09/09/2021
গবাদিপ্রাণির নাইট্রেট পয়জনিংঃ
নাইট্রেট পয়জনিং কি?
গরু নিয়মিত ভাবে খাবারের মাধ্যমে নাইট্রেট গ্রহন করে থাকে। যাহা পাকস্থলীতে যেয়ে স্বাভাবিক নিয়মে নাইট্রেট ভেঙ্গে এমোনিয়া তে রুপান্তরিত হয় এবং রুমেন মাইক্রোবস এই এমোনিয়া কে প্রোটিনে রূপান্তর করে।
কিন্তু যখন অল্প সময়ে বেশি পরিমানে খাবারের মাধ্যমে নাইট্রেট গ্রহন করে তখন নাইট্রেট ভেঙ্গে 'নাইট্রাইড' উৎপন্ন হয়ে রুমেনে জমা হয় ও শোষিত হয়। এই নাইট্রাইড রক্তের সাথে মিশে অক্সিজেন ঘাটতি করে যে পয়জনিং সৃষ্টি করে মুলত তাকেই আমরা বলছি নাইট্রেট পয়জনিং।
নাইট্রেট_পয়জনিং কিভাবে হয়?
১) প্রথম কারন হলো অপরিপক্ব পরিচিত ঘাস বা অপরিচিত ঘাস খাওয়ানো।
২) বর্ষার পর দ্রুত বর্ধনশীল ঘাস খাওয়ানো।
নাইট্রেট পয়জনিং প্রতিরোধের উপায় সমূহঃ
১) ঘাস পরিপক্ব অবস্থায় খাওয়াতে হবে। দ্রুত বর্ধনশীল ঘাস কেটে ধুয়ে প্রয়োজনে ২/৩ ঘন্টা রোদে শুকিয়ে খাওয়াতে হবে। এতে আরও একটি সুবিধে হলো ঘাসে ড্রাইমেটার বৃদ্ধি পাবে।ধূলাবালি মুক্ত হয় এবং
নাইট্রেট পয়জনিং এর ঝুঁকিও কমে যায়
২) বর্ষা মৌসুমের শেষে ছোট ছোট দ্রুত বেড়ে উঠা ঘাস খাওয়ানো যাবে না। প্রয়োজনে কেটে এনে ধুয়ে ৫/৬ ঘন্টা শুকিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।
৩) ঘাসের জমিতে ইউরিয়া প্রদান করা নিয়মিত একটি ঘটনা। ইউরিয়া সার প্রয়োগ করার পর সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারন, ইউরিয়া ঘাসের শেকড়ের মাধ্যমে দ্রুত শোষিত গয়ে নাইট্রেট হয়ে ঘাসে জমা হয়।
পাশাপাশি দ্রুত বড় হওয়ার কারনে এই ঘাস সরাসরিভাবে খাওয়ানো হলে তাহা পয়জনিং এর কারন হতে পারে।
এক্ষেত্রে আবারও সেই একই কথা বার বার বলা হচ্ছে। তাহা হচ্ছে ঘাস ধুয়ে তারপর রোদে শুকিয়ে (৫/৬ ঘন্টা) গরুকে খেতে দিন।
# নাইট্রেট পয়জনিং এর প্রাথমিক লক্ষণঃ
১। অক্সিজেন স্বল্পতাজনিত কারনে গরু মাতাল এর মত আচারণ করতে পারে।
২। পেটে ব্যাথা জনিত কারনে পা দিয়ে পেটে লাথি বা মুখ দিয়ে পেট কামড়ানো ভাব দেখা যেতে পারে।
৩। মুখ দিয়ে অনিয়ন্ত্রিত ও অনবরত ভাবে ক্রমাগতভাবে লালা নির্গত হওয়া যে কোন বিষক্রিয়ার একটি অন্যতম লক্ষণ। এক্ষেত্রেও এমন হতে পারে।
৪) শ্বাসপ্রশ্বাসে সমস্যা কম বা বেশি হতে পারে।
৫) মাংসপেশি জড়তা তেরি হতে পারে।
★এমন লক্ষণ দেখা দিলে আর. কে ভিনেগার ৫০০ মিলি তেঁতুল ৫০ গ্রাম প্রতি ১০০ কেজি ওজনের জন্য ১ বার খাওয়াবেন।
নাইট্রেট পয়জনিং প্রতিরোধে সচেতনা বেশি জরুরী
লেখা- ডা: জহিরুল ইসলাম