16/09/2026
ছাত্রদল নেতা আমানুল্লাহ আমান কি আসলেই ছাত্রদলের নেতা নাকি আওয়ামী লীগের গুপ্ত সেটা আমার সন্দেহ হয়। আওয়ামী লীগ নেতা আমানুল্লাহ আমান বলেছেন, শিবিরের দুই গ্রুপের কোন্দলে আব্দুল মালেক দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি এই ন্যারেটিভ ছড়িয়ে আওয়ামী লীগের পাপ বা অপকর্ম ভুলাতে চাচ্ছেন।
চলুন জেনে নেই শাহিদ আব্দুল মালেক কে দুনিয়া থেকে বিদায় করার মূল ঘটনা। শহীদ আব্দুল মালেক ইসলাম পন্থী ছিল এজন্য নাস্তিক্যবাদী ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন আব্দুল মালেককে শহীদ করেছে ঘটনা এতটা সিম্পল নয়।
১৯৬৯ সালে এয়ার মার্শাল নুর খানের নেতৃত্বে পাকিস্তান সরকার "নূর খান শিক্ষা কমিশন" গঠন করেন। এই কমিশনের মূল লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের প্রচলিত ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা সংস্কার করে জাতীয় সংহতি রক্ষা করা, বেকারত্ব কমানো এবং শিক্ষার মান উন্নয়ন করা।
তৎকালীন পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এই শিক্ষানীতি নিয়ে আলোচনা হয়। সবাই এই শিক্ষা নীতিকে স্বাগত জানাই কিন্তু ছাত্র ইউনিয়ন এবং ছাত্রলীগ বেঁকে বসে। ১৯৬৯ সালের ২ এ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আলোচনা সভা হয়, সেখানে ইউনিয়ন লীগের বক্তারা দাবি করে শিক্ষাব্যবস্থা হতে হবে সেকুলার। পাকিস্তান আমাদের উপর তাদের ভ্যালুজ চাপিয়ে দিতে চাই।
তখন ছাত্র সংঘের ঢাবি সভাপতি আব্দুল মালেক তার বক্তব্যে বলেন -
"একটি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা কোন আদর্শিক শূন্যতার উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। পাকিস্তানের শিক্ষা ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হওয়া উচিত ইসলামের আদর্শিক চেতনা। দেশে প্রচলিত ব্রিটিশ সেকুলার মেকলে শিক্ষাপদ্ধতি কিছু ব্রাউন ইংলিশ ম্যান তৈরি করেছে যারা এদেশের মানুষের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে বিচ্ছিন্ন। তারাই ধর্মহীন শিক্ষার কথা বলছে। "
শহীদ আব্দুল মালেক উল্লেখ করেন ইউনিয়ন লীগ Common values এর ব্যাপারটা বুঝে নাই। Common Values এবং One set of values এর মধ্যে পার্থক্য আছে। সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার মতো জোরপূর্বক কোন একক সংস্কৃতি চাপিয়ে না দিয়ে স্থানীয় সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়ে অভিন্ন নৈতিক ও আদর্শিক কাঠামোর অধীনে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।