German homoeo complex

German homoeo complex medicine

05/06/2020
24/03/2020
যকৃৎ প্রদাহ বা হেপাটাইটিসকোন কারণে যকৃতের তরুণ প্রদাহ এবং সেজন্য ক্রিয়াগত কোন বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাকে যকৃৎ প্রদাহ বলে ।...
27/01/2020

যকৃৎ প্রদাহ বা হেপাটাইটিস

কোন কারণে যকৃতের তরুণ প্রদাহ এবং সেজন্য ক্রিয়াগত কোন বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাকে যকৃৎ প্রদাহ বলে । Dr . P. C. Das বলেন – “ It is a disease characterized by anorexia, fever, jaundice and hapatomegaly caused by virus ” এই রোগে আক্রান্ত হলে যকৃৎ তার নিজস্ব ক্রিয়া শক্তি হারিয়ে ফেলে এবং নানাবিধ রোগ উপসর্গ দেখা দেয় ।

কারণ

ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, কালাজ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্লেগ, সিফিলিস ইত্যাদি রোগের সংক্রমণ ।
বিকোলাই, যকৃতের অ্যামোবায়োসিস প্রভৃতি রোগ ।
পিত্ত নালীতে অবরুদ্ধ অবস্থার সৃষ্টি । পিত্ত পাথুরী, জীবাণু সংক্রমণ, পিত্তনালীর সংকোচন । পিত্তনালী, যকৃৎ, পাকস্থলী বা কিডনীতে অর্বুদ সৃষ্টি । ইহাকে অবরোধ জনিত যকৃৎ প্রদাহ Obstructive Hepatitis বলে ।
সুরাপান, ক্লোরোফর্ম, কার্বনটেট্রাক্লোরাইড, আর্সেনিক, স্যাণ্টুনাইন প্রভৃতির বিষক্রিয়া এবং কতিপয় ঔষধের প্রতিক্রিয়াজনিত কারণ ।
লিভারের সিরোসিস । এছাড়া ভাইরাস সংক্রান্ত যকৃৎ প্রদাহ সাধারণত তিনটি কারণে হতে পারে যথা – 1. Virua A . 2. Virus B . 3. Virus A এবং B বহির্ভূত ।
Virua A: এই জাতীয় ভাইরাস রোগীর মলে পাওয়া যায় । ইহারা প্রধানত খাদ্য ও পানীয় মাধ্যমে অন্ননালীর সাহায্যে শরীরে সংক্রমিত হয় ।
Virus B: এই জাতীয় ভাইরাস রোগীর রক্তে পাওয়া যায় এবং ইহারা Hepatitis Associated Antigen – HAA নামে অভিহিত ।
Virus A এবং B বহির্ভূত: এই জাতীয় ভাইরাস সাধারণত জলের মাধ্যমে সংক্রমিত হয় । মাঝে মাঝে কোন বিশেষ অঞ্চলে এই জাতীয় ভাইরাস রোগ বিস্তার করে।

জণ্ডিস উপসর্গ ( Complication ):
যকৃৎ প্রদাহ যদি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয় তবে নানাবিধ জটিল উপসর্গ দেখা দিতে পারে যেমন লিভার ফোঁড়া ( Liver Abcess ) হতে পারে । অনেক সময় লিভার ধীরে ধীরে ছিবড়ার মত হয়ে যায়, উহাকে বলে Cirrhosis of liver । অনেক সময় Liver Cancer হতে পারে ।

রোগ নির্ণয় ( Diagnosis ):
পিত্ত বমি, লিভার ব্যথা, বামস্কন্ধে ব্যথা, বুকে ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখে এই রোগ নির্ণয় করা যায় । এছাড়া X-Ray করলে লিভারের স্বাভাবিক ভাবটি ধরা পড়ে । Ultra sonography of liver, gall biadder, pancreas প্রয়োজন ।

পথ্য ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা ( Diet and Management ):
যেহেতু লিভার মানবদেহের পরিপাক, রক্ত শোধন, খাদ্য সঞ্চয় প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করতে বিশেষভাবে সহায়তা করে সেজন্য এই যন্ত্রটি যাতে সুস্থ থাকে এবং সবল থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখা উচিৎ । লিভারের পক্ষে ক্ষতিকর অথবা লিভারের কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন কোন কাজ করা উচিৎ নয় । ম্যালেরিয়া, টাইফয়েড, নিউমোনিয়া, বিকোলাই প্রভৃতি রোগ লিভারের যথেষ্ট ক্ষতি করে । অতএব ইহার যথার্থ চিকিৎসার প্রয়োজন । অতিরিক্ত বা অনিয়মিত পানাহার, গুরুপাক দ্রব্য আহার, উত্তেজক বা উগ্র দ্রব্য পান, অতিরিক্ত শারীরিক এবং মানসিক পরিশ্রম পরিহার করা উচিৎ । সাধারণ স্বাস্থ্য সম্মত নিয়মগুলো পালন করা উচিৎ । যথেচ্ছ ঔষধ গ্রহণের ফলে আজকাল লিভারের দোষ অতি ব্যাপক ভাবে দেখা দিয়েছে । সংক্রমণ, যকৃৎ প্রদাহের ক্ষেত্রে আমাদের খদ্য পানীয় সম্বন্ধে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে । ক্লোরিন হেপাটাইটিসের ভাইরাস ধ্বংস করতে পারে । এইজন্য ক্লোরিন মিশিয়ে পরিশোধন করে নেয়া উচিৎ । রক্ত প্রদানের ক্ষেত্রে রক্ত ভাইরাস যুক্ত কিনা সে বিষয়ে সুনিশ্চিত হতে হবে । সংক্রামক যকৃৎ প্রদাহের ক্ষেত্রে রোগীর পক্ষে পূর্ণ বিশ্রাম দরকার । যতদিন পর্যন্ত রোগী সুস্থ হয়ে না উঠে ততদিন পর্যন্ত বিশ্রামের প্রয়োজন । লঘু ও পুষ্টিকর খাদ্য দিতে হবে । খাদ্যে কোন চর্বি জাতীয় পদার্থ থাকবে না । রোগীর জন্য গ্লুকোজ পানীয় এবং প্রোটিনযুক্ত খাদ্যের ব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন । খাদ্য ও পানীয়ের ক্ষেত্রে রোগীর ইচ্ছা এবং অনিচ্ছা বিষয়টি বিবেচনা করে দেখা প্রয়োজন । রোগীর সেবাকারীদের স্বাস্থ্যসম্মত বিধিগুলো কঠোর ভাবে মেনে চলতে হবে । রোগীর মলমুত্র অপসারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনে করে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে । রোগী যদি দীর্ঘদিন জণ্ডিস রোগে আক্রান্ত হয় তৎসহ বমি ও বমিভাব, ক্ষুধাহীনতা জ্বর, লিভার বেদনা, চর্ম উদ্ভেদ ইত্যাদি থাকে তবে বুঝতে হবে অবস্থা অবনতির দিকে যাচ্ছে । আজকাল অত্যাধুনিক বিজ্ঞানসম্মত চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়েছে বটে কিন্তু সাধারণ লোকের পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা করানো সম্ভব নয় । অতএব খাদ্য, পানীয়, বিশ্রাম ইত্যাদি বিষয়গুলোর প্রতি যত্নবান হতে হবে যাতে রোগ না হয় ।

04/09/2019

স্হান পরিবর্তন। জার্মান হোমিও কমপ্লেক্স এর বর্তমান ঠিকানা। খন্দকার ম্যানশন জিগাতলা জামালপুর। (৩য় তলা)

03/07/2019

ফিস্টুলা


ফিস্টুলা রোগের কারণ ও প্রতিকার
ফিস্টুলা বা ভগন্দর রোগটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের আদি থেকেই ডাক্তারদের কাছে সুপরিচিত। ফিস্টুলার বিভিন্ন প্রকারভেদ রয়েছে। নালীটি মলদ্বারের কোন কোন স্তর ভেদ করেছে বা কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে মূলতঃ তার উপর নির্ভর করেছে এর জটিলতা। বিভিন্ন ধরনের ফিস্টুলার চিকিৎসার জন্য রয়েছে বিভিন্ন কৌশল ও পদ্ধতি। রোগীদের ধারণা আমাদের দেশে ফিস্টুলা আবার হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি। শতকরা হার আমি বলতে পারব না। যার কারণে রোগীরা অপারেশনের কথা শুনলেই বলেন যে, স্যার দেখুন বিনা অপারেশনে করতে পারবেন কিনা কারণ অপারেশন আর কত করবেন এটিত আবার হবেই। বেশ কিছু রোগী পেয়েছি যাদের ১-৩ বার এমনকি পাঁচবার পর্যন্ত অপারেশন হয়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষজ্ঞদের মতে ৫-১০% আবার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফিস্টুলা রোগটির কারণ কী এবং কী করে হয়?
উত্তর : এ রোগটির উৎপত্তি হয় মলদ্বারের বিশেষ ধরনের সংক্রমণ-এর কারণে। মলদ্বারের ভেতরে অনেকগুলো গ্রন্থি রয়েছে এগুলোর সংক্রমণের কারণে ফোঁড়া হয়। এই ফোঁড়া এক সময় ফেটে গিয়ে মলদ্বারের চর্তুদিকের, কোনো একস্থানে একটি ছিদ্র দিয়ে বের হয়ে আসে এবং পুঁজ নির্গত হতে থাকে। এই সংক্রমণের কারণে মলদ্বারে প্রচুর ব্যথা হয়। রোগী সারাদিন ব্যথায় কাতরাতে থাকে। পুঁজ বের হওয়ার পর ব্যথা কমতে থাকে। মলদ্বারে পার্শ্বস্থিত কোনো স্থানে এক বা একাধিক মুখ দিয়ে মাঝে মধ্যে পুঁজ বের হয়ে আসাকে আমরা ফিস্টুলা বা ভগন্দর বলে থাকি।
মলদ্বারের ক্যান্সার এবং বৃহদান্ত্রের প্রদাহজনিত রোগে ও ফিস্টুলা হয়ে থাকে। মলদ্বারে যক্ষার কারণেও ফিস্টুলা হতে পারে।
ফিস্টুলা কত প্রকার?
সাধারণ ফিস্টুলা : এটি মলদ্বারের মাংশপেশীর খুব গভীরে প্রবেশ করে না বিধায় চিকিৎসা সহজসাধ্য।
জটিল ফিস্টুলা : এর বিভিন্ন প্রকার ভেদ রয়েছে এবং এবং তা নির্ভর করে এর নালটি মলদ্বারের মাংশের কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে এবং কতটা বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে এটি বাইরের মুখ পর্যন্ত এসেছে। এগুলোর চিকিৎসা সত্যিকার দুঃসাধ্য। তারপর যদি এ নালী একের অধিক হয় তাহলে তো আর কথাই নেই। এ রোগের অপারেশনের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হল সঠিকভাবে অপারেশন সম্পাদন করতে ব্যর্থ হলে রোগী মল আটকে রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে।
ফিস্টুলা বা বগন্দরের লক্ষণ বা উপসর্গ কী কী?
এ রোগের লক্ষণ মূলত তিনটি। যেমন- ১. ফুলে যাওয়া, ২. ব্যথা হওয়া এবং ৩. নিঃসরণ বা পুঁজ ও আঠাল পদার্থ বের হওয়া।
বেশিরভাগ রোগীই আগে মলদ্বারে ফোঁড়া হয়েছিল বলে জানান। ভেতরে ফোঁড়া হাওয়ার জন্য ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়। যখন এগুলি ফেটে মুখ দিয়ে কিছুটা পুঁজ বের হয়ে যায় তখন ব্যথা এবং ফোলা কমে যায়। নিঃসরণ বা পুঁজ পড়া সাধারণত মাঝে মাঝে হয়। কখনও কখনও ২-৪ মাস রোগটি সুপ্ত থাকে। কখনও কখনও মলের সাথে পুঁজ ও আম পড়তে থাকে। সমস্যা একটানা না থাকার কারণে রোগীরা অনেক সময় ভাবেন যে সম্ভবতঃ ভাল হয়ে যাব। কিন্তু দু’চার মাস পর আবার যখন একই সমস্যা দেখা দেয় তখন আবার আমাদের কাছে এসে বলে স্যার এখন কি করা যায়?
কী কী পরীক্ষা নিরীক্ষা প্রয়োজন
১. প্রক্টস্কপি, সিগময়ডসকপি
২. কোলনস্কপি
৩. বেরিয়াম এক্সরে
৪. ফিস্টুলো গ্রামঃ খুব একটা অবদান রাখতে পারে না। মলদ্বারের ভেতরে আঙ্গুল দিয়ে পরীক্ষা করাটা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।

ফিস্টুলা রোগের কথা
অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে যে, জটিল ফিস্টুলা অপারেশন করতে পেটে কৃত্রিম মলদ্বার (Colostomy) করতে হবে। আমি মনে করি, কোনো জটিল ফিস্টুলার অপারেশনে ঈড়ষড়ংঃড়সু করার প্রয়োজন নেই। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে আমি কয়েকজন রোগীর অপারেশন করেছি; যাদের দু’তিনবার অপারেশন হয়েছিল এবং এর মধ্যে দু’একবার (Colostomy) করেও অপারেশন করা হয়েছিল; কিন্তু অপারেশন ব্যর্থ হয়েছে। এদেরকে আমি Colostomy না করেই অপারেশন করেছি এবং তারা ভাল হয়েছেন। তবে ব্যতিক্রমী কিছু ফিস্টুলা আছে, যার জন্য কলোস্টমি করতে হয় যার সংখ্যা অত্যন্ত কম। বিগত ৯ বছরে এ রকম কয়েকটি ফিস্টুলার জন্য আমি কলোস্টমি করেছি।
জটিল ফিস্টুলা অপারেশনে সিটন প্রযুক্তি
আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে হিপোক্রেটিস এই প্রযুক্তির ধারণার জন্মদাতা। এ প্রযুক্তিতে মলদ্বারের মাংসপেশীকে অত্যন্ত ধীরে ধীরে কাটার ব্যবস্থা করা হয়। দু’তিন সপ্তাহে কাটা সম্পন্ন হয়। রাবার ব্যান্ড অথবা পেনরোজ ড্রেইন টিউবের সাহায্যে মাংসপেশীকে বেঁধে দেয়া হয়।
এ প্রযুক্তির কারণে স্থানীয়ভাবে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, যার কারণে মাংসপেশী দূরে সরে যায় না। এটি কত দিন পরপর ব্যবহার করতে হবে এবং কী কৌশল অবলম্বন করতে হবে তা বেশ বৈচিত্র্যময়। এটি নির্ভর করছে যে সার্জন অপারেশন করবেন তার ওপর। ইতোমধ্যে আমি চট্টগ্রামের একজন চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের অত্যন্ত জটিল একটি ফিস্টুলা অপারেশন করছি। এর আগে তিনি ১৯৯৪ সালে একজন অভিজ্ঞ সার্জন দ্বারা অপারেশন করান; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত সফল হয়নি। এরপর তিনি অপারেশনের জন্য আমেরিকা যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরে সিদ্ধান্ত পাল্টে আমাকে দিয়ে অপারেশন করান। তার তিনটি ফিস্টুলার মধ্যে দুটি অত্যন্ত জটিল ছিল। প্রথম দিন অপারেশনে আমি সিটন প্রয়োগ করি। সাত দিন পর এটি অপসারণ করে অন্যটিতে সিটন প্রয়োগ করি এবং এর ১৪ দিন পর দ্বিতীয় সিটনটি অপসারণ করে পুনরায় প্রয়োগ করি, যা সাত দিন পর আবার অপসারণ করি। তিনি সম্পূর্ণ ভাল হয়েছেন।
অপারেশনের সাফল্য
ফিস্টুলার প্রকারভেদের কারণে এর সাফল্য তুলনা করা কষ্টসাধ্য। এছাড়া রয়েছে বিভিন্ন সার্জনের বিভিন্ন অপারেশন কৌশল। কী কারণে ফিস্টুলা হয়েছিল তার ওপরও ফলাফল নির্ভর করে। সাফল্য এবং ব্যর্থতার মাপকাঠি হচ্ছে তিনটি- (ক) পুনরায় ফিস্টুলা হওয়া, (খ) ক্ষত শুকাতে অতিরিক্ত দেরি হওয়া, (গ) মল ও বায়ু ধরে রাখার অক্ষমতা। অপারেশনের ব্যর্থতার মূল কারণ হচ্ছে যদি সার্জন ফিস্টুলার ভেতরের মুখটি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন এবং এটি সম্পূর্ণ কেটে ফেলতে না পারেন। আমি এটি শনাক্ত করার চেষ্টা করি যখন রোগী আমাকে চেম্বারে দেখায় তখনই এবং অপারেশনের সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে আমি এটিকে শনাক্ত করতে চেষ্টা করি। তবে জটিল ফিস্টুলা আবার হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণত ৭-১৫ শতাংশ।

ফিস্টুলার চিকিৎসা
ফিষ্টুলা (ভগন্দর বা নালী ঘা) মলদ্বারের একটি বিশেষ রোগ। এ রোগ পায়ুপথের ভিতরে গ্রন্থির সংক্রমণের কারণে হয়ে থাকে। প্রথমত: সংক্রমণের কারণে মলদ্বারের পার্শ্বে ফোড়া হয়। বেশ কয়েকদিন ব্যথা থাকে এবং ফুলে যায়। এরপর এটি ফেটে গিয়ে মলদ্বারের পাশের কোন একটি জায়গা দিয়ে পুঁজ বেরিয়ে যায়। অতপর ব্যথা এবং ফুলা কমে যায়। রোগী বেশ কিছুদিন আরাম বোধ করেন। কিছু দিন ভাল থাকার পর হঠাৎ আবার মলদ্বার ফুলে যায় এবং ব্যথা হয়। দু’চারদিন পর পুরনো সেই মুখ দিয়ে আবার কিছু পুঁজ বের হয় এবং রোগী আরামবোধ করেন। চিকিৎসা না করা হলে এই প্রক্রিয়া বৎসরের পর বৎসর চলতে থাকে। পুঁজ পড়ার বিষয়টির তারতম্য ঘটে। সামান্য পুঁজ হলে রোগীরা এটিকে পুঁজ হিসাবে গণ্য করেন না। তখন তারা বলেন যে একটু আঠাল রস বের হয় বা মলদ্বারে একটু ভিজে যায় ইত্যাদি। পুঁজের সাথে সাধারণত: রক্ত যায় না। কিন্তু কখনো কখনো অল্প রক্ত যেতে পারে। মলদ্বারের চতুর্দিকে এক বা একাধিক মুখ দেখা দিতে পারে। তিন থেকে ছয়টি মুখ পর্যন্ত দেখেছি। রোগীরা প্রশ্ন করেন যে, এটি বিনা চিকিৎসায় বেশীদিন থাকলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে কিনা? ফিষ্টুলা দীর্ঘদিন থাকলেও ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে খুব কম ক্ষেত্রে হলেও হতে পারে। আর একটি বিষয় হচ্ছে পায়ুপথে ক্যান্সার বেশীদিন বিনা চিকিৎসায় থাকলে ফিষ্টুলা দেখা দিতে পারে। এরূপ পায়ুপথের ক্যান্সারের ফলে উদ্ভুত ফিষ্টুলার বেশ কয়েকজন রোগী দেখেছি।

ফিষ্টুলা বা ভগন্দর রোগের চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন। অনেক রোগী আছেন ১০-২০ বছর এ রোগে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা ভোগ করছেন কিন্তু অপারেশন করছেন না, কারণ হিসাবে বলেছেন যে, অপারেশন করলে নাকি আবার হয়, তাই অপারেশন করে আর লাভ কি? আবার অনেকে অপারেশনে ভয় পান। ভয় পেয়ে কেউ কেউ তথাকথিত বিনা অপারেশনে চিকিৎসার জন্য হাতুড়ে চিকিৎসকের কাছে যান। কোন কোন হাতুড়ে ডাক্তার ইনজেকশনের সাহায্যে ভাল করার নামে বিষাক্ত কেমিক্যাল ইনজেকশন দেন। এই ইনজেকশনে রোগী ভীষণ ব্যথা অনুভব করেন এবং মলদ্বারের মাংসের পচন ধরে গায়ে জ্বর আসে। এরপর ঐ হাতুড়ে ডাক্তারকে যদি বলা হয় যে, এত কষ্ট এবং এই পচন ধরবে একথা তো আগে বলেননি। তখন তিনি উত্তর দেন যে, এগুলো বললে আপনি ইনজেকশন নিতেন না। এ প্রক্রিয়ার ফলে মলদ্বারে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে থাকে যেমন মল আটকে রাখতে না পারা, মলদ্বার নীচে ঝুলে পড়া, মলদ্বার অতি সরু হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। এসব ভূক্তভোগী রোগীরা লোকলজ্জার এবং সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হবার কারণে এসব কথা ডাক্তার ছাড়া কারো কাছে প্রকাশ করেন না। পাইলসের চিকিৎসায় ও ইনজেকশন দেয়া হয় তাতে কারো টের পাবার কথা নয়। ব্যথা পাওয়ার প্রশ্নেই আসে না। আর সপ্তাহে একটি করে মোট সাতটি ইনজেকশন দেয়ার কোন প্রয়োজন নেই। আর একটি কথা মনে রাখা দরকার যে, পাইলস ছাড়া অন্যান্য রোগে ইনজেকশন দেয়ার জন্য বিধান নেই। তাই আপনার আগে জেনে নেয়া উচিত যে আপনার রোগটি আসলেই পাইলস কি না। এবার আসা যাক ফিষ্টুলা অপারেশন করলে আবার হয় কিনা এই প্রশ্নে। এক কথায় এর উত্তর দেয়া কঠিন। যেহেতু ফিষ্টুলার প্রকারভেদ রয়েছে এবং বিভিন্ন সার্জন ভিন্ন ভিন্ন অপারেশন কৌশল অবলম্বন করেন তাই এর সাফল্য তুলনা করা দুষ্কর। এছাড়া কি কারণে ফিষ্টুলা হয়েছিল তার উপরও ফলাফল নির্ভর করে। তবে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে খুব সংক্ষেপে বলতে হলে আমি বিগত নয় বছরের এ জাতীয় বহু অপারেশনের অভিজ্ঞতা থেকে বলব যে, জটিলই হোক বা বারে বারে হওয়া ফিষ্টুলাই হোক অপারেশনের পর আবার হওয়ার ধারণাটি অতিরঞ্জিত এবং কালেভদ্রে ঘটে। অপারেশনের পর আবার হওয়ার কারণগুলো পর্যালোচনা করা দরকার।
১। ফিষ্টুলার প্রকার ভেদ রয়েছে। যেমন সাধারণ ফিষ্টুলা ও জটিল ফিষ্টুলা। সাধারণ ফিষ্টুলা অপারেশন সহজসাধ্য। কিন্তু জটিল ফিষ্টুলা যেহেতু মলদ্বারের গভীরে মাংসপেশীর ভিতর প্রবেশ করে তাই এর চিকিৎসাও জটিল। এধরনের ফিষ্টুলা অপারেশন করতে বিশেষ ধরনের যন্ত্রপাতি থাকলে ভাল হয়। যেহেতু মলদ্বারের গভীরে প্রবেশ করে এবং এক ধাপে এই অপারেশন করলে রোগীর পায়খানা আটকে রাখার ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে তাই কয়েক ধাপে সিটন প্রয়োগের মাধ্যমে করলে অধিকতর সফলতা পাওয়া যায়।
২। ফিষ্টুলার নালীটি বিভিন্ন দিকে শাখা-প্রশাখা বিস্তুত করতে পারে। সেগুলো ধৈর্য্য সহকারে খুঁজে দেখতে হবে।
৩। ফিষ্টুলার ভিতরের মুখটি কোথায় তা সনাক্ত করতে হবে। অনেক সময় ভিতরের মুখ খুঁজে পাওয়া যায় না।
৪। জটিল ফিষ্টুলা অপারেশনে যথেষ্ট সময় হাতে নিয়ে ধৈর্য সহকারে সার্জনের কর্মসম্পাদন করা উচিত। যিনি প্রথম অপারেশন করেন তার হাতেই ভাল হওয়ার সর্বোত্তম সুযোগটি থাকে। বারবার অপারেশনে সাফল্যের সুযোগ কমতে থাকে।
৫। অভিজ্ঞ সার্জনগণের মতে, ফিষ্টুলা অপারেশনের পর সার্জনদের যত বদনাম হয়েছে অন্য কোন অপারেশনে এতটা হয়নি।
৬। অপারেশনের পর মাংস পরীক্ষা করা উচিত কারণ যদি এটি যক্ষ্মার কারণে হয়ে থাকে তাহলে যক্ষ্মার ওষুধ না খাওয়ানো পর্যন্ত এটি বার বার হতে থাকবে। আবার যদি ক্যান্সার ধরা পড়ে তাহলে বড় ধরনের অপারেশন করতে হবে।
৭। পরিপাকতন্ত্রের প্রদাহজনিত রোগ যেমন ক্রন’স ডিজিজ যদি সন্দেহ করা হয় তাহলে মলদ্বারের ভিতর কোলনস্কপি পরীক্ষা করে নেয়া উচিত। এতে যদি এই রোগ ধরা পড়ে তাহলে বিশেষ সতর্কতার সাথে ফিষ্টুলা অপারেশন করতে হবে।
৮। পায়ুপথে ক্যান্সারের কারণে ফিষ্টুলা হলে ক্যান্সারের অপারেশন করতে হবে।
৯। সাফল্য ও বর্থ্যতার মাপকাঠি হচ্ছে তিনটি: (ক) পুনরায় ফিষ্টুলা হওয়া (খ) ক্ষত শুকাতে অতিরিক্ত দেরী হওয়া (গ) মল ও বায়ু ধরে রাখার অক্ষমতা।
বিভিন্ন গবেষণা পত্রে দেখা যায় জটিল ফিষ্টুলা আবার হওয়ার সম্ভাবনা সাধারণত ৭-১৫% এবং সাধারণ ফিষ্টুলা আবার হওয়ার সম্ভাবনা ৪-৯%। ক্ষত শুকাতে দেরী হয় ৭% ক্ষেত্রে।

02/12/2018

কিডনি পাথর নিরাময়ে হোমিওপ্যাথি


প্রস্রাবে দ্রবীভূত ফসফেট, অক্সালেট, ইউরিক এসিড, ক্যালসিয়াম, ইউরেট প্রভৃতি পদার্থ থেকে গিয়ে মূত্রের সঙ্গে কিডনিতে দীর্ঘসময় অবস্থান করে। এভাবে দীর্ঘসময় অবস্থানের পর পাথরের আকার ধারণ করে এবং দিনে দিনে আরো বড় হতে থাকে। এক্স-রে পরীক্ষায় অনেক সময় ধরা না পড়লেও কিডনির ইউএসজি (আল্ট্রাসনোগ্রাফি) করলে পাথরের অবস্থান ধরা পড়ে।

রোগ লক্ষণাদি : কিডনি এলাকায় তীব্র ব্যথা (পিঠের দিকে) অনুভূত হয়। বেশি জোরে হাঁটাচলা বা ঝাঁকিতে ব্যথা বাড়ে। পাথর আপনা হতেই নিচের দিকে অর্থাৎ বের হওয়ার চেষ্টা করে তখন ব্যথা তীব্রতর হয় এবং কুচকি, পেটে ও লিঙ্গে ব্যথা ছড়িয়ে পড়ে। রোগী ঘামতে থাকে এবং বমি করে। ঘনঘন অল্পমাত্রায় তীব্র জ্বালাকর প্রস্রাব হয় এবং মূত্র বন্ধও হতে পারে। প্রচণ্ড শীত অনুভব এবং জ্বর আসে। রোগীর মুখে ফ্যাকাশে ভাব এবং অস্থিরতায় ভোগে, মূত্রের সাথে কখনো কখনো রক্তও আসতে পারে। কিডনির স্থানে টিপলে পিঠ ও তলপেটের মাংসপেশি শক্ত মনে হয়। ব্যথার তীব্রতা থেমে গেলেও রোগী ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

হোমিওপ্যাথিক প্রতিবিধান : কিডনি রোগে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ অত্যন্ত কার্যকরী। নিম্নে তা সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।

(১) প্রদাহ বা পাথুরীজনিত কিডনি শূল। কিডনি প্রদেশের প্রচণ্ড বেদনা ইউরেটার বাহিরে মূত্রস্থলীতে বিস্তৃত হয়। শ্বাস গ্রহণেও বৃদ্ধি। হঠাৎ মূত্রবেগ এবং মূত্র ত্যাগকালে জ্বালা ও মূত্রনালীর মধ্যে স্ফীতিবোধ। মূত্রের বর্ণ ঘোর এবং রক্ত বা কিডনির এপিথেলিয়াম এবং ইউরিক এসিড যুক্ত। রোগীর মুখমণ্ডল শুষ্ক ও ঘোর বর্ণে আর্জেন্টাম নাইট্রিকাম ভালো ফলদায়ক।

(২) তীব্র বেদনা মূত্রস্থলীর মধ্য দিয়ে পাদদেশ পর্যন্ত প্রবাহিত হলে বার্বেরিস নির্দিষ্ট।

(৩) কটিদেশে চাপবোধ। ঝাঁকনি লাগলে কিডনি ও কটিদেশে বেদনাবোধ। মূত্রস্থলীর মধ্যে পাথুরী। মূত্রস্থলী মধ্যে কুন্থনবেগ ও পুনঃ পুনঃ মূত্রবেগও নালীমধ্যে জ্বালাবোধে ক্যালকেরিয়া কার্ব ভালো কাজ দেয়। ক্যালকেরিয়া পাথুরী পীড়ার একটা প্রতিষেধক ওষুধ।

(৪) ক্যান্থারিস- কিডনি শুল নিবারণের পক্ষে এটি শ্রেষ্ঠ ওষুধগুলোর মধ্যে অন্যতম। এটি স্থানীয় উত্তেজনা হ্রাস করে বিনা ক্লেশে পাথুরী নির্গমনে সহায়তা করে।

(৫) বিন্দু বিন্দু মূত্রত্যাগ। মূত্রে শ্লেষ্মা ও লিথেটস এর আধিক্য। উভয় কিডনিতে ও মূত্রস্থলীতে অতীব্র, গভীর বেদনা ও জ্বালা যন্ত্রণাতে ইউপেটেরিয়াম পার্পিউরিয়াম ফলদায়ক।

(৬) মূত্র ত্যাগের পূর্বে কটিদেশে তীব্র বেদনা এবং তা মূত্র ত্যাগের পর উপশম। মূত্র ঘোলা, দুগ্ধবৎ এবং দুর্গন্ধময় তলানি যুক্ত। মূত্রমধ্যে পাথুরী নির্গমন ও প্রদাহে লাইকোপোডিয়াম ভালো কাজ দেয়।

(৭) মূত্রনালী মধ্যে তীব্র যন্ত্রণা এবং পাথুরী নির্গমনবৎ অনুভূতি ও যন্ত্রণার সময়ে বরফ পানের ইচ্ছা ও লিঙ্গমূলে আড়াআড়িভাবে কর্তনবৎ তীব্র বেদনায় মেডোরিনাম ব্যবহৃত হয়।

(৮) মূত্রে যদি অক্সালিক এসিড বর্তমান থাকে এবং এটিই যদি পাথুরীর প্রধান উপাদান হয় তবে কিডনিতে নাইট্রিক এসিড ব্যবহার্য। এ ছাড়া ক্যালকেরিয়া রিনালিস, এপিজিয়া রেপেন্স, এরিজেরন, নাক্সভমিকা, সার্সাপ্যারিলা, প্যারেরা ব্রেভা, সলিডেগো, ট্যাবাকাম, ডায়োস্কোরিয়া, ইকুইসেটাম, বেলেডোনা, বেজ্ঞায়িক এসিড উল্লেখযোগ্য।

# #ভাল লাগলে বেশি বেশি শেয়ার করবেন। # #

জার্মান হোমিও কমপ্লেক্স। গেইট পাড়,জামালপুর।

20/11/2018

Your search - হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণকালীন আপনার করনীয়আপনার করনীয়:১. খালি পেটে ঔষধ সেবন করবেন। ঔষধ সেবনের আগে ১ ঘণ্টার মধ্যে ও সেবনের পরে আধা ঘন্টার মধ্যে কিছু খাবেন না। ২. আপনার সহ্য হয় এমন পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাদ্য খাবেন। ৩. প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় সময় আহার করবেন ও নিদ্রায় যাবেন। ৪. দৈনিক কমপক্ষে ৬ ঘন্টা ঘুমাবেন। ৫. দৈনিক প্রচুর শীতল পানি পান করবেন (৪ থেকে ৫ লিটার)। ৬. নির্দোষ বিনোদন ও খেলাধুলায় অংশ নিতে পারেন। ৭. প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় কমপক্ষে ১ ঘন্টা খোলা বাতাসে হাঁটবেন। সাধ্যমত শারীরিক পরিশ্রম করবেন। ৮. সব সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকবেন ও মনকে প্রফুল্ল রাখার চেষ্টা করবেন। ৯. মন থেকে সকল প্রকার কুচিন্তা বাদ দিয়ে ধর্মীয় জীবন-যাপনের চেষ্টা করবেন।হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা গ্রহণকালীন যা করা নিষেধ:১. ঔষধ সেবনের আগে ১ ঘণ্টার মধ্যে ও সেবনের পরে আধা ঘন্টার মধ্যে কিছু খাবেন না। ২. ঔষধ খাওয়ার পরে ১ ঘণ্টার মধ্যে কোন প্রকার কষ্টকর শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম করবেন না। ৩. কোন প্রকার সুগন্ধি দ্রব্য, দাঁতের মাজন বা পেষ্ট ব্যবহার করবেন না। ৪. টক ও টকজাতীয় দ্রব্য, নোনা মাছ, মদ, চা, কফি, তামাকসহ সকল উত্তেজক দ্রব্য এবং যে সব খাদ্য খেলে আপনার রোগ বাড়ে তা খাবেন না। ৫. কুরুচিপূর্ণ বই-পুস্তক পাঠ ও কামোদ্দীপক আলাপ আলোচনা করবেন না

Address

Jamalpur
Jamalpur Sadar Upazila
2000

Opening Hours

Monday 09:00 - 17:00
Tuesday 09:00 - 17:00
Wednesday 09:00 - 17:00
Thursday 09:00 - 17:00
Saturday 09:00 - 17:00
Sunday 09:00 - 17:00

Telephone

01712929864

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when German homoeo complex posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Practice

Send a message to German homoeo complex:

Shortcuts

Share

Category