11/07/2026
প্লুরাল বায়োপসি (Pleural Biopsy) হলো ফুসফুসের চারপাশের পাতলা ঝিল্লি বা পর্দা (Pleura) থেকে টিস্যুর নমুনা সংগ্রহের একটি বিশেষ চিকিৎসা পদ্ধতি। ফুসফুসের বিভিন্ন জটিল রোগ নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করার জন্য এই পরীক্ষাটি করা হয়ে থাকে।
নিচে এই পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং থোরাকোস্কোপিক পদ্ধতির সুবিধাসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
🩺 প্লুরাল বায়োপসি কাদের করা হয়?
সাধারণত যাদের ফুসফুসের পর্দায় কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, তাদের এই বায়োপসি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। বিশেষ করে:
প্লুরাল ইফিউশন (Pleural Effusion): যাদের ফুসফুসে পানি জমেছে এবং সাধারণ পরীক্ষার (পানি পরীক্ষা বা CT স্ক্যান) মাধ্যমে তার সঠিক কারণ জানা যায়নি।
টিবি বা যক্ষ্মা (Tuberculosis): ফুসফুসের পর্দায় দীর্ঘস্থায়ী যক্ষ্মার সংক্রমণ সন্দেহ করা হলে।
ক্যান্সার শনাক্তকরণ (Malignancy): ফুসফুস বা ফুসফুসের পর্দায় কোনো টিউমার, ক্যানসার (যেমন: মেসোথেলিওমা) বা অস্বাভাবিক টিস্যু বৃদ্ধির আশঙ্কা থাকলে।
অস্পষ্ট লক্ষণ: এক্স-রে বা সিটি স্ক্যানে ফুসফুসের পর্দায় কোনো দাগ, পুরুত্ব (Pleural Thickening) বা নোডিউল দেখা গেলে।
🌟 থোরাকোস্কোপিক প্লুরাল বায়োপসির সুবিধাসমূহ
থোরাকোস্কোপিক বায়োপসি (Thoracoscopic/VATS Biopsy) হলো একটি আধুনিক এবং ন্যূনতম আক্রমণাত্মক (Minimally Invasive) পদ্ধতি, যেখানে ক্যামেরাযুক্ত একটি ছোট নমনীয় টিউব বুকের দেওয়ালে ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়। সনাতন ওপেন সার্জারির তুলনায় এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
সরাসরি পর্যবেক্ষণ (Direct Visualisation): ক্যামেরা ব্যবহারের কারণে চিকিৎসক বুকের ভেতরের অবস্থা সরাসরি স্ক্রিনে দেখতে পান। ফলে ঠিক কোন জায়গার টিস্যুটি অস্বাভাবিক, তা নিখুঁতভাবে দেখে সেখান থেকেই নমুনা নেওয়া যায় (Targeted Biopsy)।
উচ্চ নির্ভুলতা (High Diagnostic Yield): অন্ধভাবে বা শুধু সুচ দিয়ে করা বায়োপসির চেয়ে এর নির্ভুলতার হার অনেক বেশি (প্রায় ৯0%-৯৫%)। ভুল বা কম নমুনা আসার ঝুঁকি থাকে না বললেই চলে。
একই সাথে চিকিৎসা (Therapeutic Benefit): এই পদ্ধতিতে বায়োপসি করার পাশাপাশি ফুসফুসে জমে থাকা পানি বা পুঁজ নিষ্কাশন করা যায়। এমনকি পুনরায় যেন পানি না জমে, তার জন্য 'প্লুরোডেসিস' (Pleurodesis) চিকিৎসাও একই সেশনে সম্পন্ন করা সম্ভব।
ছোট ছেদ ও কম দাগ: এতে বুক কেটে বড় কোনো অস্ত্রোপচার করতে হয় না। মাত্র একটি বা দুটি ছোট ছিদ্রের মাধ্যমেই পুরো কাজ শেষ করা যায়।
কম ব্যথা ও দ্রুত সুস্থতা: বড় ধরনের কাটাছেঁড়া না হওয়ায় রোগীর অপারেশনের পরবর্তী ব্যথা অনেক কম হয় এবং রোগী খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতে পারেন।
স্বল্পকালীন হাসপাতাল অবস্থান: ওপেন সার্জারির মতো রোগীকে দীর্ঘ সময় হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হয় না। সাধারণত ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যেই ছুটি পাওয়া সম্ভব হয়।