02/08/2026
ডায়াবেটিস বর্তমান সময়ে একটি নীরব মহামারি, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের প্রায় প্রতিটি অঙ্গকে ধরে।
ডায়াবেটিক ফুট, যা মূলত পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথি এবং পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ এর ফলশ্রুতিতে তৈরি হয়। রক্তে দীর্ঘসময় ধরে গ্লুকোজের মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে স্নায়ু বা নার্ভগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে পায়ে সংবেদনশীলতা কমে যায়। একই সাথে মাইক্রো ও ম্যাক্রোভাসকুলার কমপ্লিকেশন বা রক্তনালীর সংকুচিত হওয়ার কারণে পায়ে রক্তপ্রবাহ মারাত্মকভাবে হ্রাস পায়। এই কারণে ছোট্ট একটি আলসার বা সামান্য ক্ষতও পরবর্তীতে গ্যাংগ্রিন(পচে) এবং অ্যামপুটেশন বা অঙ্গহানির মতো মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।
আজকে কথা বলবো ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যাক্তির পায়ে এমন ১০টি লক্ষন নিয়ে।
☑️ পায়ের পাতায় যদি প্রায়ই অবশ ভাব, অসাড়তা কিংবা পিন ফোটার মতো সুই খোঁচার অনুভূতি হয়, তবে তা ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির প্রাথমিক লক্ষণ।
☑️ হাঁটার সময় বা সামান্য শারীরিক পরিশ্রমে যদি পায়ের মাংসে বা পেশিতে তীব্র টান, ক্র্যাম্প বা ব্যথা অনুভূত হয় এবং কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিলে তা আবার কমে যায়, তবে তাকে ইন্টারমিটেন্ট ক্লডিকেশন বলে। এটি পেরিফেরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ (PAD) এর কারণে পায়ে কম রক্ত সরবরাহের স্পষ্ট ইঙ্গিত।
☑️ পায়ের পাতার ত্বকের স্বাভাবিক রঙ পরিবর্তন হয়ে যদি অতিরিক্ত ফ্যাকাশে, নীলচে বা কালচে হতে শুরু করে এবং চামড়া কাগজ বা পার্চমেন্ট পেপারের মতো পাতলা ও চকচকে হয়ে যায়, তবে বুঝতে হবে টিস্যুগুলোতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছাচ্ছে না।
☑️ যদি নিয়মিত পায়ে বা গোড়ালির চারপাশে পানি জমে ফুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়।
☑️ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ঠান্ডা অনুভূত হলে বুঝতে হবে সেই পায়ে মাইক্রোভাসকুলার বা ম্যাক্রোভাসকুলার সার্কুলেশনে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে এ ধরনের তাপমাত্রা হ্রাসের ঘটনা ঘটে।
☑️ কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই পায়ে ছোট বা বড় ফোসকা বা ব্লিস্টার দেখা দেওয়া এবং সেখানে কোনো ব্যথা না হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
☑️ পায়ের তালুর নির্দিষ্ট কোনো স্থানে অতিরিক্ত ঘর্ষণের ফলে কলাস বা শক্ত চামড়ার সৃষ্টি হতে পারে। এই কালাসের নিচে যদি কোনো কারণে রক্ত জমাট বাঁধে বা হেমোরেজ দেখা দেয়, তবে তা অবহেলা করলে ভেতরে ভেতরে ইনফেকশন বা অস্টিওমাইলাইটিস ছড়িয়ে পড়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।
☑️ পায়ের আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে চামড়া ফেটে যাওয়া, লালচে হওয়া বা ক্যান্ডিডা জাতীয় ফাঙ্গাল ইনফেকশন এবং পায়ের নখ হলুদ হয়ে যাওয়া, মোটা হয়ে যাওয়া বা নখ কুঁকড়ে যাওয়ার সমস্যা থাকলে তা অবিলম্বে চিকিৎসা করাতে হবে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই ইনফেকশনগুলো খুব দ্রুত সেলুলাইটিস এ রূপ নিতে পারে।
☑️ পা থেকে যদি কোনো ধরনের অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ বের হয় কিংবা কোনো ক্ষত বা ফাটল থেকে পুঁজ বা সেরাস ডিসচার্জ নির্গত হতে দেখা যায়, তবে ধরে নিতে হবে সেখানে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন বা সেকেন্ডারি ইনফেকশন শুরু হয়ে গেছে। এটি ডায়াবেটিক ফুট সেপসিসের পূর্বলক্ষণ।
☑️ পায়ের পাতার ওপরের অংশে হাত দিয়ে ডরসাল পেডিস আর্টারি এবং গোড়ালির ভেতরের দিকে পোস্টেরিয়র টিবিয়াল আর্টারির পালস বা স্পন্দন অনুভব করার চেষ্টা করুন। যদি এই পালসগুলো দুর্বল হয় বা সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকে, তবে বুঝতে হবে ধমনীতে মারাত্মক ব্লকেজ বা অবস্ট্রাকশন রয়েছে, যা ভাসকুলার সার্জারির মূল্যায়ন দাবি করে।
ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে আয়না দিয়ে নিজের পা ভালো করে পরীক্ষা করা উচিত। সামান্যতম ক্ষত, ফোসকা বা পরিবর্তন দেখা দিলে নিজে ঘরে চিকিৎসা না করে তাৎক্ষণিকভাবে একজন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন। সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন।
ডা. মো.ইউসুফ আলী
এম.বি.বি.এস (ঢাকা) ; বি. সি. এস. (স্বাস্থ্য) (এফসিপিএস ),এমসিপিএস
এম. এ. সি. ই (আমেরিকা)
কনসালটেন্ট (মেডিসিন)
এক্স রেজিস্ট্রার, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মিটফোর্ড, ঢাকা
📍চেম্বারঃ Maxlife hospital Mitford, Dhaka
MaxAid hospital
⏰ সময়ঃ প্রতিদিন বিকাল ৪ টা - রাত ৯টা।
☎️📞সিরিয়ালের জন্যঃ01611875299
01827-706669