08/06/2026
PLID (Pr*****ed Lumbar Intervertebral Disc)**-এর চিকিৎসায় ব্যথা কমানোর জন্য পেলভিক ট্র্যাকশন (Pelvic Traction) একটি পরিচিত পদ্ধতি। তবে সব অবস্থায় এটি দেওয়া যায় না। কিছু নির্দিষ্ট কন্ডিশনে ট্র্যাকশন দিলে রোগীর ক্ষতি হতে পারে, যেগুলোকে **Contraindications** বা "নিষেধাজ্ঞা" বলা হয়।
নিচে এই কন্ডিশনগুলো সহজ ভাষায় আলোচনা করা হলো:
# # ১. মেরুদণ্ডের কাঠামোগত জটিলতা (Structural Contraindications)
* **সিকুয়েস্ট্রেটেড ডিস্ক (Sequestrated Disc):** যদি ডিস্কের ফেটে যাওয়া অংশটি মূল ডিস্ক থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে বাইরে চলে আসে, তবে ট্র্যাকশন দিলে সেই টুকরোটি আরও ভেতরে ঢুকে গিয়ে নার্ভের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
* **কঅডা ইকুইনা সিন্ড্রোম (Cauda Equina Syndrome):** এটি একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি। যদি ডিস্ক প্রোল্যাপ্সের কারণে প্রস্রাব-পায়খানার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যায়, মলদ্বারের চারপাশ অবশ হয়ে যায় এবং দুই পায়ে তীব্র দুর্বলতা দেখা দেয়, তবে ট্র্যাকশন দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এর জন্য জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।
* **মেরুদণ্ডের তীব্র অস্থিতিশীলতা (Spinal Instability):** যদি মেরুদণ্ডের একটি হাড় আরেকটি হাড়ের ওপর থেকে অনেকখানি পিছলে যায় (যেমন: Spondylolisthesis) বা মেরুদণ্ডে কোনো ফ্র্যাকচার (হাড় ভাঙা) থাকে, তবে ট্র্যাকশন দিলে হাড় আরও সরে যেতে পারে।
* **তীব্র স্পাইনাল স্টেনোসিস (Severe Spinal Stenosis):** যখন মেরুদণ্ডের ভেতরের স্নায়ু চলাচলের রাস্তাটি এমনিতেই খুব সংকীর্ণ হয়ে থাকে, তখন ট্র্যাকশন দিলে অনেক সময় নার্ভের ওপর চাপ উল্টো বেড়ে যেতে পারে।
# # ২. হাড়ের নিজস্ব রোগ বা ক্ষয়
PLID-এর পাশাপাশি যদি মেরুদণ্ডের হাড়ে নিচের সমস্যাগুলো থাকে, তবে ট্র্যাকশন দেওয়া যাবে না:
* **অস্টিওপোরোসিস (Osteoporosis):** হাড় যদি অতিরিক্ত দুর্বল বা ভঙ্গুর হয়ে যায়, তবে ট্র্যাকশনের টান সহ্য করতে না পেরে হাড় ভেঙে যেতে পারে।
* **মেরুদণ্ডের টিউমার বা ক্যানসার:** টিউমার বা ক্যানসারের কারণে হাড় দুর্বল হয়ে থাকলে ট্র্যাকশন দেওয়া যাবে না।
* **মেরুদণ্ডের ইনফেকশন:** যেমন স্পাইনাল টিউবারকিউলোসিস (টিবি) বা অস্টিওমাইলাইটিস।
# # ৩. শারীরিক ও অন্যান্য শারীরিক অবস্থা
পেলভিক ট্র্যাকশন দেওয়ার সময় রোগীর পেট ও কোমরের চারপাশে খুব শক্ত করে বেল্ট বা হার্নেস বাঁধা হয়। এর ফলে পেট ও বুকের ভেতরের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তাই নিচের রোগীদের ট্র্যাকশন দেওয়া নিষিদ্ধ:
* **গর্ভাবস্থা (Pregnancy):** পেটে অতিরিক্ত চাপের কারণে গর্ভস্থ শিশুর ক্ষতি হতে পারে।
* **হার্ট ও ফুসফুসের তীব্র সমস্যা:** পেটে ও বুকে বেল্টের চাপের কারণে রোগীর শ্বাসকষ্ট হতে পারে এবং হার্টের রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে (যেমন: Severe COPD বা Heart Failure)।
* **হার্নিয়া বা অ্যাওর্টিক অ্যানিউরিজম:** পেটে বড় হার্নিয়া থাকলে বা পেটের প্রধান রক্তনালী ফুলে থাকলে (Aneurysm) ট্র্যাকশনের চাপে তা ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
* **অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ:** ট্র্যাকশন নেওয়ার সময় ব্যথার কারণে বা শরীরের পজিশনের কারণে রক্তচাপ হঠাৎ অনেক বেড়ে যেতে পারে।
# # ৪. কখন ট্র্যাকশন তাৎক্ষণিক বন্ধ করতে হবে?
ট্র্যাকশন চলাকালীন যদি রোগীর নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে চিকিৎসা সাথে সাথে বন্ধ করতে হবে:
* **ব্যথা নিচের দিকে নামলে (Peripheralization):** ব্যথা যদি কোমর থেকে আরও নিচের দিকে বা পায়ের আঙুল পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।
* **অবশ ভাব বা দুর্বলতা বাড়লে:** যদি পায়ে অবশ ভাব বা ঝিনঝিন করা বা পায়ের শক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ আরও বেড়ে যায়।
ডাঃ মোঃ নাসির উদ্দিন
বিপিটি (ডিইউ), পঙ্গু হাসপাতাল
কনসালটেন্ট (ফিজিওথেরাপি)
প্রঃসেঃসাঃকে, মাদারীপুর
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
বাত, ব্যথা, প্যারালাইসিস মেরুদন্ড ও হাড়জোড়া রোগের ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ।