01/06/2026
বাচ্চার স্ক্যাবিস কেনো ভালো হচ্ছে না?
বর্তমান সময়ে বহুল আলোচিত একটি চর্মরোগ হচ্ছে "স্ক্যাবিস" বা খোসপাঁচড়া। ইদানীং বড়দের তুলনায় এই রোগে বেশি ভুক্তভোগী হতে দেখা যাচ্ছে ছোট বাচ্চাদের।
স্ক্যাবিস মূলত Sarcoptes scabiei hominis নামক এক ধরণের ক্ষুদ্র পরজীবীর কারণে হয়, যা ত্বকের নিচে গর্ত করে বাস করে।
সাধারণ লক্ষনগুলো হতে পারে ঘামাচির মত লাল দানা বা ফুসকুড়ি বা র্যাশ যেগুলো দেখা দিতে পারে সাধারণত হাতে, পায়ে,পেটে,বগলে,কুচকিতে,
গোপনাংগে (বাচ্চাদের ক্ষেত্রে অনেক সময় মুখে,মাথায়) এবং এই র্যাশ গুলোতে থাকে প্রচুর চুলকানি যা রাতের বেলায় মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। সাধারণত এটা ছোঁয়াচে রোগ।পরিবারের একজনের সংক্রমণ হলে বাকিদের ও ধীরে ধীরে আক্রান্ত করে থাকে।
বাচ্চাদের স্ক্যাবিস ভালো না হওয়ার কিছু সম্ভাব্য কারণ হতে পারে :
# # # ১. পুনঃসংক্রমণ (Re-infection)
স্ক্যাবিস রোগটা একজনের হলেও চিকিৎসা করাতে হয় একই সাথে পরিবারের সব সদস্যদের যেহেতু এটা মারাত্মক ছোঁয়াচে। সুতরাং এটা ভালো না হওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো পরিবারের সবার একসাথে চিকিৎসা না করা। যদি বাচ্চার চিকিৎসা করা হয় কিন্তু পরিবারের অন্য কারো শরীরে এই জীবাণু থেকে যায় (যাদের হয়তো এখনো চুলকানি শুরু হয়নি), তবে তাদের কাছ থেকে বাচ্চার শরীরে আবার জীবাণু ফিরে আসতে পারে।
# # # ২. সঠিক নিয়ম মেনে ওষুধ ব্যবহার না করা
ডাক্তারের দেওয়া ঔষধ (লোশন বা ক্রিম) ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু ভুল হতে পারে:
* **পুরো শরীরে না লাগানো:** ওষুধ শুধু চুলকানির জায়গায় নয়, বরং গলা থেকে পায়ের তলা (আঙুলের ডগা) পর্যন্ত পুরো শরীরে মাখতে হয়।খেয়াল রাখতে হবে যেনো শরীরের কোন ভাঁজ বাকি না থাকে।
* **পর্যাপ্ত সময় না রাখা:** সাধারণত লোশন লাগিয়ে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা রাখতে হয়। এর আগেই ধুয়ে ফেললে কাজ হবে না।
* **হাত ধোয়া:** ওষুধ লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেললে আঙুলের ফাঁকে জীবাণু থেকে যেতে পারে। হাত ধুলে সেখানে আবার ওষুধ লাগাতে হবে।(ছোট বাচ্চারা মুখে হাত দেয় সুতরাং তাদের ক্ষেত্রে ঘুমানোর পর হাতে লাগিয়ে দিতে হবে)
# # # ৩. জামাকাপড় ও বিছানা জীবাণুমুক্ত না করা
শুধু শরীর পরিষ্কার করলেই হবে না, আক্রান্ত ব্যক্তি যা কিছু স্পর্শ করেছেন (বিছানার চাদর, তোয়ালে, বালিশের কভার, মশারী,কাঁথা, ব্যবহৃত কাপড়) সেগুলো গরম পানিতে ধুয়ে কড়া রোদে শুকাতে হবে। যা ধোয়া সম্ভব নয়, তা প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে অন্তত ৩ দিন মুখ বন্ধ করে আলাদা রাখতে হবে যাতে জীবাণুগুলো মারা যায়।(স্ক্যাবিস এর জীবানু মানুষের শরীরের বাইরে ২-৩ দিন বাঁচতে পারে)
# # # ৪. ওষুধের কার্যকারিতা কমে যাওয়া(Resistance)
কখনো কখনো সাধারণ ওষুধে কাজ না-ও হতে পারে। সেক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শে অন্য ধরণের ওষুধ বা মুখে খাওয়ার ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে।
# # # ৫. চুলকানি বনাম সংক্রমণ
স্ক্যাবিসের জীবাণু মরে যাওয়ার পরও ত্বকে এলার্জিক রিঅ্যাকশনের কারণে ২-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত চুলকানি থাকতে পারে। একে "পোস্ট-স্ক্যাবিটিক ইচ" বলা হয়। এর মানে এই নয় যে চিকিৎসা ব্যর্থ হয়েছে। তবে যদি নতুন করে ছোট ছোট দানা বা র্যাশ দেখা দেয়, তবে বুঝতে হবে সংক্রমণ এখনো আছে।
# # # করণীয়:
* পরিবারের **প্রত্যেক সদস্যের** (উপসর্গ থাকুক বা না থাকুক) একই দিনে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।
* নখ ছোট করে কেটে রাখতে হবে যাতে চুলকানোর সময় ক্ষত না হয়।
* সেকেন্ডারি ইনফেকশন (যেমন পুঁজ হওয়া) থাকলে অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিকের ও প্রয়োজন হয়।
* সুতরাং নিজেকে এবং বাচ্চাদেরকে পরিষ্কার রাখুন,ডাক্তারের পরামর্শ মেনে সঠিক চিকিৎসা নিন আর স্ক্যাবিস থেকে মুক্তি পান।