04/06/2026
বয়স ৩০ বা এর কাছাকাছি বয়সী নারী বা পুরুষদের হঠাৎ মৃত্যুর বড় কারণ হতে পারে
১| ব্রেন স্ট্রোক (মস্তিষ্কের একেবারে ভেতরে যেখানে ব্রেন স্টেম আছে, সেখানে রক্তক্ষরণ হওয়া),
২| সাব-অ্যারাকনয়েড হেমোরেজ এবং
৩| হার্ট অ্যাটাক ।
মাইগ্রেন, টেনশন এবং স্ট্রেস জনিত মাথাব্যাথা এই মৃত্যুর জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী।
এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী ?
সুস্থ সুন্দর জীবন যাপন করার জন্য জীবনাচরণের পরিবর্তন বা লাইফ স্টাইল মডিফিকেশন (Life style Modification) গুরুত্বপুর্ন ।
১| গুরুত্বের দিক দিয়ে প্রথম যে উপায় তা হলো ঘুম । ঘুম মানে সুনিদ্রা (Sound sleep) । আরামদায়ক বিছানায়, নরম বালিশে লাইট নিভিয়ে গভীর ঘুম। রাত ৯টার পর পরই ঘুমাতে হবে । ঘুমের আদর্শ সময় হল রাত ৯টা থেকে ভোর ৪টা ।
সুনিদ্রা (Sound sleep) মানুষের ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, উচ্চ রক্তচাপ কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, মেজাজ ফুরফুরে রাখে, আচরণ ভাল রাখে । সুনিদ্রার অভাবে ব্লাড প্রেসার ও ডায়াবেটিস বৃদ্ধি পায় । রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে । মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকে, আচরণ খারাপ হয়, খাবার হজম ও পরিপাকে বিঘ্ন ঘটে, Cellular aging বাড়ে, দেহ-কোষ বুড়ো হয়ে যায় । ফলে অকালে বার্ধক্য আসে । আয়ু কমে ।
২| পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগহীন জীবন ।
ঘুমের অভাবে মানুষের শারীরিক ও মানসিক যে ক্ষতিগুলো হয়, উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা মানুষের সবগুলো ক্ষতি করে । কাজের চাপ কমাতে হবে । দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করতে হবে ।
ঝগড়াটে এবং বিষাক্ত আচরণের মানুষ থেকে দূরে থাকতে হবে । তাদের কথা এবং আচরণ অন্যদের মনঃকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় । এ থেকে ব্লাড প্রেসার এবং ডায়াবেটিস বাড়তে পারে।
৩| নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম / ব্যায়াম করতে হবে । প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা হালকা ব্যায়াম করুন।
৪| সুষম ও পুষ্টিকর খাবার (Balanced and Nutritious diet) খেতে হবে।
খাবার খাওয়ার সময় শুধুমাত্র খাবারের স্বাদের কথা না ভেবে এর পুষ্টিমানের কথা ভাবুন । খাবার খাওয়ার আগে এর পুষ্টিমান কী, এর ভাল ও মন্দ দিকগুলো কী কী—সে কথা ভাবতে হবে । প্রতিদিন প্রয়োজনীয় পরিমাণ ভিটামিন ও মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট (Micronutrient) গ্রহণ করতে হবে । এগুলোর অভাবে শরীরে নানা রোগ বাসা বাঁধে ।
চিনি (মিষ্টি), চর্বি, বাড়তি লবণ—এগুলোকে এখন শত্রুজ্ঞান করতে বলা হচ্ছে । যে খাবার আপনি খাবেন, তাতে বাড়তি চিনি বা লবণ থাকতে পারবে না ।
৫| সুশৃঙ্খল জীবন যাপন (Discipline) করতে হবে।
খাবার গ্রহণ, ঘুম, ঘুম থেকে জাগা, কাজ, বিশ্রাম, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা—এ সব ক্ষেত্রে অবশ্যই সুশৃঙ্খল হওয়া প্রয়োজন । বিশৃঙ্খল জীবন যাপন করে দীর্ঘায়ু জীবন তো পাওয়া যাওয়াই না, নীরোগ দেহও পাওয়া যায় না ।
৬| ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন।
প্রত্যেক বয়স এবং উচ্চতার একটি ষ্ট্যাণ্ডার্ড ওজন আছে । এর চেয়ে বেশী ওজন হলেই নানা রোগ ডেকে নিয়ে আসে । ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, আরথ্রাইটিস, জিইআরডি-সহ নান অসুখ । এর পরিণামস্বরূপ অল্প বয়সে মৃত্যু ।
৭| সুস্থ থাকতেই নিয়মিত মেডিক্যাল চেক আপ করা উচিত।
উন্নত বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ৪০ বৎসর হওয়ার সাথে সাথে বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে উপদেশ দেওয়া হয় । এর মানে রোগ হওয়ার আগেই রোগ প্রতিরোধ করা । যেমন ধরুন, ব্লাড প্রেসার, রক্তে গ্লুকোজ ও চর্বির পরিমাণ নির্ণয়, ইউরিক এসিডের মাত্রা, হার্ট, কিডনি ও চোখের জন্য কিছু স্ক্রিনিং পরীক্ষা।
#স্বাস্থ্যপরীক্ষা #স্বাস্থ্যসচেতনতা