন্তু মানুষের ভেতরের কষ্টটা তো আর বাইরে থেকে দেখা যায় না!

কিছুক্ষণ পর বললেন,

“ম্যাডাম, আমার কারো সাথে কথা বলতে খুব ইচ্ছে করে। খুব বেশি কথা বলতে ইচ্ছে করে। কিন্তু আমার কথা শোনার মতো কেউ নেই।”
মা - বাবা নেই । একটা ভাইও নেই।
একটা যমজ বোন আছে, কিন্তু তার সাথেও সম্পর্ক ভালো না। ও আমার সাথে কথা বলে না ।

স্বামী মানুষটা আমি এতিম বলেই বিয়ে করেছিলো । এমনিতে ভালোই সে । আমাদের জন‍্যই তো তাকে ব্যস্ত থাকতে হয় । সময় দিতে পারে না। উনার দোষে নেই .. সে চেষ্টা করে। তবুও আমার মন খারাপই থাক !

কথাগুলো বলতে বলতে আবার কান্না…
আমি শুধু শুনছিলাম।

কারণ আমার মনে হচ্ছিলো - ওই মুহূর্তে হয়তো ওর সবচেয়ে বেশি দরকার ছিল কেউ একজন তার কথাগুলো শুনুক।
কেউ তাকে বলুক, তুমি একা না।

কথা বলতে বলতে আমি বুঝতে পারলাম, এটা শুধু মন খারাপ না। এটা পোস্ট পার্টাম ডিপ্রেশনের লক্ষণ।

বাচ্চা হওয়ার পর মায়ের শরীরের যেমন পরিবর্তন হয়, মনেরও তেমন অনেক পরিবর্তন হতে পারে। সবসময় হাসিখুশি থাকা, বাচ্চাকে নিয়ে ব্যস্ত থাকা আর সংসার সামলানো মানেই যে মা ভেতর থেকে ভালো আছেন, এমন না।
কখনো কখনো একজন মা বাচ্চাকে কোলে নিয়েও ভীষণ একা অনুভব করতে পারেন।

আর “মরে যেতে ইচ্ছে করে” কথাটা কিন্তু হেলাফেলা করার মতো কোনো কথা না।

এমন কথা বললে তাকে “নাটক করছো”, “বাচ্চার মা হয়ে এসব বলো কীভাবে?”, “সব মায়েরই কষ্ট হয়” এসব না বলে বরং পাশে বসুন।

কথা শুনুন।

প্রয়োজনে চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

আর যদি কখনো মনে হয়, নিজের ক্ষতি করার আশঙ্কা আছে, তাকে একা রাখবেন না এবং দ্রুত জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা নিন।

সেদিন ওষুধের পাশাপাশি আমি তাকে আরেকটা কথাও বলেছিলাম,

“মনটা খুব খারাপ হলে, কারো সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করলে আমার কাছে চলে আসবে নির্দ্বিধায়! ”

তারপর দুজন মিলে কফি খেলাম। কিছুক্ষণ না হয় গল্প করলাম। কী গল্প করব সেটা গুরুত্বপূর্ণ না। বা আদৌ কখনো বসা হবে কিনা জানিনা … তবে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কথাটা শুনে শারমিন একটু হেসেছিলো।
হাসতে হাসতে বলেছে - ম্যাডাম, আপনি যে ব‍্যাস্ত ! আপনার সময় হবে ?
আমিও হাসতে হাসতে বলেছি - তোমার জন‍্য হবে !

আমার ফোন নাম্বার ওর কাছে আগে থেকেই আছে । ওকে বলেছি - যে কোন দরকারে আমাকে ফোন করবে । তোমার ফোন অবশ্যই আমি ধরবো ।
কারণ বিষয়টি আমি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছি ।

একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠিয়েছি পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।

হয়তো তার সব সমস্যা সেদিনই ঠিক হয়ে যায়নি।
কিন্তু অন্তত কিছুক্ষণ তো সে অনুভব করেছিলো -
কেউ একজন তার কথা শুনছে।

সব মায়ের হাতে বাচ্চা থাকে।
কিন্তু সব মায়ের পাশে একজন মানুষ থাকে না।

তাই আশেপাশে কোনো নতুন মাকে যদি হঠাৎ খুব চুপচাপ দেখেন, অকারণে কাঁদতে দেখেন, বারবার বলেন “ভালো লাগছে না”, কিংবা বলেন “আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না”…

তাকে উপদেশ দেওয়ার আগে একবার জিজ্ঞেস করুন,

“তোমার সাথে একটু বসবো?”

কখনো কখনো একটা মানুষকে বাঁচিয়ে রাখার শুরুটা ওষুধ দিয়ে হয় না।

শুরুটা হয়…

একজন মানুষ আরেকজন মানুষের পাশে বসে একটু মন দিয়ে কথা শোনা দিয়ে।

~ ডা. ফাহমিদা মাহবুবা বন্যা ~

আমার একজন রোগীকে আরেকজন খুব ভয় দেখিয়ে বলছেন,“নরমাল ডেলিভারি করাবেন না আপা! একবার নরমাল হলে জরায়ুর রাস্তা ঢিলে হয়ে যায়। প...
27/09/2026

আমার একজন রোগীকে আরেকজন খুব ভয় দেখিয়ে বলছেন,

“নরমাল ডেলিভারি করাবেন না আপা! একবার নরমাল হলে জরায়ুর রাস্তা ঢিলে হয়ে যায়। পরে আর আগের মতো থাকে না!”

রোগী তো শুনে একেবারে চিন্তায় পড়ে গেলেন।

শেষে আমার কাছে এসে বললেন,

“ম্যাডাম, কথাটা কি সত্যি? নরমাল ডেলিভারি করলে কি সত্যিই জরায়ুর রাস্তা ঢিলে হয়ে যায়?”

আমি বললাম,

“একটু থামেন। আগে ‘জরায়ুর রাস্তা’ আর ‘যোনিপথ’ এক জিনিস না, এটা বুঝি!”

জরায়ু হলো যেখানে বাচ্চা থাকে। আর বাচ্চা প্রসবের সময় যে পথ দিয়ে বের হয়, সেটি হলো যোনিপথ।

স্বাভাবিক প্রসবের সময় বাচ্চা বের হওয়ার জন্য যোনিপথ ও আশেপাশের পেশি এবং টিস্যু কিছু সময়ের জন্য প্রসারিত হয়। তাই প্রসবের পর প্রথম দিকে আগের তুলনায় কিছুটা ঢিলা বা পরিবর্তিত মনে হতে পারে।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে,

“নরমাল ডেলিভারি হলেই সারাজীবনের জন্য রাস্তা ঢিলে হয়ে যাবে!”

প্রসবের পর শরীর ধীরে ধীরে সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যোনিপথের টিস্যু ও পেলভিক ফ্লোরের পেশিগুলোও অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

তবে এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে।

একাধিকবার সন্তান প্রসব, বড় ওজনের বাচ্চা, দীর্ঘসময় ধরে প্রসবের চাপ, প্রসবের সময় কিছু জটিলতা, বয়স এবং পেলভিক ফ্লোরের পেশির দুর্বলতা এসব কারণে কারও কারও প্রসবের পর দীর্ঘদিন পেলভিক ফ্লোর দুর্বল থাকতে পারে।

তখন প্রস্রাব ধরে রাখতে সমস্যা, নিচের দিকে ভারী লাগা বা যোনিপথে কিছু নেমে আসার মতো সমস্যাও হতে পারে।

আর এগুলো হলে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। প্রয়োজন অনুযায়ী পেলভিক ফ্লোরের ব্যায়াম, ফিজিওথেরাপি বা চিকিৎসা নেওয়া যায়।

আর একটা কথা খুব পরিষ্কার করে বলি,

নরমাল ডেলিভারি মানেই “জরায়ু ঢিলে হয়ে যাওয়া” নয়।

আবার শুধু এই ভয় থেকে সিজারিয়ান করানোও ঠিক নয়।

কোন মায়ের জন্য কোন ধরনের প্রসব নিরাপদ হবে, সেটা নির্ভর করে মা ও শিশুর অবস্থা, গর্ভাবস্থার জটিলতা এবং প্রসবের সময়কার পরিস্থিতির ওপর।

বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর শরীর বদলায়, এটা সত্যি।

কিন্তু শরীরের এই স্বাভাবিক পরিবর্তনকে ভয় দেখিয়ে “সব শেষ” বলে দেওয়া ঠিক নয়।

মায়ের শরীর ভাঙে না, বদলায়।
আর সেই বদলকে বুঝতে হয় ভয় দিয়ে নয়, সঠিক তথ্য দিয়ে।

~ ডা.ফাহমিদা মাহবুবা বন‍্যা ~

অনেকেই প্রশ্ন করেন - গর্ভকালীন সময়ে কোমর ও পিঠ ব্যথার কারণ এবং মুক্তির উপায় নিয়ে । চলুন তাহলে আজ কথা বলা যাক এই বিষয়ে-গ...
27/09/2026

অনেকেই প্রশ্ন করেন - গর্ভকালীন সময়ে কোমর ও পিঠ ব্যথার কারণ এবং মুক্তির উপায় নিয়ে । চলুন তাহলে আজ কথা বলা যাক এই বিষয়ে-

গর্ভবতী মায়েদের একটি অত্যন্ত পরিচিত সমস্যা হলো পিঠ বা কোমরে ব্যথা। শারীরিক নানা পরিবর্তন এবং গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধির কারণে এই অস্বস্তি দেখা দেয়।

❇️ব্যথার প্রধান কারণসমূহ:

শারীরিক ভঙ্গিমার পরিবর্তন: পেটের আকার ও ওজন বাড়ার ফলে মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।

অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি: গর্ভকালীন ওজন বাড়ার কারণে কোমরের পেশিগুলোতে বেশি টান পড়ে।

হরমোনের প্রভাব: প্রসবের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হরমোনের কারণে হাড়ের জোড়া বা জয়েন্টগুলো শিথিল হয়ে পড়ে।

জরায়ুর প্রসারণ: গর্ভে সন্তান বড় হওয়ার সাথে সাথে জরায়ুর আকার বৃদ্ধি পায়, যা সরাসরি কোমর ও পিঠে চাপ সৃষ্টি করে।

✅ব্যথা নিয়ন্ত্রণে ঘরোয়া ও সহজ কিছু টিপস:

1. সঠিক ভঙ্গিমায় উঠাবসা: হাঁটা বা বসার সময় সব সময় মেরুদণ্ড সোজা রাখার চেষ্টা করুন।
2. উপযুক্ত জুতো নির্বাচন: উঁচু হিল বা অস্বস্তিকর জুতো পরিহার করে নিচু, ফ্ল্যাট ও নরম সোলযুক্ত জুতো ব্যবহার করুন।
3. সঠিক ভঙ্গিতে ঘুমানো: রাতে বা বিশ্রামের সময় বাম কাতে শুয়ে দুই হাঁটুর মাঝখানে একটি বালিশ দিয়ে ঘুমালে আরাম পাবেন।
4. ভারী কাজ এড়িয়ে চলা: এ সময় কোনো ভারী বস্তু তোলা বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।

গর্ভাবস্থায় পেটের স্ক্যাচ বা স্ট্রেচ মার্ক: ভয় নয়, এটি মাতৃত্বের সুন্দর চিহ্ন! গর্ভাবস্থায় শরীর জুড়ে নানা পরিবর্তন আসে, ...
27/09/2026

গর্ভাবস্থায় পেটের স্ক্যাচ বা স্ট্রেচ মার্ক: ভয় নয়, এটি মাতৃত্বের সুন্দর চিহ্ন!

গর্ভাবস্থায় শরীর জুড়ে নানা পরিবর্তন আসে, আর তার মধ্যে অন্যতম একটি হলো পেটে লালচে বা বেগুনি রঙের দাগ বা স্ট্রেচ মার্ক পড়া। অনেকেই এই দাগগুলো দেখে একটু দুশ্চিন্তায় পড়ে যান বা নিজের ত্বক নিয়ে অস্বস্তিতে ভোগেন। কিন্তু সত্যি বলতে, এটি কোনো রোগ নয়- এটি আপনার শরীরের এক অলৌকিক ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ!

কেন হয় এই দাগ?

গর্ভে যখন নতুন একটি প্রাণ দিনে দিনে বড় হতে থাকে, তখন তাকে জায়গা দিতে আমাদের পেটের চামড়া ও মাংসপেশি দ্রুত প্রসারিত হতে শুরু করে। ত্বকের নিচের কোলাজেন ও ইলাস্টিন তন্তু যখন এই দ্রুত টানের সাথে তাল মেলাতে পারে না, তখনই স্ট্রেচ মার্ক বা স্ক্যাচ মার্কের সৃষ্টি হয়।

কিছু সহজ যত্ন ও সতর্কতা:

১. ত্বক হাইড্রেটেড রাখুন: ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হলে চুলকানি ও দাগ দুটোই বাড়ে। তাই ডাব্লুএইচও (WHO) বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার, কোকো বাটার বা নারকেল তেল ব্যবহার করুন।
২. চুলকানো একদম বন্ধ রাখুন: পেটে চুলকানি হলে নখ দিয়ে চুলকাবেন না। এতে চামড়ায় ক্ষত তৈরি হতে পারে এবং দাগ আরও গভীর হতে পারে। সুতি কাপড়ের হালকা ছোঁয়া দিয়ে চাপ দিতে পারেন।

৩. পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার: প্রচুর পানি পান করুন এবং ভিটামিন-সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার খান, যা ত্বক নমনীয় রাখতে সাহায্য করে।

মনে রাখুন:

সময়ের সাথে সাথে এবং সন্তান প্রসবের পর এই দাগগুলোর রঙ অনেকটাই ফিকে হয়ে হালকা রূপালী বা ত্বকের রঙের সাথে মিশে যায়।

তাই এই দাগগুলোকে লুকিয়ে রাখার বা লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। আপনার শরীরের ভেতরে একটি নতুন প্রাণ গড়ে তোলার জন্য আপনার শরীর যে পরিশ্রম করছে, এই দাগগুলো তারই একটি স্মারক বা "টাইগার স্ট্রাইপস"!

মাতৃত্বের প্রতিটি রূপকে ভালোবাসুন। ❤️

~ ডা.ফাহমিদা মাহবুবা বন‍্যা ~

ম্যাডাম, নরমাল ডেলিভারি ভালো নাকি সিজার?এই প্রশ্নটা প্রায় প্রতিদিনই শুনি।অনেক মা মনে করেন, নরমাল হলে ভালো মা, আর সিজার হ...
26/09/2026

ম্যাডাম, নরমাল ডেলিভারি ভালো নাকি সিজার?

এই প্রশ্নটা প্রায় প্রতিদিনই শুনি।

অনেক মা মনে করেন, নরমাল হলে ভালো মা, আর সিজার হলে বুঝি কোথাও একটা ব্যর্থতা ! আবার কেউ কেউ ভাবেন, সিজার করলে কষ্ট কম, ঝামেলাও কম।

আসলে দুটো ধারণার কোনোটাই পুরোপুরি ঠিক নয়।

একজন মায়ের জন্য কোনটা ভালো, সেটা নির্ভর করে সেই নির্দিষ্ট সময়ে মা আর বাচ্চার অবস্থা কেমন, গর্ভাবস্থায় কোনো জটিলতা আছে কি না এবং প্রসব কীভাবে এগোচ্ছে তার ওপর।

সোজা কথায় বললে,
যেখানে নিরাপদভাবে নরমাল ডেলিভারি সম্ভব, সেখানে অপ্রয়োজনে সিজার করার দরকার নেই।

আবার,
যেখানে নরমাল ডেলিভারি মা বা বাচ্চার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাচ্ছে, সেখানে শুধু “নরমাল করতেই হবে” এই জেদ করাও ঠিক নয়।

তাহলে একটু খোলাসা করে বলি।

নরমাল ডেলিভারি হলে কী সুবিধা?

মা যদি সুস্থ থাকেন, বাচ্চার অবস্থা ভালো থাকে এবং প্রসব স্বাভাবিকভাবে এগোয়, তাহলে স্বাভাবিক প্রসবের বেশ কিছু সুবিধা আছে।
মা সাধারণত তুলনামূলক দ্রুত চলাফেরা করতে পারেন, হাসপাতালে থাকার সময় কম হতে পারে এবং অস্ত্রোপচারের ক্ষত বা অপারেশন-পরবর্তী জটিলতা থাকে না।

তবে নরমাল ডেলিভারি মানেই যে একদম কোনো কষ্ট থাকবে না, তা নয়।

প্রসবের ব্যথা থাকবে।কখনো যোনিপথে ছিঁড়ে যাওয়া বা সেলাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। কখনো প্রসব দীর্ঘ হতে পারে। আবার প্রয়োজন হলে প্রসব সহায়তায় অন্য পদ্ধতিও লাগতে পারে।
অর্থাৎ নরমাল ডেলিভারি হলো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, কিন্তু ঝুঁকিমুক্ত প্রক্রিয়া নয়।

এবার আসি সিজারে।

সিজার কোনো “সহজ রাস্তা” নয়। এটা একটি বড় অস্ত্রোপচার। তবে এই অস্ত্রোপচারই অনেক সময় মা এবং বাচ্চার জীবন রক্ষা করে। যেমন বাচ্চার অবস্থান এমন হলে যে নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ নয়, প্লাসেন্টার কিছু জটিলতায়, প্রসব এগোতে না চাইলে, বাচ্চার হার্টবিটে গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে, অথবা মায়ের এমন কোনো শারীরিক জটিলতা থাকলে যেখানে নরমাল ডেলিভারি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

এসব পরিস্থিতিতে সিজার করা মানে “নরমাল ডেলিভারি ব্যর্থ হয়েছে” না।
বরং তখন সিজারই নিরাপদ চিকিৎসা।

আর একটা কথা খুব মনে রাখবেন। সিজারিয়ান মানেই কষ্ট নেই, এটাও ভুল ধারণা।

অপারেশনের পর ব্যথা, চলাফেরায় অসুবিধা, ক্ষতের যত্ন, সংক্রমণসহ কিছু ঝুঁকি থাকে এবং ভবিষ্যতের গর্ভাবস্থাতেও আগের সিজারের কিছু প্রভাব থাকতে পারে।

তাই শুধু ব্যথা এড়ানোর জন্য বা “ অমুকের সিজার হয়েছে, আমারও হবে” ভেবে সিজার বেছে নেওয়া ঠিক নয়।
আবার,

“একবার সিজার হয়েছে, পরেরবার কোনোভাবেই নরমাল হবে না”

এটাও সবার ক্ষেত্রে সত্যি নয়।

আগের সিজারের কারণ, জরায়ুর আগের কাটার ধরন, বর্তমান গর্ভাবস্থার অবস্থা এবং আরও কিছু বিষয় বিবেচনা করে উপযুক্ত মায়ের ক্ষেত্রে পরবর্তীবার নরমাল প্রসবের চেষ্টা করা যেতে পারে।

তবে এটাও সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। সিদ্ধান্তটা ব্যক্তিভেদে নিতে হয়।

আর একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়…

শুধু “নরমাল ডেলিভারি চাই” বললেই হবে না।

গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চেকআপ করতে হবে, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করতে হবে, বাচ্চার বৃদ্ধি ও অবস্থান দেখতে হবে এবং প্রসবের সময় মা ও বাচ্চার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

কারণ প্রসবের সিদ্ধান্ত অনেক সময় শেষ মুহূর্তের পরিস্থিতির ওপরও নির্ভর করতে পারে।

তাই আমার কাছে “নরমাল না সিজার?” প্রশ্নটার উত্তর হলো,

যে পদ্ধতিতে মা ও বাচ্চার জন্য নিরাপদভাবে প্রসব করানো সম্ভব, সেই পদ্ধতিই ওই মায়ের জন্য সঠিক পদ্ধতি।

অপ্রয়োজনীয় সিজার যেমন কাম্য নয়, তেমনি প্রয়োজনের সময় সিজার না করিয়ে শুধু নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করাও নিরাপদ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও সিজারকে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহারের ওপর জোর দেয়, কোনো নির্দিষ্ট হারে সিজার করানোর লক্ষ্য নির্ধারণকে সমর্থন করে না।
আর সবচেয়ে জরুরি কথা…

সিজার হয়েছে বলে কোনো মা কম কষ্টে মা হয়েচে এমন নন।

একজন মা কতটা ভালো মা, সেটা তার পেটের ওপর দাগ দেখে মাপা যায় না।

তিনি ১২ ঘণ্টা প্রসব বেদনা সহ্য করে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, নাকি অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে সন্তান জন্ম দিয়েছেন, সেটা দিয়ে মাতৃত্বের মূল্য ঠিক হয় না।

শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই তো একই জিনিস চাই…

মা সুস্থ থাকুক, বাচ্চা সুস্থ থাকুক, আর দুজনেই নিরাপদে বাড়ি ফিরুক।

তাই পাশের বাসার আন্টি কী বললেন, ফেসবুকের কোন পোস্টে কী লেখা আছে, কিংবা অন্য কার কীভাবে ডেলিভারি হয়েছে…

এসব দিয়ে নিজের ডেলিভারির সিদ্ধান্ত নেবেন না।

আপনার গর্ভাবস্থা আপনার। আপনার মা হওয়ার গল্পটাও আপনার নিজের।

তাই আপনার সিদ্ধান্তটা হোক মা ও বাচ্চার চিকিৎসাগত অবস্থার ভিত্তিতে, ভয় বা সামাজিক চাপের ভিত্তিতে নয়………😊।

~ ডা.ফাহমিদা মাহবুবা বন্যা ~

চেম্বারে একজন খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন,ম্যাডাম, সিজারে আবার কষ্ট কিসের? নরমাল ডেলিভারিতেই তো আসল কষ্ট!আমি একটু অবাক...
26/09/2026

চেম্বারে একজন খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বললেন,
ম্যাডাম, সিজারে আবার কষ্ট কিসের? নরমাল ডেলিভারিতেই তো আসল কষ্ট!

আমি একটু অবাক হয়েই বললাম, তাই নাকি?

তিনি যেন আরো একটু বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠলেন । তারপর বললেন-

“হ্যাঁ। সিজার তো অপারেশন করে বাচ্চা বের করে দেয়। ব্যস!”

আমি মনে মনে বললাম - বাহ! বিষয়টা তাহলে এতই সহজ!
একবার যদি ওই মানুষটাকে অপারেশন থিয়েটারের দরজার ওপাশে দাঁড় করিয়ে রাখা যেত! তাহলে হয়তো উনার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে যেত !

একজন মা শুয়ে আছেন ঠান্ডা অপারেশন টেবিলে।
মেরুদণ্ডে এনেস্থেশিয়ার সূঁইয়ের খোঁচা। তারপর শরীর কেটে বাচ্চাকে বের করা হলো।বাচ্চা বের হওয়ার পর সবাই খুশি।

বেবি ভালো আছে - এটুকু জেনেই অনেকে মায়ের খোঁজ পর্যন্ত রাখেন না !

কিন্তু মায়ের কাজ কি শেষ?

না কিন্তু … আসল কষ্টের একটা অংশ তো তখন থেকেই শুরু।অপারেশনের পর প্রথমবার বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে কষ্ট। দুই পা ফেলতে কষ্ট। কাশি দিতে কষ্ট। হাঁচি দিলেও সেলাইয়ের জায়গায় টান লাগে ।

বাচ্চা কাঁদছে, অথচ মা নিজেই ঠিকমতো উঠতে পারছেন না।
তারপরও মা কী করেন ? নিজের কষ্ট ভুলে বাচ্চাটাকে কোলে তুলে নেন।

আবার নরমাল ডেলিভারি?

সেটাও কোনো ফুলের বিছানা না। প্রসব ব্যথা উঠলে একজন মা যে কষ্টের ভেতর দিয়ে যান, সেটা পাশে দাঁড়িয়ে দেখলেও বুক কেঁপে ওঠে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যথা। তারপর বহুল প্রতীক্ষিত বাচ্চার কান্না।

আর সেই মুহূর্তেই এতক্ষণ কষ্ট পাওয়া মা-ই জিজ্ঞেস করেন,

“বাচ্চাটা ঠিক আছে তো?”

এই জায়গাটাতেই আমরা ( মানে আমজনতা ) হেরে যাই। আমরা মায়ের কষ্টটাকে ভাগ করে ফেলি।

নরমাল হলে বলি, “এটাই তো স্বাভাবিক।”
সিজার হলে বলি, “ওর তো ব্যথাই হয়নি!”

কিন্তু মা তো কোনো পরীক্ষায় বসেননি যে কষ্টের নম্বর দেবেন! কার কষ্ট বেশি, কার কম…

তাই এই হিসাবটা বাদ দিন। একজন মা প্রসব ব্যথা সহ্য করে সন্তান জন্ম দিয়েছেন।
আরেকজন অপারেশনের কাটা-ছেঁড়া সহ্য করে সন্তান জন্ম দিয়েছেন।

দুজনের পথ আলাদা। কষ্টের ধরণ ভিন্ন হলেও জীবন নিয়ে বাজি কিন্তু দুজনেই ধরেছেন !
দুজনের বুকেই সন্তান আসার পর একই রকম একটা অনুভূতি হয়। এইটা আমার বাচ্চা , আমার নাড়ি ছেঁড়া ধন !

তাই কোনো মায়ের ডেলিভারির পদ্ধতি নিয়ে মন্তব্য করার আগে একবার না দশবার ভাববেন।

আপনি শুধু বাচ্চাটাকে পৃথিবীতে আসতে দেখেছেন ।মা কিন্তু সেই বাচ্চাটাকে পৃথিবীতে আনার জন্য নিজের শরীরটাই বাজি রেখেছেন। মায়ের কষ্টের সঙ্গে তুলনা চলে না।

কারণ মা হওয়াটাই এমন একটা গল্প, যেখানে শেষ লাইনে গিয়ে সব মা-ই বলেন ,

“ কষ্ট যাই হোক, আমার বাচ্চাটা ভালো আছে তো?”

তাইনা …..🥰?

~ ডা. ফাহমিদা মাহবুবা বন‍্যা ~

গতকাল চেম্বারে ৩৩ বছর বয়সী একজন মহিলা এসেছিলেন। মাসিকের তারিখ পার হয়ে গেছে, তাই পরীক্ষা করাতে চাইলেন, গর্ভধারণ হয়েছে কি ...
26/09/2026

গতকাল চেম্বারে ৩৩ বছর বয়সী একজন মহিলা এসেছিলেন। মাসিকের তারিখ পার হয়ে গেছে, তাই পরীক্ষা করাতে চাইলেন, গর্ভধারণ হয়েছে কি না দেখবেন।
প্রস্রাব পরীক্ষা করালাম, সঙ্গে আল্ট্রাসনোগ্রামও দিলাম। রিপোর্ট পজিটিভ।
আল্ট্রাসনোগ্রামে দেখি, ছোট্ট মানুষটার বয়স ৮ সপ্তাহ ৬ দিন। হৃদস্পন্দনও চলে এসেছে।

আমি তো রিপোর্ট দেখে খুশি হয়ে বললাম, “ আলহামদুলিল্লাহ, বাচ্চা আছে। হার্টবিটও আছে।”

কিন্তু কথা শেষ করেই দেখি, উনার মুখটা কেমন মলিন ! ভাবলাম, হয়তো অন্য কোনো চিন্তা আছে।
তারপর আসল কথাটা বললেন, আমি এই বাচ্চাটা রাখতে চাই না ম‍্যাডাম !

আমি মনে মনে একটু রেগে গেলাম। তবুও জানতে চাইলাম- কেন?
“ভুলে হয়ে গেছে। “
আচ্ছা!
তারপর স্বাভাবিকভাবেই জিজ্ঞেস করলাম, জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করতেন?

উনি বললেন, “ না।”
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে উনার দিকে তাকিয়ে রইলাম।
মানে…
বাচ্চা না নেওয়ার পরিকল্পনা আছে, কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা নেই! তারপর যখন গর্ভধারণ হয়ে গেল, তখন বলছেন ভুল হয়ে গেছে!
এই জায়গাটাতেই আমার একটু মেজাজ খারাপ হয়ে গেল।
আমরা ডাক্তাররা কত দম্পতিকে দেখি, যাদের একটাই চাওয়া…

“ম‍্যাডাম , একটা বাচ্চা হলেই হবে, আর কিচ্ছু চাইনা জীবনে !”
কেউ বছরের পর বছর চিকিৎসা করাচ্ছেন।কেউ একের পর এক পরীক্ষা করাচ্ছেন। কেউ লাখ লাখ টাকা খরচ করছেন। কেউ আবার শুধু একটা ছোট্ট হার্টবিট শোনার অপেক্ষায় কত রাত কাঁদছেন।

আর অন্যদিকে কারও জীবনে সেই হার্টবিটটা চলে এসেছে একেবারে অনিচ্ছায় । তখন সেটাই হয়ে যাচ্ছে “ভুল”!

আমি উনাকে পরিষ্কার করে বললাম, উনি যে সিদ্ধান্তের কথা বলছেন, সেটা আমাদের এখানে করা হয় না।
তবে এটাও জানি, আমি নিষেধ করলেই যে সে থেমে যাবে তেমনও না । অনেকে বাইরে থেকে ওষুধ নিয়ে নিজের মতো করে কিছু করার চেষ্টা করেন। আর সেখানেই শুরু হয় আরও বিপদের আশঙ্কা !

তাই আমার কথাটা অন্য জায়গায়। বাচ্চা নেবেন কি নেবেন না, সেটা প্রত্যেক দম্পতির নিজের সিদ্ধান্ত।
কিন্তু যদি এখনই বাচ্চা না চান, তাহলে আগে থেকেই দায়িত্বশীলভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিন।
কারণ জন্মনিয়ন্ত্রণ না করে গর্ভধারণ হয়ে যাওয়ার পর “ভুল হয়ে গেছে” বলা খুব সহজ। কিন্তু সেই ভুলের ভেতরেও তো একটা জীবন তৈরি হয়ে যায়।

আজ যে ছোট্ট হৃদয়টা আল্ট্রাসাউন্ডের পর্দায় টুপটাপ চলছে, তার কাছে তো এটা কোনো ভুল না।

জীবন মাঝে মাঝে সত্যিই বড় অদ্ভুত হিসাব করে।

কারও ঘরে অনিচ্ছায় আসে…

আর কেউ সেই একটা ছোট্ট জীবনের আশায় সারাজীবন অপেক্ষা করে।

জীবন আসলেই কেমন অদ্ভুত, তাই না……😞?

~ ডা.ফাহমিদা মাহবুবা বন্যা ~

Address

Gazipur
1701

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dr. Fahmida Mahbuba Bonna posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to Dr. Fahmida Mahbuba Bonna:

Shortcuts

Share