30/06/2026
কিছু সাহাবি-বিদ্বেষী প্রশ্ন করে, “সাহাবায়ে কেরাম তো ভুল করেছেন। তাহলে তাঁদেরকে সত্যের মাপকাঠি কীভাবে মানা যায়?”
এর জবাব খুবই সহজ।
হ্যাঁ, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মানুষ ছিলেন। মানুষ হিসেবে তাঁদের দ্বারা ইজতিহাদি ভুল বা মানবীয় ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু তাঁদের সর্বশ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য ছিল—তাঁরা কখনো ভুলের ওপর অটল থাকেননি। সত্য প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা তা গ্রহণ করেছেন, নিজেদের ভুল থেকে ফিরে এসেছেন, আল্লাহর কাছে তাওবা করেছেন এবং আত্মসংশোধনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
সুতরাং, ভুল করে যে ব্যক্তি সত্যে ফিরে আসে, সে-ই তো অনুসরণীয়। আর সাহাবায়ে কেরাম তো সেই সৌভাগ্যবান জামাআত, যাঁদের ঈমান, ত্যাগ, ইখলাস ও আল্লাহভীতি সম্পর্কে কুরআন ও সুন্নাহয় সুস্পষ্ট প্রশংসা এসেছে।
আরেকটি বিষয় গভীরভাবে চিন্তা করার মতো।
যদি কেউ বলে, “সত্যের মাপকাঠি হতে হলে অবশ্যই এমন হতে হবে যে তাঁর দ্বারা কোনো ত্রুটি বা ভুলের প্রশ্নই উঠবে না,” তাহলে একই মানদণ্ড তাকে সর্বত্র প্রয়োগ করতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, মাওলানা আবুল আ’লা মৌদূদী (রহ.) তাঁর তাফহীমুল কুরআন-এ সূরা আন-নাসরের ﴿فَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ وَاسْتَغْفِرْهُ﴾ আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন যে, নবুওয়তের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যে ত্রুটি হয়েছে, তার জন্য আপনি ক্ষমা প্রার্থনা করুন। (নাউজুবিল্লাহ) যদি কেউ সেই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে দাবি করে যে নবীর দ্বারা ত্রুটি হয়েছে, তাহলে একই যুক্তিতে তো—নাউযুবিল্লাহ—তাকে বলতে হবে, নবীও সত্যের মাপকাঠি নন! অথচ এ ধরনের সিদ্ধান্ত ইসলামী আকীদার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
অতএব, সাহাবায়ে কেরামের বিরুদ্ধে এই যুক্তি আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়। এটি মূলত একটি ভ্রান্ত যুক্তি, যার উদ্দেশ্য সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা।
আমাদের মনে রাখতে হবে, সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সম্পর্কে কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা সন্তুষ্টির ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁরা ছিলেন এই উম্মতের সর্বোত্তম প্রজন্ম। তাঁদের ভালোবাসা ঈমানের দাবি, আর তাঁদের প্রতি বিদ্বেষ অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়।
আসুন, আমরা আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া করি—
হে আল্লাহ! আমাদের অন্তরকে সাহাবায়ে কেরামের ভালোবাসায় পরিপূর্ণ করে দিন। তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার তাওফীক দান করুন। তাঁদের অনুসরণে আমাদের জীবন পরিচালনা করার তাওফীক দিন। কিয়ামতের দিন তাঁদের সঙ্গেই আমাদের হাশর নসীব করুন।