11/11/2025
নরমাল ডেলিভারির সময় যদি পানি ভাঙার পর আমনিয়টিক ফ্লুইড (পানি) হালকা সবুজ-কলা/হলদে-কলা বা ছত্রাছত্র দেখতে পান—তা মানে শিশুটি গর্ভে প্রথম পায়খানা (meconium) করেছে। এটা ছোটখাটো হতে পারে কিংবা শ্বাসনালি ঢুকলে শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে শিশুকে বিপদে ফেলতে পারে।
“পানি ভাঙলই—পানি সবুজ? থামুন, ডাক্তারকে বলুন! না করলে বাচ্চার শ্বাসে ঝুঁকি আছে।”
(স্টেপ বাই স্টেপ — সাধারণ মানুষের জন্য)
1. প্রথমেই দেখুন: পানি স্বচ্ছ নাকি সবুজ/হলদে/ময়লা-রঙ? যদি সবুজ/হলদে থাকে, সেটাকে হালকা মেনে নিবেন না।
2. পানি গন্ধ করে দেখবেন—ভাল টিউট না হলে আর ভেববেন না, ডাক্তার/মিডওয়াইফকে কল দিন (ফোনে বলবেন “ওয়ারটার রাং কালার, গ্রীন/ব্রাউন”) — দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার নির্দেশ নিন।
3. ঘরে ঢুকেই নিজে চেষ্টাই করবেন না — বিশেষ করে লম্বা অপেক্ষা না করে হাসপাতাল-অবস্থান যেখানে নবজাতক রিসাসিটেশন বা শিশুবিশেষজ্ঞ আছে, সেখানেই যাওয়া উচিত। কিছু ক্ষেত্রে জন্মের সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে রেসাসিটেশন/এন্টিবায়োটিক/ইনটুবেশন দরকার হতে পারে।
4. একজন মিডওয়াইফ বা নার্স যদি পারভেজিনাল এক্সাম করে এবং তাদের গ্লাভসে সবুজ-হলদে ময়লা থাকে — এটা meconium stained liquor—এটা ঘরেই সাপোর্ট না করে হাসপাতালের অবস্থা বোঝানো সংকেত।
5. ডাক্তারের কাছে গিয়ে বলবেন:
পানি কোন রঙ ছিল (স্ট্রিং/গ্রীন/ব্রাউন)
শিশুর নড়াচড়া কেমন (কম হলে তৎক্ষণাত বলা)
কোনো জ্বর/বদগন্ধ আছে কি না।
6. যাদের প্রথম বাচ্চা—সাহস হারাবেন না; কিন্তু ঝুঁকি থাকলে মুহূর্তে প্রস্তুত থাকুন: শিশুকে শিশুবিশেষজ্ঞ দেখানো বাধ্যতামূলক।
শিশু/মা-সংক্রান্ত তথ্য (সংক্ষেপে, ডাক্তারদের ভাষায়)
সব meconium-stained লিকরেই অবিলম্বে কিসু করা লাগে না—কিন্তু শিশু যদি ‘depressed’ (কম প্রাণবন্ত) হয়, তখন ট্রাকেয়া ইন্টুবেশন ও সাব-গ্লটিক সাকশন প্রয়োজন হতে পারে। নবজাতক রিসাসিটেশন টিম থাকা জরুরি।
যদি আপনার বাড়িতে কেউ পানি ভেঙে সবুজ/হলুদ/ব্রাউন পানি দেখেন—দেরি না করে হাসপাতাল।
ঘরে-ঘরে গুজব বা ‘শান্ত করে রাখবে’ আশা করে সময় নষ্ট করবেন না। বাচ্চার শ্বাস কাজেই ঝুঁকি থাকলে সময়ই সবচেয়ে বড় ভেক্টর।