17/07/2026
ঘটনা ১:
ভদ্রলোক প্রবাসী বন্ধুকে নিয়ে এসেছেন চক্ষু পরীক্ষা করানোর জন্য। অনেকটা শখের বসে নিজের চোখ দেখালেন। বয়স পঞ্চাশের মতো। চোখে ভালোই দেখেন। চশমাও নেননি এযাবত।
কিন্তু কেঁচো খুঁড়তে সাপ।
পরীক্ষায় দেখা গেলো উনি গ্লুকোমা রোগে ভুগছেন। গ্লুকোমায় ভোগে উনার রেটিনার নার্ভ ফাইবার সমূহের বেশ ক্ষয় হয়ে গেছে ইতোমধ্যে।
ঘটনা ২:
আমার পরিচিত ভাই এক এনজিওর বড় কর্মকর্তা। প্রায়ই দেশ বিদেশ ঘুরে বেড়ান। পয়সার কোন অভাব নাই। আমাকে দেখলেই বলে তোর কাছে চোখ দেখাতে আসব একদিন। কিন্তু বেচারা ব্যস্ততার কারণে আসতে পারে না। এমন কি বিদেশে গিয়েও চোখ দেখানোর সুযোগ হয়না তার। বয়স ৫৬ বছর। সুন্দর চেহারার অধিকারী কিন্তু ডায়াবেটিস । শুধু তাই নয় তাদের পরিবারের তার মা খালাদের চোখ গ্লুকোমার কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ার ইতিহাসও আছে। এ সমস্ত কারণে আমি নিজে ও তাকে কয়েকবার চোখ দেখানোর জন্য বলেছি।
চল্লিশের ঊর্ধ্বে বয়স, ডায়াবেটিস, পারিবারিক গ্লুকোমার ইতিহাস ইত্যাদি গ্লুকোমার সম্ভাবনা একজন ব্যক্তির মাঝে বহুগুণে বড়িয়ে দেয়। যাই হোক বহুদিন পর শেষ পর্যন্ত একদিন কোন এক সন্ধ্যায় আমার চেম্বারে রহমান ভাই এসে হাজির। বলল দেখ গত কিছুদিন ধরে আমি বার বার চশমা বদলাচ্ছি ডাক্তারের কাছে গিয়ে কিন্তু স্বস্তি পাচ্ছি না, দৃষ্টির ব্যাপ্তি ও আগের চাইতে কেমন যেন কমে গেছে। আমার চোখটা একটু দেখে দে। আমি যথারীতি পরীক্ষা করা শুরু করলাম। দেখলাম তার দূরের দৃষ্টি কিছুটা কমে এসেছে, চশমা দিয়েও তা ঠিক করা যাচ্ছে না। চোখের প্রেসার মাপতে গিয়ে দেখি প্রেসার অনেক বেশি।
চোখের রেটিনা দেখার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করে যখন চোখের সব চাইতে সংবেদনশীল নার্ভ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখলাম নার্ভেও প্রায় ৮০ ভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু এক চোখে নয় অন্য চোখেও একই অবস্থা, কিন্তু খালি চোখে দেখে আনুমানিক বললেই হবে না এটার সত্যতা আরও যাচাই করার জন্য তাকে কিছু উন্নত মানের পরীক্ষার জন্য পাঠালাম। পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কিছুটা উদ্বিগ্ন ছিলাম কিন্তু দুঃভাগ্য পরীক্ষার রিপোর্ট বলে দিল ওনার চোখের নার্ভেও ক্ষতির পরিমাণ আমার ধারণার মতোই। বিষয়টা যখন ভাইকে জানালাম তখন প্রচন্ডভাবে ভেঙে পড়ল। সেই সাথে ওনার স্ত্রীও। বার বার আমাকে জিজ্ঞেস করতে লাগল আমি কি আগের মতো দেখতে পাব না? অমি যদি নিয়মিত ওষুধ দেই তাহলে কি চোখ আগের মত ভালো হবেনা?
আমি বললাম ভাই আপনার চোখের গ্লকোমা রোগটা মানুষের চোখকে চিরতরে ক্ষতি করে দেয়। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়ে গেছে সে পরিমাণ দৃষ্টি আবার ফিরে পাবার কোন সম্ভাবনা নাই, তবে যে টুকু দৃষ্টি আছে ততটুকু দৃষ্টি টিকিয়ে রাখার উপায় আপনার আছে। দৃষ্টি টিকিয়ে রাখতে হলে আপনাকে অবশ্যই নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যকহার করতে হবে। ওষুধ ছাড়াও লেজার বা অপারেশনের মাধ্যমে আপনার চোখের প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। গত জুন মাসে অত্যন্ত সুন্দরভাবে তার চোখের অপারেশন সম্পন্ন করে। এখন তিনি নিয়মিত চোখ দেখিয়ে যান এবং বর্তমানে তার চোখের চাপ অত্যন্ত সুন্দর নিয়ন্ত্রণে আছে।
হ্যা, এটাই গ্লুকোমা। দৃষ্টির নীরব ঘাতক। আপনি জানতেও পারছেন না আপনি তিলে তিলে অন্ধত্বের দিকে এগোচ্ছেন। হঠাৎ করে যেদিন বুঝতে পারবেন সেদিন প্রতিকারের আর কিছু থাকবে না।
তাই বয়স চল্লিশ হয়েছে? চোখে সমস্যা থাকুক আর নাই থাকুক, চোখ পরীক্ষা করানো জরুরী। অবশ্যই জরুরী।
এই তথ্য নিজে জানুন, অন্যকে জানান।
চেম্বার ( গোপালগন্জ )::
জাহান আই কেয়ার, গ্লুকোমা, ফ্যাকো ও লেজার সেন্টার- Jahan Eye Care
পুরাতন পাবলিক হল মোড়, গোপালগন্ঞ্জ।
চেম্বার (শুক্রবার)::
এপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, গোপালগন্ঞ্জ।
সকাল ১০ টা হতে বিকাল ৫ টা।
মোবা— ০১৭৩৮৪১১৩৪১, ০১৭৩১৯৮০৫২৯