26/09/2026
A case of epileptic convulsion.
অনেক দিন আগের কথা হোমিওপ্যাথি জীবনের প্রথম দিকের ঘটনা। ১৯৯০ সাল। সবেমাত্র ডি এইচ এম এস প্রথম বর্ষের ছাত্র। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জন্য গিয়েছিলাম, মাস্টার্সে ভর্তি না হয়েই ভর্তি নিয়েছিলাম হোমিওপ্যাথিতে। প্রচুর পড়াশোনা করতাম, ওই সময় থেকেই হোমিও জগতের প্রচুর বই আমি কালেকশন করেছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল একজন বিখ্যাত চিকিৎসক হব। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন, ভালো ডাক্তার হওয়া স্বনামধন্য চিকিৎসা হওয়া প্রচুর গবেষণা এবং স্টাডির বিষয়, এ ব্যাপা
রে আমি ব্যর্থ বললে খুব একটা বেশি বলা হবে না।
ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি কিন্তু তার অনেক আগ থেকেই আমি মেটিরিয়া মেডিকা, এনাটমি ফিজিওলজি বায়োলজি, ইত্যাদি বই অনেকটা পড়াশোনা পারতাম। বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়াতে এগুলো বুঝতে খুব একটা অসুবিধা হতো না।
তখন সামান্য দুই একটা রোগী দেখতাম, এবং গভীর মনোযোগ সহকারে মেটিয়া মেডিকা বেশি পড়তাম।
এ অবস্থায় হঠাৎ করে একদিন একটা রোগী আসে।
ফিটের রোগী বয়স 11 বছর। এডোলেসন্স গার্ল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে ১০ থেকে ১৫ বছর এদেরকে এডোলেসেন্স বলা হয়।
এই সময় মেয়েদের ফিজিক্যাল গ্রোথ হয়। মেয়েদের ব্রেস্ট ডেভেলপমেন্ট হয়। শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোম গজাই।
মিনিস্ট্রেশন সাইকেল শুরু হয়। মেন্টাল এন্ড ইমোশনাল চেঞ্জ হয়। শরীরের অনেক বায়োলজিক্যাল চেঞ্জ আসে।
গ্রামীন এলাপাতি ডাক্তার বিভিন্ন রকম মেডিসিন
ইনজেকশন ইত্যাদি প্রয়োগ করেন কিন্তু তাতে কোন পরিবর্তন হয় নাই, রোগীর বাড়ির আশেপাশে প্রচুর লোকজন বড় হয়ে গেছে।
৩-৪ জন মিলে জোর করে ধরাধরি করে এই বালিকাকে আমার সামনে আনা হয়। প্রচন্ড ফিট। violent convolutions. সমস্ত শরীর লোহার মতো শক্ত হয়ে যাচ্ছে, হাত-পা বেঁকে যাচ্ছে, দাঁত লেগে যাচ্ছে, মাঝে মাঝে সেন্সলেস হয়ে যাচ্ছে, unconsciousness.
মানুষ মনে করে আমি হয়তো বড় ডাক্তার হয়ে গেছি, কিন্তু আমার বিদ্যার জোর তো খুব সীমিত,
কিন্তু মেটেরিয়া মেডিকার একটি কথা আমার মনে পড়ল, হাত-পা ধনুকের মতো বেঁকিয়ে যাচ্ছে, মাথা ঘাড় পিছন দিকে বেঁকিয়ে যাচ্ছে, স্পর্শ করিলে বৃদ্ধি, আমি যত গা স্পর্শ করছি ততই কনভালশান বেড়ে যাচ্ছে।
আমি আল্লাহর নাম করে cicuta virosa 200 একটা কাচের শিশিতে পানির ভিতর দিলাম দুই ফোটা। বলে দিয়ে দিলাম। ১০ মিনিট অন্তর অন্তর সামান্য পরিমান দুই চামচ করে খাওয়াতে, তিন চারবার খাওয়ানোর পরেই মারাত্মক প্রকৃতি সেই আক্ষেপ বন্ধ হয়ে গেল।
যাদুবিদ্যার মতো অপলক দৃষ্টিতে রোগী শিহরে বসিয়া, উপস্থিত লোকের মত আমিও পরিবর্তনগুলো লক্ষ্য করিলাম। ধীরে ধীরে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসিল, বালিকা নিতান্ত অ স্পষ্ট ও ক্ষীন কন্ঠে পানি চাহিল।মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে অদ্ভুত পরিবর্তন হইল।
রোগীর
অভিভাবক রাত্রির জন্য আরো ঔষধ চাহিলেন, আমি বলিলাম আর কোন ঔষধ লাগবে না।
আমার তরুণ জীবনের প্র্যাকটিস লাইফের এই ঘটনা এখনো আমার জীবনে, এখনো আমার হৃদয়ে গভীরভাবে দাগ কেটে আছে। অন্ধকার
গ্রামীণ মেঠোচলা পথ ধীরে ধীরে ঘোর অন্ধকারের কৃষ্ণ চাদরেঢেকে গেল, ধীর পদক্ষেপে আনন্দিত মনে মহাত্মা হ্যানিম্যানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিলাম।